শুক্রবার রাত ১:৪৯, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ. ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জাতীয় গণজোটের বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’ ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বোর্ড নির্বাচন অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পোস্টারে লেমিনেশন ও পলিথিন ব্যবহাররোধে স্মারকলিপি ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর জাতীয় পার্টি: চুন্নু মাতৃভাষা একাডেমিতে কবিতা আড্ডা অনুষ্ঠিত

সন্ত্রাসের উপাখ্যান: শিক্ষক নিপীড়ন ও দ্বিচারিতা!

১৮০ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি
চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে নিয়ে ফেসবুকের নিউজ ফিড সরগরম ছিল। তাকে নাকি শিক্ষার্থীরা নির্যাতন করেছে। আওয়ামীপন্থী মিডিয়াগুলো তার পক্ষে যথেষ্ট ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। রোমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী আমলে শিক্ষার্থীদের জঙ্গি অপবাদ ও মামলা দিয়ে হয়রানী করার গুরুতর অভিযোগ আছে। এসব বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/IjQP2
অনিয়মের তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দিয়ে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কাজটা ভাল করেনি। গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে কোনো দায়িত্ব দেয়া হলে গোলামাল হবে সেটা কি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানতো না? অবশ্যই গোলমালটা বাঁধিয়েছে তারা!
অনিয়মের তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দিয়ে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কাজটা ভাল করেনি। গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে কোনো দায়িত্ব দেয়া হলে গোলামাল হবে সেটা কি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানতো না? অবশ্যই গোলমালটা বাঁধিয়েছে তারাই!
দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, মিডিয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের পক্ষে ভাইব তৈরীর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষক রোমান নিজে স্টার নিউজকে বলেছেন, তাকে কেউ শারীরিক নির্যাতন করেনি। লিঙ্কে দেয়া নিউজটি ভাল ভাবে পড়ে দেখুন। অথচ তাকে নিয়ে আওয়ামী মানবতাবাদীদের অশ্রুতে ফেসবুক ভেসে যাচ্ছে। এ তথাকথিত মানবতাবাদীরা সবসময় নিজেদের দলের অপকর্মকে হাইড করে অন্যদের ছোট-খাটো বিষয়কে বড় করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সিন ক্রিয়েট করে। এটাই তাদের আইডিওলজি। এরা নিজেদের বেলায় বিলাপ করে পাড়া-মহল্লা উজাড় করে ফেলবে আর অন্যদের বেলায় বোবা শয়তান হয়ে যাবে!
শিক্ষক রোমানের বিষয়ে এদের অতি বিলাপের কারণে ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হচ্ছে। সেটা ১৯৭৫ সালের ৬ অগাস্টের ঘটনা। সেদিন শেষরাতে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। প্রিন্সিপাল প্রফেসর শামসুজ্জোহা অনড় ছিলেন। তিনি পরীক্ষা পেছাবেন না।
প্রফেসর শামসুজ্জোহার দুটি কন্যা সন্তান ছিল। একজন কলেজে ও অন্যজন একটি স্কুলে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে মিছিলকারীরা প্রিন্সিপালের শয়ন কক্ষে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সে গ্রেনেড দুই মেয়ের শয়ন কক্ষে গিয়ে পড়ে। গ্রেনেড হামলায় বড় মেয়ে মিলি জোহার শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বড় মেয়ের ছিন্নবিচ্ছিন্ন শরীর কাউকে দেখতে দেয়া হয়নি। এরপর ছোট মেয়ে ৩ ঘন্টার বেশি সময় ধরে হাসপাতালে কাৎড়াতে কাৎড়াতে মারা যায়। এতোবড় ঘটনার পরও প্রফেসর শামসুজ্জোহা পরীক্ষা পেছাননি।
প্রফেসর শামসুজ্জোহার দুটি কন্যা সন্তান ছিল। একজন কলেজে ও অন্যজন একটি স্কুলে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে মিছিলকারীরা প্রিন্সিপালের শয়ন কক্ষে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সে গ্রেনেড দুই মেয়ের শয়ন কক্ষে গিয়ে পড়ে। গ্রেনেড হামলায় বড় মেয়ে মিলি জোহার শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বড় মেয়ের ছিন্নবিচ্ছিন্ন শরীর কাউকে দেখতে দেয়া হয়নি। এরপর ছোট মেয়ে ৩ ঘন্টার বেশি সময় ধরে হাসপাতালে কাৎড়াতে কাৎড়াতে মারা যায়। এতোবড় ঘটনার পরও প্রফেসর শামসুজ্জোহা পরীক্ষা পেছাননি।
এরপর মেয়েদের শোকে প্রিন্সিপাল সাহেব চাকরি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। সোনার ছেলেদের সৃষ্ট সন্ত্রাস দুর্যোগে একসাখে ২ সন্তান হারানোর পর প্রফেসর ডা. শামসুজ্জোহা অর্ধমৃত অবস্থায় আরো অনেকদিন বেঁচে ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের খুব বড়মাপের একজন শিক্ষক ছিলেন। তাকে ফার্মাকোলজির লিজেন্ড বলা হতো। সে সময়ে এ জঘন্য ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। দেশটা এভাবেই চলছে। প্রভাবশালী অপরাধীদের কোনো অপরাধ-অপকর্মের বিচার হয় না।
