ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে পাহাড়ঘেরা একটি এলাকার নাম এভিন। এ এলাকায় শাহের স্বৈরাচারী আমলে প্রতিষ্ঠা করা হয় ভয়ঙ্কর কারাগার। এটি নামমাত্র স্থাপনা নয়। আধুনিক ইরানি ইতিহাসে ভয়, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতীক। এ কারাগারের প্রতিটি দেয়াল, করিডোর ও সেল যেন একটি সময়ের সাক্ষ্য বহন করে। যখন এক আধুনিকতার মুখোশধারী অথচ গভীর ভাবে দমনমূলক রাষ্ট্র ছিল ইরান। সে রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র ছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা সাবাক।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহ শাসনের পতন ঘটে। সে পতনের পেছনে যে ভয়, ক্ষোভ ও রক্তের দীর্ঘ ইতিহাস জমে ওঠেছিল তার কেন্দ্রে ছিল সাবাক। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা। যা কার্যত শাহের ব্যক্তিগত দমন যন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সাবাকের নাম উচ্চারণ করলেই ইরানের নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। কারণ এ নামের সাথে যুক্ত ছিল রাতের অন্ধকারে গ্রেফতার। বছরের পর বছর নিখোঁজ থাকা, নির্যাতন, স্বীকারোক্তি আদায় এবং কখনো কখনো নীরব মৃত্যু।
এ প্রতিবেদনে অনুসন্ধান করা হয়েছে—কিভাবে সাবাকের জন্ম হলো, কিভাবে এটি রাষ্ট্রের ভেতর একটি রাষ্ট্রে পরিণত হলো। কিভাবে বন্দীদের ওপর চালানো হলো ভয়াবহ নির্যাতন। যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ইসরায়েলের মোসাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এ ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে পাহাড়ঘেরা একটি এলাকার নাম এভিন। এ এলাকায় শাহের স্বৈরাচারী আমলে প্রতিষ্ঠা করা হয় ভয়ঙ্কর কারাগার। এটি নামমাত্র স্থাপনা নয়। আধুনিক ইরানি ইতিহাসে ভয়, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রতীক। এ কারাগারের প্রতিটি দেয়াল, করিডোর ও সেল যেন একটি সময়ের সাক্ষ্য বহন করে। যখন এক আধুনিকতার মুখোশধারী অথচ গভীর ভাবে দমনমূলক রাষ্ট্র ছিল ইরান। সে রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র ছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা সাবাক।
ইরানের আধুনিক ইতিহাসে ১৯৫৩ সাল একটি মোড় ঘোরানো বছর। সে বছর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানিকে জাতীয়করণ করলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে তা বড়ধরণের আঘাত হানে। প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও ব্রিটেনের এমআই ৬ যৌথভাবে একটি গোপন অভ্যুত্থান পরিচালনা করে—যা পরে “অপারেশন আজাক্স” নামে পরিচিতি পায়। এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া হয় মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর হাতে।
এ ক্ষমতা ছিল ভঙ্গুর। শাহ জানতেন, জনগণের প্রকৃত সমর্থন ছাড়া তিনি টিকে আছেন মূলত বিদেশি শক্তির সহায়তায়। সে উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেন এক দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যার কেন্দ্রে ছিল ভয় সৃষ্টি। ভয় সৃষ্টি করতে হলে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সর্বব্যাপী এবং নিষ্ঠুর গোয়েন্দা সংস্থা।
১৯৫৭ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় Sazeman-e Ettela’at va Amniyat-e Keshvar, সংক্ষেপে সাবাক। নামের অর্থ ছিল “জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা”। বাস্তবে এটা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পুলিশ, সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষ, জিজ্ঞাসাবাদকারী এবং নির্যাতনকারী—সবকিছুর একত্র রূপ। সাবাক সরাসরি শাহের কাছে জবাবদিহি করত। এর ওপর কোনো সংসদীয় নজরদারি ছিল না। ছিল না কোনো স্বাধীন বিচারিক নিয়ন্ত্রণ।
সাবাকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিক্লাসিফায়েড মার্কিন নথি এবং সাবেক ইরানি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য অনুযায়ী সিআইএ সাবাকের কাঠামো দাঁড় করাতে সহায়তা করে এবং এর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়।অন্যদিকে মোসাদ সাবাককে শেখায় কিভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ভাঙতে হয়। কিভাবে নজরদারি চালাতে হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করা যায়।
