মঙ্গলবার দুপুর ১২:১৬, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ. ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
চট্টগ্রামে ভাঙ্গারী দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নিহত ১ শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত

আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের জানাজা: বিএনপি-জামায়াতের আলগা পিরিতি

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেনে। চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ সালাতুল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেতা ও সিসিসি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেনসহ বিএনপি’র অনেক নেতা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। একই ভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এটা খুব ভাল দিক।

আওয়ামী আমলে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা মারা গেলে তাদের স্বাভাবিক জানাজা আদায় করতে দেয়া হয়নি। পুলিশ ও দলীয় গুন্ডা-পান্ডা লেলিয়ে দিয়ে জানাজা পন্ড করা হতো।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা আদায় করতে দেয়া হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কবরে গিয়ে হামলা করেছে। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইন্তেকাল করেন। সেদিন রাজধানী ঢাকার শাহবাগে তার জানাজা সালাত আয়োজন পন্ড করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৫ অগাস্ট পিরোজপুর নিয়ে তার জানাজা সালাত ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা আদায় করতে দেয়া হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কবরে গিয়ে হামলা করেছে। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর ঢাকায় তার জানাজা সালাত আয়োজন পন্ড করা হয়েছে।

অর্থাৎ হাসিনার আমলে বিএনপি-জামায়াত নেতারা মৃত্যুর পরও হাসিনার নৃশংসতা থেকে নিষ্কৃতি পাননি। সে হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অনেক সৌভাগ্যবান। কারণ তার মৃত্যু হয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর। না হলে হাসিনা তার জানাজা সালাত আদায় করতে দিতো না।

“তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) উপন্যাসের স্মরণীয় উক্তি। এ উপন্যাসের নবকুমার চরিত্রটি তার সাথীদের স্বার্থপরতা ও নেতিবাচক আচরণের প্রেক্ষাপটে এ উক্তিটি করেছিলেন। একদা এক ব্যক্তি পারস্যের মহাকবি শেখ সাদীকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি এত আদব ও ভদ্রতা কোথা থেকে শিখেছেন?” উত্তরে শেখ সাদী বলেছিলেন, “আমি আদব শিখেছি বেয়াদবের কাছে”। শেখ সাদীর উত্তরের মর্মার্থ নিশ্চয় আমরা বুঝি।

ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক বিরোধীদের সাথে হিংস্র বন্য জানোয়ারের মতো আচরণ করেছে। তাই বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে হিংস্র জানোয়ার সুলভ আচরণ করে তা শোধ করতে হবে এমন নয়। শান্তিপূর্ণ ভাবে মোশাররফ হোসেনের জানাজা সম্পন্ন করতে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ দিতে হচ্ছে।

তবে এখানে কিছু কথা বলা জরুরি। মোশাররফ হোসেনের জানাজায় শরীক হওয়া লীগ নেতা-কর্মীরা জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে। এ সংক্রান্ত নিউজ মিডিয়ায় এসেছে। তারা হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে বলেও শ্লোগান দিয়েছে। নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/epLcx

জানাজার প্রাঙ্গণ কি রাজনৈতিক শ্লোগানের জায়গা? এ অতি সাধারণ বিষয়টাও নেতা নামধারী গান্ডুদের মাথায় ঢুকে না? একজন মুসলিম মারা গেলে ইসলামী শরীয় বিধান অনুযায়ী মাইয়তের জানাজা ও রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া-দরুদ পড়তে হয়। আত্মীয়-স্বজনদের দায়িত্ব মাইয়তের ধার-কর্জ থাকলে শোধ করে দেয়া। মাইয়তের জন্য সদগা করা।

জানাজা আদায় করতে উপস্থিত হওয়া নেতা-কর্মী ফরজ সালাত আদায় করেছিলেন কি? জানাজা সালাত ফরজে কেফায়া। যা ফরজের পর আদায় করতে হয়। নিশ্চয় তারা ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত সম্পর্কে বেখবর। তা না হলে সালাতুল জানাজায় রাজনৈতিক শ্লোগান দিতো না। আওয়ামীরা মনে করে শেখ মুজিবুর রহমান তাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। ইসলামী শরীয় বিধান সম্পর্কে ইলম অর্জন করার দরকার কি?

