, .
সর্বশেষ খবর:
দিল্লিতে উপদেষ্টা হয়রানী: কিছু জরুরি বিষয় চট্টগ্রামে ভাঙ্গারী দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নিহত ১ শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’

ইন্ডিয়ার মানবতাবিরোধী পুশব্যাক: বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

ইন্ডিয়া সরকার সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে “অপারেশন পুশব্যাক” (Operation Pushback) শুরু করে ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত ১৩২ জন বাংলাদেশিকে এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাথা ন্যাড়া করে ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

যাহাই বায়ান্ন তাহাই তিপ্পান্ন। যাহা পুশব্যাক তাহাই পুশইন। ইন্ডিয়ার দিক থেকে পুশব্যাক আর বাংলাদেশের দিকে সেটাই পুশইন। গত কয়েক মাস ধরে ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চলছে। আর এ তল্লাশিতে হাজার হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে বলে ইন্ডিয়ার পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে। অবশ্য বিবিসি দাবি করেছে, এদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলমান রয়েছেন।

যাহাই বায়ান্ন তাহাই তিপ্পান্ন। যাহাই পুশব্যাক তাহাই পুশইন। ইন্ডিয়ার দিক থেকে পুশব্যাক আর বাংলাদেশের দিকে সেটাই পুশইন। গত কয়েক মাস ধরে ইন্ডিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চলছে। আর এ তল্লাশিতে হাজার হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে বলে ইন্ডিয়ার পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে। অবশ্য বিবিসি দাবি করেছে, এদের মধ্যে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মুসলমান রয়েছেন।

কোনোরকম যাচাই-বাছাই না করেই সমপ্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে কয়েকশ’ সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে কোনোরকম নথি ছাড়াই পুশব্যাক করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দাবি করেছে, ৬ মে থেকে ১৫ মে’র মধ্যে ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৩৭০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং চুয়াডাঙ্গা সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত ও জনবসতিহীন এলাকায় এ পুশইন চলছে।অতি সমপ্রতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, শান্তিপুর ও পানছড়ি সীমান্ত দিয়ে মোট ৭২ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করানো হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

বাকি ৪৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করানো হয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও ভুরুঙ্গামারী সীমান্ত দিয়ে। এদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা  রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসূতী গাটিয়ারভিটা সীমান্ত দিয়ে  সাত নারী ও চার শিশুকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বিবিসি দাবি করেছে, ইন্ডিয়ার রাজস্থান থেকে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক ১৪৮ জনকে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে আটক আরো ছয় শতাধিক ‘চিহ্নিত বাংলাদেশি’কে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ ২১শে মে ফেনী, কুলাউড়া ও পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে ৬৫ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে ফেনী সীমান্ত দিয়ে ৩৭ জনকে, পঞ্চগড়  সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে এবং কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন এ পদক্ষেপ নজিরবিহীন মাত্রা পেয়েছে। ঘন ঘন এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পুশব্যাক চালানো হচ্ছে।

সর্বশেষ ২১শে মে ফেনী, কুলাউড়া ও পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে ৬৫ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে ফেনী সীমান্ত দিয়ে ৩৭ জনকে, পঞ্চগড়  সীমান্ত দিয়ে ২১ জনকে এবং কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন এ পদক্ষেপ নজিরবিহীন মাত্রা পেয়েছে। ঘন ঘন এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পুশব্যাক চালানো হচ্ছে।

অবশ্য এ ব্যাপারে ইন্ডিয়া সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো টুঁ-শব্দ করেনি। তবে অনুপ্রবেশের প্রশ্নে সবসময় সোচ্চার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ইন্ডিয়া সরকার এখন বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য “পুশব্যাক” নীতি গ্রহণ করেছে।

পুশব্যাকের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া অনেকটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদ্ধতি অনুসরণ করে চোঁখ বেঁধে আটক সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের শয়ে শয়ে মাইল পাড়ি দিয়ে অভুক্ত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে নির্জন জায়গা দেখে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব চরম অমানবিক ও নির্মম ঘটনার বিবরণ মিডিয়ায় মিডিয়ায় ওঠে এসেছে।

জানা গেছে, পুশব্যাক করাদের মধ্যে অধিকাংশই অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী ও শিশু। এমন কি  জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনার কর্তৃক সুরক্ষিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেভাবে পুশব্যাক প্রক্রিয়া চলছে তা আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত প্রটোকল এবং দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

জানা গেছে, পুশব্যাক করাদের মধ্যে অধিকাংশই অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী ও শিশু। এমন কি  জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনার কর্তৃক সুরক্ষিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেভাবে পুশব্যাক প্রক্রিয়া চলছে তা আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত প্রটোকল এবং দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

ইন্ডিয়ার একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান বলেছেন, সীমান্ত বিরোধ, জনসংখ্যাগত উদ্বেগ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় জর্জরিত এ অঞ্চলে ইন্ডিয়া তার প্রতিবেশী কূটনীতিতে একটি বিতর্কিত নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যথাযথ প্রক্রিয়া, যাচাই বা কূটনৈতিক সমন্বয় ছাড়াই সন্দেহভাজন  অবৈধ অভিবাসীদের, যাদের  বেশিরভাগ বাংলাভাষী মুসলমান জোর করে বাংলাদেশে “পুশইন” অভিযান চালাচ্ছে।

এ পদক্ষেপগুলো কেবল অমানবিক বা বেআইনি নয়,  এগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির নির্লজ্জ লঙ্ঘন। অথচ এসব চুক্তিগুলোর সবক’টিতেই ইন্ডিয়া স্বাক্ষরকারী দেশ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এ পুশব্যাক বা পুশইন প্রক্রিয়াকে মানবতাবিরোধী হিসেবে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৯ মে ইন্ডিয়াকে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে এ পুশইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরণের কর্মকান্ড জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত এবং জনসাধারণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এ পুশব্যাক বা পুশইন প্রক্রিয়াকে মানবতাবিরোধী হিসেবে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৯ মে ইন্ডিয়াকে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে এ পুশইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরণের কর্মকান্ড জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত এবং জনসাধারণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ আরো দাবি করেছে, এ ধরণের চাপ প্রয়োগ ১৯৭৫ সালের সীমান্ত পর্যালোচনার জন্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ যৌথ নির্দেশিকা, ২০১১ সালের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করছে।

বাংলাদেশ সরকার যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত যেকোনো ব্যক্তিকে দেশে ফেরত নিতে ইচ্ছুক। এ পদ্ধতি থেকে যেকোনো বিচ্যুতি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বুঝাপড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রশ্ন হলো ইন্ডিয়ার এ পুশব্যাক নীতি কি নতুন কোনো কৌশল? অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে বাংলাদেশকে বার্তা দিতেই এ পুশব্যাক বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ইন্ডিয়া এ ধরণের পদক্ষেপ এবারই  প্রথমবারের মতো গ্রহণ করেছে তা মোটেই নয়। পুশব্যাক অভিযানের নামে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত কথিত বাংলাদেশিদের ইন্ডিয়া থেকে ঠেলে দেয়ার প্রথা ১৯৯০-এর দশকে প্রথম শুরু করেছিল। ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে  ইন্ডিয়া “অপারেশন পুশব্যাক” শুরু করে। তখন ১৩২ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে চিহ্নিত করতে মাথা ন্যাড়া করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়েছিল। বিএসএফের মতে, তাদের অভিধানে পুশব্যাক বলে কিছু নেই। তাই তারা পুশব্যাকের ঘটনা স্বীকার করে না ।

ইন্ডিয়া এ ধরণের পদক্ষেপ এবারই  প্রথমবারের মতো গ্রহণ করেছে তা মোটেই নয়। তবে পুশব্যাক অভিযানের নামে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত বাংলাদেশিদের ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার প্রথা ১৯৯০-এর দশকে নিয়মিত হয়ে ওঠেছিল। ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বরে  ইন্ডিয়া “অপারেশন পুশব্যাক” শুরু করে। যেখানে ১৩২ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে চিহ্নিত করতে মাথা ন্যাড়া করে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ায় কয়েক মাসের মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়েছিল। বিএসএফের মতে, তাদের অভিধানে পুশব্যাক বলে কিছু নেই। তাই তারা পুশব্যাকের ঘটনা স্বীকার করে না।

অথচ অবৈধ বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া অনুযায়ী ২০২৪ সালে ২৯৫ জন বাংলাদেশিকে তুলে দেয়া হয়েছিল এবং এ বছর ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ২২শে মে ইন্ডিয়ান বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেছেন, বর্তমানে মোট ২ হাজার ৩৬৯ জন বাংলাদেশির তালিকা প্রস্তুত আছে। এদের প্রত্যেককেই ফেরত যেতে হবে। এ নাগরিকদের অনেকের জেল খাটার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এদের ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করা প্রয়োজন। কেউ কেউ সে জন্য ২০২০ সাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছেন। পাঁচ বছর কেটে গেছে সে অপেক্ষার। এরপর ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশকে এ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তিনি অবশ্য পুশব্যাকের কথা অনুল্লেখ রেখে আইনগত পদ্ধতির কথাই বলেছেন।আইনজ্ঞদের মতে, এ আইনি প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ। এটা বাংলাদেশের অনুমোদনের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।

সীমান্ত হত্যা ও অন্যান্য নাগরিক সমস্যা নিয়ে  দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ইন্ডিয়ার মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিরীটি রায় জানিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী, অবৈধ বাংলাদেশিদের আটক করার পর তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স আইনের ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠাতে হয়। আদালতে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া চলার পর যারা অভিযুক্ত হয় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে সাজা খাটা শেষ হওয়ার পর তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা। কারাগারের ভাষায়, এসব বন্দিদের “জানখালাস বন্দি” বলা হয়।

