সোমবার দুপুর ১২:০৭, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
প্রতিবেদন
শিখো-শিখাও পদ্ধতিতে নতুন মডেলের স্কুল হিন্দু থে‌কে মুসলিম, ফের হিন্দু হয়ে ‘বিবা‌হিত’ সাধু! ভাষাসৈনিক মুহম্মদ মুসার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী: তার একটি ভিডিও বক্তব্য ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিডে আগুন: বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মৃত ২০, আশঙ্কাজনক আরো ১৯ করোনায় মারা গেলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি প্রখ্যাত সাংবাদিক রাহাত খান আর নেই ইউ‌নিয়ন প‌রিষ‌দে মারামা‌রি: প্রশ্ন‌বিদ্ধ চেয়ারম‌্যান প্রশ্নবিদ্ধ প্রথম আলো: মাস্ক ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো জরিপ বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে মানুষ নেত্র‌কোনা হাও‌রে ভ্রম‌ণে এসে ১৭ হা‌ফেজ-আ‌লে‌মের মৃত্যু গরুর চামড়ার গোশত অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর

জাকির নায়েকের বিচ্যুতি ও ভ্রান্তি

জাকির মাহদিন

তার কথায় যদি আসি- ‘এসো তোমাদের ও আমাদের মাঝে যা মিল’ তাহলে বলব, মিলটা তো আল্লাহ-ধর্মের প্রশ্নের চেয়ে মানবতার প্রশ্নে অনেক বেশি। এটা এমন এক মিল, যা সমস্ত মানবজাতিকে এক কাতারে আনে। তাহলে কেন মানবতা আগে নয়? স্বয়ং ইসলামেও ইসলামের চেয়ে মানবতার প্রাধান্য। তাহলে আপনারা কোথায় পেলেন এ ইসলাম? এটা তো মনগড়া।

২০০৭-০৮ সালের দিকে জনাব জাকির নায়েকের বক্তব্য শুনেছি বছর তিনেক। কিছু বক্তব্য, আমার প্রশ্ন ও সমালোচনা ডায়েরিতে টুকে রেখেছি। অনেকের সঙ্গে পর্যালোচনা হয়েছে। তার নামের সঙ্গে আমি পরিচিত ২০০৪ সাল থেকে। আমি নিজেও ২০০২ থেকে এ পথের একজন পথিক হওয়ায় এবং অন্যদিকে তার নামের সঙ্গে নিজের নামের মিল থাকায় নামটি মনে গেঁথে ছিল। শুরু থেকেই একদিকে তার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য আমাকে যেমন আকৃষ্ট করেছে, অন্যদিকে কিছু প্রশ্ন ও সমালোচনা প্রচুর ভাবিয়েছে। সমস্যাটা কোথায়, এ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করেছি।

তার বক্তব্যে অন্তত এতটুকু আমি নিশ্চিত, ইসলামের প্রতি আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি নেই। কারণ মুনাফেকি বা কোনো চক্রান্ত একজন মানুষকে এত যুক্তিপূর্ণ ও ধারালো বক্তব্যের জ্ঞান সরবরাহ করতে পারে না। দুয়েকটি কারণে আমাকে কিছু বন্ধু ‘বাংলাদেশের জাকির নায়েক’ বলেন। শুনে আমি গর্ববোধ করি। তার মতো একজন জ্ঞানী-গুণী মানুষের সঙ্গে এই অধমের তুলনা সত্যিই গর্বের। যদি তার বক্তব্যগুলো পুরোপুরি সমর্থন করা যেতো সে গর্ব আরো বাড়তো। তার প্রায় প্রতিটি বক্তব্যশেষে ‘প্রশ্নোত্তর পর্ব’ আধুনিক কালের একটি দারুণ সংযোজন। এমন বহু প্রশ্নের সম্মুখীন তিনি হয়েছেন, যা এই জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশেষ কালেও মানুষ কল্পনা করতে পারতো না। যদি উদার মনে উন্মুক্ত পরিবেশে ধর্ম-বিষয়ে প্রশ্নের এমন অবাধ সুযোগ না দেয়া হতো তাহলে মানবজাতি হয়তোবা জানতো না যে এ ধরনের প্রশ্নও মানুষ করতে পারে, আবার এসবের তাৎক্ষণিক জবাবও মিলতে পারে।

বহু ধর্মের, বহু জাতির আধুনিক শিক্ষিত চিন্তাশীল অসংখ্য মানুষের সামনে প্রশ্নের এমন অবাধ সুযোগ দেয়ার উদারতা, তাৎক্ষণিক জবাব দেয়ার সৎসাহস, জ্ঞানগভীরতা আজকের বিশ্বে দ্বিতীয় কেউ প্রকাশ্যে নেই। তার বক্তব্য না শুনলে আধুনিক ধ্যান-ধারণালালিত অনেকেই খুব একটা বুঝতো না এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক বক্তব্যও ইসলামের পক্ষে আছে। তবে এখানে আরো একটা বিষয় প্রমাণিত হয় যে এরচেয়েও উদার, শক্তিশালী ও যৌক্তিক বক্তব্য থাকতে পারে। প্রশ্নও থাকতে পারে অকল্পনীয়। কিন্তু সমস্যা হল, আমরা যা দেখেছি ও শুনেছি, এর বাইরে ভাবতে পারি না। যেহেতু প্রশ্নের সুযোগ দিলে প্রশ্ন আসে, তাই সুযোগ আরো বর্ধিত করা, উপস্থিত অন্তত একজন শ্রোতার প্রশ্নের পর প্রশ্ন শোনা, অনুপস্থিত শ্রোতাদের প্রশ্ন তালাশ করা এবং সর্বোচ্চ সমালোচনা সংগ্রহ করা উচিত ছিল।

কিন্তু না, জাকির নায়েক দায় সারাতে এক ধরনের প্রশ্নে উদারতা দেখালেও খুব সূক্ষ্ণভাবে অবাধ ও সামগ্রিক প্রশ্ন এড়িয়ে যান। পরবর্তী প্রশ্নের পথ রুদ্ধ করেন। উত্তর দিয়ে তিনি নিজেই বলেন, ‘আশা করি উত্তর পেয়েছেন’। তিনি কি জানেন, এক একটা প্রশ্নের উত্তরে আরও দশটি নতুন প্রশ্নের উদ্ভব ঘটতে পারে? উত্তর পাওয়া গেল কি গেল না সেটাতো প্রশ্নকারী বলবে। প্রশ্নকে স্বীকার করলে প্রশ্নের অবাধ গতিও স্বীকার করতে হয়। যদিও প্রশ্ন শর্ত-সাপেক্ষ।

দুই. যুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই জ্ঞান ও বিশ্বাসের বিকল্প নয়। ইসলামের মৌলিক ভিত্তি জ্ঞান ও বিশ্বাসের উপর। যুক্তি এখানে গৌণ। যুক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক, মস্তিষ্ক প্রসূত, সন্দেহযুক্ত। কিন্তু জ্ঞান ও বিশ্বাস মানসিক, পর্যায়ক্রমে সন্দেহমুক্ত। যুক্তি দিয়ে জোর করে কাউকে কোনোকিছু বিশ্বাস করানো যায় না। জ্ঞানের মাধ্যমে ‘প্রত্যক্ষ দর্শন’ ছাড়া বিশ্বাস অন্ধ। হাজারো যুক্তি এখানে অচল। একজন মানুষ যুক্তি-বুদ্ধির দিক থেকে সম্পূর্ণ হার মানলেও মনে বিশ্বাস না জন্মাতে পারে। এমনকি বিস্তৃত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জ্ঞান ছাড়া শক্তিশালী বিশ্বাসও বিশেষ পরিস্থিতিতে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ে।

জাকির নায়েক দায় সারাতে এক ধরনের প্রশ্নে উদারতা দেখালেও খুব সূক্ষ্ণভাবে অবাধ ও সামগ্রিক প্রশ্ন এড়িয়ে যান। পরবর্তী প্রশ্নের পথ রুদ্ধ করেন। উত্তর দিয়ে তিনি নিজেই বলেন, ‘আশা করি উত্তর পেয়েছেন’। তিনি কি জানেন, এক একটা প্রশ্নের উত্তরে আরও দশটি নতুন প্রশ্নের উদ্ভব ঘটতে পারে? উত্তর পাওয়া গেল কি গেল না সেটাতো প্রশ্নকারী বলবে।

যাদের কাছে যুক্তি, জ্ঞান ও বিশ্বাসের বিশাল পার্থক্য ধরা পড়ে না, মস্তিষ্ক ও মনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য সুস্পষ্ট হয় না, আমি তাদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। আমার এ লেখা তাদের প্রশ্ন বা বিতর্কের সমাধান দিতে সক্ষম নয়। আজকের সমস্যাসংকুল বিশ্বে মানুষের মানসিক শক্তির যে প্রমাণ ও মডেল দরকার তা বিদ্যমান সমাজে অনুপস্থিত। আমরা জানি, বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষা মানুষের ‘মন’ অস্বীকার করে। কারণ বুদ্ধি মনের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ। যদিও ‘বুদ্ধিবহির্ভূত অনেক কিছুই’ মন বা মানসিক শক্তি ধারণ করে। জাকির নায়েক এ বুদ্ধিবাদী দলেরই লোক। তিনি এমনকি কোরআনে বর্ণিত ‘কলবের’ সংজ্ঞাও বদলে ফেলেছেন (প্রকৃতপক্ষে ‘সংজ্ঞা’ বদলানো যায় না)। তিনি ঘোষণা করছেন, কলব মানে সদর বা কেন্দ্র। আর বিজ্ঞান যেহেতু প্রমাণ করেছে মানুষের কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক, তাই কলব মানে মস্তিষ্ক। আহা কি সুন্দর যুক্তি! তিনি তার পক্ষের বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো নির্দ্বিধায় গ্রহণ করছেন, বাকিগুলো যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করছেন। আজ যারা তাকে ‘নিষিদ্ধ’ করছে তা জনাব নায়েকের সেই বুদ্ধিবাদী শিক্ষা ও চিন্তারই ফসল।

তিন. তিনি কোরআনকে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে চেষ্টা করেন, যা নিঃসন্দেহে ভুল। তিনি একইসঙ্গে পরস্পরবিরোধী একাধিক ধর্মকে মহান বলেন, তিনি ইসলামের সঠিক পরিচিতি ও স্বরূপ বোঝাতে পারার আগেই বহুধর্মের মানুষের সামনে ‘ইসলামের’ পক্ষে কথা বলেন, তার মতো করে ইসলামের নামে মানবজাতিকে ভাগ করে ফেলেন, তিনি তার বর্তমান সঙ্কটে মানুষের সমর্থন না চেয়ে কথিত অনেক মুসলমানের সমর্থন চান, কারণ তিনি তো মানুষের পক্ষে কথা বলেন না, বলেন মুসলমানের(?) পক্ষে। তার কিছু বক্তব্য বা উত্তরের পর বিরোধীদের চূড়ান্ত অপদস্থ করতে হাততালি দেয়া হয় যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। এটা অন্যদের চরম অবমাননা।

তিনি বহু মীমাংসিত মাসআলার উপর নতুন করে ফতোয়া দেন। তিনি নিজেকে ইসলামের একজন ‘দায়ি’ বলে দাবি করেন। অথচ দায়ি বলতে বিচ্ছিন্ন কোনো ‘বাহিনী’ ইসলামে আছে বলে আমার জানা নেই। তিনি সমস্যাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠপদ্ধতিরই অনুগামী। তিনি যে ইসলামের কথা বলেন, যে ইসলাম চেনেন সে ইসলাম অন্তত আমি চিনি না। কেউ আত্মসমালোচনা না করলে এবং সমালোচনা না চাইলে সমালোচনা করা যায় না। তার বক্তব্য বিশ্বে প্রচারিত। তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ ক্রমাগত বাড়ছে। আমি বিশ্বাস করি, যে কোনো কালে ইসলামের সঠিক বক্তব্য উপস্থাপন সম্ভব হলে মাত্র দুয়েক যুগের ব্যবধানে বিশ্ব বদলে যেতে বাধ্য।

তিনি কোরআনকে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে চেষ্টা করেন, যা নিঃসন্দেহে ভুল। তিনি একইসঙ্গে পরস্পরবিরোধী একাধিক ধর্মকে মহান বলেন, তিনি ইসলামের সঠিক পরিচিতি ও স্বরূপ বোঝাতে পারার আগেই বহুধর্মের মানুষের সামনে ‘ইসলামের’ পক্ষে কথা বলেন, তার মতো করে ইসলামের নামে মানবজাতিকে ভাগ করে ফেলেন

তার বক্তব্যে অনেক কথিত ইসলামি দল ও গোষ্ঠী অনুপ্রাণিত হয়। এটা পুরোটা তার দোষ না। সাধারণত ধর্মকর্ম করে এমন যে কেউ এরচেয়ে নিরপেক্ষ বক্তব্য দিতে পারে না। আর শ্রোতারা যেহেতু একটি বৈষম্যমূলক সমাজ ও বিশ্বে বাস করে, প্রতিক্ষণ চারদিকে বহু অত্যাচার অবিচার দেখে, তাই এরা এ থেকে রসদ নেয়। সমস্যা হচ্ছে, জনাব নায়েক এক্ষেত্রে সাধারণ ধর্ম-কর্মকারিদের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। বর্তমান আলেমগণ যে দৃষ্টিতে তার বিরোধিতা করেন, আমি সে দৃষ্টিতে করি না। যেসব বিষয়ের বিরোধিতা করেন, সেসবের অনেকগুলোতেই আমি একমত না। আবার যারা বিনাবিশ্লেষণে তার পক্ষে সোচ্চার, আমি তাদের দলেও নই। পক্ষে-বিপক্ষের প্রচলিত কোনো ধারায় আমি পড়ি না।

অবশ্য পক্ষে-বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়ে বিভেদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে আমি তাদেরও দোষ দিতে পারি না। কারণ বেচারাদের পর্যাপ্ত চিন্তাভাবনার সময়-সুযোগইবা কই? কথিত শিক্ষা-সার্টিফিকেট, চাকরি-সংসার, উচ্চাভিলাস, ক্ষমতালিপ্সা, দল-সম্প্রদায় নিয়েই তারা কাহিল। কিছু আবেগ, কিছু বিবেক, কিছু প্রবৃত্তির তাড়নায় কথিত পক্ষে-বিপক্ষে এরা অবস্থান নেয়। যা হোক, আমি মনে করি তিনি তার সম্পর্কিত সঠিক সমালোচনাগুলো গ্রহণ করে, সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে দ্রুতই মাঠে ফিরবেন। সেক্ষেত্রে আমি তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই।

সিডি-ভিসিডিতে (এখন পেনড্রাইভ) রেকর্ড করা বক্তব্য আর প্রশিক্ষিত মানুষ এক কথা নয়। আমি তার আকিদা বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না, পোশাক নিয়েও নয়। কারণ বক্তব্য ও লেখনী এমন এক জিনিস, যাতে মানুষের প্রকৃত চেহারা ফুটে উঠে। বিশেষ করে প্রশ্নের মুখে মানুষের আসল চেহারা বোঝা অসম্ভব নয়।

চার. জাকির নায়েক কোনো লেখক নন, তিনি একজন বক্তা। বক্তব্যে তিনি শ্রোতাদের তাৎক্ষণিক প্রভাবিত করতে পারেন, যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরতে পারেন, তর্ক করতে পারেন। তবে তার বক্তব্যের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, উদ্ধৃতি। উদ্ধৃতির বাইরে নিজস্ব বক্তব্য খুবই কম। এটা দৃষ্টিভঙ্গিরও সমস্যা। খাঁটি তাত্ত্বিকগণ তত্ত্ব দেন, তথ্য নয়। শক্তিমান লেখকদের লেখনীতে যে আত্মবিশ্লেষণ, তত্ত্ব ও ধীরে-সুস্থে চিন্তার গভীরতা থাকে, তা খুব একটা তার বক্তব্যে নেই। তিনি তার বক্তব্য সিডি-ভিসিডি ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সারাবিশ্বে প্রচার করেন। এতে তার যোগ্য অনুসারী তৈরি না হয়ে হচ্ছে প্রচুর অন্ধ ভক্ত। সাধারণ মানুষদের মানসিক, আধ্যাত্মিক ও বিশ্লেষণী শক্তির বিকাশ না ঘটিয়ে তিনি এক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

