আবহমান গ্রাম বাংলা হলো চিরন্তন বাংলার রূপ, যা যুগ যুগ ধরে অপরিবর্তিত ও সুন্দর। এই গ্রাম বাংলা সবুজ মাঠ, নদী, মেঠোপথ আর সহজ-সরল মানুষের জীবন নিয়ে গড়া। এখানে প্রকৃতির রূপ বদলায় ঋতুতে আর মানুষের মনে থাকে শান্তি ও আপন ভাব। তেমনি আবহমান বাংলার বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের একটি নির্জন, শান্ত ও কোলাহমুক্ত গ্রাম “রাজাপুর”।
এটি বর্তমানে ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার অন্তর্গত। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি ধরনের “ছোট ফেনী নদী” নামে একটি নদী। এটি ফেনী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে “ডাকাতিয়া” নদীতে পতিত হয়েছে। নদীর দুপাশের প্রাকৃতিক শোভা এ গ্রামকে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে। ফেনী শহর থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই এই গ্রামে আসা যায়।

এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেন। প্রধান ফসল হলো ধান। পাশাপাশি অনেকে মাছ ধরেন, গবাদিপশু পালন করেন এবং ব্যবসা করেন। এখানকার মানুষ একে অপরের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসেন। এই গ্রামের মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ক খুবই মধুর ও আন্তরিক।
গ্রামটি ছবির মতোই সুন্দর। নারিকেল-সুপারি ও নানাজাতের গাছপালায় সুসজ্জিত রাজাপুর গ্রাম। ঝোপঝাড়-লতাপাতায় নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সবার মন কেড়ে নেয়। পাখপাখালির কলকূজনে সব সময়ই মুখর থাকে গ্রামখানি। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, সোনালী ফসল, পুকুরঘাট, দিঘী-ডোবা, ছায়াঘেরা বাড়ি–কি এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সঞ্চয়!

এই গ্রামের প্রকৃতি মায়ায় জড়ানো। রাজাপুরের মানুষ সহজ-সরল ও অতিথিপরায়ন। ছোটফেনী নদীর সৌন্দর্য এ গ্রামকে করেছে অন্যসব গ্রাম থেকে আলাদা। রাজাপুর গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। গ্রামের সবাই একে অপরকে ভালোবাসে ও সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, চলিত ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট আমার ছেলের বাসায় বেড়ানোর জন্য কবি জসিম উদ্দিনের নিমন্ত্রণ কবিতার মতো ‘ছায়াঢাকা কুকিলডাকা গ্রাম’ এই রাজাপুর জনপদে গিয়েছিলাম। আমার ছেলে সেখানে পেশাগত কারণে অবস্থান করছে। আমি ২/৩ দিন সেখানে অবস্থান করেছিলাম। প্রতিদিন আমি এই পাড়াগাঁয়ের প্রতিটি এলাকাসহ আশপাশ এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেছি ও মুগ্ধ হয়েছি। মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বেঁচে থাকলে এবং সময়-সুযোগ পেলে এই গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আবার আসবো।
খায়রুল আকরাম খান
ব্যুরো চীফ : deshdorshon.com
Some text
ক্যাটাগরি: Uncategorized
