পাকিস্তানের বালুচিস্তান আয়তনে দেশটির বৃহত্তম প্রদেশ। তবে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম। পাকিস্তানের মোট আয়তনের প্রায় ৪৪% অংশ জুড়ে বালুচিস্তান প্রদেশ। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সিটি করাচির জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ। বালুচিস্তান প্রদেশের জনসংখ্যা ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৪ হাজার। যা করাচি সিটির চেয়েও কম। পাকিস্তানের সামগ্রিক সাক্ষরতার হার ৬৩%। প্রদেশভিত্তিক শিক্ষার হারে ব্যাপক আঞ্চলিক ও লিঙ্গগত পার্থক্য রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রদেশ ভিত্তিক সাক্ষরতার হার:
পাঞ্জাব: ৬৬.৩%
সিন্ধু: প্রায় ৬১.৮%
খাইবার পাখতুনখোয়া: ৫৫.১%
আজাদ কাশ্মীর ৭৭%
গিলগিট-বালতিস্তান ৬৫%
বালুচিস্তান: ৫৪.৫%।
গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো তুলনামূলক দূর্বল।
পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় বালুচিস্তান কিছুটা অনুন্নত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। দুর্গম পাহাড়-পর্বত বেষ্টিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ অনুন্নত।
ঐতিহাসিক পটভূমি:
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বালুচিস্তান ছিল কয়েকটি দেশীয় রাজ্যের সমষ্টি। বালুচিস্তান ৩টি দেশে বিভক্ত হয়েছে। একটি অংশ আফগানিস্তানে। যার নাম আফগান বালুচিস্তান। অন্য অংশটি ইরানে। যার নাম সিস্তান-বালুচিস্তান। বালুচিস্তানের মূল অংশ ১৯৪৮ সালের মার্চে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে ১৯৪৮, ১৯৫৮-৫৯, ১৯৬২-৬৩ এবং ১৯৭৩-৭৭ সালে চারটি বড় বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। মানব উন্নয়ন সূচকে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে। সাক্ষরতার হার, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সবই জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক কম।
গোয়াদর পোর্ট ও CPEC:
পাকিস্তান সরকার আরব সাগরের তীরে বালুচিস্তানের গোয়াদরে চায়নাকে ডিপ সী পোর্ট নির্মাণ কাজ দিয়েছে। গোয়াদর পোর্টকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে চায়না-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)। এ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বালুচিস্তানের অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়নের দৃশ্য পাল্টে যাবে।
সঙ্কটের সূত্রপাত:
বালুচিস্তানে সর্দারপ্রথা খুবই শক্তিশালী। বালুচ বুগতি উপজাতি নেতা বা প্রভাবশালী সর্দার ছিলেন নওয়াব আকবর খান বুগতি। তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন। ১৯৪৭ সালে তিনি বালুচিস্তানের পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে ভোট দেন। এ নেতা পরবর্তীতে স্থানীয় বালুচ উপজাতিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন। সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ সরকারের আমলে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পাক সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও ফেডারেল সরকারের বালুচিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
২. বালুচিস্তানের তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ সকল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রাদেশিক সরকারের বৃহত্তর নিয়ন্ত্রণ।
৩. বালুচিস্তানে চলমান সকল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা স্থানীয় সরকারের হাতে দেয়া।
৪. পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ বন্ধ করা।
৫. প্রদেশে নতুন সেনাছাউনি নির্মাণ করা যাবে না।
৬. মারি এলাকায় আইএসআই নিয়ন্ত্রিত বেসরকারি মিলিশিয়া বাহিনী ভেঙে দেয়া।
৭. অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাবাহিনী বা ফেডারেল বাহিনীর পরিবর্তে প্রাদেশিক পুলিশের হাতে দেয়া।
৮. রাজনৈতিক সকল বন্দীকে মুক্তি দেয়া।
৯. সরকারি চাকরিতে বালুচদের অগ্রাধিকার।
১০. গোয়াদর সহ উপকূলীয় এলাকায় বাইরের লোকদের জমি বরাদ্দ বন্ধ করা।
১১. প্রদেশের উন্নয়নে বাইরের ঠিকাদারদের বদলে স্থানীয়দের নিয়োগ।
মোশাররফ সরকার এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে। নওয়াব আকবর খান বুগতি, আতাউল্লাহ মেঙ্গাল ও খায়ের বক্স মারি-এ তিন প্রধান সর্দারকে ঝামেলা সৃষ্টিকারী আখ্যা দেয়।
এরপর ২০০৫ সালে সুই-তে একজন বালুচ নারী চিকিৎসক ডা. শাজিয়া খালিদের ধর্ষণের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাকে রক্ষা করার অভিযোগে বুগতি সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দেয়া হয়। নওয়াব আকবর খান বুগতি তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে পাহাড়ের গুহায় চলে যান। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট পাক নিরাপত্তা বাহিনী অপারেশন কোহ-ই-সুফাইদ নামের এক অভিযান চালায়। এ অভিযানে বেশ কয়েকজন সাথীসহ নওয়াব আকবর খান বুগতি নিহত হয়।
বর্তমানে বালুচিস্তানে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (BLF) ও বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। তারা পাকিস্তানী নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং CPEC সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে হামলা চালায়।
১৯৬৪ সালে জুম্মা খান মারি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে BLF প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি ১৯৬৮-১৯৭৩ সালে ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ এবং ১৯৭৩-১৯৭৭ সালে পাকিস্তানে বালুচ বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭৭ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত সংগঠনটি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। ২০০৩ সালে এ সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ডা. আল্লাহ নজর বালুচ। এরপর ২০০৪ সালে এটি পুনরায় সক্রিয় হয়। বর্তমান প্রধান ডা. আল্লাহ নজর বালুচ (2003–present) এবং মুখপাত্র ঘরাম বালুচ। এরা মতাদর্শগত ভাবে মার্কসবাদী।
পুনরায় সক্রিয় হবার পর থেকে বিএলএফ পাকিস্তান সেনা ও পুলিশের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে আসছে। ২০১৫ সালে তুরবাতে ২০ জন নির্মাণ শ্রমিক হত্যা এবং ২০১৭ সালে ১৫ জন অভিবাসী হত্যার দায় তারা স্বীকার করে। সংগঠনটি সাংবাদিকদের ওপর হামলার জন্যও অভিযুক্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনী ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশ থেকে BLF প্রধান ডা. আল্লাহ নজর বালুচের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও BLF’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদ কাম্বারকে আটক করে। এ তথ্য BLF নিশ্চিত করেছে।
বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একটি অপেক্ষাকৃত নতুন সংগঠন। এর প্রথম কার্যক্রম ২০০০ সালের মাঝামাঝি রেকর্ড করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে হিরবায়ার মারির নাম আসে। বিএলএ ’র বর্তমান নেতা বশির জেব (২০১৮-বর্তমান) । এর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ। সংগঠনটির ভেতরে কয়েকটি বিশেষায়িত শাখা রয়েছে। যেমন: মাজিদ ব্রিগেড (আত্মঘাতী হামলার জন্য পরিচিত)। ফাতেহ স্কোয়াড এবং STOS। ২০১৭ সালে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে BLA দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যায়। নতুন নাম বিএলএ (আজাদ) এবং বিএলএ (জিয়ান্দ)। বিএলএ মার্কসবাদ দ্বারা প্রভাবিত।
অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস:
বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (BLF) ও বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)-এর অস্ত্রের উৎস নিয়ে পাকিস্তান সরকারের বয়ান আন্তর্জাতিক মিডিয়ার তদন্ত এবং ইতিহাসবিদদের তথ্য কিছুটা আলাদা। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর প্রায় ১০ লাখের মতো অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফেলে যাওয়া হয়। BBC, Washington Post এবং CNN এর তদন্তে বলা হয়েছে এর প্রায় ৫০% অস্ত্র হারিয়ে গেছে। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি হয়েছে বা পাচার হয়েছে।
যেমন: ২০২৫ সালে জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক এবং ২০২২ সালের নোশকি-পাঞ্জগুর হামলায় M4A1 কারবাইন, M16A4, M240B মেশিনগান ও নাইট ভিশন ডিভাইসের মতো মার্কিন অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যার সিরিয়াল নম্বর আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর জন্য ইস্যু করা ছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়।
পাকিস্তান জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, আমেরিকা ও নেটো’র এ ফেলে যাওয়া অস্ত্রভান্ডার থেকে TTP এবং BLA অত্যাধুনিক অস্ত্র পাচ্ছে। সাধারণত রুটটা এরকম: ১. আফগানিস্তানের অস্ত্র বাজার অস্ত্র পাচারকারী ২. বালুচিস্তান এবং ইরান সীমান্তের কালোবাজার। ইরাক সরকার গোপনে BLF কে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়েছিল। ১৯৭৩ সালে ইসলামাবাদে ইরাকি দূতাবাসে পাকিস্তান রেড করে ক্রেট ভর্তি ছোট অস্ত্র পায়। যা BLF এর জন্য আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
৬০ এর দশকে BLF’কে সিরিয়া সমর্থন দিয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। ইন্ডিয়ান সাংবাদিক ও বিশ্লেষক অবিনাশ পালিওয়ালের গবেষণা অনুযায়ী ৭০ এর দশকে ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা R&AW’র জুনিয়র কর্মকর্তারা বলেছিলেন “আমরা বালুচদের সবকিছু দিয়েছিলাম। টাকা থেকে বন্দুক পর্যন্ত”।
পাকিস্তান সরকার নিয়মিত অভিযোগ করে যে, BLA/BLF এর নেতৃত্ব আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। আফগানিস্তানের মাধ্যমে ইন্ডিয়া থেকে তারা অর্থ ও লজিস্টিক সহায়তা পাচ্ছে। ২০২৫ সালের জাফর এক্সপ্রেস হামলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি ইন্ডিয়াকে দায়ী করেছিল। ইন্ডিয়া এ অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং Tribune এর রিপোর্ট অনুযায়ী BLA, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং আল-কায়েদার সাথে নেক্সাস থেকে ফান্ডিং, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র পাচ্ছে। ঐতিহাসিক ভাবে ইরাক, সিরিয়া, এবং ইন্ডিয়া (৭০ এর দশকে) জড়িত থাকার তথ্য আছে।
বর্তমানে বাস্তবে মূল উৎস হলো আফগানিস্তান-ইরান সীমান্তের কালোবাজার, বিশেষ করে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন ও রুশ অস্ত্র। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী এর পেছনে ইন্ডিয়া ও আফগান তালিবানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন আছে। যা ইন্ডিয়া ও তালিবান উভয়েই অস্বীকার করে। BLA চাইনিজ নাগরিক ও স্বার্থের ওপর হামলা চালায়। করাচিতে চাইনিজ কনস্যুলেটে হামলা, পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে হামলা, ২০২৪ সালে কোয়েটা রেলস্টেশনে বোমা হামলা এবং ২০২৫ সালে জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাকিং।
পাকিস্তান ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল BLA’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চায়না, ইরান এবং জাতিসংঘ এ সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে।
BLA ও BLF এর প্রক্সি BYC:
BYC গঠিত হয় ২০২০ সালে। সংগঠনটির পুরো নাম Baloch Yakjehti Committee (BYC). বাংলায় বালুচ ঐক্য কমিটি। ইয়াকজেহতি ফারসী শব্দ। এর অর্থ ঐক্য, সংহতি। মানবাধিকার সংগঠন বলা হলেও এটা BLA ও BLF-এর প্রক্সি সংগঠন। কারণ এ সংগঠন বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন BLA ও BLF-এর সন্ত্রাস, নাশকতা ও চোরা-গোপ্তা হামলার কোনো নিন্দা বা সমালোচনা করে না।
এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক ডা. মাহরাং বালুচ। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিএলএ নেতা আবদুল গাফফার লঙ্গুর মেয়ে। আবদুল গাফফার লঙ্গু ২০০৯ সালের ১১ ডিসেম্বর করাচি থেকে নিখোঁজ হন। ২০১১ সালের ১ জুলাই বালুচিস্তানের লাসবোলা জেলার হাব গাদানি এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ডা. মাহরাং বালুচের সাথে আছে সাম্মি দীন বালুচ, ডা. সাবিহা বালুচ, সিবগাতুল্লাহ শাহজি, লালা ওয়াহাব বালুচ। সাম্মি দীন বালুচ বিএলএফ নেতা ডা. আল্লাহ নজর বালুচের ঘনিষ্ট সহযোগী দীন মোহাম্মদ বালুচের মেয়ে। এ সংগঠন গুম (Enforced Disappearance) বিষয়ে কাজ করে। বাস্তবে যারা নিখোঁজ হয়ে BLA ও BLF সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপে যোগ দেয় তাদের পক্ষেই প্রচারণা চালায়। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী BYC-কে সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রক্সি হিসেবে দেখে। ২০২৫ সালের ২৩ মে ISPR-এর মহাপরিচালক লে. জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে বলেন, BYC কোনো বৈধ আন্দোলন বরং ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট একটি ক্যাম্পেইন। মাহরাং বালুচ “terrorist proxy” হিসেবে কাজ করছেন। সরকারের অভিযোগ, BLA ও BLF-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো বেসামরিক হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা ও অপহরণের মতো অপরাধমূলক ঘটনার কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ করে না।
অভিযোগ রয়েছে BYC’র প্রধান সংগঠক ডা. মাহরাং বালুচসহ অন্যান্যদের সাথে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা (R&AW)। ডা. মাহরাং বালুচ, মীর ইয়ার বালুচ, ডা. আল্লাহ নজর বালুচ, বশির জেব থেকে শুরু করে বালুচিস্তানের সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়া আইডিগুলো ইন্ডিয়া থেকেই অপারেট করা হয়। ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) গৌরব আরিয়া এসবের সমন্বয় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রকাশিত ইংরেজী দৈনিক সংবাদপত্র The Dawn জানায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গোয়াদরে সহিংসতায় একজন FC সদস্য নিহত হবার মামলায় ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত ডা. মাহরাং বালুচ ও সিবগাতুল্লাহ শাহজিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়।
ইরানের ভূমিকা:
ইরান তার সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে আরব সাগরের তীরে চাবাহার পোর্ট নির্মাণ কাজ দিয়েছিল ইন্ডিয়াকে। সে সুবাদে ইরান সরকার ইন্ডিয়ানদের জন্য ফ্রি ভিসা সুবিধা চালু করেছিল। এ সুযোগের সদব্যবহার করে ইন্ডিয়া তার গোয়েন্দা সংস্থা R&AW ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা Mossad-এর বিপুল পরিমাণ স্পাই ইরানে প্রবেশ করে। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ পাক নিরাপত্তা বাহিনী ইরান থেকে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে প্রবেশের পর কূলভূষণ যাদব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি ইন্ডিয়ান নৌবাহিনীর অফিসার। পাক সরকার তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ আনে। ইন্ডিয়া সরকার স্বীকার করেছে যে, কূলভূষণ যাদব ইন্ডিয়ান নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। তবে তার সাথে সরকারের কোনোরকম যোগসাজশ থাকার বিষয় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের দাবি কূলভূষণ ইন্ডিয়া নৌবাহিনীর অন ডিউটি অফিসার। ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্য়ানালিসিস উইং (R&AW)-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করতে তাকে পাঠানো হয়েছিল। কূলভূষণকে গ্রেফতারের পর পাকিস্তান সরকার তার অভিযোগ স্বীকার করে দেয়া বিবৃতির ভিডিও প্রকাশ করেছিল। অন্যদিকে ফ্রি ভিসা সুবিধা নিয়ে ইরানে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ R&AW ও Mossad স্পাই। এসব স্পাই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা ও বিজ্ঞানীদের বাসভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। স্পাইদের সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করে ইসরাইল ২০২৫ সালের ১৩ জুন ভোর থেকে “অপারেশন রাইজিং লায়ন” নামে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ১২ দিনের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট গুপ্ত অভিযানে তাদের হাতে ইরানের অন্তত ১৪ জন বিজ্ঞানী (রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী) নিহত হন। বালুচিস্তান সাথে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত থাকায় সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো বেশ প্রিভিলেজ পেয়েছে। ইতিপূর্বে BLA ও BLF সশস্ত্র গ্রুপগুলো সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়ে ইরান পালিয়ে যেতো। ইরানের সাথে এককালে ইন্ডিয়ার জানপ্রাণ দোস্তি ছিল। চাবাহার পোর্টে কনস্ট্রাকশন কাজ করার সুবাদে ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে বা গোপনে ইরান থেকে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ সরবরাহ ও অর্থ দিয়েছে। জিওপলিটিক্যাল পরিস্থিতির কারণে ইরানের পলিসীর পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে ইরান থেকে সহায়তা করা আর সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো: পাকিস্তান বর্তমানে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করছে।
বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাস ও নাশকতার পেছনে আফগানিস্তান:
পাকিস্তান নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বালুচ লিবারেশন আর্মি BLA’র তথাকথিত প্রথম নারী কমান্ডার শাহনাজ বালুচ আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
পাকিস্তানী মিডিয়াগুলোর খবরে বলা হয় ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত BLA নেত্রী ও মহিলা সুইসাইড স্কোয়াডের প্রধান শাহনাজ বালুচের গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তার দুই সহযোগী নিহত হয় এবং সে গুরুতর জখম হয়। পরে তালেবান কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। অতীতে ইন্ডিয়া ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের চাবাহার পোর্টে কনস্ট্রাকশন কাজ করার সুবাদে সহজেই পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাস ও নাশকতার মদদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিতে পেরেছে।
ইরান-ইসরাইল-আমেরিকা সাম্প্রতিক যুদ্ধ জিওপলিটিক্যাল পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইন্ডিয়া এখন আর ইরানের ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও নাশকতার মদদ দিতে পারছে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া এখন আফগানিস্তানের খারিজী তালিবান মোল্লাদের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছে। খারিজী তালিবান মোল্লা সরকারের মাধ্যমে ইন্ডিয়া BLA, BLF ও TTP কে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সামি সাদাত অভিযোগ করে বলেছেন, ইন্ডিয়া তালিবান সরকারের মাধ্যমে TTP ও পাকিস্তান বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে এসব জঙ্গিরা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি আঘাত হানছে। তার বড় প্রমাণ BLA নেত্রী শাহনাজ বালুচের আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে বন্দুকধারীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া।
জাতিগত বিদ্বেষ ও বেসামরিক প্রাণহানি:
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট BLA বালুচিস্তান জুড়ে সিরিজ হামলা চালায়। বাস-ট্রাক থামিয়ে যাত্রীদের আইডি চেক করে গুলি করা সহ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যাদের বেশিরভাগই নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক।
লন্ডন ভিত্তিক Action on Armed Violence (AOAV)-এর ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২৪ সালেই পাকিস্তানে BLA-র হামলায় ১১৯ জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে। যা আগের বছরের ২২ জনের তুলনায় ৪৪০% বেশি। ২০২৫ সালের ১০ জুলাই রাতে BLA সন্ত্রাসীরা ঝোব জেলার সুর-দাকাই এলাকায় ন্যাশনাল হাইওয়েতে বাস থামিয়ে ৯ জন পাঞ্জাবী যাত্রীকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভিকটিমদের সবাই পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
২০২৬ সালের ২৭ জুলাই কেচ জেলার কলাতুক এলাকায় BLA সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের একটি দলকে আটকায়। সোয়াবির জাভেদ নামে একজনকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে মারে এবং ৬ জনকে অপহরণ করে। কয়েকদিন পর তুরবাতের কাছে তাদের লাশ উদ্ধার হয়। নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৪ জন পাঞ্জাবের এবং ২ জন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের শ্রমিক ছিলেন।
এছাড়া তুরবাতের ঘটনার আগেই মাশকেল এলাকায় আলাদা হামলায় আরো অন্তত ৫ জন শ্রমিককে হত্যা করা হয়। যা সমন্বিত সহিংসতার অংশ বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। অর্থাৎ শুধু জুলাই ২০২৬-এর শেষ সপ্তাহেই BLA-র হাতে সরকারি হিসাবে অন্তত ৪ জন পাঞ্জাবি শ্রমিক +১ জন সোয়াবির শ্রমিকসহ মোট ১১-১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে।
৭১-এর মতো জাতিগত হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টির নিন্দনীয় অপচেষ্টা:
১৯৭১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা R&AW‘র মদদ ও ইন্ধনে মুজিব বাহিনী বিহারী মুসলিমদের গণহত্যা চালিয়েছিল। বর্তমানে R&AW একই স্টাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন BLA ও BLF কে ব্যবহার করে বালুচিস্তানে জাতিগত বিদ্বেষ তৈরী করেছে। বালুচ অধিকারের নামে BLA ও BLF সন্ত্রাসীরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে জাতিগত হিংসার বীজ বপন করেছে। এ জন্য সাধারণ বালুচরা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর নেতা বশির জেব, ডা. আল্লাহ নজর বালুচ, ডা. মাহারাং বালুচকে ”সারমাচার” বলে অভিহিত করে। বালুচ ভাষার শব্দ ”সারমাচার” অর্থ দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক।
নিরীহ বালুচরাও টার্গেট:
সাধারণ বালুচ নাগরিকরা অত্যন্ত ধার্মিক ও অতিথিপরায়ণ। তাদের মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষ অতীতে কখনো ছিলো না। ইদানিং সন্ত্রাসী সংগঠন BLA সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বালুচ অধিকারের নামে নিরপরাধ পাঞ্জাবি ও পশতুন শ্রমিক, ট্রাক ড্রাইভার এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করছে। রাষ্ট্রের “সহযোগী” বা “ইনফর্মার” তকমা দিয়ে অনেক নিরীহ বালুচ নাগরিককেও হত্যা করছে। বাজার, ব্যাংক, স্কুল, হাইওয়েতে বোমা হামলা বা অবরোধের সময় নির্বিচারে বালুচ বেসামরিকরাও নিহত হন। বিভিন্ন নিরপেক্ষ হিসেবে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত BLA-র হামলায় কয়েকশ বালুচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যার মধ্যে শুধু গত ২ বছরে (২০২৪-২০২৬) সংখ্যাটা ১৫০-এর বেশি। BLA সন্ত্রাসীরা বালুচদের অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ব্রেনওয়াশ করে। এরপর সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়। যেসব বালুচ যুবক সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের নির্মম ভাবে খুন করে রাস্তায় লাশ ফেলে যায়। সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত হতে অস্বীকৃতি জানানোর অপরাধে BLA সন্ত্রাসীরা এ পর্যন্ত তিন শতাধিক নিরীহ ও নিরপরাধ বালুচ যুবককে খুন করেছে।