সিডি-ভিসিডিতে (এখন পেনড্রাইভ) রেকর্ড করা বক্তব্য আর প্রশিক্ষিত মানুষ এক কথা নয়। আমি তার আকিদা বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না, পোশাক নিয়েও নয়। কারণ বক্তব্য ও লেখনী এমন এক জিনিস, যাতে মানুষের প্রকৃত চেহারা ফুটে উঠে। বিশেষ করে প্রশ্নের মুখে মানুষের আসল চেহারা বোঝা অসম্ভব নয়। আমলের মুনাফেকি মানুষ নাও ধরতে পারে, তবে বক্তব্য ও লেখনীর মূল্য নিরূপণ করা যায়। অন্তরে ঘৃণা ও বক্রতা রেখে মানবজাতির মীমাংসামূলক বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য কেউ দিতে পারবে না।

তার কথায় যদি আসি- ‘এসো তোমাদের ও আমাদের মাঝে যা মিল’ তাহলে বলব, মিলটা তো আল্লাহ-ধর্মের প্রশ্নের চেয়ে মানবতার প্রশ্নে অনেক বেশি। এটা এমন এক মিল, যা সমস্ত মানবজাতিকে এক কাতারে আনে। তাহলে কেন মানবতা আগে নয়? স্বয়ং ইসলামেও ইসলামের চেয়ে মানবতার প্রাধান্য। আপনারা কোথায় এ ইসলাম পেলেন যে নিজেরা চূড়ান্ত মাত্রায় সংশোধিত না হয়ে, মানবজাতিকে জাতিগত মুক্তির ডাক না দিয়ে, মানুষের সৃষ্টিগত সমস্যা, সম্ভাবনা, চাহিদা ইত্যাদির অসাম্প্রদায়িক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ না করে নিজেকে ইসলামের একজন ‘দায়ি’ দাবি করেন? এ ধরনের ‘সমাজবিচ্ছিন্ন দায়ি’ তো ইসলামের নেই। আগে মানুষ, তারপর ধর্ম। মানুষের জন্যই ধর্ম। সুতরাং মানুষের সঠিক পরিচয়, সমস্যা-সম্ভাবনা, বিশ্লেষণ, পারিপাশ্বিকতা পরিষ্কার হওয়া দরকার।

 

জাকির মাহদিন এর অন্যান্য কলাম পড়ুন এখানে

 

জাকির মাহদিন : সমাজগবেষক, কলামিস্ট

zakirmahdin@yahoo.com

 

ক্যাটাগরি: ধর্ম-দর্শন-বিজ্ঞান,  প্রধান কলাম,  সম্পাদকের কলাম

ট্যাগ:

৪ responses to “জাকির নায়েকের বিচ্যুতি ও ভ্রান্তি”

  1. Noimul says:

    বিশ্লেষণ ভালোই হইছে!আপনি পক্ষে-বিপক্ষের প্রচলিত কোনো ধারায় পড়েন না-এটাতো বিচার করবে আপনারই মতো আরেকজন জাকির মাহদিন,আপনি নিজে না!নিজেকে এতোটা নিরপেক্ষ ভাবার আত্মবিশ্বাস আপনি কই থেকে পান?
    তবে আরো ভালো হইতো তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ-আলোচনার পর তার সম্বন্ধে চূড়ান্ত মূল্যায়নটা করলে!
    আপনি বললেন-
    “কথিত শিক্ষা-সার্টিফিকেট, চাকরি-সংসার, উচ্চাভিলাস, ক্ষমতালিপ্সা, দল-সম্প্রদায় নিয়েই তারা কাহিল। কিছু আবেগ, কিছু বিবেক, কিছু প্রবৃত্তির তাড়নায় কথিত পক্ষে-বিপক্ষে এরা অবস্থান নেয়।” এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আপনার পরামর্শ কি?

    • জাকির মাহদিন says:

      দুয়েক কথায় কোনো পরামর্শ তো দূরের কথা, অবস্থান ব্যক্ত করাও সম্ভব নয়। আর যতটুকু সম্ভব তা আমি আমার বিভিন্ন লেখা ও ভিডিও বক্তব্যে বলার চেষ্টা করে আসছি। তাছাড়া আমি নিজের জীবনটা সেভাবেই অনেকটা পরিচালনা করে আসছি। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  2. ifteharul alam says:

    আপনি কি নাস্তিক..???আমি তো আপনাকে ভালো ভাবছিলাম….

  3. রবিন says:

    tযুক্তি সংগত বিশ্লেষণ।
    ভালো লিখনি!

    জাজাকাল্লাহ্

Leave a Reply