, .
সর্বশেষ খবর:
মানবিক সেবার ব্রত নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট নির্বাচনে শক্তিশালী সদস্যপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিন দিল্লিতে উপদেষ্টা হয়রানী: কিছু জরুরি বিষয় চট্টগ্রামে ভাঙ্গারী দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নিহত ১ শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি

এ ক্ষমায় কি সব পাপ মুছে যাবে?

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

জুলাই বিপ্লবে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সময় টিভি’র সিইও এন্ড এডিটর ইন চিফ সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু। ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করা উভয়েই মহত্বের আলামত। ভুল করে ক্ষমা চাওয়া বা দুঃখ প্রকাশ সমস্যা নিরসন সহজ হয়ে যায়। তবে শুধু জুলাই বিপ্লবে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইলে হবে?

সময় টিভি ও তাদের সমগোত্রীয়রা তো বহুবছর ধরে বিতর্কিত সাংবাদিকতা করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার মূলনীতি ও এথিক্স কোনোটাই তারা মানেনি কিংবা মানে না।

এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের অনুকূলে প্রচার চালানোকে সাংবাদিকতা এথিক্সে এক কথায় পক্ষপাতদুষ্ট সাংবাদিকতা বলে। এর ইংরেজি টার্মগুলো হলো-

Partisan Journalism, Biased Journalism, Advocacy Journalism এবং চরম পর্যায়ে গেলে Propaganda Journalism. এটা সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় নৈতিক লঙ্ঘনগুলোর একটি।

সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক এথিক্স কোড, যেমন SPJ Code of Ethics অনুযায়ী সাংবাদিকতার ৪টি মূল স্তম্ভ হলো:
১. সত্য ও নির্ভুলতা খোঁজা
২. নিরপেক্ষতা
৩. ক্ষতি কমানো
৪. স্বাধীন ভাবে কাজ করা।

যখন কোনো সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজ ইচ্ছাকৃতভাবে এক পক্ষকে ভালো এবং অন্য পক্ষকে খারাপ হিসেবে দেখায়, তখন সে এ ৪টি স্তম্ভই ভাঙে কিংবা অস্বীকার করে।

Objectivity বা বস্তুনিষ্ঠতা লঙ্ঘন: ঘটনাকে যেমন আছে তেমন না দেখিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী রং লাগানো।
Impartiality বা নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন:
সব পক্ষকে সমান সুযোগ না দেয়া।
Fairness and Balance বা ন্যায্যতা ও ভারসাম্য লঙ্ঘন:
একটি পক্ষের বক্তব্য প্রচার করে অন্য পক্ষের বক্তব্য গোপন করা।

ক. পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতা-Partisan/Biased Journalism:
এটা সবচেয়ে কমন। এখানে সরাসরি মিথ্যা বলা হয় না। কিন্তু খবর বাছাই, শব্দচয়ন এবং ফ্রেমিং এর মাধ্যমে পক্ষপাত করা হয়।
যেমন: একই ঘটনায় এক পক্ষের মিছিলকে বলা হলো “জনসমুদ্র” আর অন্য পক্ষের মিছিলকে বলা হলো “বিশৃঙ্খলা”।

খ. অ্যাডভোকেসি সাংবাদিকতা-Advocacy Journalism:
সাংবাদিক খোলাখুলিভাবে একটি নির্দিষ্ট আদর্শ বা পক্ষের পক্ষে অবস্থান নেন। এটা যদি তিনি স্বীকার করে নিয়ে মতামত পাতায় লেখেন, তাহলে তা এথিক্যালি বৈধ। কিন্তু যদি তিনি নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে খবরের ভেতরে অ্যাডভোকেসি করেন, তখন তা অনৈতিক।

গ. প্রোপাগান্ডা সাংবাদিকতা-Propaganda Model:
এটি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ। নোয়াম চমস্কির মতে, এখানে সাংবাদিকতা আর সাংবাদিকতা থাকে না, এটি ক্ষমতাবান পক্ষের জনসংযোগ বিভাগে পরিণত হয়। এখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন, অতিরঞ্জন এবং মিথ্যা ফ্রেম তৈরি করা হয় যাতে জনগণ একটি নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠে।

ঘ. চিয়ারলিডিং জার্নালিজম-Cheerleading Journalism:
এক পক্ষের জন্য ক্রমাগত তালি বাজানো, তার ভুলগুলোকে আড়াল করা।

কীভাবে বুঝবেন যে একটি প্রচারণা পক্ষপাতদুষ্ট?
৫টি লক্ষণ দেখে সহজেই চেনা যায়:

১. ভাষার ব্যবহার: এক পক্ষের জন্য সবসময় ইতিবাচক বিশেষণ-উন্নয়ন, সফল, জনপ্রিয়। অন্য পক্ষের জন্য নেতিবাচক-ব্যর্থ, বিতর্কিত, ষড়যন্ত্রকারী।

২. সোর্সের ভারসাম্যহীনতা: খবরে শুধু এক পক্ষের লোকদের উদ্ধৃতি আছে, অন্য পক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

৩. Agenda Setting: এক পক্ষের ছোট সাফল্যকে বড় করে হেডলাইন করা, আর অন্য পক্ষের বড় সাফল্যকে ভেতরের পাতায় ছোট করে দেয়া।

৪. Whataboutism এবং Framing: এক পক্ষের অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠলেই “কিন্তু ওই পক্ষ কী করেছিল?” বলে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেয়া।

৫. Omission বা বাদ দেয়া: সুবিধাজনক তথ্য রাখা আর অসুবিধাজনক তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয়া।

সাংবাদিকতা এথিক্সে এর বিপরীত ধারণা হলো Adversarial Journalism নয়, বরং Fairness Doctrine। যেখানে সাংবাদিকের কাজ কারো পক্ষে খেলা নয় বরং ক্ষমতাবান যে-ই হোক, তাকে প্রশ্ন করা।

সংক্ষেপে এক পক্ষের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের অনুকূলে প্রচার চালানোকে এথিক্সের ভাষায় পক্ষপাত, ভারসাম্যহীনতা এবং বস্তুনিষ্ঠতার অভাব বলে গণ্য করা হয়। যা একটি গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বা Credibility সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।

সময় টিভি’র সিইও জুবায়ের আহমেদ বাবু শুধুমাত্র জুলাই বিপ্লবে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এখন বড় প্রশ্ন হলো: জুলাই বিপ্লবে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইলে হবে? সাংবাদিকতার নামে অতীতে তারা যা করেছেন-তার বোঝা অনেক ভারী। এ ভারী বোঝা বহন করবে কে বা কারা? সময় টিভি’র সমগোত্রীয় মিডিয়াগুলোই বা কি জবাব দেবে?

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  বিশেষ প্রতিবেদন,  মন্তব্য প্রতিবেদন,  মিনি কলাম,  শীর্ষ তিন,  সম্পাদকীয়,  সারাদেশ

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply