শনিবার সকাল ১১:২৪, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ৮ই মে, ২০২১ ইং
প্রতিবেদন
দুই শর্তে কওমিদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে: মোকতাদির চৌধুরী এম‌পি করোনায় সমগ্র ভারত এখন শ্মশানে পরিণত কোণঠাসা হেফাজত: আলোচনায় সমাধান চায় ক‌রোনায় ১৭ জন সাংস‌দের মৃত্যু: দ্বিতীয় ঢেউয়ে আ‌রো শতাধিক আক্রান্ত পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এখন ডাস্টবিন হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরকারী গণগ্রন্থাগার ধ্বংস (ভিডিও) মোদীবিরোধী বিক্ষোভে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহত ১, আহত অনেক এমপি মোকতাদিরের অনুদানপ্রাপ্ত বৃদ্ধার সাক্ষাৎকার ও ধর্মানুভূতি বাংলা‌দে‌শে ৯ লাখ মুসলমান খ্রিস্টান হ‌য়ে‌ছে: খ্রিস্টান ফাদার মুফতি নুরুল্লার ছেলে বেলায়েতুল্লাহ নুর আর নেই ওয়াজ-মাহ‌ফিলগুলো এখন মেলায় প‌রিণত: মুফতী জামালুদ্দীন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: এখনো পানিবন্দি ৩৬ হাজার মানুষ

পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এখন ডাস্টবিন

জাকারিয়া জাকির

সেই ২৬ মার্চ থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে ও খোলা জায়গায় জমা হচ্ছে ময়লা। পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দীর্ঘ বিশ্রামে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে পুরা শহর পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। এজন্য এটি এখন এক আজব ও ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক পুরাতন কোর্ট রোড তথা পৌর সুপার মার্কেটের সামনে সারা শহরের ময়লা এনে জমা করা হচ্ছে। এতে করে ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায় দুর্গন্ধ এবং করোনা ভাইরাসের মতো মারাত্মক ভাইরাস। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে সারা শহরে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শহরের একটি ব্যস্ততম এলাকা। একদিকে আছে টাওয়ার, অন্যদিকে আনিস প্লাজা, সিটি সেন্টার, বর্তমান ইউনিয়ন ব্যাংকসহ সব উচ্চ উচ্চ দালান-কোঠা। এসব মার্কেট এবং অফিস-আদালতে বেড়ে গেছে মশা-মাছির উপদ্রব। কোনো সুস্থমস্তিষ্কে এরকম পরিবেশ মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাছাড়াও শহরের কালিবাড়ী মোড়, ফরিদুল হুদা রোড, কান্দিপাড়া পাওয়ার হাউজ রোডসহ বিভিন্ন ডাস্টবিনের আশপাশে জমে আছে ময়লার বিশাল বিশাল স্তুপ।

এ ব্যাপারে পৌরসভার যেন কোনো মাথাব্যাথাই নেই। এই নিয়ে পৌর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের একজন সুপারভাইজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের কিছু গাড়ি ২৭ মার্চ হেফাজতের আন্দোলনকারীরা পুড়িয়ে দেয়। এজন্য তারা ময়লা অপসারণ করতে পারছে না।

এ ব্যাপারে পৌর শহরের বিভিন্ন বিজ্ঞজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এতে করে শহরের বিভিন্ন স্থানে অসুখ-বিসুখ, করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু জ্বর ইত্যাদির প্রকোপ বেড়ে চলেছে। পৌরসভার বিল্ডিং জ্বালিয়ে দেওয়ায় অফিস করতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। যদিও কোনো একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই কুকর্ম করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

জনসাধারণ বলছেন, তাণ্ডবকারীদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। কিন্তু এর জন্য তো সমস্ত পৌরবাসী দায়ী নয়। তারা বলছেন, আপাতত অস্থায়ী অফিস চালু করে ময়লা অপসারণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একজন প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা কি অপরাধ করেছি? কেন আমরা এ রকম পরিবেশে থাকবো? আমরা তো পৌরসভার টেক্স ঠিকই দিয়ে যাচ্ছি। তাহলে আজ ১০ দিন গত হয়ে যাচ্ছে, অথচ কেন এর কোনো ব্যবস্থা করা হয় নাই।

করোনাকালীন সময়ে সরকার লকডাউন দিয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপরও জোরদার দিয়েছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর পরিণত হচ্ছে এক নোংরা সিটিতে, দেখার কেউ নেই। অনেকেই যুগে যুগে আন্দোলন করে আসছে, জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে, এর জন্য দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন এর শাস্তি সরকার সবাইকে দিচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন থামছে না, পরিষ্কার হচ্ছে না ময়লা-আবর্জনা।

প্রতি‌বেদন ও ‌ভিডিও: জাকারিয়া জাকির, সময়: আজ বিকাল

ক্যাটাগরি: প্রধান খবর,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  ভিডিও নিউজ,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ:

  • 26
    Shares

Leave a Reply