জানাজা আদায় করতে উপস্থিত হওয়া নেতা-কর্মী ফরজ সালাত আদায় করেছিলেন কি? জানাজা সালাত ফরজে কেফায়া। যা ফরজের পর আদায় করতে হয়। নিশ্চয় তারা ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত সম্পর্কে বেখবর। তা না হলে সালাতুল জানাজায় রাজনৈতিক শ্লোগান দিতো না। আওয়ামীরা মনে করে শেখ মুজিবুর রহমান তাদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। ইসলামী শরীয় বিধান সম্পর্কে ইলম অর্জন করার দরকার কি?

হাসিনা বাংলাদেশে এসে আবারো গদিতে বসবে? সেটা আওয়ামী সাইকোপ্যাথরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং লালন করে। বিএনপি-জামায়াত নেতারাও কি এটা অন্তরে লালন করেন? তাদের কিছু আচরণের কারণে কথাটা বলতে বাধ্য হচ্ছি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জন্য বিএনপি-জামায়াত নেতাদের আলগা পিরিতি ওতলে ওঠেছে দেখে বিস্মিত হতে হচ্ছে! আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের নৃশংসতার ইতিহাস তারা এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন কিভাবে?

অনেকে আবার বলছেন, মোশাররফ হোসেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন তকমা থাকলে এ দেশে সাত খুন মাফ! ৫৫ বছর যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে সকলপ্রকার অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পাবার একটা কালচার চালু আছে।

বলা হচ্ছে মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন করেছেন। তিনি চট্টগ্রামের কি উন্নয়ন করেছেন? মোশাররফ হোসেন কক্সবাজার একটি আবাসিক হোটেল ও চট্টগ্রাম সিটিতে একটি আবাসিক হোটেল এবং একটি প্রাইভেট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। এগুলো স্রেফ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এগুলো সর্বজনীন সেবামূলক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।

চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী অবিভক্ত পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পীকার ও অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীসহ বহু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে কার্যকর  ভূমিকা পালন করেছেন।

চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কাজ করেছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী অবিভক্ত পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পীকার ও অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীসহ বহু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে কার্যকর  ভূমিকা পালন করেছেন।

অথচ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অছিয়ত অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানায় দাফন করতে দেয়নি। শান্তিপূর্ণ ভাবে তার জানাজা আদায় করতে দেয়া হয়নি।

২০২১ সালে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিনকে আটকের জন্য পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ তাকে বাড়িতে না পেয়ে তার অসুস্থ ও শয্যাশায়ী মা মাহমুদা খানমকে থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। নিজাম উদ্দিনের বয়োবৃদ্ধ মা থানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোক করেন।

২০২১ সালের ২২ অক্টোবর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ওই মা ইন্তেকাল করেন। পুলিশের আতঙ্কে গাজী নিজাম উদ্দিন মায়ের জানাজা আদায় করতে পারেননি। নিউজ লিঙ্ক: https://rb.gy/gv1mce

এটা মোশাররফ হোসেনের নিজের এলাকা মীরসরাই থানার ঘটনা। আওয়ামী আমলে সংঘটিত হাজার হাজার নৃশংস ঘটনার মধ্যে এটা একটা।

মোশাররফ হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। মুসলিম হিসেবে সবার দায়িত্ব তার জন্য দোয়া করা। দোয়া ও ভাল-মন্দ কবুল করার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানা ওয়াতা’আলা।

সৌজন্যেতার খাতিরে বিএনপি-জামায়াত নেতারা সালাতুল জানাজায় শরীক হয়েছেন খুব ভাল কথা। সেখানে মোশাররফ হোসেনের পক্ষে বাকওয়াজী করতে গেলেন কেন?

