প্রায় ৩০ বছর পর আমরা পাঁচ বন্ধু মিলিত হলাম! আমাদের বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছিল সেই ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে কৈশোরকালে। কালের পরিক্রমায় ও সময়ের আবতর্নে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি আমাদের বন্ধুত্বের। আমাদের মন-মানসিকতা, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ঠিক আগের মতো আজও অটুট রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলিত বছরের ২৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়াস্থ ‘স্মৃতি চাইনিজ এন্ড থাই রেস্টুরেন্টে’ আমার একমাত্র পুত্র আজিমুল আবিদ খান রিফেতের ওলিমা বা রিসেপশন অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হয়েছে। বহু আত্মীয়–স্বজন ও বন্ধু–বান্ধব এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন।
এই অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব ছিল বর-কনের পাশাপাশি আমার কৈশোরকালের বন্ধুদের উপস্থিতি। তাদের উপস্থিতি ও বিদ্যমানতায় অনুষ্ঠাস্থল সজীব ও জীবন্ত হয়ে ওঠেছিল।
চারদিকে প্রাণচাঞ্চল্য–আগত অতিথিরা পস্পরের সঙ্গে আপলাচারিতায় মহাব্যস্ত। আমিও অত্যন্ত ব্যস্ত হয়েপরি আগত মেহেমানদের যত্নআত্তি নিয়ে।অতিথিদের যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সেইদিক খেয়াল রেখে বন্ধুদেরকে নিয়ে হলেরুমের এককোণায় খাবার টেবিলে গিয়েবসি এবং মধ্যাহৃভোজে অংশগ্রহণ করি। খাওয়ার ফাকেঁ ফাকেঁ চলে আমাদের জম্পেস আড্ডা। আমরা সবাই স্মৃতিকাতর হয়েপরি। এই আড্ডায় আমরা ফিরে গিয়েছিলাম ৩০ বছর আগের সেই দুরন্তপনার দিনগুলোতে। টেবিলের পাশে বসা অতিথিরা আমাদের উপভোগ্য আড্ডা খুব আগ্রহসহকারে অবলোকন করছিলেন। আমাদের আড্ডা চলছিল প্রায় বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। তবে আড্ডার ফাকেঁ ফাকেঁ আমাকে মেহেমানদের আদর–আপ্যায়নের প্রতিও বিশেষ নজর রাখতে হচ্ছিল।
মাত্র ৩/৪ দিনের নোটিশে আমরা কৈশোরকালের বন্ধুরা একত্রে হতে পেরেছিলাম। এদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান বাহার, আবুল বাসেদ ও আমি খায়রুল আকরাম খান এসেছিলাম মধ্যপাড়া থেকে, জাকারিয়া মানিক এসেছিলেন রাজধানী ঢাকা থেকে ও বিজয় পাল এসেছিলেন সুদূর কেনাডা থেকে। সময়ের স্বল্পতা ও ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততার কারণে একান্ত ইচ্ছা থাকার পরও বিমল কর, বিদ্যুৎরায় বর্মন চঞ্চল, মিহিরঞ্জন পাল কাজল, পংকজ বর্ধন, মিন্টু পাল, মোহাম্মদ পারভেজ, আবু্ল খায়ের, নান্নু মিয়া, পিন্টু মিয়া, প্রাণতোষ পাল, বিষ্ণু পাল, রুকুনুদ্দীন ভুইয়া নকল, আহমেদ আলীসহ আরো অনেক বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে বন্ধুবর সারোয়ার আমিন, অমলদেবনাথ চকলেট ও মোহাম্মদ বেলালকে ওলিমা অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল–কিন্তু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তারা এই মিলনমেলা আসতে পারেনি। তবে আমাদের একান্ত ইচ্ছা আছে, পরর্বতীকালে সবার সাথে যোগাযোগ করে সময়–সুযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে জমকালোভাবে একটি বন্ধু মিলার মেলার আয়োজন করার।
প্রসঙ্গত, সেই আশির দশকে আমরা প্রায় সময়ই মধ্যপাড়ার বানিয়া পুকুর ঘাটে ও তৎসংলগ্ন বটগাছের সুশীতল ছায়াতলে, জাকারিয়া মানিকের কাচারী ঘরে, মিহিরঞ্জন পাল কাজলের বারবারী ঘরে, অজয় পালের হার্ডওয়ারী দোকানে, লোকনাথ দীঘি পার্কে, নিয়াজ মোহাম্মদ পার্কে, অন্নদা স্কুল মাঠে, হাকার্স মার্কেটে, কাউতলী স্যার এন্ডারসন খাল পারে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। তবে মনফ্রেশ করার জন্য মাঝেমধ্যে দাড়িয়াপুর, গোকর্ণঘাট, দরন্তি খেয়াঘাট, সুলতানপুর, চান্দুরাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আশপাশ এলাকায় ঘুরতে যেতাম।
কৈশোরকালে সেই সোনালী দিনের কথা মনে পড়লে আজও মন খারাপ লাগে ও চোখে জল আসে। সত্যিই আমাদের কৈশোর ও তরুণকালের মধুমাখা দিনগুলো ছিল মধুময় ও স্মৃতিময়। সেই স্মৃতিবাহী দিনগুলোর কথা আজও ভুলতে পারছি না।
বস্তুত, দীর্ঘ ৩০ বছর পর বন্ধুদের সাথে একত্র হওয়া একটি অত্যন্ত আবেগময় ও বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ বিরতির পর পুরনো আড্ডা, কৈশোরের স্মৃতিচারণ এবং একে অপরের জীবনের গল্প শেয়ার করার মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত স্মরণীয় হয়ে ওঠেছিল। এই পুনর্মিলন পুরনো সম্পর্ককে নতুনকরে ঝালিয়ে নিতে এবং আস্থা ও ভরসার জায়গা তৈরি করতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। এই মিলনমেলার মাধ্যমে অর্জিত প্রেরণা ও উদ্দীপনা আগামীর চলার পথে আমাদের প্রত্যেকে বেশ অনুপ্রেরণা ও শক্তি যোগাবে।
খায়রুল আকরাম খান
ব্যুরো চীফ : deshdorshon.com
Some text
ক্যাটাগরি: Uncategorized
