শুক্রবার সকাল ৯:২৫, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ৩০শে জুলাই, ২০২১ ইং

দুই শর্তে কওমিদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে: মোকতাদির চৌধুরী এম‌পি

জাকির মাহদিন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক, সমঝোতার প্রচেষ্টা সবই একে একে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনই যখন অবস্থা, ঠিক তখনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী উদারতার পরিচয় দিয়ে সমঝোতার একটি চমৎকার পথ বলে দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ হেফাজতে ইসলামে প্রতি চরমভাবে ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে জামেয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার নেতৃত্বে সেই সময়ের মিছিলে ও দিকনির্দেশনায় যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রতই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মামলা হয়েছে এর পরিচালকসহ ঊর্ধ্বস্তন বেশ কয়েকজনের নামে। যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন মুফতি মুবারকুল্লাহ ও মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশেষ সূত্রে এমনটাই জানা যায়।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজিরবিহীন এ সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সরকার হেফাজতে ইসলাম ও সহিংসতায় অংশগ্রহণকারী কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিষয়ে হার্ডলাইনে। সারাদেশে হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে হেফাজতে ইসলাম একেবারেই ছিন্নভিন্ন। কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গের প্রায় সবাই জেলে। এদের অনেকেই রিমাণ্ডে। এরই সূত্র ধরে শুরু হয় হেফাজত নেতাদের ‘পদত্যাগের হিড়িক’। এ পদত্যাগের বদনাম সামলাতে হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী গতকাল মাঝরাতে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেন। তা সত্ত্বেও জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেফতার এড়াতে পারবেন না বলে অনেকেই মনে করছেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক, সমঝোতার প্রচেষ্টা সবই একে একে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনই যখন অবস্থা, ঠিক তখনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী উদারতার পরিচয় দিয়ে সমঝোতার একটি চমৎকার পথ বলে দিয়েছেন।

দেশ দর্শনকে তিনি বলেন, হেফাজত বিষয়ে সরকারের চলমান পদক্ষেপের সঙ্গে তিনি পুরোপুরি একমত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতায় যারাই জড়িত এবং তার ব্যাপারেও যারা কুৎসা রটিয়েছেন, তাদের কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। প্রয়োজনে তিনি একা লড়বেন। তবে দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে কওমি মাদরাসাগুলোর সাথে তিনি সম্ভাব্য সমঝোতার দুটো শর্ত দিয়েছেন। এক. কোনো মদরাসায় লাঠিসোটা রাখা যাবে না। দুই. মাদরাসাগুলোয় ‘জাতীয় সঙ্গীত’ গাইতে হবে ও জাতীয় পতাকা উড়া‌তে হ‌বে।

তিনি আরো বলেন, তিনিও একজন মুসলমান। স্বাধীনতার এই পঞ্চাশ বছরে আওয়ামী লীগ কখনো দলগতভাবে কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হামলা-ভাঙচুর করেনি। আর ‘তার নেতৃত্বে’ জামেয়া ইউনুছিয়ায় হামলার প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে জাতীয়তার স্বার্থেই এর মৌলিক আইনগুলো মানতে হবে। সংবিধান মানতে হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া জাতীয়তারই একটা অংশ। সুতরাং এ দুটো শর্ত মেনে নিলে তাদের বিষয়টি সরকার পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

জাকির মাহদিন: সম্পাদক, দেশ দর্শন

ক্যাটাগরি: প্রধান খবর,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  শীর্ষ তিন,  সাক্ষাৎকার

ট্যাগ:

Leave a Reply