রবিবার দুপুর ২:২৪, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং

আমাদের বিবেক ও চিন্তা কি স্বাধীন!

Unification Church এর সাবেক সদস্য ও কাউন্সিলর এবং Freedom of Mind Centre এর পরিচালক স্টিভেল আলান হাসান ‘বিবেক নিয়ন্ত্রণের’ চারটি কৌশলের উপর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: আচরণ, তথ্য, চিন্তা ও আবেগ। আমরা যে মুভি, নাটক ও সিরিয়াল দেখি, এগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই তারা আমাদের চিন্তা ও আবেগকে রিশেপ (Reshape) করে ফেলে।

খবরের কাগজ, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্যের প্রবাহ ঘটিয়ে পাঠককে কনফিউজড করা তাদের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা। কিছুদিন আগেও দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ থেকে খবর প্রচার করে পরের দিন আমাকে বিব্রত হতে হয়েছিল। কারণ একই পত্রিকা রাতারাতি ডিগবাজি মেরেছিল। আমরা যা চিন্তা করি তার প্যাটার্ন অদৃশ্য শক্তিমানরাই গড়ে দেয়। কারণ চিন্তা করার যে উপকরণ দরকার সেই উপকরণগুলো তাদের দেয়া।

প্রথিতযশা ইংরেজি সাহিত্যিক জর্জ ওরওয়েল বলেন, “আমাদেরকে কেবল বাকস্বাধীনতার জন্যেই নয়, চিন্তা করার স্বাধীনতার জন্যেও লড়তে হয়।” চিন্তা মানব সভ্যতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। চিন্তার উৎকর্ষ ও বিকাশ একমাত্র স্বাধীন চিন্তা করার মাধ্যমেই সম্ভব। কি অদ্ভুত! আমাদের এই চিন্তা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে। যে জাতির আচরণ অন্যের দ্বারা প্রশিক্ষিত, তথ্য গুগল মামা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, চিন্তা ও আবেগ নাটক, সিনেমা থেকে ধার করা, সেই জাতির বিবেক কি স্বাধীন?

আরো পড়ুন> আত্মকেন্দ্রিকতা ভোগবাদে বিশ্বাসী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানীর পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে জরিপে প্রকাশ পায় ৬২% সোভিয়েত ইউনিয়ন, ২৫% যুক্তরাজ্য, বাদবাকি আমেরিকাসহ অন্যান্য রাষ্ট্র। কিন্তু ২০০৪ সালের জরিপে ওঠে আসে ভিন্ন চরিত্র। সেখানে বলা হয়, ৬৫% আমেরিকা এবং ১০% সোভিয়েত ইউনিয়ন…। এই জরিপই প্রমাণ করে মানুষের চিন্তা ও বিবেক কতটা স্বাধীন! এ রকম ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। তবে তাদের দেওয়া ‘সচেতনতার’ সংজ্ঞায় নয়।

তাদের দেয়া সচেতন ব্যক্তি ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের হতে আগ্রহী নন। কারণ তারা অতি মাত্রায় Narcissist. আবার রাষ্ট্রও আমাদের সচেতন করতে উৎসাহবোধ করে না। কারণ এতে তাদের গোমড় ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে ব্যাপক অনুসন্ধান, গভীর পড়াশুনা, বিশ্লেষণী চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

প্রয়োজন আলোচনা-পর্যালোচনা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম। বিষয়টি শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। তারপরও কিছু মানুষকে সভ্যতা ও মনুষ্যত্বের প্রয়োজনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি যে উপাদানগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের আবেগ ও চিন্তাকে প্রভাবিত করে, সেগুলোও বর্জন করতে হবে। যেমন নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল, গান ইত্যাদি।

মনির আবু মাহাথির: শিক্ষক, কলামিস্ট

ক্যাটাগরি: মিনি কলাম

ট্যাগ:

Leave a Reply