প্রিন্সিপ্যালের বাসায় গ্রেনেড নিক্ষেপের নেতৃত্বে কে ছিল জানেন? সে সময়ের শেখ মুজিবের সোনার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আফসারুল আমিন। এ আফসারুল আমিন চট্টগ্রাম সিটির হালিশহরের সমাজ হিতৈষী ফজল আমিনের ছেলে। জানা যায়, ফজল আমিন ছেলের এমন জঘন্য অপকর্মের ঘটনা জানতে পেরে আত্মীয়-স্বজনকে অছিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর পর ছেলেকে যেন তার মুখ দেখানো না হয়।
প্রিন্সিপ্যালের বাসায় গ্রেনেড নিক্ষেপের নেতৃত্বে কে ছিল জানেন? সে সময়ের শেখ মুজিবের সোনার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আফসারুল আমিন। এ আফসারুল আমিন চট্টগ্রাম সিটির হালিশহরের সমাজ হিতৈষী ফজল আমিনের ছেলে। জানা যায়, ফজল আমিন ছেলের এমন জঘন্য অপকর্মের ঘটনা জানতে পেরে আত্মীয়-স্বজনকে অছিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, মৃত্যুর পর ছেলেকে যেন তার মুখ দেখানো না হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাস, অরাজকতা ও দুর্বৃত্তপনা সে মুজিব আমল থেকেই শুরু। আজো এর জের চলছে। অথচ এসবের মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
মুজিব রেজিমে সোনার ছেলেদের দ্বারা সংঘটিত এসব জঘন্য সন্ত্রাস ও অরাজকতার ইতিহাস তথাকথিত ইতিহাসবেত্তা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তামনাদের মুখে শুনেছেন? কখনো শুনবেন না। এসব জঘন্য ও বর্বর ঘটনা সম্পর্কে এদের কলম থেকে কখনো একটি শব্দ বের হয় না। দ্বিচারিতাই এদের প্রধান অস্ত্র! এসব সন্ত্রাস, অরাজকতা, দুর্বৃত্তপনাই তাদের কাছে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা!
এ ঘটনার প্রায় ৩৫ বছর পর ১/১১ সরকারের সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত নির্বাচনে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায়। সে আওয়ামী সরকার আফসারুল আমিনকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী করেছিল।
এ ঘটনার প্রায় ৩৫ বছর পর ১/১১ সরকারের সাজানো ও পূর্বপরিকল্পিত নির্বাচনে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায়। সে আওয়ামী সরকার আফসারুল আমিনকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী করেছিল।
১৯৭১-৭৫, ১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৯-২০২৪ আওয়ামী রেজিম। সময় ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন তবে দৃশ্য একই। আওয়ামী রেজিমগুলোতে বহু শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী-গুণি ব্যক্তি দলটির সন্ত্রাসী ও পেটোয়া বাহিনীর হাতে নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছেন। কোনো দুর্বৃত্ত ও অপরাধীর বিচার হয়নি।
এসব সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিষয়ে কথিত মানবতাবাদীরা কখনো একটা আওয়াজ করেছে? এরা করেনি এবং কোনোদিন করবেও না। এরা সবসময় নিজেদের বেলায় ষোলআনা মানবতাবাদী। অন্যদের বেলায় ১০০০% মিথ্যুক, ভন্ড, প্রতারক ও ফ্যাসিস্ট! প্রশ্ন হলো: জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের ব্যানারে কেন শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের পক্ষে কেন ওকালতি করা হচ্ছে? যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো এর সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটাই সভ্য সমাজের রীতি। অথচ এ দেশে দলীয় বিবেচনায় সবসময় দুর্বৃত্ত ও অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে।
এসব সন্ত্রাস ও অরাজকতার বিষয়ে কথিত মানবতাবাদীরা কখনো একটা আওয়াজ করেছে? এরা করেনি এবং কোনোদিন করবেও না। এরা সবসময় নিজেদের বেলায় ষোলআনা মানবতাবাদী। অন্যদের বেলায় ১০০০% মিথ্যুক, ভন্ড, প্রতারক ও ফ্যাসিস্ট! প্রশ্ন হলো: জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের ব্যানারে কেন শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের পক্ষে কেন ওকালতি করা হচ্ছে? যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো এর সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটাই সভ্য সমাজের রীতি। অথচ এ দেশে দলীয় বিবচেনায় সবসময় দুর্বৃত্ত ও অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
কথিত জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলছি, অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখতে এবং বিবেচনা করতে শিখুন। শ্রোতে গা ভাসিয়ে অন্যায় ও অপরাধকে প্রশ্রয় দেবেন না। প্রতিপক্ষকে কোনঠাসা করতে গিয়ে নিজেরা অন্ধ হয়ে যাবেন না। ভুলে যাবেন না যে, “অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না”।
লেখক: গল্পকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
E-mail: s.iquram03@gmail.com

Some text

ক্যাটাগরি: Uncategorized

Leave a Reply

২০২৬-র গণ‌ভো‌টে ‘হ্যাঁ’ ভোট কি…

সিভিক সেন্স ও গুণধর সাংবাদিকের…

জালিমের প্রতি দয়া করা মজলুমের…

ইরানের স্বৈরশাসক রেজা শাহ ও…