বিএনপি-জামায়াত নেতারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তারা ঘর থেকে বের হতে পারেননি। রাজনৈতিক তৎপরতা চালানো দূরের কথা কোথাও দাঁড়াতে পারেননি।

তখন তারা মজলুম ছিলেন। তাদের চরম দুর্দিনে আমরা তাদের পাশে ছিলাম। তাদের ওপর চলা নৃশংস জুলুমের প্রতিবাদে লেখালেখি-অ্যাক্টিভিজম করেছি।

এর ফলস্বরূপ আমরা হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আমার মতো আরো বহু সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিছু গুরুতর বিষয় স্যাটেল্ড না করে বিএনপি-জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের সাথে আলগা পিরিতি করতে পারেন না। আওয়ামী লীগ ও বিদেশে পলাতক এ দলটির নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা অবিরাম প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে যে,

১. জুলাই বিপ্লব ছিল স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকারদের মেটিকিউলাস ডিজাইন।

২. রাজাকারের বাচ্চারা হাসিনার সাজানো-গোছানো দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

৩. দেশ ও সংবিধান বিরোধী জুলাই ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত সবার বিচার করা হবে।

৪. হাসিনা অবশ্যই ফিরবে-ফিরে এসে সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলাবে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যে, সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দূর্নীতি, লুটপাট, বিদেশে টাকা পাচার, সাজানো মামলায় বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি, সাজানো মামলায়  রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হয়রানী, জেল-জুলুম, সাংবাদিক খুন, নির্যাতন, গুম, অপহরণ এবং পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি দিয়ে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের ব্যাপারে এ দলটির মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। উল্টো এ দলটির নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।

ইদানিং এ দলটির অন্ধ সমর্থক বুদ্ধিজীবী নামের চাকর-বাকররা ইন্টারিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি-জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের প্রতি এতোটা উদারতা দেখাচ্ছেন কেন? তাদের অতি উদারতা দেখে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। কারণ আমরা এখনো আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি।

আওয়ামী লীগের সাথে বা দলটির নেতাদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা শত্রুতা ছিল না। বর্তমানেও নেই। এ দলটির সাথে আমাদের বিরোধ আদর্শিক। দেশ ও জনগণের ‍বিরুদ্ধে কাজ করার কারণেই আমরা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম। আওয়ামী সরকারের জুলুমের প্রতিবাদ করেছি। এর ফলস্বরূপ আমরা হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আওয়ামী লীগের সাথে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধ কি আদর্শিক নয়? তারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কালো অধ্যায় কি ভুলে যাচ্ছে? না খামখেয়ালী করছে?

আওয়ামী লীগের সাথে বা দলটির নেতাদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা শত্রুতা ছিল না। বর্তমানেও নেই। এ দলটির সাথে আমাদের বিরোধ আদর্শিক। দেশ ও জনগণের ‍বিরুদ্ধে কাজ করার কারণেই আমরা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম। আওয়ামী সরকারের জুলুমের প্রতিবাদ করেছি। এর ফলস্বরূপ আমরা হামলা-মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আওয়ামী লীগের সাথে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধ কি আদর্শিক নয়? তারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কালো অধ্যায় কি ভুলে যাচ্ছে? না খামখেয়ালী করছে?

ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ বেশুমার অপরাধ করেছে। তাদের অপরাধের অবশ্যই বিচার হতে হবে। তবে যেসব নেতা-কর্মী কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিল না তাদের কোনপ্রকার হয়রানী করা যাবে না। অপরাধী আওয়ামী নেতাদের কোনো ছাড় বা মার্জনা নেই। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলকে বিষয়টি মনে করিয়ে দিলাম আর কি!

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  প্রধান খবর,  বিশেষ প্রতিবেদন,  মন্তব্য প্রতিবেদন

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply