শুক্রবার দুপুর ১২:৩৬, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ. ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’

চ্যালেঞ্জের মুখে আমেরিকান প্রযুক্তি!

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান হিট করেছে। পরিসংখ্যানের ভাষায় সংখ্যাটি অতি নগণ্য। কেউ কেউ বলতে পারেন এটা আর এমন কি! একটি বিমানই তো হিট করেছে। ইরান এমন বিমানটিকে হিট করেছে যেটাকে ইতিহাসের সেরা যুদ্ধ বিমান বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় (Undisputed King) মানে আকাশের বাদশা।

বিমানটি আকাশে ফ্লাইরত অবস্থায় খালি চোখে দেখা যায় না। কোনো রাডার ডিটেক্ট করতে পারে না। ভূতের মতো ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ মতো মুহূর্তের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বিমানটি ইতিপূর্বে অনেক ব্যাটেল ফিল্ডে অংশগ্রহণ করেছে। কোনো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানটিকে হিট করতে পারেনি। হিট করা দূরে থাক গায়ে একটি আঁচড়ও কাটতে পারেনি। সে বিমানটিকেই হিট করে ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে ইরান। ইরান তার আকাশ প্রতিরক্ষার জানান দিয়েছে। এখন থেকে এফ-৩৫ স্টেলথ্‌ ফাইটারকে পারস্য উপসাগর পাড়ি দিতে হলে হাজারবার ভাবতে হবে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিকে বাস্তবতায় ফিরিয়েছে।

আসলেই কি আমেরিকার F-35 কি ভূপাতিত হয়েছে?

আমেরিকার সেন্ট্রাল ওয়ার কমান্ড সেন্টার ​সেন্টকম (CENTCOM) স্বীকার করেছে যে, ইরানিরা সফলভাবে ইরানের আকাশ সীমায় উড়ন্ত একটি F-35 বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সেটিকে “ক্ষতিগ্রস্ত” করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী বিমানটি জরুরি অবতরণ করেছে। পাইলটের অবস্থা এখন “স্থিতিশীল”।

আমেরিকার সেন্ট্রাল ওয়ার কমান্ড সেন্টার ​সেন্টকম (CENTCOM) স্বীকার করেছে যে, ইরানিরা সফলভাবে ইরানের আকাশ সীমায় উড়ন্ত একটি F-35 বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সেটিকে “ক্ষতিগ্রস্ত” করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী বিমানটি জরুরি অবতরণ করেছে। পাইলটের অবস্থা এখন “স্থিতিশীল”।

​ইরান একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। যা তাদের দাবি অনুযায়ী ওই হামলার দৃশ্য। ক্লিপটির শেষ ফ্রেমে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে, আঘাতের পর জেট বিমানটির পেছনে আগুনের কুন্ডলী তৈরি হয়েছে।

এক্সপার্টদের কাছে এটি একটি প্রাণঘাতী আঘাত (Fatal Wound) বলেই মনে হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা পেন্টাগনের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে ওই ধরণের জখম নিয়ে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের নিরাপদে অবতরণ করা প্রায় অসম্ভব।

​চিনুক (Chinook) হেলিকপ্টারের উপস্থিতি:

ঘটনার কিছুক্ষণ পরই কুয়েতের কাছাকাছি এলাকায় আমেরিকার উদ্ধারকারী ‘চিনুক’ হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। সাধারণত পাইলট ইজেক্ট (Eject) করলে বা বিমান বিধ্বস্ত হলেই এ ধরণের উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এটি এক্সপার্টদের সন্দেহের সাথে মিলে যায় যে, বিমানটি হয়তো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। পাইলটকে উদ্ধার করতে হয়েছে।

​যদি F-35 বিধ্বস্ত হয় তবে এটি আমেরিকার জন্য একটি বিশাল পরাজয়। কারণ F-35-এর ‘স্টিলথ’ বা অদৃশ্য থাকার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই আমেরিকা দুনিয়া জুড়ে খবরদারি চালায়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তাদের Bavar-373 বা এ জাতীয় ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে এ ‘অদৃশ্য’ বিমানকেও শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব।

যদি F-35 বিধ্বস্ত হয় তবে এটি আমেরিকার জন্য একটি বিশাল পরাজয়। কারণ F-35-এর ‘স্টিলথ’ বা অদৃশ্য থাকার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই আমেরিকা দুনিয়া জুড়ে খবরদারি চালায়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তাদের Bavar-373 বা এ জাতীয় ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে এ ‘অদৃশ্য’ বিমানকেও শনাক্ত করে ধ্বংস করা সম্ভব।

​সাধারণত আমেরিকা বা ইসরায়েল যখন কোনো দেশে হামলা চালায়, তারা Stand-off Weapons (যেমন- JSSM মিসাইল) ব্যবহার করে। এ মিসাইলগুলো অনেক দূর থেকে ছোঁড়া যায়। ফলে যুদ্ধবিমানকে শত্রুর আকাশসীমায় বা তাদের রাডারের সীমানায় ঢুকতে হয় না। এ যুদ্ধ আমেরিকার হিসাবের বাইরে লম্বা সময় ধরে চলায় আমেরিকা এবং ইসরায়েলের এ ধরণের দামী মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে আমেরিকাকে এখন ডাম্ব বোম্ব ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ বোমাগুলো নিক্ষেপ করার জন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর ঠিক উপরে বা খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে হয়। যেহেতু জেএসএসএম (JSSM) শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলার জন্য F-35, B52, B1 কে ইরানের এয়ারস্পেসের ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। ইরানের এয়ার ডিফেন্স যেরকম দূর্বল ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে ইফেক্টিভ প্রমাণিত হচ্ছে।

এক্সপার্টের মতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর আগের মতো দুর্বল নয়। বিশেষ করে Bavar-373 সিস্টেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ভিডিও অনুযায়ী এটি রাশিয়ার S-300 বা S-400 এর সমকক্ষ। এ সিস্টেমের রাডার এতটাই শক্তিশালী যে এটি F-35 এর মতো ‘স্টিলথ’ (অদৃশ্য) বিমানকেও শনাক্ত (Detect) করতে এবং লক করতে সক্ষম।

এক্সপার্টের মতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর আগের মতো দুর্বল নয়। বিশেষ করে Bavar-373 সিস্টেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ভিডিও অনুযায়ী এটি রাশিয়ার S-300 বা S-400 এর সমকক্ষ। এ সিস্টেমের রাডার এতটাই শক্তিশালী যে এটি F-35 এর মতো ‘স্টিলথ’ (অদৃশ্য) বিমানকেও শনাক্ত (Detect) করতে এবং লক করতে সক্ষম।

​​এক্সপার্টের মতে ফাইটার জেটের তুলনায় বড় বিমানগুলোকে (যেমন B-52, B-1, B-2 বোম্বার বা রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার) টার্গেট করা সহজ হবার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয়েছে।

​লুম্বারিং (Lumbering) বা ধীরগতি: এ বিমানগুলো আকারে অনেক বড় এবং ওজনে ভারী হয়। ফাইটার জেটের মতো এগুলো দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে বা ‘ম্যানুভার’ (Maneuver) করতে পারে না। এগুলো “লুম্বারিং” বা অনেকটা মন্থর গতির লক্ষ্যবস্তু। এছাড়া B-52 বা B-1 এর মতো বোম্বারগুলোর কোনো স্টিলথ ক্ষমতা নেই। ফলে অনেক দূর থেকেই এগুলো ইরানের রাডারে ধরা পড়ে যায়।

​রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা: ইরান এ অঞ্চলের মার্কিন এয়ারবেসগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাই মার্কিন বিমানগুলোকে অনেক দূর (যেমন ইউরোপ বা ব্রিটেন) থেকে উড়ে আসতে হচ্ছে। এর জন্য মাঝ আকাশে তেলের প্রয়োজন হয়। এ রিফুয়েলার বা ট্যাঙ্কার বিমানগুলো অত্যন্ত ধীরগতির এবং অরক্ষিত থাকে। যা ইরানের এয়ার ডিফেন্সের জন্য খুব অপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্যবস্তু।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুঝা যায় আমেরিকা ইরানকে যেভাবে সহজে কাবু করবে ভেবেছিলো বাস্তবে ততোটা সহজ নয়। ইসরাইলের মদদে কোটারী স্বার্থে ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকা এখন মহা ফ্যাসাদে পড়েছে। ইরানের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুঝা যায় আমেরিকা ইরানকে যেভাবে সহজে কাবু করবে ভেবেছিলো বাস্তবে ততোটা সহজ নয়। ইসরাইলের মদদে কোটারী স্বার্থে ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকা এখন মহা ফ্যাসাদে পড়েছে। ইরানের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকার প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি এখন না পারছে যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারছে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে।

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  প্রধান খবর,  বিশেষ প্রতিবেদন

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply