বৃহস্পতিবার রাত ১০:১৫, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২৮শে মে, ২০২০ ইং
প্রতিবেদন
কপিপেস্ট সাংবাদিকতা বিষয়ে কথাগুলো আমারই: দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি দেশ দর্শনে “সম্পাদকের লাইভ” নামে সাপ্তাহিক আলোচনা (ভিডিও) সরাইল সদরের মৃৎ শিল্পীদের দুর্দিন রাজধানীর ব্যাংকগুলো করোনার অভয়াশ্রম দুর্গাপুরে চলছে কপিপেস্ট সাংবাদিকতা: ক্ষুব্ধ সচেতন মহল করোনাকে বাংলাদেশের ঈদের দাওয়াত ‘সেলফি দানবীরদের’ বিরিয়ানি বিতরণ! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও দৈহিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই! একজন রিকশাওয়ালার আর্তনাদ: মুখে ভাষা নেই করোনারোধে আগের তুলনায় মানুষ বেশি ধর্মমুখী হচ্ছে মসজিদ খুলে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘আলেমদের’ ধন্যবাদ জানানোর হিড়িক তিতাস নদী কচুরিপানায় ভরপুর: ভোগান্তিতে কৃষক ও এলাকাবাসী

পেশা বদল করছেন সাংবাদিকগণ

জেসমিন নাহার তিথি

“গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না বা করছে না। পুরো গণমাধ্যমই এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে এই সমস্যা আরো বাড়বে বলেই মনে হয়।”

একটা সময় তরুণ-তরুণীদের স্বপ্নের পেশা ছিল সাংবাদিকতা। সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকেই তারা বেছে নিতেন। এখন বোধহয় সময় এসেছে, কথাটি বদলানোর। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনার হার বেড়েছে। কিন্তু পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতায় আসার হার বাড়েনি।

আবার যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। আর যারা আছেন, তাদের কেউ কেউ ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন। সুযোগ পেলেই অন্য কোনও চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মেধাবী সাংবাদিকরা, যাদের রিপোর্ট আলোচনায় ছিল, যারা নজরকাড়া প্রতিবেদন করেছিলেন, তেমন কেউ যখন সাংবাদিকতা ছেড়ে দেন, তখন বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে।

“যারা এখনো এ পেশায় আছেন, তারাই বা কেন হতাশ, অনুশোচনায় ভুগছেন? আমরা বলে থাকি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের পেশা ছেড়ে দেওয়ার এই প্রবণতা এটাই ইঙ্গিত বহন করে যে, দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে।”

গেলো ১৪ জুলাই পেশা ছেড়ে দেওয়ার কারণে ১১০ দশ জনের সদস্যপদ স্থগিত করেছে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি। এরমধ্যে প্রবাসে চলে গিয়েছেন ৬০ জন। আর ৫০ জন পেশা বদল করেছেন। ডিআরইউ সদস্য নন, এমন সাংবাদিকরাও পেশা ছেড়েছেন। বিশেষ করে গেলো এক মাসে পাঁচজন সাংবাদিক তাদের পেশা বদল করে কেউ কর্পোরেট কোম্পানিতে, কেউবা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন। এ পেশার জন্য এটি মেধার একটি বড় অপচয়! অথচ বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কখনো বসেছে বা ভেবেছে বলে মনে হয় না। কেন একজন মেধাবী সাংবাদিক তার পেশা বদল করছেন, কেন তরুণরা এই পেশায় আর আসতে চাইছেন না?

যারা এখনো এ পেশায় আছেন, তারাই বা কেন হতাশ, অনুশোচনায় ভুগছেন? আমরা বলে থাকি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের পেশা ছেড়ে দেওয়ার এই প্রবণতা এটাই ইঙ্গিত বহন করে যে, দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না বা করছে না। পুরো গণমাধ্যমই এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে এই সমস্যা আরো বাড়বে বলেই মনে হয়।

জেসমিন নাহার তিথি : সংবাদকর্মী

মিনি কলাম

  • 227
    Shares

Leave a Reply