মঙ্গলবার বিকাল ৩:১৫, ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ. ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে জাতীয় গণজোটের বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’ ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বোর্ড নির্বাচন অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পোস্টারে লেমিনেশন ও পলিথিন ব্যবহাররোধে স্মারকলিপি ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর জাতীয় পার্টি: চুন্নু মাতৃভাষা একাডেমিতে কবিতা আড্ডা অনুষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক হেলথ এন্ড মেডিকেল সোসাইটি ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়া সম্মেলন অনু‌ষ্ঠিত ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার বিখ্যাত বাইশমৌজা বাজার ও গরুর হাট

ইসলামের দৃষ্টিতে কদমবুচি করা কি জায়েয?

১০৭ বার পড়া হয়েছে
মন্তব্য ০ টি

অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিয়ে, বিদায় বা মিলনের সময় গুরুজন এবং মুরুব্বীদের পা ছুঁয়ে সালাম করে। ছোট বেলায় আমি নিজেও অজ্ঞতার কারণে এ কাজটা করেছি। ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট বিশেষ করে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশেই মূলত: কদমবুচি করার একটা সংস্কৃতি বা রেওয়াজ চালু রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবশ্য মেয়েরাই কদমবুচি করে। ধর্মীয় বিষয়ে কিছুটা লেখাপড়া করার পর জানতে পারি যে, কমদবুচি কোনো ধর্মীয় রেওয়াজ বা রীতি নয়। অনেক সুফিবাদী পীর বুজুর্গ কদমবুচিকে জায়েয বললেও মূলত এর স্বপক্ষে কুরআন-হাদীসে সহিহ কোনো দলিল নেই।

হিন্দু সমাজে বেদের শিক্ষক তথা পুরোহিত থেকে শুরু করে গুরুজনেরা মূলত: ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়। হিন্দু সনাতন ধর্ম মতে ব্রাহ্মণরা বিশেষ করে ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতিনিধি। ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে তারা সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে পূজনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

মনুসংহিতাতে বেদের ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, বেদ শিক্ষার প্রতিটি পাঠের শুরুতে ও শেষে একজন ছাত্র অবশ্যই তার গুরুর দুই পা ছুঁয়ে আলিঙ্গন করবে। এ পা ছুঁয়ে আলিঙ্গন করাকে ব্রহ্মঞ্জলী বলা হয়।

ইসলাম ধর্ম কি বলে?
ইসলাম ধর্মে কমদবুচি করা নিষেধ। কেননা কদমবুচি করতে গেলে আরেকজনের সামনে মাথা নত করতে হয়। ইসলাম ধর্মে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সামনে মাথা নত করা হারাম বা নিষেধ। তাই যে কাউকে কদমবুচি করা ইসলামে নিষিদ্ধ।ইসলামে একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে দেখলে সালাম দেবে। একে অন্যের সাথে হাত মিলাবে এতটুকুই যথেষ্ট।

আরব দেশগুলোতে কপালে চুম্বনের একটি রীতি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল করার পর আবুবকর (রা.) তার কপালে চুম্বন করেছিলেন। সে হিসেবে এটি সাহাবীদের একটি সূন্নত। যা পালন করা যায়। মানুষ মানুষের প্রতি ভালবাসা দেখাতে গিয়ে অতিরঞ্জিত করে ফেলে। প্রতিটি ইবাদত হতে হবে আল্লাহর নির্দেশিত ও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অনুসরণে। রাসূলুল্লাহ (সা.) যা করেছেন ও করতে বলেছেন সেভাবেই হবে উম্মতের ইবাদত।

হাদীসে এসেছে যে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ الرَّجُلُ مِنَّا يَلْقَى أَخَاهُ أَوْ صَدِيقَهُ أَيَنْحَنِي لَهُ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: أَفَيَلْتَزِمُهُ وَيُقَبِّلُهُ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: أَفَيَأْخُذُ بِيَدِهِ وَيُصَافِحُهُ؟ قَالَ: نَعَمْ.

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো যদি তার ভাই বা তার বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ হয়, তবে কি সে তার অভিবাদন এর জন্য মাথা ঝুঁকাবে? তিনি বললেন, না। লোকটি বলল, তাহলে কি তাকে লেপ্টে ধরবে এবং চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। তাহলে কি তার হাত ধরবে এবং তার সাথে মুসাফাহা করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইমাম তিরমিজী রহঃ বলেন, হাদীসটি হাসান। (সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭২৮, বাংলা ২৭২৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩০৪৪) এ হাদীসে রাসূল সাঃ মাথা নুয়াতে এবং চুমু খাওয়াতে নিষেধ করেছেন।

পা ছুঁয়ে সালামের নামে কদমবুসি করা বা পায়ে চুমু খাওয়া, পদধূলি নেওয়া–এগুলো হচ্ছে মুশরিক জাতির অনুকরণে নিকৃষ্ট বিদআ’ত। মূলত কবর মাজার পূজারী ও ভন্ড পীর পূজারীরা মুসলমানদের মাঝে এ কুপ্রথা প্রবেশ করিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, এ বেদাতীরা কবর মাজার ও তাদের পীর বুজুর্গদেরকে সেজদাহ পর্যন্ত করে (নাউযুবিল্লাহ)। সুতরাং পা ছুঁয়ে সালামের নামে কমদবুচি করা এদের কাছে কোন ব্যপারই না। আফসোস! আজ পর্যন্ত কোনো হিন্দু বা কাফেরকে মুসলমানদের কোনো কিছু অনুকরণ ও অনুসরণ করতে দেখা যায় না। মুসলমান জাতি কেন হিন্দুয়ানি কালচার ফলো করার জন্য এতো দিওয়ানা হবে?

কদমবুচি করতে গেলে মানুষের সামনে মাথা ঝুঁকানো হয়, যা স্পষ্ট শিরক। মুসলমানদের মাথা শুধুমাত্র এক আল্লাহর সামনেই নত হয়–নামাযের রুকু ও সিজদাতে, অন্য কারো জন্য নয়। দেখা-সাক্ষাৎ এবং বড়দের সম্মান করার সুন্নতি পদ্ধতি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত।

তাই উক্ত পদ্ধতি রেখে কোনো বিধর্মীর পদ্ধতি অবলম্বন করা জায়েজ নয়। কারো সাথে দেখা হলে সালাম দেয়া। দীর্ঘদিন পর কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে দেখা হলে সালাম দেয়ার পর মুসাফাহা করা বা এবং সর্বোচ্চ কোলাকুলি করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কদমবুচি করা প্রমাণিত নয়। বরং এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের রুসুম। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কদমবুচি করার দ্বারা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে দুটি খারাবী লাযেম হয়। যথা-
১-গায়রুল্লাহের সামনে মাথাকে অবনত করা হয়। যা হারাম।
২-বিধর্মী তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের রুসুম পালন করা হয়। বিধর্মীদের আদর্শ অনুসরণ হারাম।

عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا دَخَلْتُمْ بَيْتًا فَسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهِ، وَإِذَا خَرَجْتُمْ فَأَوْدِعُوا أَهْلَهُ السَّلَامَ»

হযরত কাতাদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কেউ ঘরে প্রবেশ করে সে যেন উক্ত গৃহবাসীকে সালাম দেয়। গৃহ হতে বের হওয়ার সময় গৃহবাসীকে সালাম দিয়ে বিদায় গ্রহণ করবে। (জামে মামার বিন রাশেদ, হাদীস নং-১৯৪৫০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৪৫৯, শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাবী, হাদীস নং-৩৩২৮)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ يَكُونُ بَرَكَةً

عَلَيْكَ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِكَ.

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ আমাদের লক্ষ্য করে বললেন, হে বৎস! তুমি গৃহে পরিবার-পরিজনের কাছে প্রবেশ কালে সকলকে সালাম করবে। এতে তোমার এবং তোমার গৃহের সকলের জন্য কল্যাণ হবে। (সুনানে তিরমিজী, [বাশশার], হাদীস নং-২৬৯৮, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৫৯৯১)

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا، لاَ تَشَبَّهُوا بِاليَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى، فَإِنَّ تَسْلِيمَ اليَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ، وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ.

হযরত আমর বিন শুয়াইব তার পিতার সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছাড়া অন্য কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য রেখে চলে, সে আমাদের দলের নয়। তোমরা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করো না। ইহুদীরা সালাম করে আঙ্গুলির ইশারা দ্বারা আর খৃষ্টানরা সালাম করে হাতের তালুর ইশারা দ্বারা। (সুনানে তিরমিজী, [বাশশার], হাদীস নং-২৬৯৫, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮৫২০, সুনানে কুবরা লিননাসায়ী, হাদীস নং-১০১০০, শরহুস সুন্নাহ, হাদীস নং-৩৩০৮, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৭৩৮০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৫০৩, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-১১৯১)

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ يَلْتَقِيَانِ، فَيُصَافِحَانِ إِلا غُفِرَ لَهُمَا قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقَا»

হযরত বারা বিন আযেব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন দু’জন মুসলিমের মাঝে পরস্পর সাক্ষাৎ হয় তারপর তারা পরস্পর মুসাফাহা করে তাহলে তারা পরস্পর থেকে পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাবী, হাদীস নং-৩৩২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৫৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৭০৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫২১২, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭২৭)

عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَدِمَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ الْمَدِينَةَ , وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِي , فَأَتَاهُ , فَقَرَعَ الْبَابَ , فَقَامَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُرْيَانًا , وَاللهِ مَا رَأَيْتُهُ عُرْيَانًا قَبْلَهُ ,فَاعْتَنَقَهُ وَقَبَّلَهُ “

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত জায়েদ বিন হারেসা (রা.) মদীনায় এলেন। তখন রাসূল সাঃ আমার গৃহে ছিলেন। হযরত জায়েদ এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দরজায় কড়া নাড়লেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন খালি গায়েই বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহর কসম আমি এর আগে কখনো খালি গায়েই কে খালি গায়ে দেখিনি। তারপর তিনি তার সাথে মুআনাকা করলেন এবং তাকে চুমু খেলেন। (তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৬৯০৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৩২, শরহুস সুন্নাহ, হাদীস নং-৩৩২৭)

وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ [٤١:٣٧]

তার নিদর্শন সমূহের মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; আল্লাহকে সেজদা কর, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সাথে শুধুমাত্র তারই এবাদত কর। (সূরা হা-মীম সাজদা-৩৭)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ»

হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৩১, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৯৬৬, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস নং-৩৯০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৮৬২, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৮৩২৭, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৩০১৬)

একদল বলেছেন সম্মানার্থে পদচুম্বন করা জায়েজ আছে। তারা সাথে সাথে এ শর্তারোপ করেছেন যে, যেন চুমু খেতে গিয়ে রুকুর সূরত বা সেজদার সূরত না হয়ে যায়। যদি রুকু বা সেজদার সূরত হয়ে যায়, তাহলে তা জায়েজ হবে না। (আল-মুজতাবা-৪/২০৫, আলমুহীতুল বুরহানী-৮/১১৮, ফাতাওয়া আলমগীরী-৫/৩৬৯)

আরেক দল ফক্বীহ ও মুহাক্কিকীনদের মতে তা জায়েজ নয়। কারণ বর্তমান প্রচলিত কদমবুচিতে রুকুর হালাত এবং সেজদার হালাত হওয়া স্পষ্ট। সে সাথে এটি বিধর্মীদের প্রতীক। তাই তা হারাম।

দ্বিতীয় মতটিই শক্তিশালি। কারণ কদমবুচি করা এ উপমহাদেশে মৌলিক ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের রুসুম। কদমবুচি করতে গিয়ে রুকু বা সেজদার হালাত তৈরী হয়েই যায়। যারা কদমবুচিকে জায়েজ বলেছেন তাদের মতেও রুকু সেজদার হালাত হয়ে গেলে কদমবুচি করা জায়েজ নয়।

উপরোক্ত কারণে আমরা বর্তমান প্রচলিত কদমবুচিকে দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে নাজায়েজ বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ সুবহানা ওয়া তা’আলা আমাদের এ অজ্ঞতার হাত থেকে হেফাজত করুক। আমিন

লেখক: গল্পকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

E-mail: s.iquram03@gmail.com

তথ্যসূত্র:

১. ই-হাদীস

২. ই-কুরআন

Some text

ক্যাটাগরি: Uncategorized

Leave a Reply

ইরানের স্বৈরশাসক রেজা শাহ ও…

ইসলামের দৃষ্টিতে কদমবুচি করা কি…

প্রশ্নের মুখে নিউজ মিডিয়া ও…