তাদের ফেরত পাঠানোর আগে পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত বিবরণ পাঠাতে হয়। বাংলাদেশ এলাকাভিত্তিক অনুসন্ধানের পর অনুমোদন দিলেই তাদের ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব। যাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়া যায় না তাদের ইন্ডিয়ার কারাগারেই পচে মরতে হয়। তিনি বলেন, ইন্ডিয়ার সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক বা পুশইনের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এ পদ্ধতি চলে আসছে, যেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই স্বীকার করে না।

উদ্বেগজনক বিষয় যে, সকল আন্তর্জাতিক নিয়ম ও রীতিনীতি উপেক্ষা করে ইন্ডিয়া বাংলাভাষীদের কথিত পুশব্যাক করছে। সময়টা খেয়াল করুন। ১৯৯২ সালে ইন্ডিয়া সর্বপ্রথম অপারেশন পুশব্যাক শুরু করে। এরপর ২০০১ সালে আবার পুশব্যাক শুরু করা হয়। তখনো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের জবাবে ২০২৫ সালের ৯ মে রাতে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুরু করে। সে সময়েও দেশটি বাংলা ভাষী জনগণকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। সে সময় নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ইন্টারিম সরকার ক্ষমতায় ছিল। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ইন্ডিয়া আবার পুশব্যাকের নামে অশুভ তৎপরতা শুরু করেছে। বাংলাদেশে পুতুল সরকার ক্ষমতায় থাকলে ইন্ডিয়া এসব অপতৎপরতা থেকে দূরে থাকে। কোনো সরকার বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেয়ার চেষ্টা করলে তখনই ইন্ডিয়া নানারকম অপতৎপরতা শুরু করে। কথিত অপারেশ পুশব্যাক তারই একটি অংশ।

উদ্বেগজনক বিষয় যে, সকল আন্তর্জাতিক নিয়ম ও রীতিনীতি উপেক্ষা করে ইন্ডিয়া বাংলাভাষীদের কথিত পুশব্যাক করছে। সময়টা খেয়াল করুন। ১৯৯২ সালে ইন্ডিয়া সর্বপ্রথম অপারেশন পুশব্যাক শুরু করে। এরপর ২০০১ সালে আবার পুশব্যাক শুরু করা হয়। তখনো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের জবাবে ২০২৫ সালের ৯ মে রাতে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) শুরু করে। সে সময়েও দেশটি বাংলা ভাষী জনগণকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে। সে সময় নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ইন্টারিম সরকার ক্ষমতায় ছিল। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর ইন্ডিয়া আবার পুশব্যাকের নামে অশুভ তৎপরতা শুরু করেছে। বাংলাদেশে পুতুল সরকার ক্ষমতায় থাকলে ইন্ডিয়া এসব অপতৎপরতা থেকে দূরে থাকে। কোনো সরকার বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নেয়ার চেষ্টা করলে তখনই ইন্ডিয়া নানারকম অপতৎপরতা শুরু করে। কথিত অপারেশ পুশব্যাক তারই একটি অংশ। 

জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতায় হাসিনা রেজিমের মতো বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করা ইন্ডিয়ার পক্ষে আর সম্ভব হবে না। তাই নতুন সরকারকে চাপে রাখতে জন্মলগ্ন থেকে ধূর্ত এ দেশটি নিজ দেশের গরীব ও অসহায় বাংলাভাষী মানুষকে অপারেশন পুশব্যাকের নামে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার অশুভ পতৎপরতা শুরু করেছে।

ইন্ডিয়ার পশ্চিবঙ্গের নবনির্বাচিত চিফ মিনিস্টার উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ৪৮০০ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আছে আরো ৮৩৬। সূত্র: চ্যানেল ২৪ নিউজ, ০৮ জুন, ২০২৬ইং। তার মানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিষয়টি নিয়ে আর চুপ থাকার সময় নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে পুশব্যাক বা পুশইন বিতর্ক আগামী দিনে আরো জটিল হতে পারে। সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এইচ. এম. নাজমুল আলম মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, ঢাকার চুপ করে থাকা উচিত নয়। ইন্ডিয়ার মানুষ বাংলাদেশে ঢোকানোর প্রচেষ্টার বিষয়ে নয়াদিল্লিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পর্যাপ্ত নয়। এ বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে। আমাদের যা প্রয়োজন তা হল সোচ্চার, কৌশলগত এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতি। আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে এ বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশের উচিত ইন্ডিয়ার কাছ থেকে এ অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাক্ষ্যা দাবি করা। প্রতিটি পুশব্যাকের ঘটনা নথিভুক্ত করে সংরক্ষণ করা। সে সাথে ইন্ডিয়াকে জবাবদিহি করার জন্য আইনি উপায় অনুসন্ধান করা।

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  বিশেষ প্রতিবেদন,  মন্তব্য প্রতিবেদন,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply