সোমবার সন্ধ্যা ৭:২১, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ ইং
প্রতিবেদন
ওয়াজ-মাহ‌ফিলগুলো এখন মেলায় প‌রিণত: মুফতী জামালুদ্দীন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: এখনো পানিবন্দি ৩৬ হাজার মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে রিক্সা-ভ্যান শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন: ৬ ডিসেম্বর অবস্থান কর্মসূচী নেশার রাজ্য বাংলাদেশ: আক্রান্ত যুবসমাজ ডাক্তার নেই: সরাইল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রিক্সা-ইজিবাইক লাইসেন্স দাবিতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দাবি ৫দফা ‘আটাশ দফা’ নিয়ে দফাভিত্তিক ভার্চুয়াল আলোচনা বিতর্কিত মুফতি ফয়জুল্লার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেই বিক্ষোভের ভিডিও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র ‘আঁরা টোকাই ন’, সী-বিচের দুই খেটে-খাওয়া শিশু সামাজিক আন্দোলন নিয়ে তারা রাজনীতি করছে: তথ্যমন্ত্রী নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: বিক্ষুব্ধ সারাদেশ

‘আঁরা টোকাই ন’, সী-বিচের দুই খেটে-খাওয়া শিশু

এইচ এম জাকারিয়া জাকির

শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান এদের নাগরিক অধিকার। আমরা কি পেরেছি এসব ওদের দিতে? আমাদের গড়ে তোলা সমাজ পেরেছে? রাষ্ট্র পেরেছে এদের সুশিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে?

গত কিছুদিন আগে কক্সবাজারে বেড়াতে যাই। বেড়াতে গিয়ে সী-বিচে একটা চেয়ারে লম্বা হয়ে শুয়ে আছি। এমন সময় দুই, তিনজন ৬/৭ বছরের বাচ্চা ছেলে এসে জিজ্ঞেস করতে থাকে, স্যার মেসেজ করবেন? আমি চোখ বন্ধ অবস্থায় বললাম, না বাবা। তারপর চোখ মেলে তাকিয়ে দেখতে দেখতেই পাশের চেয়ারের একজন ‘টোকাই’ বলে ডাকলো। এমনিতেই রাগ হয়ে ওরা চট্টগ্রামের ভাষায় বলল, স্যার, ‘আঁরা টোকাই ন’।

তখন আমি একটু আদর করে তাদের কাছে ডাকলাম। কিছু কলা কিনে খেতে দিলাম। এতটুকু আদর পেয়ে তারা আনন্দ আত্মহারা। তারপর জিজ্ঞেস করি, তোমাদের বাড়ি কোথায়? আশেপাশে একটা জেলেপাড়ার নাম বলল। আরো জিজ্ঞেস করি, কয় ভাই বোন? জানায়- চার ভাই, এক বোন। এদিকে এই দুজনের মধ্যে একজনের নাম ইয়াসিন, আরেকজনের নাম হৃদয়। সারাদিন তারা মানুষের শরীর মেসেজ করে আর বেলুন বিক্রি করে। প্রতিদিন আয় ৩০০/৪০০টাকা।

তারপর তাদের পিতৃপরিচয় মাতৃ পরিচয় জিজ্ঞেস করলে একজন বলে, “আমার বাবা আমাকে ও আমার মাকে ফেলে চলে গেছে। আর খবর নাই। তাই আমি এখানে বেলুন বিক্রি করি ও মানুষের গা টিপে দেই।” স্কুলের কথা জিজ্ঞেস করলে বলে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু স্কুলে গেলে খাওয়াবে কে? তখন আমার মনটা একটু নিজের অজান্তেই দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়।

ভাবতে লাগলাম- ওরা তো শিশু, ওদের কোনো দোষ নেই। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থান এদের নাগরিক অধিকার। আমরা কি পেরেছি এসব ওদের দিতে? আমাদের গড়ে তোলা সমাজ পেরেছে? রাষ্ট্র পেরেছে এদের সুশিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে? এটা কার ব্যর্থতা? আমি মনে করি, এটা আমার, আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র সবারই ব্যর্থতা। আসুন আমরা সবাই মিলে তাদের দায়িত্ব নেই। তাহলে সমাজে সচরাচর তৈরি হবে না বড় বড় অপরাধী। আমরা যার যার অবস্থান থেকে এসব শিশুদের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করি।

প্রতিবেদক: এইচ এম জাকারিয়া জাকির

ক্যাটাগরি: বিশেষ প্রতিবেদন,  ভিডিও নিউজ,  শীর্ষ তিন,  সারাদেশ

ট্যাগ: জাকারিয়া জাকির

  • 78
    Shares

Leave a Reply