কথিত স্বাধীনতা ঘোষণা ও ইন্ডিয়ার প্রক্সি যুদ্ধ:
পলাতক কথিত বালুচ মানবাধিকার কর্মী মীর ইয়ার বালুচের X (টুইটার) হ্যান্ডল বেজ ইন্ডিয়ায়। তিনি গত ২৩ জুলাই X হ্যান্ডল থেকে পোস্ট দিয়ে বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ পোস্টে তিনি ইন্ডিয়াকে পাকিস্তান আক্রমণের আহবান জানান। যে ব্যক্তি নিজে চোরের মতো বিদেশ পালিয়ে থাকে সে কিনা পাকিস্তানের মতো একটা দেশের প্রদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। বিষয়টি হাস্যকর বটে। তার এ পোস্টের পর ইন্ডিয়ান মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া আইডিগুলোতে ব্যাপক মাতামাতি শুরু হয়। বালুচিস্তান নিয়ে ব্যাপক মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালায়। এতে যোগ দেয় বাংলাদেশের ইন্ডিয়াপন্থী মিডিয়া ও আওয়ামী-বাম রাজনৈতিক মহল। যা এখনো অব্যাহত আছে। এটা স্পষ্ট যে TTP ও BLA/BLF বর্তমানে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এতে ইন্ডিয়া ও আফগান সরকার পুরোপুরি জড়িত। এতে সম্প্রতি যোগ দিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল। খুব নিন্দনীয় ব্যাপার যে, পাকিস্তানের অনিষ্ট করার জন্য আফগান খারিজী তালিবান মোল্লারা ইন্ডিয়া ও ইসরাইল অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। সাধারণ যুদ্ধের চেয়ে প্রক্সি যুদ্ধ অনেক সহজ। তাই ইন্ডিয়া-ইসরাইল আফগানিস্তানের খারিজী তালিবান মোল্লাদের ব্যবহার করে খাইবার-পাকতুনখোওয়া ও বালুচিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে।
জিও পলিটিক্যাল গুরুত্ব:
ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর দীর্ঘ উপকূলরেখা আরব সাগরে। ফলে বালুচিস্তান জিও পলিটিক্যালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য পাকিস্তান প্রায়ই অভিযোগ করে ইন্ডিয়া ও অন্যান্য পাকিস্তান বিরোধী বিদেশী শক্তি বালুচ বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে। পাকিস্তানের এ অভিযোগ অমূলক নয়। এর অনেক তথ্যভিত্তিক প্রমাণ রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি:
পাক-আফগান সীমান্ত রেখা ডুরান্ড লাইনের দৈর্ঘ্য ২,৬৪০ কিলোমিটার (১,৬৪০ মাইল)। ১৮৯৩ সালের ১২ নভেম্বর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার সচিব স্যার মর্টিমার ডুরান্ড এবং আফগানিস্তানের আমির আবদুর রহমান খানের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে এটি নির্ধারিত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, TTP, BLA ও BLF সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র সরবরাহের পথ বন্ধ করা না গেলে পাকিস্তান কখনো শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই ডুরান্ড লাইনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও নজরদারী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো দরকার। নিষিদ্ধ ঘোষিত BLA, BLF ও TTP সহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের উৎস রুট বন্ধ করতে হবে। অস্ত্র সরবরাহের উৎস ও রুট বন্ধ করলে পারলে পাকিস্তান স্বস্তি পেতে পারে। পাক সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ হবে ইন্ডিয়ান গোয়েন্দা R&AW‘র মদদ ও ইন্ধনে শুরু হওয়া জাতিগত বিদ্বেষ থামানো। সে সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্ত্রাস ও নাশকতা থেকে বালুচ ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়, প্রধান কলাম, প্রধান খবর, বিশেষ প্রতিবেদন, মন্তব্য প্রতিবেদন, শীর্ষ তিন
