সোমবার সন্ধ্যা ৬:৩৫, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধেক অপারেশন করে প্রসূতিকে ফেলে চলে গেলেন চিকিৎসক

আদিত্ব্য কামাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অর্ধেক অস্ত্রোপচার করে ফেলে চলে গেলেন চিকিৎসক। বুধবার সন্ধ্যায় ঐ প্রসূতিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে ঢাকায় পাঠানো হয়। এর আগে দুপুরে পৌর এলাকার জেল রোডে আল খলিল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা রিক্তা আক্তার জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের শাকিল মিয়ার স্ত্রী।

 

স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, রিক্তাকে বুধবার অস্ত্রোপচারের জন্য জেলা শহরের জেল রোডের আল খলিল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আনা হয়। এ সময় গাইনি চিকিৎসক সায়মা রহমান ইমা ঐ প্রসূতিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে বলেন। পরে তাকে দুপুরে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার শুরু করেন চিকিৎসক। এ সময় চিকিৎসক দেখেন আল্ট্রাসনোগ্রাফির সঙ্গে রোগীর গর্ভের অবস্থার কোনো মিল নেই। তাই রোগীকে অর্ধেক অপারেশন করে থিয়েটারে ফেলে চলে যান চিকিৎসক।

অর্ধেক অস্ত্রোপচার করার কারণে রক্তক্ষরণের ফলে প্রসূতি রিক্তার অবস্থা অবনতির দিকে যায়। এই অবস্থায় প্রসূতির স্বজনরা জানতে পেরে হাসপাতালে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে চলে হুলুস্থুল। এরই মধ্যে ঘটনাটি জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়লে সদর মডেল থানাপুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অর্ধেক অপারেশন করা প্রসূতিকে ব্যান্ডেজ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠায়।

অভিযুক্ত হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিল বশির মানিক জানান, রিক্তাকে সকালে শহরের অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে রিপোর্ট ভালো আসে এবং সেই রিপোর্ট নিয়ে আল খলিল হাসপাতালে চলে আসে অস্ত্রোপচারের জন্য। কিন্তু যখন চিকিৎসক সায়মা রহমান ইমা অস্ত্রোপচার করা শুরু করেন তখন দেখেন যে রিপোর্টের সঙ্গে বাচ্চার অবস্থান ঠিক নেই। রোগীর পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা হাসপাতালে ঝামেলা করে। পরে আমরা নিজ দায়িত্বে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই। চিকিৎসক সায়মা রহমান ইমার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে গর্ভবতী নারীকে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ভুল চিকিৎসার বিষয়ে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদিত্ব্য কামাল: নিজস্ব প্রতিবেদক 

ক্যাটাগরি: অপরাধ-দুর্নীতি,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ:

Leave a Reply