সাবাকের কার্যক্রম দ্রুতই বিস্তৃত হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের ওপর নজরদারি, মসজিদে ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ, শ্রমিক ইউনিয়নে গুপ্তচর বসানো—সবই ছিল নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, থিয়েটার, এমনকি ব্যক্তিগত আড্ডাও সাবাকের নজরের বাইরে ছিল না। মানুষ জানত না কে বন্ধু, কে তথ্যদাতা। এ অনিশ্চয়তাই সমাজে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছিল।
১৯৫৭ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় Sazeman-e Ettela’at va Amniyat-e Keshvar, সংক্ষেপে সাবাক। নামের অর্থ ছিল “জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা”। বাস্তবে এটা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পুলিশ, সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষ, জিজ্ঞাসাবাদকারী এবং নির্যাতনকারী—সবকিছুর একত্র রূপ। সাবাক সরাসরি শাহের কাছে জবাবদিহি করত। এর ওপর কোনো সংসদীয় নজরদারি ছিল না। ছিল না কোনো স্বাধীন বিচারিক নিয়ন্ত্রণ।
কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই নাগরিকদের গ্রেফতার করা হতো। অনেক সময় গভীর রাতে সাবাকের এজেন্টরা বাড়িতে হানা দিত। অভিযুক্তকে চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো অজানা স্থানে। পরিবার জানত না তিনি কোথায়, আদৌ বেঁচে আছেন কিনা। মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর কোনো খোঁজ মিলত না।
এভিন কারাগার ছিল এ দমনযন্ত্রের কেন্দ্র। এখানে রাজনৈতিক বন্দীদের রাখা হতো আলাদা সেলে। দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এভিনে বন্দীদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বৈদ্যুতিক শক, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রাখা, ঘুম বঞ্চনা, অনাহার—এসব ছিল জিজ্ঞাসাবাদের সাধারণ কৌশল।
অনেক সাবেক বন্দীর মতে, শারীরিক নির্যাতনের চেয়েও ভয়াবহ ছিল মানসিক নির্যাতন। পরিবারকে গ্রেফতারের হুমকি, মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ, দিনের পর দিন অন্ধকার কক্ষে একা রেখে দেওয়া—এসবের ফলে বহু বন্দী মুক্তির পরও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
১৯৭০-এর দশকে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে ইরানকে সে সময় দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতনকারী রাষ্ট্রগুলোর একটি বলে উল্লেখ করে। তবু ঠান্ডা যুদ্ধের বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা শাহকে সমর্থন দিয়ে যেতে থাকে। ইরান ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি। সে স্বার্থের কাছে মানবাধিকার প্রশ্ন গৌণ হয়ে পড়ে।
কিন্তু ভয়ের মাধ্যমে শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৮ সালে যখন গণবিক্ষোভ শুরু হয় তখন সাবাকই হয়ে ওঠে জনগণের প্রধান ঘৃণার লক্ষ্য। সাবাক অফিসে আগুন দেয়া হয়। বন্দীদের মুক্ত করা হয়। অবশেষে ১৯৭৯ সালে শাহ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। রেজা শাহ পাহলভি কয়েকটি দেশে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মিশনে আশ্রয় পান। নতুন শাসক আয়াতুল্লাহ খোমেনী ক্ষমতায় এসে সাবাক বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
তবে সাবাক বিলুপ্ত হলেও এর রেখে যাওয়া ক্ষত ইরানের সমাজে রয়ে যায় দীর্ঘদিন। হাজারো পরিবার আজও তাদের নিখোঁজ স্বজনের পরিণতি জানতে পারেনি। সাবাকের জিজ্ঞাসাবাদ এবং কারাগারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের বিষয়ে সাবেক বন্দীদের সাক্ষ্য অনলাইনে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। এক সাবেক বন্দী বর্ণনা করেছেন, “তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করা। রাতে হঠাৎ আমাদের ডেকে নেয়া হতো। চোখে কাপড় বাঁধা, অজানা স্থানে নেয়া। কারাগারের এক কোণে একাকী রাখা হতো। কোনো আলো বা ঘড়ির আওয়াজ ছিল না। আমরা জানতাম না কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, কখন আমরা খাওয়া বা পানি পাব।”
এ অনিশ্চয়তা ছিল সাবাকের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, মানসিক ভয় এবং অনিশ্চয়তা মানুষকে ধীরে ধীরে ভেঙে দিত। দীর্ঘ সময় একাকী থাকা, রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ, পরিবারের ক্ষতি সংক্রান্ত হুমকি—এসব কৌশলের মাধ্যমে বন্দীকে স্বীকারোক্তিতে বাধ্য করা হতো।
