প্রাচীন বাংলার সমতট জনপদের গুরুপূর্ণ অংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহ্কুমা। আর তারই একটি উজ্জ্বল দীপশিখা বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আখাউড়া। এ অঞ্চলের মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার লক্ষে আজ থেকে ১০৫ বছর আগে অথার্ৎ ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। সেই থেকে নীরবচ্ছিন্নভাবে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে যাচ্ছে বিদ্যানিকেতনটি। ২০২০ সালে বিদ্যালয়টির ১০০ বছর পূর্ণ হয়। এ উপলক্ষে শতবর্ষপূর্তি উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে শতবর্ষ উদযাপন কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারি ও ছাত্র নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে এতদিন এই জমকালো অনুষ্ঠানটি করা সম্ভব হয়নি। খুশীর খবর চলিত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আখাউড়ার ১০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান।

এই জমকালো অনুষ্ঠানে প্রায় দুই সহস্রাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী যোগদান করেন। তাদের পদচারনায় এলাকাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবাই ফিরে যায় সেই শৈশব-কৈশোরকালে। পুরোনো সব বন্ধু ও সহপাঠিরা একেঅপরকে জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হয়ে কুশল বিনিময় করতে থাকেন। অনেকে আবার পুরোনো সহপাঠিদের পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বিদ্যালয় ঘুরে ঘুরে শৈশব-শৈশোরকালের স্মৃতি খুঁজতে থাকেন।
শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি শেখ আইয়ুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান, প্রাক্তন ছাত্র এসএম শাহাজাদা খাদেম ও বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম। এর আগে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী। প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয় মাঠে বৃক্ষরোপন করেন।
আড়ম্বরপূর্ণ শতবর্ষ এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র লে.কর্ণেল শামস ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাফি। দুপুরের খাবার ও নামাজ বিরতির পর শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব ও ফটো সেশন। এসময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণমূলক আবেগময় বক্তব্য রাখেন।
সর্বশেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেলর ড্র। স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০.৩০ মিনিটে এবং শেষ রাত ১১ টায়। শতবর্ষ পূর্তি এই অনুষ্ঠানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এর আশপাশ এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
খায়রুল আকরাম খান
ব্যুরো চীফ : deshdorshon.com
Some text
ক্যাটাগরি: Uncategorized