শুক্রবার দুপুর ১২:২১, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ. ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’

জালিমের প্রতি দয়া করা মজলুমের ওপর জুলুম

২৯৪ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, “With malice toward none, with charity for all” “কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, সকলের প্রতি দয়া”। তিনি জাতির ক্ষত নিরাময়, ঐক্য পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে দেশকে পুনরায় একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে তিনি আফ্রিকান আমেরিকানদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষিতে ১০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে মিডিয়া সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছেন, হিংসা কোনো সমাধান নয়, প্রতিশোধের রাজনীতি দেশকে সামনে এগিয়ে নেয় না। তার এ বক্তব্য সম্পর্কে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। এটা ছিল বড় পরিসরে সাংবাদিকদের সাথে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক মত বিনিময়।

গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, “With malice toward none, with charity for all” “কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, সকলের প্রতি দয়া”। তিনি জাতির ক্ষত নিরাময়, ঐক্য পুনরুদ্ধার এবং পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে দেশকে পুনরায় একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে তিনি আফ্রিকান আমেরিকানদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন। 

এ মত বিনিময় সভার তার বক্তব্যে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ইতিহাসের আলোকপাত ছিলো না। সে সময়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। গুম, অপহরণ ও খুন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। শত শত গুম, অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। ভয়, আতঙ্ক ও নিপীড়নের যে দীর্ঘ অধ্যায় দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে তারেক রহমানের বক্তব্যে কার্যত তা গুরুত্বহীন থেকে গেছে।

তারেক রহমান জুলাই বিপ্লবকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে হয়নি। অথচ এ বিপ্লবে অন্তত দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আরও প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত ও স্থায়ী ভাবে পঙ্গু হয়েছেন। খুন ও জখম হয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষগুলো সবাই সাধারণ পরিবারের সন্তান। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এ জুলাই বিপ্লব মৃতপ্রায় বিএনপিকে নতুন প্রাণ দিয়েছে।

এ মত বিনিময় সভার তার বক্তব্যে তিনি ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ইতিহাসের আলোকপাত ছিলো না। সে সময়ে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল। গুম, অপহরণ ও খুন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। শত শত গুম, অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। ভয়, আতঙ্ক ও নিপীড়নের যে দীর্ঘ অধ্যায় দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে তারেক রহমানের বক্তব্যে কার্যত তা গুরুত্বহীন থেকে গেছে। 

তারেক রহমান প্রতিশোধ না নেয়ার কথা বলেছেন। এটা ১০০% সঠিক। ১/১১ সরকারের আমলে ব্রিটেনে নির্বাসনে যাবার পর তিনি নিরাপদ ছিলেন। সাড়ে ১৫ বছরের হাসিনার সৃষ্ট দুর্যোগ ও অরাজকতা তাকে স্পর্শ করেনি। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে তিনি এসবের কতটুকু খোঁজখবর রেখেছেন তা  আমার মতো নগণ্য মানুষের বোধগম্য নয়।

আলোচ্য বিষয় যে, তিনি যাদের কাছে টেনে নিয়েছেন তারা বেশির ভাগই হাসিনার অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগী। এ বিষয়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিকও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১/১১ সরকার ও হাসিনার আমলে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে সীমাহীন অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়িয়েছে তাদের তিনি একেবারে সামনের সারিতে জায়গা দিয়েছেন। উদারতা ভাল, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই উদারতা দেখাতে হবে। ধরে নিলাম তিনি উদারতা দেখিয়ে সবাইকে মাফ করে দিয়েছেন।

ভুলে গেলে চলবে না যে, হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ও পাকাপোক্ত করার অন্যতম প্রধান অ্যালিমেন্ট ছিলো মিডিয়া। ১/১১ সরকার ও এর এক্সটেনশন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিডিয়ার নীতি নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। যেমন:

  1. বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে একপেশে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা।
  2. আওয়ামী আমলে সরকারের পক্ষে একপেশে প্রচার-প্রচারণা।
  3. ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলায় তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সরাসরি জোট সরকার ও তারেক রহমানকে দায়ী করা।
  4. বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাস।
  5. সরকারের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে জঙ্গি বিরোধী সিন্ডিকেটেড মিথ্যা ও বায়বীয় প্রচার-প্রচারণা।

এসব প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়াগুলো বহু নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে খুন করার প্লট তৈরী করেছিল। স্বাধীন চেতা সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজও মিডিয়ার তথ্যসন্ত্রাস থেকে রেহাই পায়নি। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, অরাজকতা, লুটপাট, সীমাহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৬১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। অনেক সাংবাদিক নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। একই সময়ে হত্যা এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৮ সাংবাদিক। বিস্তারিত নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/ikXgR

