বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:১৮, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ. ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ খবর:
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’ বন্যার্তদের জন্য জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আলোচনাসভা ও দোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়কর আইনজীবী সমিতির অভিষেক ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠিত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা একাডেমিতে ‘মাতৃভাষা উৎসব’ ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বোর্ড নির্বাচন অনুষ্ঠিত

দান বনাম জবরদস্তি: চাঁদার রকমফের!

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ইন্ডিয়া থেকে পাকিস্তানের প্রাপ্য পাওনা অর্থ ছাড় করতে দেরি হওয়ায় নবগঠিত পাকিস্তান সরকার গভীর অর্থসঙ্কটে পড়ে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার মতো টাকাও তখন কোষাগারে ছিল না।

এমন জরুরি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পাকিস্তানের অর্থ বিভাগ স্যার আদমজী দাউদের সাহায্য কামনা করে। ১৯৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাকে একটি জরুরি বার্তা (SOS) পাঠান।

জিন্নাহ’র আহবানে সাড়া দিয়ে স্যার আদমজী দাউদ করাচি ছুটে যান। নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পদ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিনিময়ে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক প্রদান করেন। যা পাকিস্তানকে চরম অর্থ সঙ্কটের হাত থেকে রক্ষা করে। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাকালীন রাজধানী ছিল করাচি।

তিনি কেবল এ অর্থ সাহায্যই করেননি বরং জিন্নাহর পরামর্শে পাকিস্তানে ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক বর্তমানে যা MCB Bank ব্যাংক।  যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার্থে অরিয়েন্ট এয়ারওয়েজ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পিআইএ-এর পূর্ব নাম) প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

উল্লেখ্য যে, ব্ল্যাঙ্ক চেক দেয়ার এ কৃতিত্ব নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে হাবিব পরিবারের মোহাম্মদ আলী হাবিব-এর নামও আলোচিত হয়। তিনি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ৮০ মিলিয়ন রুপির একটি চেক দিয়েছিলেন বলে অনেক ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেন। তবে পাকিস্তানের জন্মলগ্নে আদমজী দাউদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ব্ল্যাঙ্ক চেক প্রদানের ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে ইসমাইলিয়া ও মেমন মুসলিমরা ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশ অগ্রসর ছিল। এ সম্প্রদায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর তারা নতুন দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। তারা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে নয়-সমাজকল্যাণ মূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজধানী ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা, পদ্মা, যমুনা ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ স্যার আদমজী দাউদের অবদান।

ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে ইসমাইলিয়া ও মেমন মুসলিমরা ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশ অগ্রসর ছিল। এ সম্প্রদায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা  মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর তারা নতুন দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। তারা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যে নয়-সমাজকল্যাণ মূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজধানী ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা, পদ্মা, যমুনা ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ স্যার আদমজী দাউদের অবদান।

ইসমাইলিয়া মুসলিম নিয়ে সামান্য আলোচনা করলাম। বাঙ্গালী মুসলিম শিল্পপতিদের নিয়েও একটু আলোচনা করতে হয়। ৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ ধনী এবং শিল্পপতি হয়েছে। তাদের মধ্যে কল্যাণ মূলক তৎপরতা খুব একটা দেখা যায় না।

অথচ এরা মুখে কতো আদর্শ ও চেতনার কথা বলে। বাস্তবে ঠনঠন! নিজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় এরা নানা অপকর্ম, সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি, গরীব মানুষের জায়গা-জমি দখলের পাশাপাশি পেশাদার খুনী দিয়ে মানুষ খুন করায়। স্যার আদমজী দাউদ পাকিস্তানের স্বার্থে নিজের সব সম্পদ উজাড় করে দিয়েছিলেন। বাঙ্গালী শিল্পপতিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেশকে দেউলিয়া করে ফেলে। এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদ ৯টি ব্যাংকের কোষাগার শূণ্য করে ফেলেছিল। এ হলো ইসমাইলিয়া ও মেমন মুসলিম শিল্পপতি এবং বাঙ্গালী মুসলিম শিল্পপতিদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য।

২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির খুন হয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, স্বার্থগত বিষয়ে মতবিরোধ হওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ছেলেরা হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলমসহ তার দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান এবং সাদাত সোবহানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। হত্যাকান্ড ধামাচাপা দিতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলমসহ তার দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান এবং সাদাত সোবহানের বিরুদ্ধে মামলা করে।

মামলা ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক আবুল কাসেম রমনা থানায় এ মামলা করে। এ মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়। আসামীদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যান্য আসামীরা ছিলেন চারদলীয় জোট সরকরের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আবু সুফিয়ান ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল।

১/১১ সরকারের আমলে ২০০৭ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ও তার একান্ত সহকারী মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে আসামি করে ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন গুলশানের আলোচিত উদয় টাওয়ারের মালিক আমিন আহমেদ ভূঁইয়া। পরবর্তীতে আমিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তাকে নানা হুমকি-ধমকি দিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য করে।

১/১১ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেছিলেন ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী কাজী তাজুল ইসলাম ফারুক।

তাজুল ইসলাম ফারুক ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের নছরতপুরে ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে ট্রাক চাপায় নিহত হন। অনেক বিশ্লেষক অভিযোগ করেছেন, হাসিনার ইশারায় তৎকালীন সরকার পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পেয়ে অনুগত বিচারপতি দিয়ে হাসিনার চাঁদাবাজীসহ মোট ১৫ টি মামলা বাতিল করায়। অন্যদিকে বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো বহাল রাখা হয়। উদ্দেশ্য একটাই এসব মামলাকে দাবার ঘুটির মতো ব্যবহার করে বিএনপিকে শায়েস্তা করা। সে যাই হোক।

তাজুল ইসলাম ফারুক ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের নছরতপুরে ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে ট্রাক চাপায় নিহত হন। অনেক বিশ্লেষক অভিযোগ করেছেন, হাসিনার ইশারায় তৎকালীন সরকার পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পেয়ে অনুগত বিচারপতি দিয়ে হাসিনার চাঁদাবাজীসহ মোট ১৫ টি মামলা বাতিল করায়। অন্যদিকে বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো বহাল রাখা হয়। উদ্দেশ্য একটাই এসব মামলাকে দাবার ঘুটির মতো ব্যবহার করে বিএনপিকে শায়েস্তা করা। সে যাই হোক।  

সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর চাঁদা বিষয়ক সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণেই অতীতের ইতিহাসগুলোর বিবরণ দিতে হলো। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিলে সেটা চাঁদা হবে না। মন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা চাঁদাবাজিকে মন্ত্রীর বক্তব্যে অনেকটাই বৈধতা দেয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এ টাকাটা সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা হচ্ছে। জোর করে আদায় করছে না। এ জন্য চাঁদা বলা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মনোভাবের কথা জানান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নতুন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে মিডিয়ার সাথে  কথা বলতে বিকেলে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন মন্ত্রী। এ সময় ওই তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। পুরো নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/H9Ps6

চাঁদার রকমফের:

‘Donation’ (অনুদান) শব্দের উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ ‘donatio’ (যার অর্থ ‘উপহার’ বা ‘present’) থেকে। যা পরবর্তীতে পুরনো ফরাসি ‘donacioun’ হয়ে মধ্য ইংরেজি ‘donacion’ বা ‘donatyowne’ রূপে ১৫শ শতকের দিকে প্রচলিত হয়। এটি ল্যাটিন ক্রিয়াপদ ‘donare’ (উপহার হিসেবে দেয়া) থেকে উদ্ভূত। যা ultimately Proto-Indo-European মূল deh (দেয়া) থেকে এসেছে।

সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যে টাকা-পয়সা আদায় করা হয় সেটা ‘Donation’ বা চাঁদা। যা মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সেবামূলক কোনো কর্মকান্ডের জন্য আদায় করা হয়। এ টাকা কোনোকালেই জবরদস্তি মূলক আদায় হয়নি। স্বচ্ছল নাগরিকরা এমনিতেই দেয়।

রাজনৈতিক দল চাঁদা ছাড়া চলতে পারে না। রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে যে টাকা-পয়সা আদায় করা হয়-তা কোনোমতেই সমঝোতার ভিত্তিতে হয় না। এটাকে ‘Donation’ বা চাঁদা বলার সুযোগ নেই। এটাকে ইংরেজীতে Extortion বলা হয়।

সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যে টাকা-পয়সা আদায় করা হয় সেটা ‘Donation’ বা চাঁদা। যা মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সেবামূলক কোনো কর্মকান্ডের জন্য আদায় করা হয়। এ টাকা কোনোকালেই জবরদস্তি মূলক আদায় হয়নি। স্বচ্ছল নাগরিকরা এমনিতেই দেয়।

Extortion (এক্সটরশন) একটি ইংরেজি শব্দ। যার মূলভিত্তি ল্যাটিন। এটি ল্যাটিন শব্দ Extotio (মুচড়িয়ে দেয়া) থেকে উৎপত্তি হয়েছে। extorquere জোরপূর্বক বের করে নেয়া ক্রিয়াপদ থেকে এসেছে। ১৪ শতকে এটি মধ্যযুগীয় ইংরেজী Middle English শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এর অর্থ হয় জোরজবরদস্তি, ভয়-ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কারো কাছ থেকে অর্থ কিংবা সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়া।

তাহলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা নেয়ার কথা কেন বললেন? আগেই বলেছি যে, কল্যাণমূলক কাজের ‘Donation’ বা চাঁদা জবরদস্তি মূলক আদায় করতে হয় না।

রাজনীতি কি? জনকল্যাণ, রাষ্ট্র পরিচালনা, ক্ষমতা অর্জন এবং নিজস্ব মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করাই মূলত রাজনীতির আসল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক নেতারা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন।

অথচ অনেকের কাছে রাজনীতি পেশা ও ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। দলের প্রভাব খাটিয়ে তারা  Extortion থেকে শুরু করে সব বেআইনী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে।

একজন শিশুও বুঝবে যে, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে কেউ সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা-পয়সা দেয় না। তারা জবরদস্তিমূলক আদায় করে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি দেশের ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক নেতার নির্ধারিত কোনো পেশা নেই। তারা শ্রেফ চাঁদাবাজীর টাকায় জীবনযাপন করেন। চাঁদার টাকার ভাগ না নিয়ে রাজনীতি করেন এমন নেতাকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে।

একজন শিশুও বুঝবে যে, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীকে কেউ সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা-পয়সা দেয় না। তারা জবরদস্তিমূলক আদায় করে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি দেশের ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক নেতার নির্ধারিত কোনো পেশা নেই। তারা শ্রেফ চাঁদাবাজীর টাকায় জীবনযাপন করেন। চাঁদার টাকার ভাগ না নিয়ে রাজনীতি করেন এমন নেতাকে দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে।

রাজনীতিকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হলে দেশের ক্যান্সার Extortion বা জবরদস্তি মূলক টাকা-পয়সা আদায়কে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া এটা কোনো মতেই সম্ভব নয়।

শপথ নেয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন-“বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।”

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ঘোষণা দেয়া হয়-“জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরো ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি এখন থেকে সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক এবং নিজের অর্থে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ঘোষণার পর তিনি নিজের ব্যক্তিগত টয়োটা গাড়িটি ব্যবহার করেছেন। নিজের গাড়িবহরের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রীদের চলাচলের কারণে যাতে রাস্তায় যানজট ও ভিআইপি প্রটোকলের ভোগান্তি তৈরি না হয় সে বিষয়েও তিনি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণাগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক। অতীতের কোনো সরকার প্রধান এ ধরণের ঘোষণা দেননি। এ নিবন্ধ লেখার আগে সিলেট ও কুয়াকাটায় বিএনপি’র দলীয় পরিচয় দিয়ে টাকার দাবিতে দোকান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব বেপরোয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের Extortion বা জবরদস্তি মূলক টাকা-পয়সা আদায় ও বেআইনী কর্মকান্ড কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ভূমিকা ম্লান হবে।

লেখক: গল্পকার ও সাংবাদিক

E-mail: iquram313@gnail.com

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  বিশেষ প্রতিবেদন,  মন্তব্য প্রতিবেদন,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply