রবিবার দুপুর ২:৫০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রীর সন্তান কোলে শিক্ষকের পাঠদান

0 বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রীর শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে শ্রেনীকক্ষে পাঠদান করেছেন পঙ্কজ মধু-(৪৫) নামের একজন শিক্ষক। রোববার (৩ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার চিনাইর আঞ্জুমানআরা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পঙ্কজ মধু তার ছাত্রীর কন্যা শিশুকে কোলে নিয়ে ক্লাশ করান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

জানা যায়, শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে তার মা শ্রেনীকক্ষে পাঠে মনযোগ দিতে না পারায় শিক্ষক পঙ্কজ মধু শিক্ষার্থীর সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাশ করান।

শিক্ষক পঙ্কজ মধু গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার বিটকাটিয়া গ্রামের লিও মধুর ছেলে। তিনি গত ১১ বছর ধরে সদর উপজেলার চিনাইর আঞ্জুমানআরা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করে আসছেন। বর্তমানে বসবাস করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাতিয়ারা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীর বিয়ে হয়। এক বছর পর ওই শিক্ষার্থীর একটি কন্যা শিশু জন্ম হয়। সম্প্রতি বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষক পঙ্কজ মধু জানতে পারেন দশম শ্রেনীর ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। পরে তিনি তাকে খবর দেন বিদ্যালয়ে আসার জন্য।

রোববার সকালে ওই শিক্ষার্থী তার তিন মাস বয়সী কন্যাকে কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু কোলে সন্তান থাকায় ক্লাশের পাঠে মনোযোগ দিতে পারছিলো না। এ সময় শিক্ষক পঙ্কজ মধু শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে পাঠদান করান। তখন কেউ একজন ছবিটি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দেয়। সাথে সাথে ছবিটি ভাইরাল হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক পঙ্কজ মধু জানান, ছবিটি যে ফেসবুকে ছড়িয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। আর ভাইরাল হওয়ার জন্যও আমি এই কাজটা করি নি। তিনি জানান, ২১ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমি একজন শিক্ষক হিসেবেই বাঁচতে চাই। শিক্ষার্থীর সুবিধার কথা চিন্তা করে আমি তার সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাশ করাই।

তিনি জানান, সম্প্রতি স্কুল খোলার পর আমি যখন জানতে পারি করোনাকালীন সময়ে দশম শ্রেনীর ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। তখন আমার খুব খারাপ লাগছিলো।

পরে আমি তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে বিদ্যালয়ে আসতে বললে রোববার সে তার বরকে সাথে নিয়ে শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে স্কুলে আসে। তখন আমি শিক্ষার্থী ও তার স্বামীকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য বুঝাই। তখন শিক্ষার্থী তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাশে যায়। কিন্তু শিশুটির জন্য সে ক্লাশে মনযোগ দিতে পারছিলো না। তাই আমি তার শিশুটিকে কোলে নিয়ে ক্লাশ করাই।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, পঙ্কজ মধু একজন ভালো শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সে খুব আন্তরিক। শ্রেনীকক্ষে সে সব সময় শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। শিক্ষক পঙ্কজ মধু ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে ইংরেজী বিষয়ে পাঠদান করেন।

Some text

ক্যাটাগরি: নাগরিক সাংবাদিকতা

Leave a Reply

লঞ্চে যৌন হয়রানি