আলোচ্য বিষয় যে, তিনি যাদের কাছে টেনে নিয়েছেন তারা বেশির ভাগই হাসিনার অপকর্মের সহযোগী। এসব বিষয়ে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ১/১১ সরকার ও হাসিনার আমলে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে সীমাহীন অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়িয়েছে তাদের তিনি একেবারে সামনের সারিতে জায়গা দিয়েছেন। উদারতা ভাল, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে অবশ্যই উদারতা দেখাতে হবে। ধরে নিলাম তিনি উদারতা দেখিয়ে সবাইকে মাফ করে দিয়েছেন।

নির্যাতিত-নিপীড়িত সাংবাদিকদের এ লিস্টে আমার নাম আছে কিনা জানি না। আমি এতো বেশি নির্যাতিত হয়েছি যে, জীবনটা যে বেঁচে আছে সে জন্য সবসময় আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করি। ২০০৯ সালে অসুস্থ অবস্থায় আমি ৩ বার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের  হামলার শিকার হয়েছি। ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে আটকের পর আমি পুরো ১ বছর কারাগারে ছিলাম। আমার ওপর এসব মিডিয়া অবিচার করেছে। কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া মধ্যরাতে আমাকে ডাকাতের মতো আটক করা হয়েছিল। বিনা ওয়ারেন্টে আটকের বিষয়কে কোনো গুরুত্বই দেয়নি এসব মিডিয়া। পুলিশের সরবরাহ করা তথ্য পরিবেশন করে আমার বিরুদ্ধে তথ্যসন্ত্রাস চালিয়েছিল। অনেকে হয়তো বলবেন, আমি ব্যক্তিগত বিষয় আলোচনায় তুলে ধরছি। আমাকে নির্যাতন-নিপীড়নের বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করার অপরাধেই আমাকে আটক করে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। আমি চুরি-ডাকাতি করি না। জুলাই বিপ্লবেও ৬ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। বিস্তারিত নিউজ লিঙ্ক: https://rb.gy/ud0ht4

অনেকে বলছেন, বিগত ১/১১ সরকারের আমল থেকে এ যাবৎ দেশের পক্ষে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার অপরাধে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার সাংবাদিকদের কোনো খোঁজখবর না নিয়ে তারেক রহমান তাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন। তারেক রহমানের মত বিনিময় সভায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাড়া নির্যাতিত-নিপীড়িত কোনো সাংবাদিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এটা ভারি অন্যায়।

অনেকে বলছেন, বিগত ১/১১ সরকারের আমল থেকে এ যাবৎ দেশের পক্ষে স্বাধীন সাংবাদিকতা করার অপরাধে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার সাংবাদিকদের কোনো খোঁজখবর না নিয়ে তারেক রহমান তাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন। তারেক রহমানের মত বিনিময়ে সভায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ছাড়া নিপীড়িত কোনো সাংবাদিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এটা ভারি অন্যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিথ্যাচার ও অপসাংবাদিকতার জন্য তারেক রহমান এসব মিডিয়াকে দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনার সুযোগ দিতে পারতেন। সেটা না করে তিনি অতি উদারতা দেখালেন। তিনি ফ্যাসিবাদের শক্তিশালী অ্যালিমেন্ট মিডিয়াগুলোকে মাফ করে দিতে পারেন। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, এসব মিডিয়ার মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা ও অপসাংবাদিকতার কারণে শুধু বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মী নয়-লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেককে খুন করা হয়েছে। জঙ্গি নাটক করে ৮ মাস বয়সের নিষ্পাপ শিশুকেও নির্মম ভাবে খুন করা হয়েছে। নির্যাতিত-নিপীড়িতদের ক্ষয়ক্ষতি অপুরণীয়। রাষ্ট্রীয় ও মিডিয়া সন্ত্রাসে নিষ্পেষিত এসব নিরপরাধ মানুষ কি ইনসাফের দাবি রাখে না?

পারস্যের মহাকবি শেখ সাদী বলেছেন, “To show mercy to the oppressor is to do an injustice to the oppressed.” “জালেমের প্রতি দয়া করা মজলুমের ওপর জুলুম করার নামান্তর।”

লেখক: গল্পকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

E-mail: s.iquram03@gmail.com

Some text

ক্যাটাগরি: Uncategorized

Leave a Reply

৩০ বছর পর বন্ধু‌দের সা‌থে

২০২৬-র গণ‌ভো‌টে ‘হ্যাঁ’ ভোট কি…

সিভিক সেন্স ও গুণধর সাংবাদিকের…