শুক্রবার রাত ২:১১, ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ. ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জাতীয় গণজোটের বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’ ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বোর্ড নির্বাচন অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পোস্টারে লেমিনেশন ও পলিথিন ব্যবহাররোধে স্মারকলিপি ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর জাতীয় পার্টি: চুন্নু মাতৃভাষা একাডেমিতে কবিতা আড্ডা অনুষ্ঠিত

সিভিক সেন্স ও গুণধর সাংবাদিকের অসভ্য আচরণ!

১৮৪ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

১৬ জানুয়ারি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠানে ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দেয়া হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আহমেদ সালেহীন, গ্রীণ টিভির রিপোর্টার ও এনজেএফ সদস্য আহসান হাবীবসহ কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লাইভ চলাকালে সালেহ উদ্দিন ঝাপ্টা দিয়ে সময় টিভির রিপোর্টারের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিকের সাথে এমন অশোভনীয় আচরণ করতে পারেন?

জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভা কাভার করা সাংবাদিকদের জন্য মূল স্টেজের সামনে নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছিল। সেখানেই সকাল থেকে উপস্থিত হন টেলিভিশন-পত্রিকাসহ সংবাদকর্মীরা। শৃঙ্খলার স্বার্থে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে লাইভে না করার  নির্দেশনা দেয়া হয়।

শর্ত ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গিয়ে স্টেজের সিঁড়ির কাছে লাইভে করছিলেন সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক। সে সাংবাদিকের হয়তো সিভিক সেন্সের প্রবলেম ছিল। শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে অনুরোধ করে সরিয়ে দেয়া যেতো। আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিনের এ চরম অশোভনীয় ও সন্ত্রাসী সুলভ আচরণ সমর্থনযোগ্য? লাখ লাখ মানুষ এ ঘটনার ভিডিও ক্লিপ দেখেছে। সালেহ উদ্দিন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ও বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক।

শর্ত ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গিয়ে স্টেজের সিঁড়ির কাছে লাইভে করছিলেন সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক। সে সাংবাদিকের হয়তো সিভিক সেন্সের প্রবলেম ছিল। শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে অনুরোধ করে সরিয়ে দেয়া যেতো। আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিনের এ চরম অশোভনীয় ও সন্ত্রাসী সুলভ আচরণ সমর্থনযোগ্য? লাখ লাখ মানুষ এ ঘটনার ভিডিও ক্লিপ দেখেছে। সালেহ উদ্দিন অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব ও বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক।

কে এ সালেহ উদ্দিন?

এ ঘটনার পর অনেকেই জানতে চাচ্ছিলেন তিনি কে? এমন উন্মাদের মত আচরণ করছেন কেন? তাকে নিয়ে সিনিয়র কোর্ট রিপোর্টারদের মধ্যেও কানাঘুষা আছে। সেটা ইতিবাচক নয়। কথিত আছে ছাত্র-জনতার হত্যা মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মুক্তিতে ভূমিকা পালন করেন। এর পুরস্কার স্বরূপ ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন। প্রকৃত পক্ষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মুক্তিতে সালেহ উদ্দিনের কোনো ভূমিকা ছিল না।

সালেহ উদ্দিন আগে ল রিপোর্টিং করতেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এ আওয়ামী লীগের সময় তৎকালীন আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুকে দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার বদলি শুরু করেন। তখন নবীন থাকায় ততটা সুবিধা করতে পারেননি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তখন সালেহ উদ্দিন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের অঘোষিত পিএস হয়ে যান। অভিযোগ আছে ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হন। ১/১১ সরকারের আমলে দুদকের লিস্টে তার নাম আসে। দুদক তাকে গ্রেফতার করতে তার গুলশানের বাসায় যায়। সে সময় তিনি সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান।

এরপর পরিবার রেখে এসে ল’রিপোর্টিংয়ে ভর করে ফের সাংবাদিকতায় অ্যাকটিভ হন। এসে ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হন। সে সময় তিনি যখন-তখন নিজের বাসায় পার্টি দিতেন। সদস্যদের নিজের টাকায় পিকনিকে নিয়ে যেতেন। নানা গিফটও দিতেন। ল রিপোর্টারদের কয়েকজন তাকে দিয়ে তদবির শুরু করেন। ২০১৮ সালে মওদুদ আহমেদকে দিয়ে কয়েকজনের নমিনেশন কনফার্ম করেন।

অভিযোগ আছে আওয়ামী আমলে সালেহ উদ্দিনের মাধ্যমে চিহ্নিত ঘৃণিত ব্যক্তিদের কারাগার থেকে মুক্তির পথ তৈরি হতো। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ওরফে কালো মানিকের সাথে কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এসব জামিন হতো। আদালত পাড়ায় এসব ওপেন সিক্রেট ছিল। এ সালেহ উদ্দিনের কালো টাকার সাম্রাজ্যের যাত্রা শুরু হয় বিচারাঙ্গনের কলঙ্ক কালো মানিকের হাত ধরে।

স্বৈরাচার হাসিনাকে সকল কাজের স্বীকৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, দুদকের পরিচালক পদে থাকা অবস্থায় পর্দার আড়ালে চুপ্পুর সাথে সালেহ উদ্দিনের সুসম্পর্ক তৈরী হয়। কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে এ সালেহ উদ্দিনের মাধ্যমে ঘৃণিত ব্যক্তিদের মুক্তির পথ তৈরি হতো। এ ভাবেই তিনি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় আসা-যাওয়া করেন।

৫ আগস্টের আগে কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। হাসিনা পালিয়ে যাবার পর আবার দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে বিএনপি’র ভেতরের কিছু স্বার্থপর, সুবিধাবাদী কুলাঙ্গারের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপরই পুরস্কার পাওয়া দৃশ্যমান হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক হয়ে যান। এর পাশাপাশি পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর অধীনে থাকা ১৪টি চা বাগানের পরিচালকের দায়িত্ব পান।

৫ আগস্টের আগে কোনো আন্দোলনে ছিলেন না। হাসিনা পালিয়ে যাবার পর আবার দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে বিএনপি’র ভেতরের কিছু স্বার্থপর, সুবিধাবাদী কুলাঙ্গারের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপরই পুরস্কার পাওয়া দৃশ্যমান হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক হয়ে যান। এর পাশাপাশি পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর অধীনে থাকা ১৪টি চা বাগানের পরিচালকের দায়িত্ব পান।

প্রধান উপদেষ্টার পিএস হতে ওঠে পড়ে লাগেন। সব ধরণের লবিং চালান। প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি হবারও চেষ্টা করেন। জানা যায় লিংক কাজ না করায় সফল হতে পারেননি। এরপর তারেক রহমানের নজর কাড়ার চেষ্টা করেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ এসে যায়। নাগরিক শোক সভার আয়োজনে উদগ্রীব হন। জোট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে.আর মোদাচ্ছিরকে অনুষ্ঠানের প্রধান করে দাবার ঘুটির মতো ভালোই চাল দেন। শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা সালেহ উদ্দিনের উগ্র আচরণ দেখেছেন।

এতোসব গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত মহা গুণধর সাংবাদিক সাহেব কিভাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এতো কাছাকাছি চলে গেলেন? কিভাবে তারেক রহমানের আপন হলেন? কারা এ সালেহ উদ্দিনকে তারেক রহমান পর্যন্ত নিয়ে গেলো এটাই এখন বড় প্রশ্ন! এ সালেহ উদ্দিন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে তারেক রহমানের মত বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্যমনি ছিলেন! সে অনুষ্ঠানে ইংরেজী সংবাদপত্র ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দাঁত বের করে হাসতে দেখা গেছে।

এতোসব গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত মহা গুণধর সাংবাদিক সাহেব কিভাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এতো কাছাকাছি চলে গেলেন? কিভাবে তারেক রহমানের আপন হলেন? কারা এ সালেহ উদ্দিনকে তারেক রহমান পর্যন্ত নিয়ে গেলো এটাই এখন বড় প্রশ্ন! এ সালেহ উদ্দিন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে তারেক রহমানের মত বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্যমনি ছিলেন! সে অনুষ্ঠানে ইংরেজী সংবাদপত্র ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দাঁত বের করে হাসতে দেখা গেছে। 

শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়-সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠেছে প্রত্যেক সরকারের আমলে অনিয়ম ও দূর্নীতির বরপুত্র সালেহ উদ্দিনের মতো গুণধর সাংবাদিকদের প্রশ্রয় দিয়ে ও আশেপাশে রেখে তারেক রহমান কিভাবে দেশের পরিবর্তন করবেন?

লেখক: গল্পকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Some text

ক্যাটাগরি: Uncategorized

Leave a Reply

২০২৬-র গণ‌ভো‌টে ‘হ্যাঁ’ ভোট কি…

সিভিক সেন্স ও গুণধর সাংবাদিকের…

জালিমের প্রতি দয়া করা মজলুমের…

ইরানের স্বৈরশাসক রেজা শাহ ও…