বুধবার রাত ১:৩৭, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
প্রতিবেদন
কাজীপাড়া মৌলভীহাটি মসজিদের পুকুর এখন কচুক্ষেত হিন্দু থে‌কে মুসলিম, ফের হিন্দু হয়ে ‘বিবা‌হিত’ সাধু! ভাষাসৈনিক মুহম্মদ মুসার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী: তার একটি ভিডিও বক্তব্য ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিডে আগুন: বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মৃত ২০, আশঙ্কাজনক আরো ১৯ করোনায় মারা গেলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি প্রখ্যাত সাংবাদিক রাহাত খান আর নেই ইউ‌নিয়ন প‌রিষ‌দে মারামা‌রি: প্রশ্ন‌বিদ্ধ চেয়ারম‌্যান প্রশ্নবিদ্ধ প্রথম আলো: মাস্ক ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো জরিপ বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে মানুষ নেত্র‌কোনা হাও‌রে ভ্রম‌ণে এসে ১৭ হা‌ফেজ-আ‌লে‌মের মৃত্যু গরুর চামড়ার গোশত অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর

আমার মৌলিক রচনাবলী: এস এম শাহনূর

৯৯ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার। আমার জন্মবার। আমার জন্মদিন। অনেকের মাঝে বয়স লুকানোর প্রবণতা কাজ করে। কোনো এক সময় হয়তো আমার মাঝেও করত।বয়স বাড়ার সাথে সাথে টের পাচ্ছি। বাস্তবকে অনুভব করছি। বয়স কী আর বাড়ে? বয়েস তো শানবাঁধানো পুকুরঘাটের ইটপাথরের মত। প্রতিদিনই ক্ষয়ে যায়।এক একটা করে হারিয়ে যায়।আমার জন্ম(সম্ভবত) ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সাল মোতাবেক শনিবার দিন। সকল সার্টিফিকেটে ১৯৮২ সালের ৮সেপ্টম্বর বুধবার দিন।তবে আমার জন্মের দিন ঘোর বৃষ্টি ছিল।হালকা বাতাস ছিল।ঐ দিন আসরের আগে পরে আমি জন্মেছিলাম।
প্রথম তারিখ অনুযায়ী আজ থেকে ১৪৯৭৬ দিন পূর্বে পৃথিবীর আলো বাতাসে আমার প্রথম চিৎকার। শেষোক্ত তারিখ অনুযায়ী ১৩৮৮০ দিন পূর্ব থেকে মানব সমাজের সাথে আমার বসবাস।
৮ ভাই বোনের সংসারে পরিবারের ছোট্ট সদস্য বলে আদর যত্ন আর আধিক্যেতা বেশিই ছিল।শিশুকালে ঘরোয়া পড়াশোনায় তত একটা মন বসত না আমার।তাই স্কুল জীবনের শুরুটা একটু বিলম্বিত ছিল। অবশ্য আমাদের সময় ছেলে মেয়েরা আজকের শিশুদের মত এডভান্স ছিলনা। মা বাবারাও সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারে এত সিরিয়াস ছিলেন না।তবে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রেজাল্ট সব সময়ই ভাল ছিল। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করতাম। হোম ওয়ার্ক বলে কিছুই থাকত না।খুব ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙ্গত।হাতমুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসতাম।মাগরিবের আযান হলে নীড়ে ফেরা পাখিদের সাথে আমিও ঘরে ফিরতাম।পড়া লেখার জন্য নিজস্ব একটা রুটিন ছিল।পড়তে ভাল লাগতো।লেখতে ভাল লাগতো।রাত ১১টায় রেডিও শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম।আর এ কারণেই স্কুল কলেজ জীবনে কখনো সেকেন্ড হতে হয়নি।

জীবনে কী হতে চেয়েছি,কী হয়েছি, কী পেতে চেয়েছি,কী পেয়েছি আর কী পাইনি?কুসুমিত মনের সে আকাশ কুসুম চিন্তা আজ আর মাথায় নেই। এক সময়তো কত কিছুই ভাবতাম। গুলশান বনানীতে বিশাল এক বাড়ি থাকবে,বাড়ির সামনে বাগানে গোলাপ,টগর,চামেলি ; বিদেশি কুকুর, সর্বাধুনিক ফ্যাশনের গাড়ি আরো কত্ত কী! আজ এসব ভাবলে মনে মনে ভীষণ লজ্জা বোধ করি।বাস্তব আর কল্পনা এক নয়।বয়স বাড়ার সাথে সাথে নির্মম কঠোর বাস্তবকে অনুধাবন করতে পেরেছি। স্বার্থ কে ত্যাগ করতে না পারলেও অন্ধ স্বার্থকে ত্যাগ করার রুচিবোধ কিছুটা জন্মেছে বৈকি। শিশু নিজে স্বপ্ন দেখার আগে তাকে নিয়েও এই সংসার সমাজ আর দেশের কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ বড় কোনো স্বপ্ন দেখে।এই স্বপ্নবাজ মানুষগুলো হয় সন্তানের পিতা মাতা,কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক এবং এমন আরো অনেকে। আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের নিকটও আমি চিরঋণী। কারণ ওনারা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতে। পরম যত্নে ভালো কিছু শেখাতেন। আমার ভাল হোক মনে প্রাণে তা চাইতেন।এমনটি চাইতেন বলেই আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবন সমাপান্তে সার্টিফিকেটে বয়স একটু কমিয়ে দিয়েছিলেন। একটু নয় পুরো তিন বছর।আজ সকল শিক্ষকগণের নাম মনে না পড়লেও ওনাদের স্নেহ আর আর্শীবাদ মাখা সুন্দর মুখগুলো আমার চোখে ভাসে।সেদিন আর্শীবাদ করে বলেছিলেন, “তুমি অনেক দূর এগোবে।তুমি অনেক বড় হবে।আমাদের দোয়া তোমার পাশে থাকবে।” সেই সকল মহান শিক্ষকগণের কাছে আমার ঋণ আছে।
মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীর অালো বাতাসের সংস্পর্শে অাসার পর আমার প্রথম চিৎকার যেই গ্রামের মানুষ প্রথম শুনতে পেলো তার নাম বল্লভপুর।আমি আমার জন্মের জন্য পিতা হাজী আব্দুল জব্বার এবং মাতা জাহানারা বেগম এর নিকট চির ঋণী।আরো ঋণী বল্লভপুর গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোর প্রতি,যাঁদের সান্নিধ্যে স্নেহ ও ভালোবাসায় কেটেছে আমার শৈশব ও কৈশোরের মধুময় অনিন্দ্য সুন্দর দিনগুলো,চাঁদমাখা রাতগুলো।এখানকার সকলের কাছে আমার ঋণ আছে।

আমার জন্ম জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া,আমার জন্ম উপজেলা কসবা এবং আমার জন্ম গ্রাম বল্লভপুরের আলো বাতাস,প্রকৃতি ও সুধীজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ,এখানকার পরিবেশ, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও মানুষের স্নেহ,ভালোবাসাই আমাকে কবি ও লেখক হতে সহায়তা করেছে।তাই আমার সৃষ্টি কর্মের জন্য যদি সামান্যতম প্রশংসা/সম্মাননা যাহাই পাই এই প্রাপ্তির ভাগিদার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবাই।এখানকার আলো বাতাস প্রকৃতি সকলের কাছে আমার ঋণ আছে।

আজ বিশ্ব বাবাা দিবস:

মাথার উপর বটবৃক্ষের মতো ছায়ার নাম বাবা

এস এম শাহনূর | ২১ জুন ২০২০ | ৪:১১ পূর্বাহ্ণ

মাথার উপর বটবৃক্ষের মতো ছায়ার নাম বাবা

ভাল হোক,মন্দ হোক বাবা আমার বাবা
পৃথিবীতে বাবার মত আর আছে কেবা।’

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গা বাবা।
পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার সম্মান প্রসঙ্গে বলা আছে, তাদের সঙ্গে উহ! শব্দ পর্যন্ত করো না।হাদিস শরীফে এরশাদ হয়েছে,”মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত।পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি।” পিতা সন্তানের মাথার ওপর বটবৃক্ষের ছায়ার মতো যার স্নেহ অবারিত ধারায় শুধু ঝরতেই থাকে। “পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম পিতাহী পরমং তপঃ পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতা।” পিতাই ধর্ম, পিতাই স্বর্গ, পিতা পরম তপস্যার। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র জপে বাবাকে স্বর্গজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন।

বাবা- প্রতিটি সন্তানের চোখে প্রথম আদর্শের নাম।
আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার নাম বাবা।
বাবা – চির আপন, চিরন্তন এক সম্পর্কের  নাম।
মাথার উপর বটবৃক্ষের মতো ছায়ার নাম বাবা।

হাসি মুখে সন্তানের আবদার পূর্ণকারীর নাম।

যার ব্যক্তিত্ব, সরলতা আকৃষ্ট করে প্রতিটি সন্তানকে।
তবে পিতার বুকফাটা আর্তনাদ না শোনার মতো সন্তানও এই সমাজে আছে।
‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার
মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার।
নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি
সবচেয়ে কমদামি ছিলাম একমাত্র আমি
ছেলে আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম
আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম’-নচিকেতার এই গানের বাস্তবতা মিলবে গাজীপুরের বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

অথচ,একদিন অসুস্থ শরীরের ক্লান্তিকে পাত্তা না দিয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য,অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ সব মৌলিক চাহিদা ও নিরাপত্তার জন্য ছুটে চলেছেন দিন রাত।

বছর ঘুরে আজ এসেছে সেই দিন, যেদিন বাবার পা ছুঁয়ে, বুকে জড়িয়ে ধরে বলা যায়- ‘বাবা, তোমায় অনেক ভালোবাসি’।

বাবার চোখে সব সন্তানই সমান।তবে
সব মেয়েই প্রথম যে পুরুষের ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়,তার নাম বাবা।
কন্যা সন্তানরা যার কাছে একটু বেশিই আদর পান তার নাম বাবা।
মেয়ের বিয়ের সময় যিনি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান তার নামও বাবা।
কন্যা সন্তানের যার প্রতি গভীর অনুভূতি থাকে তার নামও বাবা।
হিন্দুরীতির বিয়েতে যখন বাবা ‘কন্যাদান’ করেন, কিংবা মুসলিম পিতার কন্যাও যখন স্বাম২র হাত ধরে পিতৃগৃহ ত্যাগ করে তখন তার কান্নায় আর্দ্র হয়ে ওঠেন উপস্থিত সবাই।আর সে জন্যই বিদায় বেলায় নিঃশব্দ অশ্রু গেয়ে ওঠে- ‘আমি যাচ্ছি বাবা, আমি যাচ্ছি/চোখ মুছে মুখ তোলো/স্নেহের বাঁধন খোলো/এবার তোমায় দিতেই যে হয়/যাবার অনুমতি,/বাবা খেয়াল রেখো/ তুমি তোমার প্রতি’।

এনসাইক্লোপিডিয়া জানাচ্ছে, জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের প্রায় ৭৪টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। তৃতীয় রোববার হিসেবে এ বছর ২১জুন পালিত হচ্ছে বাবা দিবস।
বাবা তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি বলার জন্য একটি দিন প্রয়োজন- প্রথম তা অনুধাবন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের নিকটবর্তী ছোট্ট শহর ক্রেসটনের বাসিন্দা সোনোরা লইস ডট নামের এক তরুণী। সৎমায়ের কাছে মেয়ের অবহেলা হতে পারে- এ শঙ্কায় সোনোরার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট স্ত্রীর মৃত্যুর পর আর বিয়ে করেননি। সোনোরাকে বড় করতে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। সোনোরা বাবার এই ত্যাগকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। বাবার প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন। তাতেই মাথায় আসে ‘বাবা দিবস’ পালনের চিন্তা। উইলিয়াম স্মার্টের মৃত্যুবার্ষিকী ৫ জুন। প্রথম ‘ফাদারস ডে’ পালন করা হয় ১৯ জুন।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্যাটেলাইট যুগের সুবাদে বাবা দিবস ঘটা করেই পালিত হচ্ছে।

বাবার জন্য প্রতিটি দিবস, তবু বিশেষ এই দিনটিতে আসুন বলে দিই-
‘বাবা, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তোমার কারণে আজকের এই আমি’।

আর যাদের পিতা এই জগতে বেঁচে নেই দুহাত তুলে তাদের জন্য এই বলে দোয়া করি-
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

কেন বিপথগামী আজকের তরুণ? -এস এম শাহনূর

| ১৫ জুলাই ২০১৯ | ১০:৪১ অপরাহ্ণ

কেন বিপথগামী আজকের তরুণ? -এস এম শাহনূর

আজকের তরুণ আগামীতে দেশ ও জাতির কর্নধার।আর এ তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের মূল কারণ গুলোর মধ্যে রয়েছে,
(ক)সামাজিক সমবেদনার অভাব।
(খ)বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার কুপ্রভাব।
(গ)সমাজে জীবন্ত আদর্শ ও মূল্যবোধের অভাব।
(ঘ)উপযুক্ত নৈতিক শিক্ষার অভাব।
(ঙ)পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া।
(চ)পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা।
(ছ)এবং সর্বোপরি কুরআন ও হাদিস নির্দেশিত অমোঘ নিয়মাবলী দ্বারা জীবন পরিচালিত না করা।
উপরোক্ত মৌলিক বিষয়াদির সাথে আরো বেশ কিছু প্রসঙ্গ আলোচনার দাবিদার।
★★চরিত্র গঠনঃ-‘চর'(চলা) ধাতু থেকে চরিত্র শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ।এর অর্থ হচ্ছে চলা।”এ চলা হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবনে সুন্দর ভাবে চলা এবং সমাজ জীবন কে সুন্দর ভাবে চালানো।”–(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) ”The crown and glory of life is character ”. চরিত্রবান ব্যাক্তি দেশ ও জাতির গৌরব।হাদিস শরীফে আছে-”তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ঈমানদার সেই ব্যক্তি যার আখলাক(চরিত্র )সবচেয়ে ভাল।”অন্যত্র এরশাদ হয়েছে –‘চরিত্রের উৎকর্ষ অনুযায়ী আল্লাহ পাক মানুষ কে উন্নতি দান করে থাকেন ।”ইহা মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ অলংকার।অন্যদিকে চরিত্রহীন তথা দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।
★★সততাঃ- সততা মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ গুণ।”Honesty is the best policy.” ইহা জীবনকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে। আজ কাল মানুষের মধ্যে এ একটি গুণের বড় বেশি অভাব।আন্তরিকতা,স্পষ্টবাদীতা, সদাচার প্রভৃতি গুণের সমষ্টির যে চির উন্নত নাম ”সততা”তা দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে।

★★শিষ্টাচারঃ-”মানব জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রবাহিত করার মৌল উপাদান হচ্ছে শিষ্টাচার।”শিষ্টাচার অর্থ হলো শিষ্ট বা মার্জিত আচরণ।মানুষের কথায়,আচরণে, চালচলনে যে ভদ্রভাব, সৌজন্যবোধ ও শালিনতার পরিচয় পাওয়া যায়, তাই সামগ্রিক অর্থে শিষ্টাচার।ইহা মানুষ কে ঔদ্ধত্যের পরিবর্তে বিনয় আর হিংসার পরিবর্তে প্রীতি শেখায়।” Courtesy costs nothing but buys everything.” শিষ্টাচারের গুণে মানুষের হৃদয়ে খুব সহজেই স্হান করে নেওয়া যায়।মানুষের শিক্ষাদীক্ষা,রুচিশীলতা,চারিত্রিক আভিজাত্য শিষ্টাচারের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়।কবে আমাদের চরিত্র হবে ফুলের মত নিষ্পাপ?সততার চাদরে মোড়ানো হবে জীবন আর শিষ্টাতাকে করব আলিঙ্গন!!
রাজনীতির নামে মিথ্যাচার, সমাজ সেবার নামে স্বেচ্ছাচার,আদর্শের নামে প্রতারণা,বিনিময়ের নামে ঘুষ বা দুর্নীতি,মাদক দ্রব্যের মরন ছোবল, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য,না পাওয়ার বেদনা , বেকারত্বের আহাজারি থাকবে।সাগরের দক্ষ মাঝির মত বড় বড় ঢেউয়ের মাঝেও সাবধানে বাইতে হবে তরী।পৌঁছতে হবে জীবনের অভিষ্ট গন্তব্যে । তাই আসুন সমস্যার সমাধান খুজি।মনোযোগ দেই নিন্মোক্ত বিষয়গুলি দিকে—-
★★জগতে বড় হতে হলে অসাধারণ প্রতিভাবান হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কারণ,ছোট বেলাই পড়েছি ”Industry is the mother of good luck. ”প্রথম চেষ্টায় সফলতা লাভ করা কঠিন ব্যাপার।ইংরেজি আরেকটি প্রবাদ মনে রাখা দরকার- ”Failure is the pillar of success.”মানব জাতির চুড়ান্ত সংবিধান মহাগ্রন্থ আল কুরআন বলছে, ”মানুষের জন্য শ্রম ব্যতিরেকে আর কিছুই নেই।”রাসূল (সা:) বলেন, ”নিজ হাতে উপার্জিত(বৈধ পথে)খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাবার আর কিছুই নেই।” তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব হওয়া সত্বেও মাঠে মেষ চরিয়েছেন,ইহুদির বাড়িতে কূপ থেকে পানি তোলার কাজ করেছেন ।”You are to earn your living by sweat of brow.”(Bybel) অপরের করুণা ছাড়া আত্ববিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে নিজের কর্ম দ্বারা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে ।কারণ -”Self help is the best help.”
★★মানব জাতির জন্য বিধাতার শ্রেষ্ঠতম দান হচ্ছে সময়।”Time and tide wait for none.” প্রতিটি মুহূর্ত জীবনের অসীম সম্ভাবনা নিয়ে উপস্থিত হয় এবং তার ঐশ্বর্য গ্রহন করে মানব জীবনকে ধন্য করার আহ্বান জানায়।”Time is life,life is time. Balance between life and time can help one reach the highest apex of success.” (M.K.Ghandi)

★★নিয়মানুবর্তিতাই মানব জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলেছে। ” Discipline is the keystone to success which compulsory to follow balance the systems.” (Nepoleon)অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের পার্থক্য হচ্ছে সে বুদ্ধিমান ও নিয়মের পৃজারী।
Discipline is the fair gifts by God,
It always modefys human lot.
It brings prosperity,it brings honour.
It brings fame from every corner.(COLOR OF MY LOVE /S.M.Shahnoor)

এই লেখাটির মাধ্যমে আল্লাহ্‌ পাক তরুণ সমাজ তথা গোটা মানব জাতির হিদায়েতের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন ।কারণ, তিনি বড়ই হিকমতওয়ালা।আমীন।

একটি চমৎকার মানপত্র

মানপত্র

বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য কবি হিসেবে এস এম শাহনূর এর শুভাগমন উপলক্ষে বল্লভপুর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষiক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদে পক্ষ থেকে-প্রাণঢালা অভিনন্দন।

হে বিশ্ববাঙালি,

সারাদেশে এখন পাখি ডাকা, ফুল ফোটা বসন্তের গৌরবময় উপস্থিতি। গ্রাম-বাংলার সর্বত্রই বাহারি ফুলের মৌ মৌ গন্ধ। চারদিক তাই উৎসবে মুখর। বসন্তের এমনি এক মায়াবী লগ্নে আমরা যখন কাঙ্ক্ষিত প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার একান্ত বাসনায় অপেক্ষার প্রহর গুণছিলাম; ঠিক তখনি এক অনাবিল আনন্দের ঊর্মীদোলায় আমাদের আন্দোলিত করে এ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে আপনার শুভাগমন। আপনার আগমনে বনে বনে যেন আজ পুষ্পের বাহুল্য; সেই সাথে ভ্রমরের গুঞ্জনধ্বনি যেন আপনার আগমন উল্লাসেই মুখর। আপনাকে কাছে পেয়ে আমরা আজ ধন্য। আপনি আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন গ্রহণ করুন।

হে কবি,

সবকিছুর ঊর্ধ্বে আপনার যে পরিচয় সেটি হলো আপনি যথার্থই কবি। যে কবির হৃদয় অসীমের আনন্দ খুঁজে বেড়ায় , যে কবি হৃদয়ে অপার আনন্দ – বেদনায় নিত্য ভাবের কুসুম ফোটে, আপনি ধারণ করেছেন সেই কবিচিত্ত। আপনার এ কবি হৃদয়ের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা।

হে জ্ঞানতাপস,

বাংলা সাহিত্যাকাশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বহু গুণী কবি, সাহিত্যিক, উপন্যাসিক ও গবেষক তাঁদের বলিষ্ঠ অবদান রেখেছেন। কিন্তু নূরনগর পরগণার এই অঞ্চলে বহু গুণী মানুষের জন্ম হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোন কবি সাহিত্যিকের জন্ম হয়নি। গত দুই দশক ধরে যে নিভৃতচারী গুণী মানুষটি বাংলা সাহিত্যাকাশে মিটমিট করে জ্বলে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন,তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুণ্যের কবি খ্যাত,লেখক ও গবেষক এস এম শাহনূর।আপনার আলোকিত আবির্ভাবে আমরা ধন্য।

হে ছান্দসিক, ,

কবিতা হৃদয়ের কথা বলে আর কবিরা দেয় সেই শুভ সংবাদ। যে সংবাদে হৃদয় হয় উদ্বেলিত। উদ্বেলিত ভালোবাসার আরেক নাম কবি এস এম শাহনূর। আপনার লেখনীর রূপ, রস,গন্ধ আর নানা বৈচিত্র্যতা কখনো আনন্দ ছুঁয়ে কখনো প্রেমের রৌশনীতে প্রোজ্জ্বল হয়ে কখনো বা বিরহকাতর দহনানলে প্রেয়সীকে খুঁজে পাবার নান্দনিক ভঙ্গিতে পাঠক মাত্রই আপ্লূত হয়। আপনার মত কাব্য মনস্ক মানুষদের জন্যই সমাজ সংসারে উচ্ছলতা আছে,আছে প্রাণ চঞ্চলতা।ভবিষ্যতেও আপনাদের ভালোবাসার চন্দনে বাংলা সাহিত্য হবে সমৃদ্ধ।

হে শিল্পী,

আমরা আপনাকে পেয়েছি কাব্যের মাঝে, পেয়েছি আপনার সৃষ্টির মাঝে, আজ পেয়েছি সেই সম্পূর্ণ আপনাকে। আপনি ভালোবেসেছেন এ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে, প্রকৃতিকে। রূপ-রস-গন্ধ দিয়ে আপনি রাঙিয়েছেন আপনার শিল্পীসত্তাকে। তাই তো আপনি শিল্পী, কাব্যজগতের নিপুণ কারিগর।

হে অনির্বাণ,

শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে আপনি আমাদের মাঝে এসে যে মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।আপনি আবারও আসবেন আমাদের মাঝে, ভালোবাসবেন এমনি করে, শোনাবেন আপনার রচিত কবিতা। পরম করুণাময়ের নিকট আপনার সুন্দর, সুস্থ ও সুখী জীবন এবং দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করি। কামনা করি, আপনার লেখনী আপনাকে মহিমার অমর আলোকে উদ্ভাসিত করুক।

আপনারই গুণমুগ্ধ

বল্লভপুর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ

১২ই মার্চ ২০২০ইং

মানুষ তোমায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম: এস এম শাহনূর

| ১১ মে ২০২০ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

মানুষ তোমায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম: এস এম শাহনূর

ও মানুষ তুই মানুষ হবি কবে
মৃত্যুর পরে নাকি তার আগে?
আমি পুরুষ,মানুষ হতে পারিনি
খুঁজে ফিরি লিঙ্গভেদ মানুষ খুঁজিনি!
‘মানুষ মানুষের জন্যে,জীবন জীবনের জন্যে’
এ কথা হৃদয়ে লালন করেনি গর্ব অহংকারে,
মানুষের তৈরী কিছুই নেই আজি প্রয়োজনে
মানুষ বন্দী ঘরে,খাঁচার পাখি আকাশে উড়ে।

সমাজে তিন শ্রেণির মানুষ বিদ্যমান। এক শ্রেণির মানুষ বধির নয়,অন্ধ নয়,বাকপ্রতিবন্ধিও নয়;তবু সারাটি জীবন চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় সামাজিকতা ও ধর্মীয় রীতিনীতির বাহিরে জীবন যাপন করে।
আরেক শ্রেণির মানুষ অল্প বা অধিক শিক্ষিত কিন্তু মিতব্যয়ী,স্বল্পভাষী,পরোপকারী,সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
অপর আরেক শ্রেণির মানুষ অল্প বা অধিক শিক্ষিত,কিন্তু ওরা ধুরন্ধর, চপল,কপট, আত্ম অহংকারী,ঠকবাজ,সুবিধাভোগী,পরশ্রীকাতর ও সবজান্তা।
আপনি কোন শ্রেণির মানুষ আমি জানি না।তবে প্রথম ও শেষোক্ত দুই শ্রেণির মানুষের জন্য আমার মায়া লাগে।বুকের ভেতর কষ্ট অনুভব করি।ওরা কেন মানুষ হলো না!
মানুষের ইচ্ছা শক্তির কাছে সকল রিপু পরাজিত হতে বাধ্য।
যদি বুঝতে পারেন, কোন কাজ করার জন্য আপনাকে কেউ হিংসা করছে ধরে নিন আপনি সঠিক পথে আছেন।

যদি বুঝতে পারেন, কোন কাজ করার জন্য আপনাকে কেউ ঘৃণা করছে ধরে নিন আপনি ভুল পথে হাটছেন।পথ পরিবর্তন করুন।

যদি বুঝতে পারেন আপনার ভাল কর্মের জন্য আপনাকে কেউ হিংসা করছে,যদি বুঝতে পারেন আপনার মন্দ কাজের জন্য আপনাকে কেউ ঘৃণা করছে।আর যদি ভাল কাজের গতি বাড়াতে পারেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন,ধরে নিন আপনি একটি জাগ্রত বিবেক দেহের ভেতর বহন করছেন।নিজেকে নিজে ধন্যবাদ দিন।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে বলুন,আমি মানুষ। সত্যিই আপনি মানুষ।খাঁটি মানুষ।আপনার অঢেল ধন সম্পত্তি না থাকুক,সামাজিক রাজনৈতিক পরিচয় না থাকুক, উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকুক, আমি আপনাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

আজ মহান মে দিবস: শ্রম অধিকারের দিন

ঘাম ঝরানো শ্রম উপার্জনের চেয়ে উত্তম দ্বিতীয়টি আর নেই: এস এম শাহনূর

| ০১ মে ২০২০ | ১০:১৯ পূর্বাহ্

ঘাম ঝরানো শ্রম উপার্জনের চেয়ে উত্তম দ্বিতীয়টি আর নেই: এস এম শাহনূর

পরিশ্রমে ধন আনে,পুণ্য আনে সুখ”।‘পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি’। কাজেই পরিশ্রম কোন ছোট কাজ নয়।সমাজ সংসার ও পার্থিব জগতে কোনো উন্নতি শ্রম ব্যতিরেকে সম্ভব হয়নি।

হজরত আদম (আ:) থেকে শুরু করে সর্বশেষ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূল নিজ হাতে কাজ করতেন। স্বহস্তে কাজ সম্পাদন করা অতিশয় উত্তম। রসূলুল্লাহ (সঃ) শ্রমের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ ও শ্রমিকের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে বাণী প্রদান করে বলেছেন, ‘উত্তম উপার্জন হলো (পেশাজীবী) কর্মীর হাতের (শ্রমের) উপার্জন, যখন সে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে।’
নবী করিম (সঃ) নিজে শ্রম ব্যয় করে জীবিকা অর্জন করতেন। একদা তিনি তাঁর ফোস্কা পড়া পবিত্র হাত দেখিয়ে সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘এটি এমন একটি হাত, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নিজের হাতের কাজ ও শ্রম দ্বারা উপার্জিত খাদ্য খাওয়া অপেক্ষা উত্তম খাদ্য কেউ খেতে পারে না। হজরত দাউদ (আঃ) নিজের হাতের শ্রমের উপার্জিত খাবার খেতেন’ (বুখারী)।

মানুষের জীবিকা অর্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে শ্রম। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর এই যে মানুষ তা-ই পায় যা সে করে। আর তার কর্ম অচিরেই দেখানো হবে; অতঃপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিদান’ (সূরা নাজম: ৩৯-৪১)।
ইসলামী বিধানে শ্রমিক, চাষি এবং অন্যান্য শ্রমজীবীকে কেউ বিনা পারিশ্রমিকে খাটাতে পারবে না। তাদের ন্যায়সঙ্গত যথার্থ পারিশ্রমিক তাদের দিতেই হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘প্রত্যেকের মর্যাদা তার কাজ অনুযায়ী, এটা এজন্য যে, আল্লাহ প্রত্যেকের কর্মেও পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।’ (সূরা আহ্কাফ: ১৯)।
মানুষের শ্রম করার অধিকার অত্যন্ত পবিত্র ঈমানী দায়িত্ব।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখবে’ (সূরা যিলযাল:৭-৮)।
ইসলাম প্রতিটি মানুষের শ্রমের ফলভোগ করার অধিকার স্বীকার করে। মহান অাল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতই না উত্তম! ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না’ (সূরা আল ইমরান: ১৩৬ ও ১৭১)।
রসূলুল্লাহ (স) শ্রমিককে মজুরি দান করার পরও তাকে লাভের অংশ দেয়ার জন্য উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘কর্মচারীদের তাদের কাজের লভ্যাংশ দাও। কেননা আল্লাহর শ্রমিকদের বঞ্চিত করা যায় না।’ (মুসনাদে আহমদ)
নবী করিম (স) শ্রমিকদের প্রতি মালিকের কর্তব্য ও শ্রমজীবীদের যেসব অধিকার নির্ধারণ করেছেন তন্মধ্যে গুত্বপূর্ণ অধিকার এই যে, তাকে শুধু পরিপূর্ণ মজুরি প্রদান করা যথেষ্ট নয়, বরং যতটা সম্ভব ত্বরিত মজুরি পরিশোধের কথাও বলা হয়েছে। মহানবী (স) বাণী প্রদান করেছেন, ‘শ্রমিককে শ্রমজনিত ঘাম শুকানোর আগেই অবিলম্বে তার মজুরি দাও’ (মুসনাদে আহমাদ)।
মজুরি না দেয়া বা কাজ অনুপাতে মজুরি কম দেয়াও ইসলামে নিষিদ্ধ।
রসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, ‘তিন ব্যক্তির ওপর আল্লাহ কিয়ামতের দিন অসন্তুষ্ট হবেন। তাদের একজন হচ্ছে যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিক নিযুক্ত করে তার দ্বারা পূর্ণ কাজ করিয়ে নেয়ার পর তার মজুরি দেয়নি’ (বুখারী)।
ইসলামী বিধান মতে, অন্যত্র নবী করিম (স) নির্দেশ প্রদান করেছেন যে, ‘কাজের পারিতোষিক নির্ধারণ ব্যতিরেকে কোনো শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করবে না’ (বায়হাকী)।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী মালিক স্বকীয় শক্তিবলে শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপাতে পারবে না। শ্রম করার অধিকারের পাশাপাশি শ্রমিকের কাজে অবকাশ বা ছুটি তথা বিশ্রাম পাওয়ার অধিকার আছে। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের সাধ্যাতীত কোনো কাজ করার দায়িত্ব চাপিয়ে দেননি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।’ (সূরা ইনশিরাহ: ৫)
আল্লাহ পাক মালিক ও শ্রমিক সকলকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করুন।

“ভয় কিংবা ভালোবাসা” ও কিছু কথা: এস এম শাহনূর

| ০২ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

“ভয় কিংবা ভালোবাসা” ও কিছু কথা: এস এম শাহনূর

কবি ,লেখক আর একজন গবেষক হলেও ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা বই সম্পর্কে আমার মতামত দেয়ার চেষ্টা করা অনধিকার চর্চা ছাড়া আর কিছুই না ।তবু ভাল লাগা থেকেই এবং পাঠক হিসেবে অন্য একজন মানুষের কাছে তাঁর এ সৃষ্টিশীল কর্ম দায়িত্ব নিয়ে জানান দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি ।”ফিহা তুমি কই? তোমার জন্য আমি লিখেছি এই কবিতার বই ।”এভাবেই তিনি পাঠকের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন “ভয় কিংবা ভালোবাসা “নামক বইখানা ।অভাগা কাহিনীতে ছন্দের তালে অংক শেখানো হয়েছে ।সন্রাসীদের প্রথম পাঠে স্বরবর্ণ আর ব্যঞ্জনব’ণ শেখানো হয়েছে। টাইগার মানে বাঘ কবিতায় শেখানো হয়েছে ইংরেজি একগুচ্ছ শব্দ মালা ।এছাড়া আরও আছে রাজকন্যা ও রাজপুত্রের কাহিনী ।বুকের ভেতর এক্কেবারে ঠাসা- আছে সলিড ভালোবাসা।শুধু কি তাই ?তিনি লিখেছেন, ধরতে পারি ছুঁতে পারি একটা বন্ধু চাই-ডিজিটাল হাজার বন্ধুর কোনো দরকার নাই!

 

আজ ঘৃণিত এপ্রিলফুল ডে : এস এম শাহনূর

| ০১ এপ্রিল ২০২০ | ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আজ ঘৃণিত এপ্রিলফুল ডে : এস এম শাহনূর

আসুন এপ্রিলফুল কি জানি,
কুসংস্কার নয়,সত্যটাই মানি।
পাশ্চাত্য অন্ধ অনুকরণের আরেক নাম -এপ্রিলফুল।একটু পড়াশুনা করলে জানা যায়,মিথ্যা, ঠাট্টা এবং অপরকে কষ্ট দেয়ার মত পাপকাজ এ উৎসব বা দিবসটির সাথে জড়িত।
★দেবী ভেনাসকে ঈগিত করেই হউক।
★স্রষ্টাকে উপহাস করার জন্যই হউক।
★হযরত ঈসা (আঃ)কে ইহুদী কর্তৃক ঠাট্টা বিদ্রূপ করার জন্যই হউক।
★ইসলাম ধর্মে প্রচলিত কাহিনী-এক সময়কার শৌর্যবীর্যে প্রভাবশালী মুসলিমদের খ্রিষ্টানদের নিকট স্পেনে পরাজিত হয়ে তাদের কথা মত মসজিদ আর জাহাজে আশ্রয় নিয়ে জীবনাবসানের কারণেই হউক এপ্রিলফুল সত্যিই ঘৃণিত।

 

বিশ্ব কবিতা দিবস ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

| ২১ মার্চ ২০২০ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ব কবিতা দিবস ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

আজ ২১ শে মার্চ, বিশ্ব কবিতা দিবস।১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর অধিবেশনে এই দিবস ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিল, “এই দিবস বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কবিতা আন্দোলনগুলিকে নতুন করে স্বীকৃতি ও গতি দান করবে।”

কবিতা হচ্ছে সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা।জন্মায়! কবিতা জন্মায়! কীভাবে জন্মায় একটি কবিতা? কীভাবে বেড়ে ওঠে একটি কবিতা? নাকি ইচ্ছের লালন থেকে বেড়ে ওঠা সবই কবিতা, কবিতার কথা? কবিতা কি চোরা পথ ধরে বেড়ে ওঠা প্রেম ও প্রকৃতির খেলা?গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি? নারী শরীরের সৌন্দর্য বর্ণনা? এমন হাজারো প্রশ্ন আছে কবিতা নিয়ে।কবিতা মানব মনের অনবদ্য ধ্যান ও মননের বহিঃপ্রকাশ; ভাবনার অনুরণন থেকে বেড়ে ওঠা পঙক্তিমালাই কবিতা। কবিতা ভাবপ্রকাশের ভাষা, প্রগাঢ় বোধের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি। কবিতা অধিকারের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা। কবিতা ভালোবাসার ভাষা।। কবিতা বলতে কী আবেগের বিজ্ঞানকে বুঝানো হয়ে থাকে? আবেগ ও বিজ্ঞান এ দুটির সমমিশ্রণ ঘটলেই পঙক্তিমালাগুলো কবিতা রূপ ধারণ করে। কবিতা শিল্পের একটি শাখা যেখানে ভাষার নান্দনিক গুণাবলীর ব্যবহারের পাশাপাশি ধারণাগত এবং শব্দার্থিক বিষয়বস্তু ব্যবহার করা হয়। কবিতা হচ্ছে শব্দমাল্যের সুগভীর গাঁথুনি, হৃদয়ের অনবদ্য সুখানুভূতি। কবিতা কখনো কালের সাক্ষী, সমকালের মুখপাত্র, কখনো দগ্ধ হৃদয়ের আর্তনাদ।
বিশ্লেষকদের মতে, কবিতা প্রতিমুহূর্তে আচরণে-আবরণে, আহ্বানে নিজের অস্তিত্ব তথা বোধজাত উপলব্ধি ঠিক রেখে নিজেকে ভাঙ্গে আবার গড়ে।

বাংলা সাহিত্যের জীবন্ত কিংবদন্তি কবিদের অন্যতম একজন কবি অসীম সাহা। একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা কে শুদ্ধতার কবি বলা হয়।সাহিত্য জগতের বেশ কিছু সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনে এই খ্যাতিমান গুণী শিল্পীর সাথে আমার দেখা হয়েছে। উনার জ্ঞানগর্ভ কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। জাতীয় শিশু কল্যাণ পরিষদের এক অনুষ্ঠানে কবিতার রূপরেখা নিয়ে চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা রেখেছিলেন তিনি। কোনটি কবিতা, কোনটি কবিতা নয়,কবিতা কেমন করে কবিতা হয়? কবির উপস্থাপনায় তা শৈল্পিক ভাবে বিদৃত হয়েছিল।তিনি বলেছিলেন,”কবিতা কিন্তু কোন সহজ পথে কোন সহজ কান্ডারী হয়ে তাকে অতিক্রম করবেন তা কিন্তু নয়।বহুদূর পথ পাড়ি দিতে হয়।
পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত কবিরা কবিতাকে নানান ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
সংস্কৃত আলোয় কবিরা বলেছেন, এটি একটি অলংকার কাব্য।
আবার কেউ বলেছেন, শব্দের সাথে শব্দের প্রবাহমানই কবিতা।
আবার বিখ্যাত দার্শনিক গোর্জে তিনি বলেছেন,আবেগের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে কবিতা।
কবির বক্তব্য শোনার পরে আমার মনে হয়েছিল কবিতা আসলেই নীল সাগর বুকের ঢেউয়ের মতো, সুন্দর শব্দমালা আর উপমার ঢেউ। যেখানে থাকবে সুন্দর একটি গল্প।হাজার রাতের গল্পে যে গল্প শেষ হয় না, কবিতার একটি মাত্র শব্দ কিংবা দু চারটি লাইনে তা প্রকাশ করা যায়।
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। পূর্বে অক্টোবর মাসে বিশ্ব কবিতা দিবস পালন করা হত। প্রথমে ৫ অক্টোবর এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রোমান মহাকাব্য রচয়িতা ও সম্রাট অগস্টাসের রাজকবি ভার্জিলের জন্মদিন স্মরণে ১৫ অক্টোবর এই দিবস পালন করা হত।বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে পালন করা হবে কবিতা দিবস। কবিতা ছড়িয়ে যাক সকল হৃদয়ে, আবৃত্তি হোক একের পর এক, রচনা, পাঠ ও কবিতা প্রকাশনা উৎসাহিত হোক।

“অতি শৈশব থেকে কবিতা আর আমি একই আলয়ে থাকি
কত চেনাজানা,
অথচ বিধাতার কাছ থেকে কিছু নৈসর্গিক শব্দ পেয়েও
জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা খানি হলো না রচনা। ”

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুণ্যের কবি এস এম শাহনূর কে সংবর্ধনা প্রদান

আওয়ার কণ্ঠ নিউজ ডেস্ক: | ১৬ মার্চ ২০২০ | ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুণ্যের কবি এস এম শাহনূর কে সংবর্ধনা প্রদান

গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের বল্লভপুর আইডিয়াল স্কুলের ২০২০ সালের বার্ষিক ক্রীড়া- সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও কবি এস এম শাহনূর কে সংবর্ধনা এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়

হাজী মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব, মাসুদ উল আলম
প্রধান মেহমান : মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও ক্যামিকেল ব্যবসায়ী।
উদ্বোধক:
মোঃ সোলেমান খান
সভাপতি, কসবা প্রেসক্লাব

মহাসচিব
বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন।

উদ্বোধন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তারুণ্যের কবি খ্যাত লেখক ও গবেষক, বল্লভপুর গ্রামের কৃতি সন্তান এস এম শাহনূর এর প্রতি মানপত্র পাঠের মাধ্যমে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মানপত্র পাঠ করেন স্কুলের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ লিয়াকত আলী আল কাদেরী।প্রধান আলোচকঃ ড.আলহাজ্ব শরীফ সাকী
প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মী।
বিশেষ অতিথি
জনাব,মোঃ নাজমুুল হক সিকদার
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার
কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন, জনাব,মোঃ আলম মিয়া
চেয়ারম্যান,
২নং মেহারী ইউনিয়ন পরিষদ।
শরীফ এ কে এম শামসুল হক
সাবেক চেয়ারম্যান, মেহারী ইউনিয়ন পরিষদ।
মুক্তিযোদ্ধা ‘হাজী আব্দুল মান্নান
সাবেক চেয়ারম্যান, কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদ।
শেখ আব্দুস সবুর
শিক্ষানুরাগী,
সাব ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ পুলিশ।
গীতিকার মিলন খান
বাচসাস পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক।
কবি আব্দুল আওয়াল
এএসপি,(অব:)
আধ্যত্বিক কবি ও দার্শনিক রেজা সারোয়ার
স্পেস থিওরি ‘র উদ্ভাবক।
প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান জয়
চেয়ারম্যান,
জনপ্রিয় চ্যানেল বঙ্গ নিউজ লাইভ।
কবি লোকমান হোসেন পলা
সাংগঠনিক সম্পাদক, কসবা প্রেস ক্লাব।
ডা. রুনা আহমদ
হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ, সাভার।
ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সামদানী সোহাগ
রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার। ওয়াল্টন গ্রুপ।
মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া
এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
মোঃ সিরাজুল হক (সীমান্ত সিরাজ),
মহাসচিব,
বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরাম ( বিজেএফ) সহ এলার সর্বস্তরোর বিপুল জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র ছাত্রীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দিয়ে উৎসাহ প্রদান করেন।

সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন স্কুলটির
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এস এম শাহাবুদ্দিন।

দ্বিতীয় পর্বে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

গত দুই দশক ধরে যে নিভৃতচারী গুণী মানুষটি বাংলা সাহিত্যাকাশে মিটমিট করে জ্বলে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন,তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুণ্যের কবি খ্যাত,লেখক ও গবেষক এস এম শাহনূর।

বাংলা একাডেমি,শাহবাগ পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র সহ বাংলাদেশের বহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে কবির রয়েছে এক রসালো বন্ধন।

তিনি কসবা উপজেলার,মেহারী ইউপি’র বল্লভপুর গ্রামের গর্বিত সন্তান। “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার নামকরণের ইতিকথা”, গবেষণা ধর্মী ঐতিহাসিক প্রবন্ধ “কাইতলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস” কাইতলা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা, গোয়ালী গ্রামের নামকরণের ইতিকথা ,কসবা উপজেলার”মেহারী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের নামকরণের অলিখিত ইতিহাস”লিখেছেন তিনি।

১৯৮২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বল্লভপুর গ্রামের এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে কবির জন্ম। পিতার নাম হাজী আব্দুল জব্বার,(তিনি ছতুরা দরবার শরীফের পীর প্রফেসর আলহাজ্ব আব্দুল খালেক (রঃ) এর একজন একনিষ্ঠ শিষ্য ও ঘুম জাগানিয়া ধর্ম প্রচারক ছিলেন)।মাতার নাম জাহানারা বেগম।(তিনি মুবাল্লিক ও ইসলাম ধর্মপ্রচারক শায়খুল বাঙ্গাল শাহ সূফী সৈয়দ আবু মাছাকিন লাহিন্দী আল কাদেরী(রঃ) এর ভাতিজি)।

ছোটবেলা থেকেই কবির কবিতা ও গল্প লেখায় হাতে খড়ি।আবৃত্তি,উপস্হিত বক্তৃতা,বিতর্ক ও নিজের সৃষ্টিশীল লেখার জন্য স্কুল,কলেজে,উপজেলা,জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন প্রতি পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র।তিনি ১৯৯৭ সালে কুমিল্লা বোর্ড স্কলারশীপ সহ এস এস সি,১৯৯৯ সালে এইচ এস সি এবং ২০০৩ সালে ব্যাচেলর অব সোসাল সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন।বিদেশে Marine and Warfare Academy of China.থেকে উচ্চতর প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সাবলীল,কোমল, মিষ্টভাষী ও ভ্রমণ বিলাসী।কবির সহধর্মিনী মিসেস আমেনা শরীফ শাহীন একজন নিষ্ঠাবান সরকারী অডিট কর্মকর্তা।একমাত্র কন্যা সন্তানের নাম- সামীহা নূর জারা।

কর্মজীবনে ভূ মধ্যসাগর ঘিরে জাতিসংঘের ইউনিফিল(UNIFIL) এর মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সে দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। মেধার কারণে চষে বেড়িয়েছেন চীন,জাপান,ভিয়েতনাম,মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,দুবাই,ভারত,মালদ্বীপ,সিংগাপুর, লেবানন,তুরস্ক,সাইপ্রাস; ইউরোপ-এশিয়া সহ পৃথিবীর নানান দেশ।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রথম কবিতা “অগ্নি বাণী” ১৯৯৪ সালে এবং বেতারে “স্বপ্ন দেখার নেইতো মানা’কবিতা প্রচারিত হয় ১৯৯৬ সালে।২০০৫ সালের একুশে বই মেলায় তাঁর ১০১ টি কবিতা সম্বলিত “স্মৃতির মিছিলে”নামক প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। যা পাঠক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে।দেশ বিদেশের নানান পত্রিকা ও সাময়িকীতে তাঁর বাংলা ও ইংরেজীতে লেখা মুদ্রিত হয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মাননাঃ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি জাতিসংঘ শান্তি পদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অলিখিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলনে বিশ্ববাঙালি সম্মাননা ২০১৯,সকালের সূর্য সাহিত্য বাসর সম্মাননা ২০১৯,কসবা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গুণীজন সংবর্ধনা,গাঙচিল ছন্দ বিশারদ সম্মাননা,কলম সৈনিক সাহিত্য পুরস্কার,কবি ও কবিতার ভুবন কবিরত্ন সম্মাননা এবং অমর একুশে সাহিত্য পুরস্কার।

মুজিব বর্ষ কি,তাৎপর্য ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

| ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ

মুজিব বর্ষ কি,তাৎপর্য ও প্রত্যাশা: এস এম শাহনূর

“একটি বজ্র কণ্ঠ, তর্জনীর একটি বজ্র নিনাদ
মিটিয়ে দিলো পলাশীর পরাজয়ের অপবাদ।
টুঙ্গি পাড়ার দামাল ছেলে জাতির জনক বঙ্গবীর
শোষিত বাঙালীর নেতা তিনি চির উন্নত শির।
খোকার হাতে বাঙালী লিখল বিজয়ের ইতিহাস,
অবাক পৃথিবীর সবাক কথন সাবাস সাবাস।”

শেখ মুজিবুর রহমান। ‘শেখ মুজিব’ নামেও পরিচিত। সংক্ষিপ্তরূপে বলা বা লেখার জন্য অনেকে ‘শেখ মুজিব’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটির ব্যবহার আরও বেশি। যারা বঙ্গবন্ধু বা শেখ মুজিব শব্দ ব্যবহার করে, তারা শেখ মুজিবুর রহমান শব্দ বা নাম ব্যবহার করে না। এমনকি একই সঙ্গে দুটি নাম ব্যবহারের প্রয়োজন থাকে না। আরও একটি সম্প্রদায় ‘শেখ সাহেব’ শব্দ ব্যবহার করে। শেখ সাহেব শব্দ ব্যবহারের আরেকটি তাৎপর্য আছে। বিশেষত শেখ মুজিবুর রহমানের সামসময়িক (সমসাময়িক শব্দটি বহুল প্রচলিত হলেও ভুল) রাজনীতিকরা শেখ সাহেব শব্দটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন। এটি শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশা থেকে এখনও প্রবীণ রাজনীতিকদের মধ্যে চালু আছে।

মুজিব নামটা শুনলে চোঁখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা পরনে পাঞ্জাবি-পায়জামা সাথে কালো ওয়েস্ট কোট, চোঁখে কালো মোটা ফ্রেমের চশমা। যাঁর মধ্যে দিয়ে দেখা যায় চকচকে ঝকঝকে শানিত একজোড়া চোঁখ। অতি সাধারণ পোশাক পরিহিত একজন অসাধারণ মানুষের ছবি। সেই মানুষের ছবি জেগে ওঠে যাঁর হৃদয় ছিল আকাশের মত বিশাল, যাঁর সকাল হত দেশের মানুষের কথা মনে নিয়ে, যে চোঁখে ঘুম নামতো দেশের আপামর মানুষের প্রতি ভালবাসা নিয়ে।

সেই মানুষটা আমাদের বাঙ্গালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, আপামর জনতার ভালবাসা তাঁকে শুধু জাতির পিতাই করেনি করেছে বন্ধু,বাংলার বন্ধু, বাংলার মানুষের বন্ধু, তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু। যাঁর প্রেরণায় বিনা অস্ত্রে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে সমুখ সমরে নেমে ছিল বাঙলার আমজনতা। সাথে ছিল শুধু একবুক সাহস, আর এই সাহস জুগিয়েছিলেন আমাদের বাঙ্গালার বন্ধু আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ঋণ কেউ শোধ করতে পারবে না।

যাঁর চিন্তা চেতনায় সবার আগে এসেছে দেশ, দেশের মানুষ, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, পেট ভরে ভাত খেতে পাবে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজে বাস করবে, দেশের মানুষ শিক্ষা দীক্ষায় উন্নত হবে। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটা দেশ উপহার দিতে চেয়েছে, সেই লক্ষ্যে কাজ করছিলেন তিনি, একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশেকে উনি সাড়ে তিন বছরে সোজা করে দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্ত সে হাসি হাসতে পারেন নি। কারণ ৭১’এর দোসররা রয়ে গিয়েছে আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, সমাজে, সরকারে। আর তারাই নির্দ্বিধায় খুন করে দেশের একমাত্র বন্ধুকে, বঙ্গবন্ধুকে।

➤মুজিব বর্ষ কি?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৭ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ২০২০-২০২১ খ্রিস্টাব্দকে মুজিব বর্ষ হিসাবে জাতীয়ভাবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপকার, কিংবদন্তি এই নেতা ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২৬ মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। জাতিসংঘের অন্যতম একটি অঙ্গ সংগঠন ইউনেস্কো। মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে মুজিব বর্ষ পালন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাছাড়া ২০১৯ সালের১২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর অধিবেশনে ইউনেস্কোর সকল সদস্যের উপস্থিতিতে ২৫ নভেম্বর মুজিব বর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। শেখ মুজিব ও বাংলাদেশ – এরা একে অপরের পরিপূরক অর্থাৎ, একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটিকে চিন্তা করা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা, শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ – এসবই একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মুজিব বর্ষ উদযাপন এত তাৎপর্যপূর্ণ।

সৈয়দ শামসুল হক নূরলদীনের সারাজীবন কাব্যনাটকে যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথাই লিখে রেখেছেন:
‘দেখিবার অপেক্ষায় আছোঁ,
নবান্নের পিঠার সুঘ্রাণে দ্যাশ ভরি উঠিতেছে।
দেখিবার অপেক্ষায় আছোঁ,
হামার গাভীন গাই অবিরাম দুধ ঢালিতেছে।
দেখিবার অপেক্ষায় আছোঁ,
মানুষ নির্ভয় হাতে আঙিনায় ঘর তুলিতেছে।
দেখিবার অপেক্ষায় আছোঁ,
নিশীথে কোমল স্বপ্ন মানুষের চোখে নামিতেছে।…
সুখে দুঃখে অন্নপানে সকলেই একসাথে আছে
সোনার বাংলার সোনা বাংলাদেশে আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে
১৭ মার্চ ২০২১, অর্থাৎ জাতির পিতার এক জন্মদিন থেকে আরেক জন্মদিন পর্যন্ত বছরটি উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ হিসেবে। সে হিসাবে ক্ষণগণনার দিনক্ষণ থেকে মুজিব বর্ষ শুরু হতে বাকি ছিল ৬৮ দিনের কিছু বেশি।আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী।১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হবে বছরব্যাপী এ অনুষ্ঠান মালা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি ঘাতকের নিষ্ঠুর বুলেটে প্রাণ না হারাতেন তবে আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী তাঁর বয়স হতো ৯৯ বছর ১১মাস ১দিন এবং ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তিনি শতায়ু হতেন। আবার কাকতালীয়ভাবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে বাংলাদেশ তাঁর স্বাধীনতার অর্ধ-শত বার্ষিকীতে পদার্পণ করবে।

কি আশ্চর্য এক মিলের সেতু বন্ধন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তাঁর স্বপ্নের গড়ে ওঠা বাংলাদেশের। কিন্তু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালিকে জাতি হিসেবে আমরা মাত্র ৫৫ বছর ৪ মাস বাঁচতে দিয়েছি। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে শতায়ু তিনি হতেন না, তা কে বলতে পারে! যদি তিনি তাঁর অতি প্রিয় বাংলার মাটিতে শতবর্ষ বেঁচে থাকতেন তবে এই দিনটি জাতি তখন কীভাবে পালন করত, তা ভাবলে মনেপ্রাণে শিহরণ জাগে।

সেই উপলব্ধি থেকেই হয়তো বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০২০-২০২১ খ্রীস্টাব্দকে মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এই হলো পটভূমি। যে দেশটির জন্য তিনি আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন, যে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের কথা নিয়েই যিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঘোষিত “মুজিব বর্ষ”টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদযাপনে দুটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি’। এ কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে সভাপতি ও কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে প্রধান সমন্বয়কারী করে গঠন করা হয়েছে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিগত ৮ জানুয়ারি, ২০২০ সালে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, “২০২০ সাল আমাদের জাতীয় জীবনে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর উদযাপিত হতে যাচ্ছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই উদযাপন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব নয়, এই উদযাপনের লক্ষ্য জাতির জীবনে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চারিত করা; স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে জাতিকে নতুন মন্ত্রে দীক্ষিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।”

আগামী ১৭ই মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানমালা যুগপৎভাবে চলতে থাকবে।মুজিববর্ষ’ উদযাপনে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১৯৫টি দেশে অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের পাশাপাশি ঢাকার আয়োজনে যোগ দিতে আসবেন বিশ্বনেতারা।

➤মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা:

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষণগণনার উদ্বোধন ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ১০ জানুয়ারি থেকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে যান বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে ভারতে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি দিয়ে ১০ জানুয়ারি দুপুরে তিনি তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে আরো স্মরণীয় করতে ১০ জানুয়ারি থেকেই মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা শুরু হয়।
জয় বাংলা- এ শ্লোগান আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাইতো গত ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা দেন মহামান্য হাইকোর্ট। আর এই স্লোগান যাঁর মুখে মুখরিত ছিলো সে আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয়সংগ্রামী বাঙালীর প্রিয় নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।এই দিনটিতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিশ্বস্বীকৃত সেই মহামানব হানাদার শত্রুদের দুর্ভেদ্য লৌহপ্রকোষ্ঠ ছিন্নভিন্ন করে হিমালয়ের মতো শির উঁচু করে তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে অশ্রুসজল নয়নে সহাস্য বদনে বিমান থেকে কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন। নয় মাস পর তিনি এলেন, সমবেত লাখো মানুষের হৃদয় উদ্বেলিত করে খোলা ট্রাকে করে রেসকোর্স ময়দানে তাঁরই জন্য তৈরি মঞ্চে যাওয়ার পথে নয়নভরা জলে রাস্তার ধারের হাজারো জনতার চোঁখেও জল বইয়ে দিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার নায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাকে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি বরণ করে নিল জাতির পিতা হিসেবে। ১০ জানুয়ারিতে (১৯৭২) আপন মানুষদের সাহচর্যে এসে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজে আবারও কাঁদলেন আর কাঁদালেন লাখো জনতাকে। আজ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি জীবিত থাকলে দেখতেন তাঁর সেই প্রাণপ্রিয় সাড়ে সাত কোটি বাঙালির পূর্বসূরিরা বেড়ে হয়েছে সংখ্যায় ১৭ কোটি। আর ১৭ কোটি বাঙালির ৩৪ কোটি হাত আজ ঊর্ধ্বে উঠিয়ে আনন্দের ফানুস উড়িয়ে দুহাতে করতালি দিয়ে আরেকবার আবেগঘণ হৃদয়ে মনের কোঠরে গেঁথে নিয়েছেন জাতির পিতাকে; যাঁর অপরিসীম আত্মত্যাগের ফল হিসেবে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি দেশ, একটি পতাকা আর একটি নতুন মানচিত্র। আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সবুজের মাঝে উদীয়মান তরুণ সূর্য। তাঁরই সম্মানে সবাই পালন করবে তাঁর শততম জন্মশতবার্ষিকী একটি দিনে নয়, সারা বছর ধরে প্রতিদিন, যা পরিচিতি পাবে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে। মুজিববর্ষ নাম হয়েছে তাঁরই নামানুসারে, যাঁর নামটি ঠাঁই করে নিয়েছে বাংলার ইতিহাসে, ইতিহাসের পাতায় প্রোথিত হওয়া যে নাম ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-এর গায়ে খোদিত হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে সুনীল আকাশে।তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সবার প্রিয় ‘শেখ মুজিব’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষণগণনার উদ্বোধন করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ৫৩ জেলা, ২টি উপজেলা, ১২টি সিটি কর্পোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে বসানো কাউন্টডাউন ঘড়ি চালু হয়।

➤এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শত বার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি। আমরা ২০২০ থেকে ২০২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এই সময়টাকে এমন ভাবে কাজে লাগাতে চাই- বাংলাদেশ যেনো ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে।’

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, বেশ একটা কর্মযজ্ঞ চলছে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা যদি জীবনে কাজে লাগানো যায়, তা হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’

বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমাদের কর্তব্য হবে তাকে অর্থবহ করে তোলা। সে জন্য কী করতে হবে, তা–ও তিনি বলে গেছেন, ‘যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।’ (১৫ জানুয়ারি ১৯৭৫)
২০২০ সালের অঙ্গীকার হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, যা মূর্ত আছে আমাদের ১৯৭২-এর সংবিধানের মৌল চার নীতিতে—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতায়।

যদি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা আমাদের জীবনে কাজে লাগাতে পারি, তা হবে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ উপায়।বঙ্গবন্ধু সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে ইতিহাসের মহানায়কে পরিণত হওয়ার কোনো পর্যায়েই তাঁর সব শক্তির উৎস গণমানুষের সান্নিধ্য থেকে দূরে সরেনি। জনতা ও নেতার এই রসায়ন ও এই বন্ধন কেবল মুখে প্রকাশ করার বিষয় নয়, এটি জীবনযাপনের অঙ্গীভূত বিষয়।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’ এই কথাটা কিন্তু গভীরভাবে ভাবার মতো। প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করা খুব জরুরি। এই কথাটার মানে কি আমরা বুঝি? রবীন্দ্রনাথেরই কথা যে, ‘হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান!’ মানুষকে যেন আমরা অপমান না করি।
বঙ্গবন্ধু মুজিব সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন। তাঁর প্রকাশিত বই দুটি অসমাপ্ত আত্মজীবনী আর
কারাগারের রোজনামচা আমাদের অবশ্যপাঠ্য। শুধু পড়লেই চলবে না, তাঁর কথাগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না।’ বঙ্গবন্ধু কারাগারের রোজনামচা য় লিখেছেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে তো কিছুই নাই। এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে। পাকিস্তানকে শাসকগোষ্ঠী কোন পথে নিয়ে চলেছে, ভাবতেও ভয় হয়। আজ দলমত-নির্বিশেষে সকলের এই জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত।’ (৩০ জুন ১৯৬৬) ১৯৭২ সালের ৯ মে রাজশাহীতে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন,
‘আমি কী চাই?
আমি চাই আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। আমি কী চাই?
আমার বাংলার বেকার কাজ পাক।
আমি কী চাই?
আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক।
আমি কী চাই?
আমার বাংলার মানুষ হেসেখেলে বেড়াক।
আমি কী চাই?
আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণ ভরে হাসুক।’

নারীর প্রতি আস্থা ও সম্মান বিষয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, “আমার জীবনেও আমি দেখেছি যে গুলির সামনে আমি এগিয়ে গেলেও কোনো দিন আমার স্ত্রী আমাকে বাধা দেয় নাই। এমনও আমি দেখেছি যে, অনেকবার আমার জীবনের ১০/১১ বছর আমি জেল খেটেছি। জীবনে কোনো দিন মুখ খুলে আমার ওপর প্রতিবাদ করে নাই। তাহলে বোধ হয় জীবনে অনেক বাধা আমার আসত। এমন সময়ও আমি দেখেছি যে আমি যখন জেলে চলে গেছি, আমি এক আনা পয়সা দিয়ে যেতে পারি নাই আমার ছেলেমেয়ের কাছে। আমার সংগ্রামে তার দান যথেষ্ট রয়েছে। পুরুষের নাম ইতিহাসে লেখা হয়। মহিলার নাম বেশি ইতিহাসে লেখা হয় না। সে জন্য আজকে আপনাদের কাছে কিছু ব্যক্তিগত কথা বললাম। যাতে পুরুষ ভাইরা আমার, যখন কোনো রকমের সংগ্রাম করে নেতা হন বা দেশের কর্ণধার হন তাদের মনে রাখা উচিত, তাদের মহিলাদেরও যথেষ্ট দান রয়েছে এবং তাদের স্থান তাদের দিতে হবে”।

ছাত্রলীগ ও ছাত্রদের প্রতি তিনি বলেন, “ছাত্র ভাইয়েরা, লেখাপড়া করেন। আপনাদের লজ্জা না হলেও আমার মাঝে মাঝে লজ্জা হয় যখন নকলের কথা আমি শুনি। ডিগ্রি নিয়ে লাভ হবে না। ডিগ্রি নিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। ডিগ্রি নিয়ে নিজের আত্মাকে ধোঁকা দেওয়া যায়। মানুষ হতে হলে লেখাপড়া করতে হবে। আমি খবর পাই বাপ-মা নকল নিয়া ছেলেদের-মেয়েদের এগিয়ে দিয়ে আসে। কত বড় জাতি। উঁহু! জাতি কত নিচু হয়ে গেছে।”

বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জনসভায় দেওয়া ভাষণে বলেন, “রাস্তা নেই ঘাট নেই, রেলওয়ে ব্রিজ এখন পর্যন্ত সারতে পারি নাই। চরিত্র এত জঘন্য খারাপ হয়ে গেছে যেই ধরি পকেটমাইর ধরি, চোর-গুন্ডা ধরি, লজ্জায় মরে যাই ছাত্রলীগের ছেলে, ভাই-বোনেরা। পুলিশ দিয়া নকল বন্ধ করতে হয় আমার এ কথা কার কাছে কবো মিয়া? এ দুঃখ! বলার জায়গা আছে মিয়া? তোমরা নকল বন্ধ করো। ছাত্রলীগ ছাত্র ইউনিয়ন নিয়া সংগ্রাম পরিষদ করেছ, তোমরা গার্ড দিয়া নকল বন্ধ করো। তোমাদের আমি সাহায্য করি। পুলিশ দিয়া আমাদের নকল বন্ধ করতে দিয়ো না তোমরা। পুলিশ দিয়ে আমি চোর সামলাব”।

১৯৭৩ সালের ১৯ আগস্ট, ঢাকায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ দান কালে তিনি বলেন, আমি দেখতে চাই যে, ছাত্রলীগের ছেলেরা যেন ফার্স্টক্লাস বেশি পায়। আমি দেখতে চাই, ছাত্রলীগের ছেলেরা যেন ওই যে কী কয়, নকল, ওই পরীক্ষা না দিয়া পাস করা, এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলো।

বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শের ছিতে ফোঁটা যদি দলের সব নেতা-কর্মী পালন করে তাহলে দেশে যে উন্নয়ন চলছে তা হবে টেকসই, মজবুত ও দীর্ঘমেয়াদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ দলের আদর্শবান সৎ নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের সঠিক মর্যাদাদান ও সুযোগ সন্ধানী, হাইব্রিড, ন্যায়-নীতি বর্জিত কর্মীদের শাস্তি প্রদান করুন।

বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা, আদর্শ, ন্যায়-নীতি, জীবন, চিন্তা, শিক্ষা ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি সরকার পরিচালিত হয় এবং তার যথাযথ পালন হয় তা হলেই মুজিব বর্ষ সফল হবে বলে দৃশ্যত। আর সেই লক্ষ্যে যদি অটুট থাকা যায় তাহলে বাংলাদেশ অচিরের একটা সোনার দেশ হয়ে গড়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আমার ব্যক্তিগত অভিমত যে, বঙ্গবন্ধু যা করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে চেয়ে ছিলেন দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, সেইসব পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তবায়ন করলে তাঁকে সঠিক শ্রদ্ধা জানানো হবে। তাঁর জীবন ও কর্মের থেকে ছিটেফোঁটা শিক্ষা নিলেও দেশের মানুষের জীবন উন্নত হতে পারে। উনাকে চর্মচোঁখে না দেখলেও, পরিবারের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, ইতিহাস পাঠে যতটুকু জেনেছি বা তার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী আর কারাগারের রোজনামচা পড়ে যতটুকু জেনেছি, তা আমার যাপিত জীবনে যদি অনুসরন করতে পারি তা হবে উনাকে সম্মান, শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার সমান ।

বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে যিনি মূল কারিগর ও স্বাধীনতা অর্জনের পর ’৭৫ সালে ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে বিশ্ব ইতিহাসের কলংকময় সেই রাতে শহীদ হওয়ার আগে পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের পরতে পরতে যে সকল সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তিনি তাঁর বক্তৃতায় ও তাঁর লেখা বই এ তুলে এনেছেন যার অধিকাংশ থেকে আমরা আজো মুক্তি পাইনি।আসুন দৃষ্টভঙ্গি বদলাই,বদলে যাবে সমাজ,বদলে যাবে দেশ।নিজেরা সংশোধিত হয়ে তাঁর দেখানো পথে চলি। মুজিব বর্ষ কে সাফল্য মন্ডিত করি।

মুজিব মানে বিশ্ব নেতা
মুজিব মানে স্বাধীনতা
মুজিব মানে জাতির পিতা
ঝরুক মুজিব বর্ষের বার্তা।

 

মুজিব কোটের রহস্যের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

| ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:২৭ অপরাহ্ণ

মুজিব কোটের রহস্যের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানেই বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কাছে যা যা প্রিয় ছিল তাই দেশের সকল মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ পোশাক ছিলো সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা আর ৬ বোতামের কালো কোট। যে কোটটি পরবর্তীতে ‘মুজিব কোট’ নামে বেশি পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং তাকে যারা ভালোবাসতেন তারাই পরবর্তিতে এই ‘মুজিব কোট’ ব্যবহার করতেন।
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মাঝেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘মুজিব কোট’। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা রাজনীতি করছেন তারাও এই কোটকে ব্যবহার করছেন। বঙ্গবন্ধুর ভক্তদের কাছে, এই কোট ধারণ করা মানেই বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করার সামিল। পায়জামা-পাঞ্জাবির সাথে মুজিব কোট ছাড়াও মোটা ফ্রেমের চশমা, চুরুটের পাইপও বঙ্গবন্ধুর আইকন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বঙ্গবন্ধু ঠিক কত সাল থেকে কালো কোট পরা শুরু করেছিলেন তার কোনো নির্দ্রিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। তবে মাওলানা ভাসানী এবং শামসুল হক যখন আওয়ামী মুসলীম লীগ করলেন তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মোস্তাক আহমেদ সংগঠনটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে এই কোট পড়তে বেশি দেখা যায়। তবে এই কোটটির প্রচলন ‘নেহেরু কোট’ থেকে।
ভারত উপমহাদেশ স্বাধীনের সময় জওহরলাল নেহেরুর (স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী) বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে এই নেহেরু কোটের প্রচলন শুরু হয়। পরে সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধু এই কোটটি পড়তেন বলেই এর নাম দেয়া হয় ‘মুজিব কোট’। বঙ্গবন্ধুর স্বভাবতই তার পছন্দের সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির মতই কোটটি ব্যবহার করতেন।
তবে আগরতলা(১৯৬৮) মামলার সময় থেকেই বঙ্গবন্ধু এই কালো কোট পড়া শুরু করেন বলে জানান বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন।
এই মুজিব কোটে ছিলো ৬টি বোতাম। মুজিব কোটের ৬ বোতাম মানেই শেখ মুজিবের ৬ দফা। স্বধীনতা ঘোষণার পূর্বে শেখ মুজিবের গায়ের কোটটি মুজিব কোট হিসেবে তেমন খ্যাতি লাভ করেনি। কালো হাতাকাটা এই বিখ্যাত কোটটি তখনও লাভ করেনি কালজয়ী কোনো নাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্র তার সহপাঠী তাজউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা দিতে গিয়েছিলেন। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে অনেক কাছ থেকে দেখলেন, কথাও বললেন দীর্ঘক্ষণ। কথা শেষে ওঠে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু যখন তার কালো কোটটি গায়ে জড়াচ্ছিলেন তখন ওই ছাত্র লক্ষ্য করলেন কোটে ৬টি বোতাম রয়েছে। যা এ ধরনের অন্য কোটের বোতামের চেয়ে কম। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কোটের বোতাম ৬টি কেন? উত্তরে বঙ্গবন্ধু তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এমন প্রশ্ন এর আগে আমাকে আর কেউ করেনি। তুই প্রথম। এই ৬টি বোতাম আমার ঘোষিত ৬ দফার প্রতীক।’ আর এ কারণেই একটি আদর্শ মুজিব কোটের প্রতিটিতে বোতামের সংখ্যা থাকে ৬টি।
ইতিহাস থেকে দেখলে, মুজিব কোটের সঙ্গে জওহরলাল নেহেরুর ব্যবহৃত জ্যাকেট এবং মুজিব টুপির সঙ্গে সুভাষ বসুর আজাদ-হিন্দ ফৌজের টুপির বেশ মিল রয়েছে। তখন এসব জ্যাকেট-টুপি বৃটিশবিরোধী সংগ্রামে ভারতীয় কংগ্রেস অনুসৃত ভারতীয় জাতীয়তার স্মারকচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সেগুলোই সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে নতুনভাবে জেগে উঠতে শুরু করেছে। যার বিশেষত রুপ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মুজিব কোট’ বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 

ভ্যালেন্টাইন্স ডে: ভালোবাসা ভাল নয়- এস এম শাহনূর

| ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

ভ্যালেন্টাইন্স ডে: ভালোবাসা ভাল নয়- এস এম শাহনূর

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালবাসা এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কারো সাথে শত্রুতা রাখা।’’ [আহমদ, মুসনাদুল আনসার, হাদিস নং২০৩৪১]

ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত মানবিক অনুভূতি। ভালোবাসা নিয়ে ছড়িয়ে আছে কত কত পৌরাণিক উপাখ্যান। সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালোবাসার সন্ধান। ভালোবাসার জন্য মানুষ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে। রাজা সিংহাসন ত্যাগ করে হাসিমুখে প্রেমিকার হাত ধরে। আজকের এই পাথর সময়ে ঈর্ষা-বিদ্বেষ আর হানাহানির পৃথিবীতে ভালোবাসা প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করে চলেছে অমর্ত্যলোকের কাহিনী। কিন্তু প্রত্যেক মু’মিনের ভালোবাসার একমাত্র প্রধান কেন্দ্র হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ইত্যাদি সকলের প্রতি ভালোবাসার মূল ভিত্তি হবে আল্লাহ ও রাসূলের ভালোবাসার পরিপূর্ণতার জন্য।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। আজকাল অনেক মুসলিমই প্রকৃত বিষয়টি না জেনে নানা রকম বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা করে থাকে। কী এই ভ্যালেন্টাইনস ডে? কীভাবে তার উৎপত্তি? কেনইবা একে ঘিরে ভালোবাসা উৎসবের আহ্বান? আসুন তরুণ বন্ধু, প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজি।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ (Saint Valentine’s Day) এর প্রথম শব্দটিই এ দিনটির আসল পরিচয়ের জানান দিতে যথেষ্ট। Advanced Oxford Learners’ Dictionary তে Saint শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে- A Person Declared to be holy by the christian church because of her/his Qualities or good works. অর্থাৎ এমন ব্যক্তি, খ্রিস্টান গীর্জা কর্তৃক যাকে তার গুণাবলী বা ভালো কাজের জন্য পবিত্র সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। Valentine অর্থ ভালোবাসা নয় বরং এক ব্যক্তির নাম। সুতরাং সহজেই বুঝা যায়, গীর্জা কর্তৃক ‘পবিত্র সত্তা’ হিসেবে ঘোষিত হওয়া একজন ধর্মযাজকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন-ই এ দিনটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য।

ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আছে নানা মুনির নানা মত।

‘ভালবাসা দিবস’কে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবী দিন দিন উন্মাতাল হয়ে উঠছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি প্রাচ্যের দেশগুলোতেও এখন ঐ সংস্কৃতির মাতাল ঢেউ লেগেছে। এমনকি ৯৫ ভাগ মুসলমানের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও উচ্ছৃংখল মুসলিম ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়িরাও এ অশ্লীল স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে থাকে। হৈ চৈ, উন্মাদনা, রাঙায় মোড়া ঝলমলে উপহার সামগ্রী, নামি রেস্তোরাঁয় ‘ক্যান্ডেল লাইট ডিনার’কে ঘিরে প্রেমিক যুগলের চোখেমুখে এখন বিরাট উত্তেজনা।

আমাদের দেশে দিনটির শুরু : ১৯৯৩ সালের দিকে আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবসের আবির্ভাব ঘটে।
ইতিহাসে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ : ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’র ইতিহাস প্রাচীন। এর উৎস হচ্ছে ১৭শ’ বছর আগের পৌত্তলিক রোমকদের মাঝে প্রচলিত ‘আধ্যাত্মিক ভালোবাসা’র উৎসব। এ পৌত্তলিক উৎসবের সাথে কিছু কল্পকাহিনী জড়িত ছিল, যা পরবর্তীতে রোমীয় খৃস্টানদের মাঝেও প্রচলিত হয়। এ সমস্ত কল্প-কাহিনীর অন্যতম হচ্ছে, এ দিনে পৌত্তলিক (অগ্নি উপাসক) রোমের পৌরাণিক কাহিনীতে বর্ণিত রোমিউলাস নামক জনৈক ব্যক্তি একদা নেকড়ের দুধ পান করায় অসীম শক্তি ও জ্ঞানের অধিকারী হয়ে প্রাচীন রোমের প্রতিষ্ঠা করেন। রোমানরা এ পৌরাণিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে ১৪ ফেব্রুয়ারি উৎসব পালন করত।
ক্যাথলিক বিশ্বকোষে ভ্যালেনটাইন ডে সম্পর্কে তিনটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কিন্তু বিভিন্ন বইয়ে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা উদ্ধৃত হয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকটি ঘটনা নিম্নরূপ :

➤১ম বর্ণনা : রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর আমলের ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেনটাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপী এবং খৃস্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট ছিলেন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। সম্রাটের তরফ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হ’লে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করেন। ফলে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। রোম স¤্রাটের বারবার খৃস্টধর্ম ত্যাগের আহবান প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সম্রাট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। The St. Valentine who inspired the holiday may have been two different men.Officially recognized by the Roman Catholic Church, St. Valentine is known to be a real person who died around A.D. 270. However, his true identity was questioned as early as A.D. 496 by Pope Gelasius I, who referred to the martyr and his acts as æbeing known only to God.”

➤২য় বর্ণনা : খৃস্টীয় ইতিহাস অনুযায়ী এ দিবসের সূত্রপাত হয় ২৬৯ খৃস্টাব্দে। সাম্রাজ্যবাদী, রক্তলোলুপ রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের দরকার ছিল এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর। এক সময় তার সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দেয়।
কিন্তু কেউ তার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাজী নয়। সম্রাট লক্ষ্য করলেন যে, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল। ফলে তিনি যুবকদের বিবাহ কিংবা যুগলবন্দী হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যাতে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ না করে। তার এ ঘোষণায় দেশের তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীরা ক্ষেপে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তিনি ভালবেসে সেন্ট মারিয়াসকে বিয়ের মাধ্যমে রাজার আদেশকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার গীর্জায় গোপনে বিয়ে পড়ানোর কাজ চালাতে থাকেন। একটি রুমে বর-বধূ বসিয়ে মোমবাতির স্বল্প আলোয় ভ্যালেন্টাইন ফিস ফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন। কিন্তু এ বিষয়টি এক সময়ে সম্রাট ক্লডিয়াস জেনে যান। তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ২৭০ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইনকে হাত-পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে সম্রাটের সামনে হাজির করলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন। ঐ দিনের শোক গাঁথায় আজকের ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’।

অন্য  একটি বর্ণনা  মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। জনৈক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু’জন প্রাণ খুলে কথা বলত। এক সময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনেরভালোবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদেরভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে যায়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল ২৬৯ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

➤৩য় বর্ণনা : গোটা ইউরোপে যখন খৃস্টান ধর্মের জয়জয়কার, তখনও ঘটা করে পালিত হ’ত রোমীয় একটি রীতি। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সকল যুবকরা সমস্ত মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে একটি জারে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ঐ বাক্স হ’তে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে পূর্ণবৎসর ঐ মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে ‘প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি।’ বৎসর শেষে এ সম্পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হ’ত। এ রীতিটি কতক পাদ্রীর গোচরীভূত হ’লে তারা একে সমূলে উৎপাটন করা অসম্ভব ভেবে শুধু নাম পাল্টে দিয়ে একে খৃস্টান ধর্মায়ন করে দেয় এবং ঘোষণা করে এখন থেকে এ পত্রগুলো ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইন’-এর নামে প্রেরণ করতে হবে। কারণ এটা খৃস্টান নিদর্শন, যাতে এটা কালক্রমে খৃস্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

➤৪র্থ বর্ণনা : প্রাচীন রোমে দেবতাদের রাণী জুনো (Juno)’র সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালন করা হ’ত। রোমানরা বিশ্বাস করত যে, জুনোর ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোন বিয়ে সফল হয় না। ছুটির পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি লুপারকালিয়া ভোজ উৎসবে হাজারো তরুণের মেলায় র‌্যাফেল ড্র’র মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই প্রক্রিয়া চলত। এ উৎসবে উপস্থিত তরুণীরা তাদের নামাংকিত কাগজের স্লিপ জনসম্মুখে রাখা একটি বড় পাত্রে (জারে) ফেলত। সেখান থেকে যুবকের তোলা স্লিপের তরুণীকে কাছে ডেকে নিত। কখনও এ জুটি সারা বছরের জন্য স্থায়ী হ’ত এবং ভালোবাসার সিঁড়ি বেয়ে বিয়েতে পরিণতি ঘটত।

➤৫ম বর্ণনা : রোমানদের বিশ্বাসে ব্যবসা, সাহিত্য, পরিকল্পনা ও দস্যুদের প্রভু ‘আতারিত’ এবং রোমানদের সবচেয়ে বড় প্রভু ‘জুয়াইবেতার’ সম্পর্কে ভ্যালেনটাইনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সে উত্তরে বলে, এগুলো সব মানব রচিত প্রভু, প্রকৃত প্রভু হচ্ছে, ‘ঈসা মসীহ’। এ কারণে তাকে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়।

➤৬ষ্ঠ বর্ণনা : কথিত আছে যে, খৃস্টধর্মের প্রথম দিকে রোমের কোন এক গীর্জার ভ্যালেন্টাইন নামক দু’জন সেন্ট (পাদ্রী)-এর মস্তক কর্তন করা হয় নৈতিক চরিত্র বিনষ্টের অপরাধে। তাদের মস্তক কর্তনের তারিখ ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভক্তেরা তাদের ‘শহীদ’ (!) আখ্যা দেয়। রোমান ইতিহাসে শহীদের তালিকায় এ দু’জন সেন্টের নাম রয়েছে। একজনকে রোমে এবং অন্যজনকে রোম থেকে ৬০ মাইল (প্রায় ৯৭ কি.মি.) দূরবর্তী ইন্টারামনায় (বর্তমান নাম Terni) ‘শহীদ’ করা হয়। ইতিহাসবিদ কর্তৃক এ ঘটনা স্বীকৃত না হ’লেও দাবী করা হয় যে, ২৬৯ খৃস্টাব্দে ‘ক্লাউডিয়াস দ্যা গথ’-এর আমলে নির্যাতনে তাদের মৃত্যু ঘটে। ৩৫০ খৃস্টাব্দে রোমে তাদের সম্মানে এক রাজপ্রাসাদ (Basilica) নির্মাণ করা হয়। ভূগর্ভস্থ সমাধিতে একজনের মৃতদেহ আছে বলে অনেকের ধারণা।
অন্য এক তথ্যে জানা যায়, রোমে শহীদ ইন্টারামনা গীর্জার বিশপকে ইন্টারামনা ও রোমে একই দিনে স্মরণ করা হয়ে থাকে। রোমান সম্রাট ২য় ক্লাউডিয়াস ২০০ খৃস্টাব্দে ফরমান জারী করেন যে, তরুণরা বিয়ে করতে পারবে না। কারণ অবিবাহিত তরুণরাই দক্ষ সৈনিক হ’তে পারে এবং দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। ভ্যালেন্টাইন নামের এক তরুণ সম্রাটের আইন অমান্য করে গোপনে বিয়ে করে। কেউ কেউ বলেন, রাজকুমার এ আইন লংঘন করেন।

➤৭ম বর্ণনা : প্রাচীনকালে রোমানরা নেকড়ে বাঘের উপদ্রব থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে লুপারকালিয়া নামে ভোজানুষ্ঠান করত প্রতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি। এ ভোজানুষ্ঠানের দিন তরুণরা গরুর চামড়া দিয়ে একে অন্যকে আঘাত করত। মেয়েরাও উৎসবে মেতে উঠত। ভ্যালেন্টাইন নামের কোন বিশিষ্ট বিশপ প্রথমে এর উদ্বোধন করেন। সেই থেকে এর নাম হয়েছে ভ্যালেন্টাইন, তা থেকে দিবস। রোমানরা ৪৩ খৃস্টাব্দে ব্রিটেন জয় করে। এ কারণে ব্রিটিশরা অনেক রোমান অনুষ্ঠান গ্রহণ করে নেয়। অনেক গবেষক এবং ঐতিহাসিক Lupercalia অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন অনুষ্ঠানের একটা যোগসূত্র আছে বলে মনে করেন। কেননা এতে তারিখের অভিন্নতা ও দু’টি অনুষ্ঠানের মধ্যে চরিত্রগত সাদৃশ্য রয়েছে।
কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপে এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ‘Be my valentine’ (আমার ভ্যালেন্টাইন হও)।
১৮শ’ শতাব্দী থেকেই শুরু হয়েছে ছাপানো কার্ড প্রেরণ। এ সব কার্ডে ভাল-মন্দ কথা, ভয়-ভীতি আর হতাশার কথাও থাকত। ১৮শ’ শতাব্দীর মধ্য ভাগ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যে সব কার্ড ভ্যালেন্টাইন ডে’তে বিনিময় হ’ত তাতে অপমানজনক কবিতাও থাকত।
সবচেয়ে যে জঘন্য কাজ এ দিনে করা হয়, তা হ’ল ১৪ ফেব্রুয়ারি মিলনাকাক্সক্ষী অসংখ্য যুগল সবচেয়ে বেশী সময় চুম্বনাবদ্ধ হয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া। আবার কোথাও কোথাও চুম্বনাবদ্ধ হয়ে ৫ মিনিট অতিবাহিত করে ঐ দিনের অন্যান্য প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে।

ভালোবাসা দিবসের পরিণতি ‘ধর ছাড়’ আর ‘ছাড় ধর’ নতুন নতুন সঙ্গী। তাদের এ ধরা-ছাড়ার বেলেল্লাপনা চলতে থাকে জীবনব্যাপী। বছর ঘুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও, ভালোবাসা কিন্তু প্রতিদিনের। খ্রিস্টান পাদ্রী (ধর্ম যাজক) সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের কুকর্ম স্মরণ রাখার জন্য কোনো ঈমানদারের পক্ষে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা কি উচিত হবে?

“ভালোবাসা একদিনের নয়
নিত্য দিনই ভালোবাসা হয়।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে
ভালোবাসা ভাল নয়।
কপোত কপোতির পেখম মেলা
তোমাকে আমার বড্ড অবহেলা।”

 

ভ্যালেন্টাইন ডে এর নামে তরুণ-তরুণীদের সস্তা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

‘‘আর তারা তো পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।’’ [সূরা আল মায়িদাহ: ৬৪]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ‘‘যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।’’ [সূরা আন-নূর :১৯]

 

ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

| ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস: এস এম শাহনূর

কিভাবে পেলাম এ ইংরেজি নববর্ষ? কি তার ইতিহাস? কখন থেকে শুরু হল এ নববর্ষ উৎযাপন? তাকি আমরা জানি? পৃথিবীর শুরু থেকেই ছিল নাকি পরবর্তীতে শুরু হয়েছে? আসুন! জানা অজানা কিছু বিষয় জেনে নেই। জেনে নেয়া যাক বর্ণিল উৎসাহে পালন করা ইংরেজি নববষের্র ইতিহাস। আমরা যে ইংরেজি সন বা খ্রীস্টাব্দ বলি আসলে এটা হচ্ছে গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার। এটা একটি সৌর সন। নানা পরিবর্তন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন, বিবর্তন এবং যোগ-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষ গণনায় বর্তমান কাঠামো লাভ করে।

গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারের আগে নাম ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার মিসর দেশে প্রচলিত ক্যালেন্ডারটি রোমে এনে তার কিছুটা সংস্কার করে তাঁর রোম সাম্রাজ্যে চালু করেন। এই ক্যালেন্ডারে জুলিয়াস সিজারের নামে জুলাই মাসের নামকরণ করা হয়। মিসরীয়রা বর্ষ গণনা করত ৩৬৫ দিনে। মিসরীয়দের ক্যালেন্ডার সংস্কার করে জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার রোমে প্রবর্তন করলেন তাতে বছর হলো ৩শ’ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে। এখানে উল্লেখ্য যে, মিসরীয় ক্যালেন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন এই ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষ সূর্য দেখে সময় হিসেব করতো। কিংবা বলা যায় তারও আগে মানুষ বুঝতই না সময় আসলে কী। ধারণাটা আসে চাঁদের হিসাব থেকে। অর্থাৎ চাঁদ ওঠা এবং ডুবে যাওয়ার হিসাব করে মাস এবং তারপর বছরের হিসাব করা হতো। চাঁদ ওঠার সময় বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। সূযের্র হিসাবে বা সৌর গণনার হিসেব আসে অনেক পরে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চন্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে আর তা হচ্ছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনিয় সভ্যতা, আসিরিয় সভ্যতা ও ক্যালডিয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষ গণনা শুরু হয় ব্যাবিলনিয় সভ্যতায়।

কিন্তু তখন বর্তমানের মতো জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন বর্ষ গণনা শুরু হতো না। তখন নিউ ইয়ার পালন করা হতো যখনই বসন্তের আগমন হতো। অর্থাৎ শীতকালের রুক্ষতা ঝেড়ে প্রকৃতি যখন গাছে গাছে নতুন করে পাতা গজাতে থাকে, ফুলের কলিরা ফুটতে শুরু করে তখনই নতুন বর্ষ! অন্যান্য দেশেরমতই আমাদের দেশেও প্রাথমিক বর্ষ পঞ্জিকায় অল্প পরিসরে সুমের/সুমেয়ী সভ্যতায় পরিলক্ষিত হয়। তবে মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার চালু করে বলে জানা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ করা হয় রোমানদের দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস, অর্থ দরজা। এই দড়জা মানেই ইংরেজি নতুন বছরের আগমন,ইংরেজি নতুন বছরের শুরু। জানা যায়, প্রথম মিশরীয়রা সূর্য দেখে বছর হিসাব করতে শুরু করে। যাকে তারা সৌরবর্ষ নাম দিল।

কিন্তু সমস্যা হলো সূর্য দেখে হিসাব আর চন্দ্র দেখে হিসাবের অনেক পার্থক্য থাকতো। কিন্তু বছর গুনলে কী হবে তার হিসাব রাখা জরুরি। তাই সুমেরীয়রা বর্ষপঞ্জিকা আবিষ্কার করলো। যাকে ক্যালেন্ডার বলি। ইংরেজি নববর্ষ শুরুর ইতিহাস : গ্রিকদের কাছ থেকে বর্ষপঞ্জিকা পেয়েছিল রোমানরা। তারা কিন্তু ১২ মাসে বছর গুণতো না। তারা বছর গুনতো ১০ মাসে । মধ্য শীত মৌসুমের ৬০ দিন তারা বর্ষ গণনায় আনতো না। রোমানদের বর্ষ গণনার প্রথম মাস ছিল মার্চ। তখন ১ মার্চ পালিত হতো নববর্ষ উৎসব। শীত মৌসুমে ৬০ দিন বর্ষ গণনায় না আনার কারণে বর্ষ গণনা যে দুটি মাসের ঘাটতি থাকতো তা পূরণ করবার জন্য তাদের অনির্দিষ্ট দিন-মাসের দ্বারস্থ হতে হতো।

এই সব নানা জটিলতার কারণে জনসাধারণের মধ্যে তখন ক্যালে-ার ব্যবহার করবার প্রবণতা একেবারেই ছিল না বলে জানা যায়। রোম উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রমুলাসই আনুমানিক ৭৩৮ খ্রীস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীকালে রোমান সম্রাট নূমা পন্টিলাস ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যুক্ত করেন। সে দুটো মাস হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। রোমানরা বছর হিসাব করতো ৩শ’চার দিনে। তিনি ‘মারসিডানাস’ নামে আরও একটি মাস যুক্ত করেন রোমান বর্ষপঞ্জিকায়। তখন থেকে রোমানরা ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করতে শুরু করে। ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন শুরু হয় সম্রাট জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন করে।

রোমানদের আগের বর্ষপঞ্জিকা ছিল চন্দ্রবষের্র, সম্রাট জুলিয়াসেরটা হলো সৌরবষের। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩ সালের ১ জানুয়ারি নতুন বছর পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রোমান সিনেট। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারির নামকরণ করা হয় রোমানদের দেবতা জানুসের নামে। লাতিন শব্দ জানুস, অর্থ দরজা। এই দড়জা মানেই ইংরেজী নতুন বছরের আগমন,ইংরেজী নতুন বছরের শুরু। তার নামের সঙ্গে মিলিয়ে জানুয়ারি মাসের নাম হওয়ায় জুলিয়াস ভাবলেন নতুন বছরের ফটক হওয়া উচিত জানুয়ারি মাস।

সেজন্য জানুয়ারির ১ তারিখে নববর্ষ পালন শুরু হলো। আর পরে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম পাল্টে রাখা হয় জুলাই। আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট অগাস্টাসের নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম হয় অগাস্ট। যিশুখ্রিস্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রি ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিস্টাব্দের। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের কথা। রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শ নিয়ে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন। এরপর ওই সালেই অর্থাৎ ১৫৮২ তে গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১ জানুয়ারিকে আবার নতুন বছরের প্রথম দিন বানানো হয়।

পরিশেষে আমার শিক্ষা জীবনের পিঠস্থান কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী মুখ সুপ্রিয় অগ্রজ সঞ্জয় সাহার ফেইস বুক টাইম লাইনে লেখা একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই।তিনি লিখেছেন, বিদায় ক্ষণে দাঁড়িয়ে “২০১৯”। সকলে ব্যস্ত নতুন বছর ২০২০ কে স্বাগত জানাতে। এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রচলিত ধারা। একটা কথা আছে অতীতের দীর্ঘশ্বাস ও ভবিষ্যতের আশ্বাস কোনটাই বাস্তব জীবনে কাজে আসে না। তবু অতীতের পাওয়া না পাওয়ার কারণগুলো বর্তমানে নির্দেশনা হিসেবে কাজে লাগে প্রত্যেকের জীবনে। ২০১৯ এ আমি কি হারিয়েছি তার জন্যে আক্ষেপ করে যেতে চাই না। যা পেয়েছি তাকে মনে প্রাণে ধারন করে ২০২০ সাল কে বরণ করতে চাই। মানতে চাই ২০১৯ আমাকে যা দিয়েছে সেটাকে সূচনা করে ২০২০ আমাকে আরো অনেক ভাল কিছু দিবে যা পূর্বে আমি পাইনি। সবাইকে নতুন বছরের প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ভাল থেকো ভালো রেখ ” ২০২০”।

 

চারগাছ রণাঙ্গনের ৩ শহীদের সমাধি জমশেরপুর: এস এম শাহনূর

| ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:২৩ অপরাহ্ণ

চারগাছ রণাঙ্গনের ৩ শহীদের সমাধি জমশেরপুর: এস এম শাহনূর

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।
যে মাটির চির মমতা আমার অঙ্গে মাখা
যার নদী জল ফুলে ফুলে মোর স্বপ্ন আঁকা
যে নদীর নীল অম্বরে মোর মেলছে পাখা
সারাটি জনম যে মাটির ঘ্রাণে অস্ত্র ধরি।
(গোবিন্দ হালদার)

আমাদের পাশের গ্রামে কিংবা আমাদের বাড়ির পাশে, কারো কারোর ঘরের পাশে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক আবু, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবু জাহিদ আবু ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম সাফু চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। ক’জনা তাঁদের খবর রেখেছি।কতটুকুই বা জানি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে  বাঙালি জাতির জন্য  আত্ম উৎসর্গকারী এ শ্রেষ্ঠ শহীদদের সম্পর্কে।

কুমিল্লার গৌরব তিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে মোজাম্মেল হক আবু, আবু জাহিদ আবু ও সাইফুল ইসলাম সাফু।এই তিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রণাঙ্গন ও মৃত্যুস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের চারগাছ বাজারের সন্নিকট এবং তাঁদের শেষ আশ্রয় স্থল বা কবর একই উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের জমশেরপুরে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর শহীদ মোজাম্মেল হক আবুর পরিবারের মাধ্যমে কবরগুলো পাকারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এ তিন শহীদদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে কিছু লেখার ইচ্ছা মনে মনে পোষণ করে চলেছি। আমার বাড়ি উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে হলেও তাঁদের কবরগুলো জিয়ারত করার সৌভাগ্য এখনো হয়ে উঠেনি।আমার বড় বোনের শ্বশুর বাড়ি পদুয়া গ্রামে।তাই খুবই ছোট্টবেলা এবং কৈশোরে জমশেরপুর ও পদুয়া গ্রামের অধিকাংশ বনবাদাড় ও মেঠোপথে ঘুরে বেড়িয়েছি।ছোট্টকাল থেকে কবিতা ও গল্প লেখায় হাতেখড়ি হলেও সেই বয়সে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কিছু লিখব এমন চিন্তা কখনো মাথায় আসেনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা করতে গিয়ে  বছর দুয়েক আগে আলোচ্য বিষয়ের  সকল প্রকার তথ্য ও লেখাগুলো আমার সংগ্রহে আসে।কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম সময় করে একদিন শহীনগণের কবর তিনটি জিয়ারত করে আসবো।অতঃপর কবরের নামফলকের ছবি দিয়ে আমার লেখাটি প্রকাশ করবো।দুর্ভাগ্য তারও সময় হয়ে উঠেনি।লেখালেখির সুবাদে পরিচয় হল প্রবীন লেখক,কবি ও প্রাবন্ধিক শামীম পারভেজ সাহেবের সাথে।তিনি বাংলাদেশের একজন গুণীজন।তিনি জমশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুর রউফ সাহেবের নাতি ও গ্রামের কৃতি সন্তান। তিনি সহ এলাকার সুধীজন গতকাল ১৬ই ডিসেম্বর সকালবেলা তিন শহীদের সমাধি বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়া করেন।ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে।

উল্লেখিত তিন মুক্তিযোদ্ধার রণাঙ্গনের সাথী ছিলেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ-হিল-বাকী।চারগাছের যুদ্ধে তিনিও আহত হয়েছিলেন । সেই যুদ্ধের স্মৃতি কোনোদিনই ভুলতে পারেননি তিনি। চারগাছের যুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ-হিল-বাকী হারিয়েছেন তার সহযোদ্ধা অপর দুই কিশোর সহযোদ্ধা_ আবু জাহিদ আবু ও সাইফুল ইসলাম সাফুকে। অগ্রজপ্রতিম মোজাম্মেল হক আবুও শহীদ হন সেই যুদ্ধে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা জিলা স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়তেন আবদুল্লাহ-হিল-বাকী। যুদ্ধ শুরুর আগে শুরু হয়েছিল তার যুদ্ধ_ ‘পাকিস্তান দেশ ও কৃষ্টি’ নামের বই পাঠ্যতালিকা থেকে বাতিলের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে। যার মূলে ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা। এরপর একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম… যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ তখন তিনিও প্রস্তুত হয়ে গেলেন। প্রস্তুতিপর্বে নেতৃত্ব দিলেন কুমিল্লা শহরের অগ্রজপ্রতিম ছাত্রলীগ নেতারা। বিশেষ করে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান পাখীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কাজটি সেরে নিলেন তিনি। তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলো_ কসবা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগরের অংশবিশেষে দায়িত্ব পালন করার জন্য। সেই অনুযায়ী তারা যুদ্ধ করলেন বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু চারাগাছের যুদ্ধ নিয়ে এসেছিল তাদের জন্য চরম পরাজয়ের গ্লানি।
আবদুল্লাহ-হিল-বাকী বলেন, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই জানতে পারেন তাদের যেতে হবে মুরাদনগর এলাকায়। তাদের কমান্ডার ছিলেন নাজমুল হাসান পাখী। সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ তাদের বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। অনিবার্য কারণে দেরি হয়ে যায়। পরে রওনা হলেন ১২ তারিখে। রওনা হওয়ার পর আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণে উজানিসার ব্রিজ পর্যন্ত আসতে দেরি হয়ে যায় তাদের। একপর্যায়ে গভীর রাতে নৌকায় রওনা হন জামসেদপুরের দিকে। রাজাকারদের উৎকোচ দিয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে বেরিয়ে আসতে তেমন কোনো অসুবিধা হয় না।
খালের পাড়ঘেঁষে নৌকা চলতে থাকে পশ্চিমে চারগাছের দিকে। নিশ্চিন্ত তখন নৌকার অন্যরাও। কারণ একটু আগেই চলে গেছে ঢাকার মোস্তফা মহসীন মন্টুদের একটি নৌকা। কোনো গুলির শব্দ হয়নি। তার মানে তারাও নিশ্চিন্তেই পাড়ি দিতে পারবেন পথটুকু। নৌকায় ছিলেন নাজমুল হাসান পাখী, মমিনুল হক ভূঁইয়া দানা মিয়া, মোজাম্মেল হক আবু, নৃপেণ পোদ্দার, আবদুল্লা-হিল-বাকী, আবু জাহিদ আবু, সাইফুল ইসলাম সাফু, নাবালক মিয়া, নুরুল ইসলাম, মেহরাব হোসেন ও রকিব হোসেন। ১১ জনকে নিয়ে যেন একটি পরিবার। বয়সে ছোট হওয়ার কারণে আবু ও বাকীর আবার আদর বেশি। কমান্ডার নাজমুল হাসান পাখী থেকে শুরু করে সবাই তাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখেন_ কোনোভাবে যেন ছোট এ দু’জনের কোনো অসুবিধা না হয়। তাদের দিকে থাকে বড়দের সজাগ নজর।
নৌকা চারগাছ বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ আবদুল্লা-হিল-বাকীর নজরে আসে বাজারে কে যেন সিগারেট টানছে। সহযোদ্ধাদের বললেন, ব্যাপারটা অস্বাভাবিক লাগছে। ওখানে রাজাকারা পাহারা বসিয়েছে নাকি? দেখতে পেলেন অনুসন্ধানী বাতি জ্বলে উঠেছে। বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির মতো গুলি আসতে শুরু করে বাজারের দিক থেকে। গুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার ভেতরে থাকা সাইফুল ইসলাম সাফু ও মোজাম্মেল হক আবু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
কমান্ডার নাজমুল হাসান পাখী সবাইকে নৌকা থেকে পাল্টা গুলি চালানো এবং আত্মরক্ষার জন্য পশ্চাদপসরণের নির্দেশ দেন। কমান্ডারের নির্দেশে আবু জাহিদ হাঁটুপানিতে নেমে পাল্টা গুলি করছিলেন। শত্রুপক্ষের একটি গুলি এসে আবুকে ঘায়েল করে দেয়। তিনি সেখানেই শহীদ হন। আবদুল্লাহ-হিল- বাকী ও মমিনুল হক ভূঁইয়া দানা মিয়া গুরুতর আহত হন।
বাকী জানান, আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে বেশ খানিকটা সরে গিয়ে অন্ধকারে ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করতে থাকেন। ফজরের আজানের পর একটি নৌকায় করে যান চারগাছ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এক গ্রামে। তার ধারণা সেটি ছিল শিকারপুর। সেখানে এক গৃহবধূ তাকে আশ্রয় দেন। তিন দিন ছিলেন সেখানে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ওই নারী তাকে আগরতলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
যে তিন দিন বাকী তার আশ্রয়ে ছিলেন, প্রতিদিন খবর পেতেন পাকিস্তানি সৈন্যরা চারগাছের আশপাশের গ্রামগুলো তছনছ করে মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজছে।

✪ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু জাহিদ

 

আবু জাহিদ নাম তার। তবে কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধারা তাকে চিনতেন আবু নামে। পড়ত কুমিল্লা জিলা স্কুলে নবম শ্রেণীতে। খুব ইচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে যাবে। বাড়ি থেকে অনুমতি মিলল না। শেষে বাড়ি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নাম লেখাল ও। সাঁতরে গোমতী নদী পার হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া টিলার কাছে মুক্তি শিবিরে এসে হাজির হলো। সময়টা তখন ১৯৭১ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ। কম বয়সের কারণে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই ওকে দলে নিতে চাননি। কিন্তু ওর অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানলেন সেক্টর ইস্টার্ন জোনের কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনি। প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেন আবুকে। প্রশিক্ষণের পর অপারেশন। একাত্তরের ১২ সেপ্টেম্বর। নাজমুল হাসান পাখির নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার চারগাছ বাজারের এক অপারেশনে যায় আবু। ৯ জন মুক্তিযোদ্ধার দল রওনা হলেন নৌকায় করে। কিন্তু মাঝপথেই আলবদর বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী গুলি চালায় মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান দুই মুক্তিযোদ্ধা। দলের সবচেয়ে ছোট মুক্তিযোদ্ধা আবু গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এরপর নদী থেকে উদ্ধার করা হয় আবুকে। ততক্ষণে দেশের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করে ফেলেছেন।হয়েছে শহীদ।

আবু জাহিদ একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি রণাঙ্গণে শহীদ হন। তিনি “আবু” নামে কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরিচিত ছিলেন।

➤জীবন:
কিশোর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবু জাহিদের জন্ম ১৯৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে কুমিল্লা শহরের মগবাড়ী চৌমুহনীতে। বাবা আবুল হাসেম দুলা মিয়া ও মা ভেলুয়া বিবির পাঁচ পুত্রসন্তানের একজন আবু। ১৯৬৭ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল এ পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি।

➤মুক্তিযুদ্ধে অবদানঃ
কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীতে থাকার সময় তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আবু গোমতী নদী সাঁতরে পার হয়ে কুমিল্লা শহরের অদূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া টিলার কাছে মুক্তি শিবিরে এসে উপস্থিত হন। তখন তার শরীরের সব কাপড় ছিল ভেজা। সেখানে উপস্থিত অন্য মুক্তিযোদ্ধারা তাকে বয়স কম বলে মুক্তিযুদ্ধে যেতে বারণ করেন। অনেক পীড়াপীড়ির পর সেক্টর ইস্টার্ন জোনের কমান্ডার শেখ ফজলুল হক মনি তাকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে আবু অবস্থান করছিলেন নিমবাগ বাদাম ঘাট হেড কোয়ার্টারে।

➤মৃত্যু:
১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ রাতে নাজমুল হাসান পাখীর নেতৃত্বে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার চারগাছ বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি ঝটিকা অপারেশনে বের হন। নয়জন মুক্তিযোদ্ধার একটি বহর নৌপথে ওই অপারেশনে রওনা হয়। ওই দলে ছিলেন শিব নারায়ণ দাস, নৃপেণ পোদ্দার, মুমিনুল হক ভূঞা, মোজাম্মেল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু জাহিদসহ আরও অনেকে। রাতের অপারেশন, তাই কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর এ দেশের আলবদর বাহিনীর সহায়তায় মাঝনদীতে দলটির ওপর গুলি চালায়। তখন পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে মারা যান মোজাম্মেল হক ও সাইফুল ইসলাম। কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা আবুও গুলিবিদ্ধ হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সঙ্গী এবং মুক্তিকামী জনতা নদী থেকে কিশোর আবুর মরদেহ উদ্ধার করে। অতঃপর তাকেসহ তিন মুক্তিযোদ্ধাকে নিকটস্থ জমশেরপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

➤স্বীকৃতি:
আবু জাহিদের নামে কুমিল্লা জিলা স্কুলে মিলনায়তনের নামকরণ করা হয়েছে।

✪ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সাইফুল ইসলাম সাফু

শহিদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম সাফু ( জন্মঃ ১৫/০৬/১৯৫২ খ্রিঃ , শাহাদাৎ বরণঃ ১২/০৯/১৯৭১ ) ডানে … তারা দুই ভাই একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । একজন ( সাইফুল ইসলাম সাফু) সম্মুখ যুদ্ধে শহিদ হন মাত্র ১৯ বৎসর বয়সে।

১৯৫২ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা শহরের উজির দিঘির পাড় রাজবাড়ি কম্পাউন্ড এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল গনি, মাতার নাম করিমুননেসা, ১০ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অন্যতম রূপকার মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম সাফুর  আপন ভাই। কানাডা  প্রবাসী রফিকুল ১৯৯৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি ১৯৫২ সালে ভাষাশীহদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন। রফিক তাঁর সহযোদ্ধা আবদুস সালামকে নিয়ে ‘এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি সংগঠন দাঁড় করান এবং অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রচেষ্টা শুরু করেন।

ইউনেস্কোভুক্ত বিভিন্ন দেশের কাছে রফিকুল ইসলামের অনুরোধপত্র ইউনেস্কোর সহযোগিতা ও বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ফলে বিশ্বের ২৮টি দেশ এ প্রস্তাবের সহ প্রস্তাবক হতে রাজি হয়। পরে ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ ইউনেস্কোর হেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ১৮৮ সদস্য দেশের বিনা আপত্তিতে ও স্বত:স্ফূর্ত সমর্থনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়। এভাবে ঘটনালো রফিকুল ইসলামের স্বপ্ন বাস্তবায়ন বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশাল উত্তরণ। এ গৌরবময় অবদানের জন্য ২০০২ সালে তাঁদের সংগঠন একুশে পদক লাভ করে।

রফিকুল ইসলাম ১৯৫৩ সালের ১১ এপ্রিল কুমিল্লা শহরের উজির দিঘির পাড় রাজবাড়ি কম্পাউন্ড এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন তাঁর পিতার নাম আবদুল গনি, মাতার নাম করিমুননেসা, ১০ ভাইবোনের মধ্যে তিনি অষ্টম। উজির দিঘির পাড় হরেকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা হাইস্কুল ও ভিক্টোরিয়া কলেজে তিনি লেখাপড়া করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশ নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবায় তাঁর ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম সাফু সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ কে স্বাধীনতা দিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং বাঙালি জাতির তরফ থেকে বিশ্ব মানবকে দিয়েছেন এক অনন্য সাধারণ উপহার , বাঙালির ত্যাগ এবং গৌরবে গাঁথা একুশকে এনে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি … আজ পৃথিবীর সকল বিলুপ্তপ্রায় মাতৃভাষাগুলো একুশকে ঘিরে তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে , একুশই তাদের বেঁচে থাকার উৎস … তাদের দুই ভাইকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম … আপনারা যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন বাঙালিদের হৃদয়ে।

✪বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মোজাম্মেল হক আবু

কুমিল্লা মহানগরের ১৯নং ওয়ার্ডের ঢুলিপাড়া,চৌমুহনীতে ১৯৫০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম আব্দুল মজিদ মাস্টার।কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ রোড থেকে দক্ষিণ দিকে কিছুদূর গেলে রাস্তার ডান পাশে লাল-সবুজ রঙের ইংরেজি(M) বর্ণ খোদাই করা একটি স্থাপনা চোঁখে পড়বে। এটি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মোজাম্মেল হক স্মৃতিস্তম্ভ।
কুমিল্লা জিলা স্কুল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র মোজাম্মেল হক আবু স্বাধীনতা সূর্য ছিনিয়ে আনতে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর কমান্ডার নাজমুল হাসান পাখির নেতৃত্বে নৌকায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা হয়ে মুরাদনগর যাওয়ার পথে চারগাছ নামক জায়গায় পাক বাহিনীর আক্রমণের শিকার হন। অপ্রস্তুত অবস্থায় যুদ্ধ করতে গিয়ে ১১ জনের ওই দলের মধ্যে তিনজন শহীদ হন। শহীদ মোজাম্মেল হক আবু তাঁদেরই একজন।ঢুলিপাড়ার প্রয়াত আব্দুল মজিদ মাস্টারের ছেলে এ কে এম মোজাম্মেল হক আবু সহ ঐদিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চারগাছের পাশের গ্রাম জমশেরপুরে সমাহিত করা হয়। পরবর্তীতে কবর তিনটি শহীদ মোজাম্মেল হক আবুর পরিবারের সহযোগিতায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

এই মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য (কুমিল্লায়) এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৭২সালে শহীদ মোজাম্মেল হক স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১৯৯৭ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন(কুমি ৭০৫/৯৭) লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি কুমিল্লা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বর্তমান যে স্মৃতিস্তম্ভটি আছে তা নির্মিত হয়েছে ২০১০ সালে। স্থানীয় প্রশাসন (বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে) নিজস্ব নকশা ও অর্থায়নে এ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করে দেয়।

বাংলাদেশের মানুষের যে স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার মানসে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়নি। দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী তৎপরতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, যুবসমাজে সৃষ্ট হতাশা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমাজে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। সত্যিকার অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে আন্তরিক পদক্ষেপ। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণকর শাসনব্যবস্থা যেমন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত গৌরবগাঁথা আর আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। যে আদর্শ, উদ্দেশ্য ও চেতনা নিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ তাদের তাজা প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে, ইজ্জত দিয়েছে হাজার হাজার মা-বোন, আমাদের সমাজ এবং জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শ ও চেতনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে- এটিই আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

➤তথ্যসূত্র:

১. ↑দৈনিক সমকাল: আরেক যুদ্ধের কথা বললেন আবদুল্লাহ-হিল-বাকী
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৪
২. ↑মুক্তি যুদ্ধকোষ,ষষ্ঠ খন্ড।। মুনতাসির মামুন
৩. ↑দৈনিক প্রথম আলো, “মুক্তিযোদ্ধা আবুর কথা বলছি”, গাজীউল হক | তারিখ: ১২-০৯-২০০৯
৪্ ↑মাঠ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা।
৫.↑উইকিপিডিয়া

 

৭১’র ১৪ ডিসেম্বর!বাঙালি জাতির শতবছর পিছিয়ে পড়ার দিন: এস এম শাহনূর

| ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩:২৪ অপরাহ্ণ


বিশ্ববাসীসহ সারা বাংলার জনগণ মনে করে নিরস্ত্র বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৭০-এর নির্বাচন হতে শুরু করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয় অর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এদেশের কবি, সাহিত্যিক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, চিত্রশিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, চলচ্চিত্রকারসহ বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

বীর বাঙালির সাহস ও মেধার কাছে যখন একে একে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প, আস্তানা নিশ্চিহ্ন হতে লাগলো, একে একে পরাস্ত হয়ে যখন আত্মসমর্পন করতে লাগলো, তখনই বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ১৯৭১ সালের এই দিনে এদেশের রাজাকারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশকে চিরদিনের জন্য মেধা শূন্য দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

 

কসবায় দু’দেশের কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা

| ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

কসবায় দু’দেশের কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা

কসবায় দুই বাংলার কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকালের সূর্য পত্রিকা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রথম সাহিত্য বাসর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারত ও বাংলাদেশের কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ১০ জনকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সুন্দর হাতের লেখার জন্য শিশুদের পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
সংবর্ধিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন; কবি ও টিভি ব্যক্তিত্ব শাশ্বতী ভট্টাচার্য (ভারত), কবি ও গবেষক শিশির দাশ গুপ্ত (ভারত), ড. মৃণাল কান্তি দেবনাথ (ভারত), সংস্কৃত গবেষক অধ্যাপক ড. অর্পণা নাথ (ভারত), কবি ও সংগঠক তপোব্রত মুখোপাধ্যায় (ভারত), মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক আবদুল কাইয়ুম (বাংলাদেশ), কবি ও গীতিকার আবদুল আওয়াল (বাংলাদেশ), কবি ও ছড়াকার এম আর মঞ্জু (বাংলাদেশ), কবি ও সাংবাদিক লোকমান হোসেন পলা (বাংলাদেশ) এবং কবি ও গবেষক এস.এম শাহনুর(বাংলাদেশ) ।

পাক্ষিক সকালের সূর্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. সোলেমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম। সকালের সূর্য পত্রিকার বার্তা-সম্পাদক নেপাল চন্দ্র সাহা ও সার্কোলেশন ম্যানেজার মো. অলিউল্লাহ সরকার অতুলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন; সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহবায়ক এম. জি হাক্কানী ও কসবা টি.আলী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ।
বক্তব্য রাখেন, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ও সংগঠক এম. এইচ শাহআলম, কসবা প্রেসক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবি নাজমুল হক শিকদার, শ্যামবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শিক্ষক ইসরাত রুনা, শিক্ষার্থী অজুফা সায়রা খান উদিতা, জান্নাতুন নাঈমা প্রাপ্তি ও পুলিন।

অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিলেন, দৈনিক রূপসী বাংলা, দুরন্ত খবর, দৈনিক সরোদ, পাক্ষিক সালদা, মাসিক পূর্বাপর, বাংলা টিভি, বিজয় টিভি ও নবীনগর টিভি।
অনুষ্ঠানানে শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিগণসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম বলেন, দুই বাংলার একই ভাষাভাষির মানুষ আমরা। আমাদের সমস্যাও অভিন্ন। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দু‘দেশের কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মিলন মেলায় সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিশ্ববাঙালি কবি ও সাহিত্যিক সম্মাননা পেলেন আওয়ার কণ্ঠের কলাম লেখক কবি এস এম শাহনূর

৩০ নভেম্বর ২০১৯ |

বিশ্ববাঙালি কবি ও সাহিত্যিক সম্মাননা পেলেন আওয়ার কণ্ঠের কলাম লেখক কবি এস এম শাহনূর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের কৃতি সন্তান- এস এম শাহনূর

গতকাল ২৯/১১/২০১৯ইং-শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন অডিটরিয়াম কক্ষে দুই বাংলার লেখকদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ সামাদ এবং সাবেক সাংসদ ও উপমহাদেশে কাব্য শ্রী খ্যাত কবি কাজী রুজি এ সম্মাননা তুলে দেন।

প্রিয় কবি ও গবেষক এস এম শাহনূর কসবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা গোটা বাংলাদেশের উদীয়মান কবি ও লেখক হিসেবে এই সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন।বক্তারা বলেন,তিমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা সারা বাংলাদেশের গর্ব।

অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব পরিমন্ডলে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সম্মান বয়ে আনবে এস এম শাহনুর এই আশাও সকলের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান হিসেবে আমরা গর্বিত, এই সম্মাননা আমাদের বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরো উজ্জ্বল করে তোলবে।

শত ব্যস্ততার মাঝেও ধারাবাহিক ভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার নামকরণ নিয়ে বিশদ ও নিখুঁত ভাবে লিখে যাচ্ছেন।

তিনি আওয়ার কণ্ঠ ২৪.কমের নিয়মিত কলাম লিখক, তাঁর কলমের ছোঁয়ায় আওয়ার কণ্ঠ পেয়েছিল নতুন মাত্রা, আমরা আওয়ার কণ্ঠ পরিবার তাঁর সর্বাঙ্গীণ উন্নতি ও সফলতা কামনা করছি।

তাছাড়াও এলাকাবাসি সহ বিভিন্ন স্তর ও পেশার মানুষ তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।

 

আজ বিশ্ব শিশু দিবস ও আমাদের ভাবনা: এস এম শাহনূর

| ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ২:৪৩ অপরাহ্ণ

আজ বিশ্ব শিশু দিবস ও আমাদের ভাবনা: এস এম শাহনূর

শিশুরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের কর্ণধার’,
“শিশুদের হাতেই আগামীর পৃথিবীর ভার’

আর যাই হোক কথাগুলো কিন্তু একেবারে মিথ্যে নয়।সারাবিশ্বে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস। বিশ্বব্যাপী শিশুদের সম্মান করতে দিবসটি পালিত হয়
বিশ্ব শিশু দিবস শিশুদের নিয়ে উদযাপিত একটি দিবস। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। এই শিশুরাই একদিন বিশ্বের ভবিষ্যতের প্রতিনিধিত্ব করবে । শিশুদের সংরক্ষণ, কল্যাণ ও শিক্ষার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্যে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন ধারাবাহিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তারপরও ফুলের মতো শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না।এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সংখ্যা- ক্ষতিগ্রস্ত সৈনিকদের চেয়েও বেশি । কেবল যুদ্ধই যে শিশুদের ভালভাবে বেড়ে উঠার পথে বাধার সৃষ্টি করছে তাই নয়, দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা ও প্রাণঘাতী রোগ শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করছে।বিশ্ব শিশু দিবস ২০শে নভেম্বর উদযাপন করা হয়৷আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর জন্মদিন ১৪ নভেম্বর শিশু দিবস বলে পালিত হয়৷ ১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যুর পর তাঁর জন্মদিনটিকে এদেশের শিশুদিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক শিশুদিবস থাকলেও ভারতে আলাদা করে শিশুদিবস পালন করা হয় প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর৷
ডঃ চালর্স লিওনার্দের উদ্যোগে ম্যাসাচুসেটসে ১৮৫৬ সালে প্রথম শিশুদিবস পালিত হয়েছিল রোজ ডে হিসেবে৷ পরে তা নাম বদলে ‘ফ্লাওয়ার্স ডে’ এবং আরও পরে তা ‘চিলড্রেন্স ডে’ নামে পরিচিত হয়৷১৯২৯ সালের ২৩এপ্রিল তুরস্ক প্রজাতন্ত্রে প্রথম শিশু দিবস উপলক্ষ্যে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল৷ তবে তার আরও কয়েক বছর আগে ১৯২৩ সাল থেকেই তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি মুস্তাফা কামাল আতালুর্কের জন্মদিন ২৩ এপ্রিল দিনটিতে শিশু দিবস পালন করা শুরু হয়৷শিশু দিবসটি প্রথমবার তুরস্কে পালিত হয়েছিল সাল ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল। বিশ্ব শিশু দিবস ২০ নভেম্বর -এ উদযাপন করা হয়, এবং আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজস্ব নির্দিষ্ট দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদযাপন করার।
বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয় বাংলাদেশে [

✪ না-যেন ভুলি তোমাদের জন্য উৎসর্গিত বিশেষ দিনগুলি।
➤১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।
➤৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস।
➤১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস।
➤বিশ্ব শিশু দিবস ২০শে নভেম্বর উদযাপন করা হয়,

➤আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ১লা জুন উদযাপন করা হয়।

 

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ও আমাদের অঙ্গীকার: এস এম শাহনূর

| ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:৫২ অপরাহ্ণ

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ও আমাদের অঙ্গীকার: এস এম শাহনূর

আজ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস
‘কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা’
এই প্রতিপাদ্যকে ঘিরে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিধাতার নিকট কৃতজ্ঞ।
প্রার্থনা তোমার জন্য প্রিন্সেস সামীহা নূর জারা
মেধা মনন আর শিষ্টতায় তুমি হও সেরাদের সেরা।
আজ সকল পিতা মাতার এই হউক দৃপ্ত অঙ্গীকার
পূর্ণ করে দিবো তোমার সকল চাওয়া,জন্মগত অধিকার।

কন্যার মুখে আব্বু ডাক শুনার একী আনন্দ?
আমার স্ত্রী বলেন,”পৃথিবীতে মাতৃত্বের মত মধুর অনুভূতি দ্বিতীয়টি নেই”।আমার কাছে পিতা না হতে পারার বেদনা হিমালয় আল্পসের জমাট বাঁধা বরফ সম।যা কখনো গলে শেষ হবার নয়।আমাদের দাম্পত্য জীবনের স্নেহাস্পদ সামীহা নূর জারা’র মুখে আব্বু ডাক শুনার আনন্দানুভূতি সাতসাগর ঊর্মিমুখর।আকাশে প্রতি রাতে চাদ তার মাধবী রূপ নিয়ে হাজির হয়না কিন্তু আমার ঘরে প্রতি রাতে মায়াবী চাদের জোছনা উপচে পড়ে।মেঘে ঢাকা আকাশ কিংবা সূর্যগ্রহণ আমার ঘরের ঝলমলে দিনের আলোকে ম্লান করতে পারেনা। দীর্ঘ দিন চীনের হোবে প্রদেশে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কোমলমনা বাচ্চাদের হইহুল্লোড় খুব কাছ থেকে দেখেছি।স্কুল গেইটে রেখে যাওয়া ছোট্ট বেবিটির সাথে মা কিংবা বাবার বিদায় আলিঙ্গন আমাকে গভীর আবেগাপ্লুত করত। পিতৃত্বের হাহাকার বালুকাময় জীবনের তীরে কখনো কখনো ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ত।পৃথিবীর অবাক শহর বৈরুতের কসমো সেন্টারে আন্ডা বাচ্চাদের খেলা উপভোগ করেছি।

মাঝেমধ্যে মনে হত আহা! আমার যদি এমন ফুটফুটে একটা বেবী থাকত!
সাইপ্রাসীয় মাই মলের কিডস জোনে আহ্লাদিত সোনামণিদের নানান রঙের খেলনার সাথে পরিচিত হয়েছি।সিঙ্গাপুরের চিল্ড্রেন হেভেনে সুন্দর সব কিডস টয়েস দেখে আহত হয়েছি।জাপানে চারতলা বিশিষ্ট চিলড্রেন্স টয় মার্কেট Hakuhinkan Toy Store ও Hakuhinkan Toy Park ভাবিয়েছে ঢের। জানি অনেক রাইড আর টয়েস আছে যা কিনা কোম্পানি আমার বেবীর জন্য তৈয়ার করেনি কিংবা ক্রয় করার ইচ্ছেও আমার নেই।অথবা আমার মানিব্যাগে সেই পরিমাণ ডলার কখনো রাখা হয়না।ইটস ডাজ নট এ মেটার। কি মালয়শিয়ার মাইডিন,তুরস্কের তারসুস,সিঙ্গাপুর সিটি যখন যেখানে গিয়েছি বুড়ো আর শিশুদের সাথে পেতেছি মিতালী।

আজ কিংবা এখনও যমুনা ফিউচার পার্কের কিডস প্যারাডাইস কিংবা ল্যাভেন্ডারের কিডস জোন কাজের ফাকে,অবসরে আমাকে ডাকে।মন চায় সবগুলো খেলনা কিনে ফেলি মেয়ের জন্য। এটা সেটা কেনাকাটা করলেও মনভরে না।যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীতে পিতা মাতা অর্থাৎ এডাল্ট মানুষজনের নিকট শ্রেষ্ঠ খেলনা সামগ্রী কি?আমি বলব নিজ শিশু সন্তান বা যেকোন শিশু বাচ্চা।কারণ,আমার সন্তানকে খেলনার ঝুড়ি আর পুতুল দিয়ে বলি,”সামীহা এই পুতুলগুলো হচ্ছে তোমার খেলার পুতুল আর তুমি হলে বাবার খেলার পুতুল।এসো আমরা খেলা করি।তখন মেয়ে আমার আনন্দে নিজের মত করে ঝর্নার মত নানান শব্দ ছড়ায়।বাবা মেয়ের এ খেলা কখনো শেষ হতো না যদিনা মেয়ের চোঁখে কিংবা বাবার চোঁখে ঘুম না আসতো। মেয়ের পেটে ক্ষুধা না পেত। অথবা বাবার অফিস না থাকতো………

শিশু অধিকার রক্ষাকল্পে ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক এক প্রস্তাবে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর একদিন ‘শিশু দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় | ফলে প্রতিবছর ২৯ সেপ্টেম্বর ‘শিশু অধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে | কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য রোধেকন্যা শিশুর যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ তথা সুষ্ঠু বিকাশকে সামনে রেখেই “জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’’ পালন শুরু হয়। ইভটিজিং, এসিড সহিংসতা এবং যৌন নির্যাতনসহ কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য। কতটুকু সফল তা বলা দুষ্কর। কারণ, এখন সমাজে কন্যা শিশুরা বিভিন্ন দিক দিয়ে বৈষম্যের শিকার। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু বিকাশের বিষয়টিকে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ২০০০ সালে তৎকালীন সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সরকারি আদেশের মাধ্যমে শিশু অধিকার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনকে কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালনের লক্ষ্যে ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যা শিশু দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন | তখন থেকেই প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে | আজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস |সাধারণত একটি দিবস সামনে আসে এবং একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় | কিন্তু এ বছর কন্যাশিশু দিবসটির প্রতিপাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং এদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই কন্যাশিশু | শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আজও দেশের অধিকাংশ কন্যাশিশুর বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের আগেই | বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে-২০০৭ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনও ১৮ বছরের আগে ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে এবং দুই দশক ধরে এ হারের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না | আর ১৯ বছরের আগেই গর্ভবতী হচ্ছে ৬৬ শতাংশের এক শতাংশ | বাংলাদেশে নারীর গড় বিয়ের বয়স ১৫ বছর ৩ মাস | ইউনিসেফের তথ্যমতে, শিশু বিবাহের হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয় | গত ৩০ বছরে শিশুবিবাহ আনুপাতিক হারে হ্রাস পেলেও গ্রামাঞ্চলে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমস্যাটা প্রকট | আইসিডিডিআরবি এবং প্ল্যান বাংলাদেশের যৌথ জরিপ-২০১৩ মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত শতকরা ২৬ জনের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগেই এবং নিরক্ষর নারীদের ক্ষেত্রে এই হার শতকরা ৮৬ | ইউনিয়ন পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো কার্যকর করা হলে শিশুবিয়ের মাত্রা কমে যাবে অনেকাংশে | এটি প্রতিরোধে করণীয় এবং শাস্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বিলবোর্ড, পোস্টার প্রকাশ এবং তৃণমূলে তা ছড়িয়ে দেয়া জরুরি | সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশুবিয়ে বন্ধ করতে পরিবার থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন |

হে আল্লাহ আমাদের সকলকে চক্ষু শীতলকারী নেক সন্তান দান করুন।আমিন।ছুম্মামিন।

 

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আপনাকে ভীষণ মনে পড়ে স্যার

 

হাজারো প্রাণে সেরা প্রধান শিক্ষক যিনি
মরহুম এস এম শামসুজ্জামান স্যার তিনি।

➤”একটি প্রদীপ বা মোমবাতি থেকে যেমন হাজারটি বাতি জ্বালানোর পরেও তা শেষ হয়না,ঠিক তেমনি জ্ঞানের আলো বিতরন করলেও তা কখনো ফুরিয়ে যায়না”।
➤”অধ্যবসায়,একাগ্রতা, নিষ্ঠা ছাড়া জীবনে সফলতা আসেনা”।
➤”তুমি যদি অন্যজনার মঙ্গলের কথা ভাব,তখন অন্যজন তোমাকে নিয়ে ভাববে”।

জীবদ্দশায় শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় প্রায়শ্চই উপরোক্ত জ্ঞানগর্ভ কথা ও উপদেশ গুলো যিনি বলতেন তিনি হলেন মরহুম এস এম শামসুজ্জামান স্যার।ভাল কথা,সুন্দর উপদেশ,যথার্থ আদেশ নিষেধ প্রদানে তিনি কখনো শিথিলতা প্রদর্শন করেননি।নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন অটল,নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার চিন্তায় থাকতেন বিভোর।বাগানে কত ফুল ফুটে,গন্ধ বিলিয়ে ঝরে যায়।কে তারে মনে রাখে?কিন্তু তিনি ছিলেন এমনই এক সুগন্ধি ফুল হাজারো শিক্ষার্থীদের মনের বাগানে আজো সতেজ হাসনাহেনা,গোলাপ,রজনীগন্ধা!!

আমার ছাত্র জীবনের প্রিয় শিক্ষক,আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি।আমার বিশ্বাস যে সকল শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবনে স্যারের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছেন,সেই সব সৌভাগ্যবানদের সকলেরই প্রিয় শিক্ষকের তালিকায় মরহুম শামসুজ্জামান স্যারের নামটি অম্লান।

এরিস্টটল,প্লেটো,সক্রেটিস রা বার বার জন্মগ্রহণ করেন না।শিক্ষক হিসাবে তিনি ওনাদের থেকে পিছিয়ে ছিলেন না।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠ কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।ওনার আদর্শ, রুচিবোধ,শিক্ষা দান পদ্ধতি,পোশাক পরিচ্ছেদ,বাচনভংগি, চলার স্টাইল ছিল আধুনিক ও মার্জিত। এক কথায় অসাধারণ।
স্কুল জীবনে আমাকে ইংরেজীতে কথা বলতে যেই মহান ব্যক্তিটি বেশী চাপে রাখতেন তিনি হলেন জনাব, শামসুজ্জামান স্যার।স্যার আমাকে প্রায় প্রতিদিন ওনার অফিসে ডেকে পাঠাতেন,নিজের কাজের ফাকে কমপক্ষে দুটো English Passage করাতেন।আবার হোম ওয়ার্কও দিতেন।আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলতেন।স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্কুল জীবনেই আমি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারতাম।মরহুম শামসুজ্জামান স্যার স্কুলের অফিস কক্ষে রক্ষিত অনার্স বোর্ড দেখিয়ে এক এক করে Mr. Abdul Majeed sir,প্রফেসর ড.শাহালম স্যার,মোঃশাহজাহান স্যার এবং Prof.Dr.Mohammad Abdur Rashid স্যারের ছাত্র জীবনের গল্ল শুনাতেন।যা আমাকে অনুপ্রাণিত করত।মনে পড়ে আমার এসএসসি পরীক্ষার পরের অবসর সময় টুকুতে স্কুলে গেলে ৯ম/১০ম শ্রেণির স্যারের ইংরেজি পিরিয়ডের ক্লাস গুলো আমাকে নিতে বলতেন। দপ্তরির মাধ্যমে চক ডাস্টার আনিয়ে নিজে আমাকে ক্লাস রুমে রেখে আসতেন।ওনার ঔ স্নেহভরা অবদানের কারণেই হয়তো পৃথিবীর ১৩টি দেশের পথে প্রান্তরে আর অফিস পাড়ায় নানান জাতির মানুষের সাথে নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছি।

শারীরিক গঠনঃ উচ্চতায় তিনি ছিলেন এমনই এক আকৃতির যে কারোর দৃষ্টি ওনার উপরে পড়তো। সোনালী ফর্সা বরণ ছিল শরীরের রূপ। যৌবনে সবসময় দাড়ি গোফ ক্লিন সেব করে রাখতেন।মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকতো।ওনার হাটা চলা ছিল যথেষ্ট মার্জিত ও গম্ভীর। স্পষ্ট ভাষায় ছোট ছোট কথা বলতেন।মাঝ বয়সে এসেও স্যারের মাথা ভর্তি কালো চুল ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদঃপোশাক আশাকের ব্যাপারে তিনি ছিলে অতিব যত্নশীল। ইস্তিরি করা পরিপাটি প্যান্ট শার্ট,ব্লেজার,ওভারকোট,স্যুট এবং মাঝে মধ্যে হাফ হাতাওয়ালা ফতুয়া পরিধান করতেন।বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে পাজামা পাঞ্জাবীও পরতেন।আমার দেখা তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি মফস্বলের স্কুল শিক্ষক যিনি কোট-টাই পরে স্কুল করতেন।ওনার রুচিশীল পোশাক ও সুন্দর ব্যক্তিত্বের কারনে বহু পদস্থ ব্যক্তিরাও মন থেকে স্যারকে সমীহ করতেন।সবসময় পলিশ করা সু ; কখনো চামড়ার জুতা ব্যবহার করতেন। হাতে একটি সুদৃশ্য চামড়ার ছোট ব্যাগ এবং অনেক সময় বাঁধাই করা লাঠি রাখতেন।

“মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই,
যেন গোর থেকে মোয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”।

সবাইকে ছেড়ে আজ তিনি কাইতলা গ্রামের নিজের গড়া মসজিদের পাশে পুকুরপাড়ে চির নিদ্রায় শায়িত।
মহান আল্লাহ পাক স্যারকে জান্নাত নসিব করুন।আমিন।

 

কোথা থেকে এলো ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি?: এস এম শাহনূর

| ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩:৪১ অপরাহ্ণ

কোথা থেকে এলো ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি?: এস এম শাহনূর

🇧🇩 পূর্ববঙ্গ,পূর্ববাংলা হতে কি বাংলাদেশ?
একসময় এই উপমহাদেশ ভারতবর্ষ নামেই পরিচিত ছিল।এই ভারতবর্ষে নেপাল,ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান আছে।আছে বাংলাদেশ নামক এক সোনার দেশ।

১৯৩২ সালে ভারতবর্ষের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমের পাঁচটি মুসলমানপ্রধান প্রদেশ ও রাজ্য পাঞ্জাব, উত্তরপশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বা আফগান প্রদেশ, কাশ্মীর, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের নামের অংশ একত্র করে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী (১৮৯৫-১৯৫১)।
‘পাকিস্তান’ নামটি তৈরি করেছিলেন।

নেপাল শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘নিপালয়া’ থেকে, যার অর্থ ‘পাহাড়ের পাদদেশে’।
আবার তিব্বতি ভাষাতে এই শব্দ এর অর্থ হল পবিত্র ভূমি। গঙ্গা অববাহিকা থেকে আসা ‘নেপ’ বা গো-পালকেরা যে উপত্যকাতে এসে বসবাস শুরু করেন, তাই বর্তমান নেপাল। আবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের অধিবাসীরা, যারা তিব্বত থেকে এসেছেন, তারা বলেন ভিন্ন কথা। তিব্বতি ভাষাতেই ‘নে’ শব্দের অর্থ হল উল আর ‘পাল’ শব্দের অর্থ বাড়ি। এই অধিবাসীরা ভেড়ার উলের কাপড় বুনতেন। অন্যদিকে কাঠমান্ডুর মানুষদের কাছে আবার নেপাল শব্দের অর্থ হল ‘মধ্যাঞ্চলের দেশ’।

ভুটান শব্দটা এসেছে সংস্কৃত ‘ভোতান্ত’ থেকে, যার মানে করলে দাঁড়ায় ‘তিব্বতের শেষ প্রান্ত’। অথবা যদি এই একই শব্দ উচ্চারিত হয় আলাদা ভাবে, তাহলে এটা হবে ‘ভো-তান’ যেটার অর্থ ‘উচ্চভূমি’। আবার ভুটানিরা কিন্তু নিজেদের ডাকে দ্রুক উল নামে, যার মানে দাঁড়ায় ‘ড্রাগনের দেশ’।

শ্রীলংকা সরাসরি রামায়ণ থেকে টুপ করে পড়ে গিয়েছে। সেই আদি সময় থেকেই এটার নাম ছিল শ্রীলঙ্কা, রাবণের দেশ।

ইন্ডিয়ার উৎপত্তি হল ‘সিন্ধু’ থেকে, যাকে ইংরেজিতে ‘Indus’ বলা হয়। ‘ভারত’ এর উৎপত্তি ঋগ্বেদ থেকে। এটা ছিল একজন রাজার নাম।

মালদ্বীপ এর নামও সংস্কৃত থেকেই উৎপত্তি। সংস্কৃতে ‘মালা’ এবং ‘দ্বীপ’ থেকেই এই দেশ। আক্ষরিক অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘দ্বীপের মালা’।

তাহলে বাংলাদেশ নামটা আসলো কিভাবে?
বাংলা শব্দটি এসেছে
#দ্রাবিড়দের বং/বঙ্গা উপজাতি হতে ।
#অস্ট্রিকদের ভঙ্গা/বঙ্গা শব্দ থেকে । যার অর্থ “Sun-God” ।
#বৌদ্ধ_ধর্মগ্রন্থগুলিতে ১৬ টি জনপদের নাম পাওয়া যায় ।যার মধ্য একটির নাম ছিল বঙ্গ ।
#আরণ্যক_ব্রাহ্মনে বঙ্গ নামের জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায় ।
#মহাভারত থেকে জানা যায় যে,বালি রাজের স্ত্রী সুদেষ্ণা দীর্ঘতমা ঋষি হতে অঙ্গ,বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুক্ষ ও পুণ্ড্র নামে পাঁচ পুত্রের জন্ম দেন । এরা সকলেই নিজের নামানুসারে নামীয় প্রদেশের রাজা হন । বঙ্গের নামানুসারে এর শাসিত রাজ্য বঙ্গ নামে অভিহিত হয় ।
#মুসলমানদের বিশ্বাস অনুসারে, নবী নূহ আ:-এর ছয় পুত্র ছিলো । তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে উপনিবেশ গড়ে তোলেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন হিন্দ্। এই হিন্দের নামানুসারে হিন্দুস্তানের নাম। হিন্দ্-এর চার পুত্র ছিলো । তাদের একজনের নাম ছিলো “বাং” । বাং-এর সাথে আল (বাঁধ)শব্দ যুক্ত হয় । যা জল প্লাবনের হাত থেকে জনপদ ও শস্যক্ষেত রক্ষা করতো ।এই বাং+আল থেকেই পরবর্তীতে বাংলা শব্দটির উৎপত্তি ঘটে । মধ্যযুগে সুলতান সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বঙ্গ শব্দের সাথে সংস্কৃত লাহ্ প্রত্যয় যুক্ত করে, বাংলা শব্দটির সুচনা করেন ।তিনি বেশ কিছু অঞ্চল কে একত্রিত করে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’ উপাধি ধারণ করে । ইংরেজ আমলে বাংলা ভাষাভাষি প্রদেশটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশ ছিলো । যা ইংরেজিতে ‘Bengal’ নামে অভিহিত হত ।তখন থেকেই এই প্রদেশটি বাংলা নামে অভিহিত হয় । ১৯০৫ সালের পর থেকেই এ অঞ্চলটি পুর্ব বাংলা সমাধিক পরিচিতি লাভ করে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ কিছু সময়ের জন্য পুর্ব পাকিস্থান নামে পরিচিত হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ অঞ্চলটি যে নামটি ধারন করে তা আমাদের আজকের প্রিয় ‘বাংলাদেশ’

#বাংলাদেশ_নামকরণে_বঙ্গবন্ধুর_ভূমিকাঃ

একাত্তরের চরমপত্রের লেখক এফ আর মুকুলের ভাষ্যমতে, “আলোচনার এক পর্যায়ে এসে মুজিবভাই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করলেন। বললেন, আমার মনে অনেক প্রশ্ন। ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হউয়ার সময় পাঞ্জাব এবং বেঙ্গল প্রেসিডেন্সী প্রদেশ দুটিও খণ্ডিত হয়ে গেছে। এর পরেও বিরাট “কিন্ত” রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরা কেউ এই নামটা ছাড়ছে না। কেননা এই নামটার সাথে পাঞ্জাবী ভাষাভাষীদের জাতীয়তাবাদের প্রশ্নটি জড়িয়েছে। এ জন্য আজও পর্যন্ত পাঞ্জাব (পি) এবং পাঞ্জাব (আই) শব্দটি চালু রয়েছে।
অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এইরকম ব্যাতিক্রম কেন? বিভক্ত বাংলার ভারতীয় অংশকে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ’ হিসাবে আখ্যায়িত করে হাজার বছরের ‘বাংলাদেশ’ এই আদি নামটি দু’দলই ছেড়ে দিয়েছে। এখন আবার ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে ভুলিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে প্রস্তাবিত সংবিধানে ‘পূর্ব পাকিস্থান’ নামকরন করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি তা হতে দিবনা। ভারতীয় বাঙ্গালীরা তাদের এলাকার নামবদলের কোনরকম আন্দোলন শুরু করার আগেই আমাদের জন্মভূমির নাম “বাংলাদেশ” করবই। না হলে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক বিলম্ব হয়ে যাবে।”(চল্লিশ থেকে একাত্তর, এফ আর আকতার মুকুল)।
এইভাবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান “বাংলাদেশ” নামকরণের স্বপ্ন দেখেছিল এবং করাচীতে ১৯৫৫ সালে পাকিস্থান গণপরিষদের ধারা বিবরণীতে বক্তৃতায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছিলেন
“ মাননীয় স্পিকার, আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, ওরা (পাকিস্থান সরকার) “পূর্ব বাংলা” নাম বদলিয়ে “পূর্ব পাকিস্থান” করতে চাচ্ছে। অথচ, আমরা বার বার এই দাবীই করেছি যে , এখন এর নাম শুধু “বাংলাদেশ” করা হোক। বাংলাদেশ শব্দের একটি ইতিহাস রয়েছে এবং এর নিজস্ব ঐতিহ্য বিদ্যমান। আপনারা নাম বদলাতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে গণভোট নিতে হবে। যদি আপনারা এই নাম বদলাতে চান, তাহলে আমাদের বাংলায় ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা এই ধরনের পরিবর্তন মেনে নিবে কিনা।
‘ জুলম মাত করো ভাই’
‘ এইজন্যই আমি সরকারপক্ষের বন্ধুদের কাছে আবেদন করতে চাই, “জুলম মাত করো ভাই”। যদি এইসব কিছু আপনারা আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চান তাহলে আমরা বাধ্য হয়ে সংবিধান বিরোধী পদ্ধতি গ্রহন করতে হবে। সংবিধানের বিধি মোতাবেক আপনাদের কে এগোতে হবে। আপনারা যদি জনসাধারণ কে শাসন তান্ত্রিক পদ্বতি গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন, তাহলে তারা অগণতান্ত্রিক পদ্বতি গ্রহণে বাধ্য হবে। এইটাই বিশ্বের সর্বত্র ঘটে থাকে এবং তা বিশ্বের ইতিহাস থেকে অনুধাবন করা সম্ভব।”

ভাষার নামে দেশের নাম। এতদীর্ঘ বিবর্তন দিয়ে বাংলাদেশের নামকরণ হয়নি।

অতি সংক্ষেপে, একটা দেশের নাম ঠিক হয়ে যায়। হাজার বছরের ইতিহাস মাত্র কয়েক বাক্যে শেষ হয়। একটা দেশের নাম ঠিক হয়ে যায় কয়েক মুহূর্তে, হাজার বছরের প্রক্রিয়া, পরীক্ষা -নিরীক্ষা শেষ হয় এক মুহূর্তে।

 

সৃষ্টির সেরা মানুষ হতে চাই: এস এম শাহনূর

| ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

সৃষ্টির সেরা মানুষ হতে চাই: এস এম শাহনূর

মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি । পবিত্র কোরআনের ভাষায় – আশরাফুল মাখলুকাত । অন্নময়, মনোময়, প্রেমময়, বিজ্ঞানময়, আনন্দময় এই পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে মানুষ গঠিত । এছাড়া আরও আছে পাঁচটি অনুভূতি ঈন্দ্রিয় । এত কিছু থাকার পরেও জন্ম মাত্রই মানুষ মানুষ হয় না ।যদি না সে শিক্ষা গ্রহণ করে।তাই Being a man.এবং Be coming a man.এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান । ”শিক্ষা হচ্ছে সত্যের অনুসন্ধান।”( সক্রেটিস )

Education is light, Light is power, power is man. এভাবেই মানুষ হয়ে উঠে সৃষ্টির সেরা জীব।কিন্তু মানুষ কি ধরে রাখতে পেরেছে তার মানুষ নামের গৌরব? তাইতো ম-নু-ষ এর সংজ্ঞা এসে দাঁড়িয়েছে —
মা – মানবতা আজ চরম বিপন্ন,
সর্বত্র দুর্নীতি আর ঘুষ ।
নু-নুয়ে পড়েছে চির উন্নত শির ।
ষ-ষাঁড়ের মত চলছে মানব নেই
এতটুকু হুশ।
(মানুষ কবিতা / স্মৃতির মিছিলে )
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন, ”তিনিতো দুনিয়াতে সব কিছু তোমাদের(মানুষের)জন্য সৃষ্টি করেছেন।”[আল কুরআন-২:২৯]।অন্যত্র বলেন,কেবল আমার ইবাদতের জন্যই আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি।[আল কোরআন -৫১:৫৬]
এতে নি:সন্দেহে বুঝা গেল,মানুষের জন্ম এবং জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আল্লাহ পাকের এবাদত ছাড়া আর কিছুই নয়।তাই প্রতিটি মানুষ একমাত্র দুনিয়া ও আখিরাতের অধিপতির আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে হয়ে উঠতে পারে সৃষ্টির সেরা মানুষ।

 

কবি ও বিপ্লবী, ফুলেরই জলসায় নিরব কেন কবি?-এস এম শাহনূর

| ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

কবি ও বিপ্লবী, ফুলেরই জলসায় নিরব কেন কবি?-এস এম শাহনূর

প্রেম, দ্রোহ আর চির বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের মহাপ্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট আজকের এই দিনটিতে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) মৃত্যুবরণ করেন বাংলা, বাঙালির চির বিদ্রোহের কবি, প্রেম, দ্রোহ-দুঃখ আর ভালোবাসার কবি,বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

১৯২২ সালে কবি নজরুলের লেখা-‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখে তিনি বিদ্রোহী কবির শিরোপায় অভিষিক্ত হন। কবি তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বিদ্রোহী’তে লিখেছেন,
আমি চির বিদ্রোহী বীর
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির।
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি, আর হাতে রণ তুর্য…

কবি নজরুলের এই মহাপ্রয়াণ দিবসে আজ তাঁকেই আমাদের বড় বেশি প্রয়োজন। কেননা তিনি নিজের সম্পর্কে যথার্থ বলেছিলেন,”সুন্দরের ধ্যান, তার স্তব গানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম। যে কূলে, যে সমাজে, যে ধর্মে, যে দেশেই জন্মগ্রহণ করি, সে আমার দৈব। আমি তাঁকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি। এই সমাজে জন্মেছি বলে, আমি শুধু এই সমাজের বা এই দেশেরই নই, আমি সকল দেশের, সকল মানুষের।
আমি বিদ্রোহ করেছি, বিদ্রোহের গান গেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, যা মিথ্যা-কলুষিত-পুরাতন-পঁচা সেই মিথ্যা সনাতনের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দু’টোর কোনোটাই নয়। আমি কেবলমাত্র হিন্দু মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি। গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।মানুষের জীবনে একদিকে কঠোর দারিদ্র-ঋণ-অভাব; অন্যদিকে লোভী অসুরের যক্ষের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা পাষাণ স্তুপের মতো জমা হয়ে আছে। এই অসাম্য ভেদজ্ঞান দূর করতেই আমি এসেছিলাম। আমার কাব্যে সঙ্গীতে কর্মজীবনে অভেদ ও সুন্দর সাম্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।”
(৬ এপ্রিল ১৯৪১খ্রি:, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র রজত জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠান,কলকাতা মুসলিম ইনস্টিটিউট হল।)আর তাইতো তিনি এমন করে বলতে পেরেছেনঃ
গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে,সবকালে ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।

নজরুলের প্রতিবাদ আর তাঁর লেখনীর অন্যতম দিক হলো নজরুলই ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেন। বাংলাদেশ’ শব্দটি কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় প্রথম উচ্চারিত হয়-বাংলা, বাঙালির সেই চিরকালের কবি তার একটি গানে লিখেছিলেন-‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো-তবু আমারে দেবো না ভুলিতে..।’ বিদ্রোহী কবিতা রচনার মাধ্যমে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত নজরুল ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ জানুয়ারি এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। কবি রবীন্দ্রনাথ বিদ্রোহী নজরুলকে প্রায়ই বলতেন,
‘দ্যাখ উন্মাদ। তোর জীবনে শেলীর মতো, কীটসের মতো খুব বড় একটা ট্রাজেডি আছে, তুই প্রস্তুত হ’।
পরবর্তীকালে ১৯৪২ সালেই জীবনের সাথে অবিরল যুদ্ধ করতে করতে কী এক অজানা অভিমানে মধ্যবয়সী কবি চিরকালের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আমরা বঞ্চিত হই তাঁর আরও অনল সাহিত্য সুধা থেকে।অজ্ঞাত রোগে সাহিত্যাকাশ থেকে ঝরে পড়ার আগে কবি এভাবেই তাঁর শেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছিলেন কাব্যলক্ষ্মীকেঃ
অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে
প্রদীপ শিখা সম,
কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমার সুন্দর ভঙ্গিতে।
প্রেম পূজারী কবির জীবনে তাই নার্গিস, প্রমিলা বা ফজিলাতুন্নেসারা এসেছেন বিরহী চরিত্র হয়েই। প্রমিলা কবিকে ঘরে বাঁধতে পারলেও নার্গিসের জন্যই বিয়োগ ব্যথাতুর প্রেমপূজারী কবি গান রচনা করেনঃ
যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই
কেন মনে রাখ তারে
ভুলে যাও তারে ভুলে যাও একেবারে।

কয়েক হাজার গানের রচয়িতা কাজী নজরুলের গানগুলোর মধ্যে ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম আর মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বারবার প্রচারিত হতো-
➤‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু/ দুস্তর পারাপার ওহে’

➤‘কারার ওই লৌহ কবাট/ ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট’

➤‘শেকল পড়ার ছল/ মোদের এই শেকল পড়ার ছল/ এই শেকল দিয়েই শেকল তোদের করবো রে বিকল’

➤‘চল চল চল-উর্ধ্বগগনে বাজে মাদল’ ইত্যাদি গান।
স্বাধীনতা পরবর্তী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বিদ্রোহী কবি নজরুলের লেখা-‘চল চল চল-উর্ধ্বগগনে বাজে মাদল’ গানটিকে বাংলাদেশের রণ সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ উদ্যোগে চির বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারতের কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পুরোপুরিভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে আনা হয়।১৯৭২-এর ২৫ মে চির বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পালিত হয়। বাংলাদেশ সরকার কবি নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণা করে এবং ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি বরাদ্দ করে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় খরচে তার চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় ভার বহনের ব্যবস্থা করে।স্বাধীন বাংলাদেশে কবি নজরুলের জন্মদিনে চির বিদ্রোহী ও অসুস্থ এবং নির্বাক কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে যান জাতির পিতা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাতের ছবি পরদিন বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। পত্রিকায় অমর এই ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়-‘কবি ও বিপ্লবী

১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। আজ কবির মহাপ্রয়াণ দিবসে প্রাণের অশেষ অঞ্জলিতে তাঁর জীবনের শেষ অভিভাষণ স্মরণ করি।
“যদি আর বাঁশি না বাজে,
আমি কবি বলে বলছি না,
আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম,
সেই অধিকারে বলছি,
আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন।
আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন,
আমি কবি হতে আসিনি।
আমি নেতা হতে আসিনি।
আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম,
প্রেম পেতে এসেছিলাম।
সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী থেকে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।
যেদিন আমি চলে যাব, সেদিন হয়ত বা বড় বড় সভা হবে।
কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে হয়ত আমার নামে। দেশপ্রেমী, ত্যাগী, বীর, বিদ্রোহী- বিশেষণের পর বিশেষণ,
টেবিল ভেঙে ফেলবে থাপ্পর মেরে, বক্তার পর বক্তা।
এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রাদ্ধ দিনে বন্ধু তুমি যেন যেও না।
যদি পার চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরণ করো।
তোমার ঘরের আঙিনায় বা আশেপাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেষা ফুল পাও,
সেইটিকে বুকে চেপে বলো বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি।
তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিব না,
কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।
নিশ্চল নিশ্চুপ আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধবিধুর ধূপ।”

 

কন্যার মুখে প্রথম আব্বু ডাক ও ভাষার জন্ম রহস্য: এস এম শাহনূর

| ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ৬:২৩ অপরাহ্

কন্যার মুখে প্রথম আব্বু ডাক ও ভাষার জন্ম রহস্য: এস এম শাহনূর

আমার একমাত্র তনয়া প্রিন্সেস সামীহা নূর জারা’র জন্ম হলে আমি কল্পনা করতাম,মেয়ে আমাকে বাবা বলে ডাকবে আর ওর গর্ভধারিনীকে ডাকবে মা।তাই সারাক্ষণ বাবা.বা বা….. বলে ওর মনযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতাম।ভাবতাম পুরো শব্দটি প্রথম দিকে উচ্চারণ না করতে পারলেও বা…… বা….তো উচ্চারণ করতে পারবে।আমি একজন সুদক্ষ প্রশিক্ষকের মত ওর প্রতি সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করলাম।মহান আল্লাহ পাক গত বছর(২০১৭খ্রী:) ২৫ শে অক্টোবর আমাদের দাম্পত্যজীবনে আর্শীবাদ স্বরূপ এ কন্যা সন্তান দান করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করলাম চলতি বছরের (২০১৮খ্রী)১৭ মার্চ কোন এক স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মেয়ে আমার কোন প্রকার জড়তা ছাড়াই নিজ ভঙ্গিতে ছোট্ট করে ডেকে উঠলেন-আ ব্বু……আব্বু।

ঠিক একই দিনে ওর মাকে ডাকলো,আমমা..আম মা।

আমাদের শেখানো “বাবা” “মা”বুলিগুলো সে গ্রহন করেনি।বরং আমার চিন্তা জগতের সামনে উন্মোচন করেছে ভাষার উদ্ভব সংক্রান্ত এক মহাজাগতিক রহস্য।

বর্তমান পৃথিবীতে মোট সাত হাজার ৯৯টি ভাষা চলমান।[ভাষার জরিপ প্রকাশকারী সংস্থা অ্যাথনোলোগের (ethnologue) তথ্য মতে]
অনেক ভাষাবিজ্ঞানী এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইন্দো-ইউরোপীয় আদি ভাষা থেকে সব ভাষার উৎপত্তি। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০০ থেকে ৩৫০০ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে এ আদি ভাষার জন্ম হয়।
আমি ওনাদের মত জ্ঞান তাপসদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে পারছিনা বলে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সত্যিকার অর্থে,ভাষার শুরুটা কিভাবে হয়েছে,এ নিয়ে ভাষাবিজ্ঞানীদের বিরোধের অন্ত নেই!চার্লস ডারউইন বলেছেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ভাষার উৎপত্তি হয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শব্দের ইঙ্গিত, প্রাণীদের আওয়াজ ও মানুষের স্বভাবগত উচ্চারিত ধ্বনির অনুসরণ ও সংশোধন করে। ’ (The Descent of Man, and Selection in Relation to Sex, 2 vols. London : Murray, p. 56.)

কিন্তু আমি তাঁর যুক্তির সাথে পুরোপুরিভাবে একমত নয়।

একদল ভাষাবিজ্ঞানী ভাষার উৎপত্তি নিয়ে দুটি তত্ত্ব দিয়েছেন,

★(এক) অবিচ্ছিন্নতাতত্ত্ব বা Continuity theories. সেটি হলো, ‘ভাষার বিষয়টি এত জটিল যে তার চূড়ান্ত প্রকৃতি বিষয়ে কল্পনা করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এটি পূর্বপুরুষদের থেকে পরম্পরাগতভাবে চলে আসছে। ’

★(দুই) বিচ্ছিন্নতাতত্ত্ব বা Discontinuity theories. এ তত্ত্ব আগেরটির বিপরীত। অর্থাৎ ‘ভাষা এমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে মানুষ ছাড়া অন্য কারো মধ্যে ভাষার ব্যবহার পাওয়া যায় না। মানবীয় বিবর্তনপ্রক্রিয়ার কোনো একসময়ে একবারেই হঠাৎ ভাষার প্রকাশ ও বিকাশ ঘটেছে।

★ওউ-ভৌ’ (wow-Bow) তত্ত্বঃ
ঊনবিংশ শতাব্দীতে মনে করা হতো, প্রাকৃতিক ধ্বনি থেকে ভাষা সৃষ্টি হয়েছে।বলা হয়ে থাকে, সর্বপ্রথম প্রাণী ও পাখির আওয়াজ থেকে ধ্বনি তৈরি হয়েছে। এ তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন জার্মান লেখক ও দার্শনিক জুহান গটপ্রেড হার্ডার (Johann Gottfried Herder.)

★‘পুঃ পুঃ’ (Phoo-phoo) তত্ত্বঃ
মানুষের আনন্দ, বেদনা ও আবেগ অনুসৃত ধ্বনি থেকে ভাষার জন্ম। এটা

★‘ডিঙ-ডঙ’ (Ding-dong) তত্ত্বঃ
মুইলরের মতে, বস্তুর প্রাকৃতিক বুদ্বুদ বা আওয়াজ থেকে পাওয়া ধ্বনি থেকে ভাষার জন্ম।

★‘ইউ হে হু’ (Yo-he-ho) তত্ত্বঃ
মানুষের যৌথ কায়িক কসরতের পরিণতিতে ভাষার উদ্ভব হয়েছে। কায়িক প্রচেষ্টার সমন্বয় সাধন করার সময় যে আওয়াজ বের হয়, তা থেকে ভাষার জন্ম। (The Origin of Language. pp. 7-41.)

ভাষার উৎপত্তি বিষয়ে এত জটিলতা থাকার কারণে ১৮৬৬ সালে প্যারিসের ভাষাতাত্ত্বিক সমিতি (Linguistic Society of Paris) ভাষার উৎস সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণাপত্র পাঠে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আজ আমি বিনয়ের সাথে ওনাদের এমন সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করছিন।এবং এতদ্ বিষয়ে জটিলতার অবসান সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন দিচ্ছি। কারণ,ভাষা কোন কালেই মানুষ সৃষ্টি করেনি।ভাষার সৃষ্টিকাল এবং এর নিগুঢ় রহস্য উন্মোচন করতে হলে মানব সৃষ্টির মহা রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা জরুরী বলে আমি মনে করি।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে এমনভাবে বের করেছেন যে তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৭৮)
মহান আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘তিনিই (আল্লাহ) মানুষকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে। ’ (সুরা : আর-রাহমান, আয়াত : ৪)
ভাব প্রকাশের মৌখিক পদ্ধতি ছাড়াও রয়েছে লিখিত পদ্ধতি। সে পদ্ধতিও আল্লাহর শেখানো। আল্লাহ বলেন, ‘পড়ো, তোমার প্রভু মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। ’ (সুরা : আলাক, আয়াত : ৩-৪)

বলা হয়ে থাকে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা যেসব জায়গায় অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, ভাষার উৎপত্তি বিষয়ক গবেষণা তেমনই একটি স্পর্শকাতর জায়গা। আসলে কি তাই? মোটেও না।এ বিষয়ে কোরআন তো বহু আগেই মীমাংসা করে দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘‘আর আল্লাহ শেখালেন আদমকে (আদি মানব) সব বস্তুর নাম। তারপর সেসব বস্তু ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করেন। অতঃপর বলেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা (শ্রেষ্ঠত্বের দাবিতে) সত্য হয়ে থাকো। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আমরা তো কোনো কিছুই জানি না, তবে আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন (সেগুলো ছাড়া)। নিশ্চয়ই আপনিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়। ‘’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩১-৩২)

কাজেই ভাষার ইতিহাস মানব ইতিহাসের সমসাময়িক। ভাষাজ্ঞান নিয়েই মানুষের জন্ম হয়েছে, এটা আল কুরআনের অকাট্য, সুনির্দিষ্ট ও শাশ্বত বক্তব্য। সুতরাং আদি মানব আদম (আ:) ভাষাজ্ঞান লাভ করেছেন মহান আল্লাহর কাছ থেকে। অতঃপর বংশপরম্পরায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে ভাষার বিকাশ হতে থাকে। বলা যায়, একসময় পৃথিবীর মানুষ অভিন্ন ভাষায় কথা বলত। তখন ভাষা ছিল মাত্র একটি। কালক্রমে মানুষের চিন্তা ও রঙের বৈচিত্র্যের মতো ভাষাবৈচিত্র্যের উদ্ভব হয়। সেই উদ্ভাবনী ক্ষমতাও মহান আল্লাহ দান করেছেন। ভাষাবৈচিত্র্য মহান আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে। ’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২২)

★তথ্যসূত্রঃ
[1] (H. Christiansen, Language evolution. Oxford University Press. pp. 7-41)

 

 

 

 

 

 

 

Some text

ক্যাটাগরি: সাহিত্য

আল্লামা আহমদ শফি ও তাঁর…

সরাইলে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী…

রংপুর মিঠাপুকুরে পুকুরে বিষ দিয়ে…