কিন্তু ভয়ের মাধ্যমে শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৮ সালে যখন গণবিক্ষোভ শুরু হয় তখন সাবাকই হয়ে ওঠে জনগণের প্রধান ঘৃণার লক্ষ্য। সাবাক অফিসে আগুন দেয়া হয়। বন্দীদের মুক্ত করা হয়। অবশেষে ১৯৭৯ সালে শাহ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। রেজা শাহ পাহলভি কয়েকটি দেশে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মিশনে আশ্রয় পান। নতুন শাসক আয়াতুল্লাহ খোমেনী ক্ষমতায় এসে সাবাক বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
নারী বন্দীদের উপরও নির্যাতনের একই কৌশল প্রয়োগ করা হতো। যদিও সমাজে তাদের উপস্থিতি কম ছিল। সাবাকের এক বিশেষ ইউনিট নারী রাজনৈতিক বন্দীদের নিয়ন্ত্রণ করত। এক সাবেক নারী বন্দী জানিয়েছেন, “তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মানসিক ভাঙন ঘটানো। তারা আমাদের পরিবার এবং সামাজিক সম্মানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত।”
সাবাকের কার্যক্রম শুধু কারাগারের মধ্যে সীমিত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, থিয়েটার, এমনকি মসজিদও সাবাকের নজরদারির আওতায় ছিল। শিক্ষকদের বারবার সতর্ক করা হতো যদি তারা ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেন তবে পরিণতি খুব খারাপ হবে।
লেখক এবং নাট্যকারদের কাজ অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ করা যেত না। ধর্মীয় বক্তৃতায়ও যদি রাষ্ট্রের সমালোচনা থাকত সাবাক এজেন্ট দ্রুত হস্তক্ষেপ করত। এ দমনযন্ত্রের পেছনে আন্তর্জাতিক সমর্থন ছিল স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান ছিল সোভিয়েত প্রভাব থেকে রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। মার্কিন নথি অনুসারে CIA সাবাকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিত। প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, নজরদারি কৌশল এবং রাজনৈতিক সংগঠন ভাঙার কৌশল।
ইসরায়েলের মোসাদ সাবাককে গোপন কৌশল শেখাত। বিশেষ করে আন্ডারগ্রাউন্ড বা গুপ্ত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে মোসাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হতো। সাবাকের অনেক কর্মকর্তা ইসরায়েলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। যা তাদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ এবং নিখুঁত করে তুলেছিল।
তবে ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে যায়। গ্রামের মানুষ শহরে আসে এবং শহরের মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে শাহ শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে মুখর হয়ে ওঠে। সাবাক এ ক্ষোভ দমন করতে ব্যর্থ হয়।
১৯৭৮ সালে গণবিক্ষোভ শুরু হলে সাবাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিল না। মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শহর, গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী—সকলেই ভয় উপেক্ষা করে প্রতিবাদ শুরু করে। সাবাকের অফিসে আগুন দেয়া, নথি ধ্বংস এবং এ সময় কিছু কর্মকর্তা দেশত্যাগ করে।
১৯৭৯ সালের জানুয়ারির দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। সাবাকের কর্মকর্তা এবং নিম্নপদস্থ এজেন্টরা আত্মগোপনে চলে যায়। জনগণ তাদের উপস্থিতি কম বুঝতে পারে। আতঙ্ক পুরো সমাজে রয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে শাহ দেশত্যাগ করেন। নতুন বিপ্লবী সরকার সাবাক বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কারাগারগুলো খুলে দেয় এবং বন্দীদের মুক্তি দেয়।
মুক্তির পরও অনেক ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন। নিখোঁজদের তালিকা দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ হয়নি। ইতিহাসে সাবাক কেবল একটি সংস্থা নয়। বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। রাষ্ট্র যখন ভয়কে শাসনের হাতিয়ার বানায় সে ভয় একদিন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হয়।
সাবাকের পতনের পর ইরান সাময়িকভাবে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের দিকে এগোতে থাকে। তবে মানুষের মনে সে ভয় ও ক্ষত গভীর ভাবে রয়ে যায়। সাবাকের ইতিহাস শুধুমাত্র অতীতের নয়। এটি আজও স্মরণ করিয়ে দেয়—কিভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, বিদেশি স্বার্থ এবং রাজনৈতিক দমন মিলিত হয়ে একটি সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করে শেষ করে দিতে পারে।
লেখক: গল্পকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
E-mail: s.iquram03@gmail.com
তথ্যসূত্র:
১. FridayPost.com
২. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
৩. উইকিপিডিয়া
Some text
ক্যাটাগরি: Uncategorized
