বৃহস্পতিবার রাত ৮:৩৪, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৮শে মে, ২০২০ ইং
প্রতিবেদন
কপিপেস্ট সাংবাদিকতা বিষয়ে কথাগুলো আমারই: দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি দেশ দর্শনে “সম্পাদকের লাইভ” নামে সাপ্তাহিক আলোচনা (ভিডিও) সরাইল সদরের মৃৎ শিল্পীদের দুর্দিন রাজধানীর ব্যাংকগুলো করোনার অভয়াশ্রম দুর্গাপুরে চলছে কপিপেস্ট সাংবাদিকতা: ক্ষুব্ধ সচেতন মহল করোনাকে বাংলাদেশের ঈদের দাওয়াত ‘সেলফি দানবীরদের’ বিরিয়ানি বিতরণ! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও দৈহিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই! একজন রিকশাওয়ালার আর্তনাদ: মুখে ভাষা নেই করোনারোধে আগের তুলনায় মানুষ বেশি ধর্মমুখী হচ্ছে মসজিদ খুলে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘আলেমদের’ ধন্যবাদ জানানোর হিড়িক তিতাস নদী কচুরিপানায় ভরপুর: ভোগান্তিতে কৃষক ও এলাকাবাসী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর তর্জন-গর্জন

তনয় ইমরোজ

বাংলাদেশে যেহেতু আইন নাই, সেহেতু মন্ত্রী-সাংসদদের ডিসিশান মেকিং প্রসেস থেকে ফিনান্সিয়াল বেনিফিট নেয়া দুর্নীতি না। যেমন টেস্ট নাই, তাই করোনাও নাই। উনি এতটা আন্তরিক, তো কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট আইন করেন না কেন?

১১ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় আছেন, তারপরেও মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতি দমন করতে ‘কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ আইন পাশ হয় না কেন? কিছুদিন পরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তর্জন-গর্জন করেন। অসৎ মন্ত্রী-আমলাদের দেখে নেয়ার ‘হুমকি’ দেন। সামাজিক ও রাজনৈতীক ক্যাপিটালে এক্সট্রা ব্রাউনি পয়েন্ট এ্যাড করেন। কিন্তু আদতে তিনি কতটা আন্তরিক?

মাস কয়েক পূর্বে ক্যাবিনেট মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের মালিকানাধীন বিজয় কী-বোর্ডকে বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল কী-বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রী তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ঘটা করে পোস্টও করেছেন। হাস্যকর এবং রাস্তার চোর-ছ্যাচর লেভেলের দুর্নীতি। যে কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় মোস্তফা জব্বারকে এ কারণে জবাদিহিতা, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন, রেজিগনেশন এবং অবভিয়াস ক্রিমিনাল কনভিকশন বাই এ কোর্ট অফ ল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হত। এতেই শেষ না। যেহেতু কেবিনেট ডিসিশন এবং প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে, সে কারণে প্রধানমন্ত্রীকেও জবাবদিহিতা করতে হত। বাংলাদেশে ট্যেকনিক্যালি জব্বার সাহেব কোনো অপরাধ করেন নাই।

“মাস কয়েক পূর্বে ক্যাবিনেট মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের মালিকানাধীন বিজয় কী-বোর্ডকে বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল কী-বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। মন্ত্রী তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ঘটা করে পোস্টও করেছেন। হাস্যকর এবং রাস্তার চোর-ছ্যাচর লেভেলের দুর্নীতি।”

দুর্নীতি দমন মূলত একটি আইনি প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ এবং কার্যকর ল্যিগাল ফ্রেমওয়ার্ক। সকল গণতান্ত্রিক দেশে মন্ত্রী আমলাদের জন্য দুর্নীতি দমনের ‘বেঞ্চমার্ক কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট’ আইনের সারাংশ: পাবলিক অফিসিয়ালস আর প্রহিবিটেড ফ্রম প্লেয়িং ইভেন এ মাইনর রোল ইন এ ডিসিশন দ্যাট ডিরেক্টলি ক্রিয়েটস এ ফাইনান্সিয়াল বেনিফিট ফর দ্যা ইমপ্লয়ি অর ইমপ্লয়িস ইমিডিয়েট ফ্যামিলি।

বাংলাদেশে যেহেতু আইন নাই, সেহেতু মন্ত্রী-সাংসদদের ডিসিশান মেকিং প্রসেস থেকে ফিনান্সিয়াল বেনিফিট নেয়া দুর্নীতি না। যেমন টেস্ট নাই, তাই করোনাও নাই। উনি এতটা আন্তরিক, তো কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট আইন করেন না কেন?

আসলে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরদ্ধে তর্জন-গর্জন সব কথার কথা। সামাজিকভাবে ভালো শোনায়, তাই। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত, আর উনাদের দৌড় ইনসেন্ট কাজল, দিদারুল, কিশোর, সর্ব্বোচ্চ সম্রাট পর্যন্ত। ওমর ফারুকদের কেশাগ্র স্পর্শ করার মতো সদিচ্ছা তো দেখলাম না।

তনয় ইমরোজ: প্রবাসী কলামিস্ট

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

 

মিনি কলাম

  • 88
    Shares

Leave a Reply