বুধবার রাত ২:৩৩, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ. ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং
প্রতিবেদন
কাজীপাড়া মৌলভীহাটি মসজিদের পুকুর এখন কচুক্ষেত হিন্দু থে‌কে মুসলিম, ফের হিন্দু হয়ে ‘বিবা‌হিত’ সাধু! ভাষাসৈনিক মুহম্মদ মুসার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী: তার একটি ভিডিও বক্তব্য ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিডে আগুন: বিভাগজুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি: ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মৃত ২০, আশঙ্কাজনক আরো ১৯ করোনায় মারা গেলেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি প্রখ্যাত সাংবাদিক রাহাত খান আর নেই ইউ‌নিয়ন প‌রিষ‌দে মারামা‌রি: প্রশ্ন‌বিদ্ধ চেয়ারম‌্যান প্রশ্নবিদ্ধ প্রথম আলো: মাস্ক ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো জরিপ বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে মানুষ নেত্র‌কোনা হাও‌রে ভ্রম‌ণে এসে ১৭ হা‌ফেজ-আ‌লে‌মের মৃত্যু গরুর চামড়ার গোশত অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর

আমাদের মেধাহীন সংসদ এবং পর্নো, কর্পোরেট ও পোল্ট্রি প্রজন্ম

রাজনৈতিক প্রতিবেদক

সমস্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের একশ্রেণির পোল্ট্রি প্রজন্ম নিয়ে। তারা চিন্তা-চেতনাগত দিক থেকে বলতে গেলে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী। তারা না আওয়ামী লীগকে সঠিকভাবে ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারছে, আর না নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারছে। তারা তাদের ‘বড় ভাই’ বা ধর্মীয়/রাজনৈতিক গুরুদের কাছ থেকে যা শেখে ও যা শোনে, এর বাইরে স্বাধীনভাবে কোনো চিন্তাভাবনা ও বিচার-বিবেচনা করতে পারে না। এমনকি ভালো-মন্দও যাচাই করতে পারে না। যদিও মুখে মুখে তর্কে-বিতর্কে তারা ফার্স্ট ক্লাস। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লব ‘ঘটিয়েই’ ফেলে!

মন্তব্য প্রতিবেদন : লাগাতার দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ও থাকার ইতিহাসই বাংলাদেশে ছিল না। অথচ আওয়ামী লীগ ২০১৯ সালে লাগাতার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে এবং ধুমধারাক্কা দেশ শাসন করছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কের কথা বাদ দিলেও রূপপুরের বালিশ কাহিনি, পদ্মাসেতুর দীর্ঘসূত্রিতা, পানি-গ্যাস কেলেঙ্কারীসহ বহু বড় বড় দুর্নীতি এবং অসংখ্য ধর্ষণ, আত্মহত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর কথা মিডিয়ায় চাউর হয়েছে। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই দেশে বিদেশে সমালোচনা ও বিতর্কের শেষ নেই। এদিকে সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খোলাখুলি একদলীয় এবং স্বেচ্ছাচারী। তাই এক হিসেবে এ নির্বাচন নিয়ে তেমন প্রশ্ন আছেও বলা যায় না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে অনুল্লেখযোগ্য ও একান্ত দুর্বল জাতীয় পার্টিকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ করা হয়েছিল বলে তখনই অনেকেই অভিযোগ করেছে।

তাহলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনটিকে কী বলা যায়? তবে আরেকটি সত্য বিষয় হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মতো কোনো শক্ত আদর্শিক দল বাংলাদেশে এখন আর অবশিষ্ট নেই। আগে শক্ত চিন্তা-আদর্শ ছাড়াই যে মোকাবেলাটা করা গিয়েছে, সেসব এখন অচল।  ফলে সংসদে এমন এমন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যাদের ন্যূনতম মানবতাবোধ, গণসম্পৃক্ততা ও শিক্ষা-সংস্কৃতির বালাই নেই। রাজনীতির কোনো অভিজ্ঞতা নেই।  এমনকি জনগণের প্রতিও কোনোরকম দায়বদ্ধতা নেই। যাকে বলে ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, আওয়ামী লীগের কট্টর আচরণ ও একপাক্ষিক নির্বাচনের জন্য দায়ি মূলত এর পূর্বের ক্ষমতাসীন দল। তারা অবাধে লুটপাট ও ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছিল বলেই আওয়ামী লীগের সামনে এর কোনো বিকল্প ছিল না। সর্বশেষ নির্বাচনটিকে যদিও একপাক্ষিক বলা যায় না, তবে সরকার কখন কোথায় কীভাবে কী খেলেছে তা বিএনপি-জামায়াত বা কিছু কথিত ইসলামি ও বাম দল-গোষ্ঠী কিছুই বুঝতে পারেনি।

সারাদেশের তিনশত আসনের মধ্যে কোনো দল দেড়শত আসন নিশ্চিত করতে পারলে তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করছে- এতে আর কোনো সন্দেহ থাকে না। এদিকে দশম নির্বাচন একপাক্ষিক হওয়ায় বিনাভোটে বা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই দেড়শোর উপরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যান। ফলে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটাভুটির নির্বাচনে জনগণের প্রতি প্রার্থীর যে দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তার কোনো সুযোগ ছিল না বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যের। এমতাবস্থায় আপাত-সাংবাধিানিক সংকট সৃষ্টি না হলেও সংসদে মেধা-সংকট এবং জাতিগত দীর্ঘমেয়াদি বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট দেখা দিয়েছিল। যা বর্তমান প্রজন্ম খুব শীঘ্রই পুষিয়ে নিতে পারবে বলে অনেকের কাছেই মনে হয়নি। আর সে ধারণাই একাদশ নির্বাচনে ‘ফুলে-ফলে সুশোভিত’ হয়েছে।

আরো পড়ুন >> গত দশ বছরে বাংলাদেশ পিছিয়েছে একশো বছর

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, আওয়ামী লীগের কট্টর আচরণ ও একপাক্ষিক নির্বাচনের জন্য দায়ি মূলত এর পূর্বের ক্ষমতাসীন দল। তারা অবাধে লুটপাট ও ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছিল বলেই আওয়ামী লীগের সামনে এর কোনো বিকল্প ছিল না। সর্বশেষ নির্বাচনটিকে যদিও একপাক্ষিক বলা যায় না, তবে সরকার কখন কোথায় কীভাবে কী খেলেছে তা বিএনপি-জামায়াত বা কিছু কথিত ইসলামি ও বাম দল-গোষ্ঠী কিছুই বুঝতে পারেনি। নির্বাচনের দিন হঠাৎ বেসরকারি সব ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। সরকারি নেটেও গতি কম। আর বহু কেন্দ্রে ফজরের আগেই ভোট শেষ বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের একশ্রেণির পর্নো প্রজন্ম, কর্পোরেট প্রজন্ম ও পোল্ট্রি প্রজন্ম নিয়ে। তারা চিন্তা-চেতনাগত দিক থেকে বলতে গেলে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী। তারা না আওয়ামী লীগকে সঠিকভাবে ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে পারছে, আর না নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারছে। তারা তাদের ‘বড় ভাই’ বা ধর্মীয়/রাজনৈতিক গুরুদের কাছ থেকে যা শেখে ও যা শোনে, এর বাইরে স্বাধীনভাবে কোনো চিন্তাভাবনা ও বিচার-বিবেচনা করতে পারে না। এমনকি ভালো-মন্দও যাচাই করতে পারে না। যদিও মুখে মুখে তর্কে-বিতর্কে তারা ফার্স্ট ক্লাস। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপ্লব ‘ঘটিয়েই’ ফেলে!

ক্যাটাগরি: অপরাধ-দুর্নীতি,  প্রধান খবর,  মন্তব্যেদন,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ:

  • 168
    Shares

Leave a Reply