বিগত আওয়ামী শাসনামলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। এ সুযোগে আওয়ামী দলীয় নেতা-কর্মীরা বিনাভোটে চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় একধরণের স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্য চলেছে। পরিষদের কারো কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। স্বেচ্ছাচারিতার সকল সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
নাগরিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষ নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েন। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধন করতে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার মধ্যে নাগরিক সেবা পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন কুমিরা ইউনিয়নের অধিবাসীরা। বাড়তি টাকা ছাড়া সেখান থেকে কোনো নাগরিক সেবা পাওয়া যেত না।
এমনো প্রমাণ আছে যে, বাড়তি টাকার বিনিময়ে একদিনে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র ইস্যূ করা হয়েছে। যারা বাড়তি টাকা-পয়সা খরচ করতে পারেনি তাদের জন্মনিবন্ধন মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে।
৭/৮ মাস এমনকি ১০/১২ মাসেও একটি জন্মনিবন্ধন ডেলিভারী দেয়া হয়নি। সাধারণ নাগরিকরা অসহায় ও নিরুপায় ছিল। কোথাও গিয়ে তাদের সমস্যার কোনো প্রতিকার পাননি। কারণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছিল একদলীয়।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর সারাদেশের মতো সীতাকুন্ড উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জনরোষের ভয়ে পালিয়ে যায়।
জানা যায় ইন্টারিম সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর কাছে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা হয় কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে সেনাবাহিনী কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ চৌধুরী পরিষদে ছিলেন না। তিনি আগে থেকেই পলাতক ছিলেন। উদ্যোক্তা আবদুস সালাম রানাও পালিয়ে যায়।
জানা যায়, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেন। চেয়ারম্যান মোরশেদ চৌধুরী সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অফিসারকে জানান তিনি আর পরিষদে আসবেন না। এরপর চেয়ারম্যানকে আটক করার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যৌথবাহিনী চেষ্টা করলে চেয়ারম্যানকে আটক করা কঠিন কোনো কাজ ছিলো না।
তখন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন কান্তি ভৌমিককে জরুরি কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে ছিল:
১. জন্মনিবন্ধন সনদপত্রের ফি ৫০ টাকার বেশি না নেয়া।
২. সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র ডেলিভারী দেয়া।
৩. জন্মনিবন্ধন সনদপত্রের আবেদনের জন্য কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় না করা।
৪. সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে নাগরিক সনদপত্র ও অন্যান্য প্রত্যয়নপত্র ডেলিভারী দেয়া।
সেনাবাহিনীর অভিযানের পর ইন্টারিম সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ কোনো দুর্ভোগও বাড়তি টাকা-পয়সা কিংবা হয়রানী ছাড়া নাগরিক সেবা পেয়েছে।
এরপর দীর্ঘদিন কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন কান্তি ভৌমিককে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বদলী করা হয়।
তার জায়গায় পদায়ন করা হয় মোঃ মহিউদ্দিনকে। তিনি ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর অল্প কিছুদিন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী আমলের মতোই অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্য চলছে। জানা যায় নাগরিক সেবা বিশেষ করে নতুন জন্মনিবন্ধন পেতে সাধারণ নাগরিকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নতুন জন্মনিবন্ধন করার সকল শর্তপুরণ ও কাগজপত্র সরবরাহ করার পরও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবেদন বাতিল করে দিচ্ছে।
এক বয়োবৃদ্ধ ভুক্তভোগী মহিলা খালেদা আক্তার জানান, তার স্বামী কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরী করতেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করেছেন। আমার স্বামীর নাম আবদুস ছবুর। সেনাবাহিনীর সার্ভিস বুকে তার নাম আবদুস ছবুর লিপিবদ্ধ আছে। তার ডাক নাম ছবির আহম্মদ। স্থানীয় ভাবে তিনি ছবির মেম্বার নামে তিনি ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তবে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি’তে) তার নাম ভূলবশত তার ডাক নাম ছবির আহম্মদ লিপিবদ্ধ করা হয়। এনআইডি’তে স্বামীর ভুল নাম থাকায় আমি সেনাবাহিনী থেকে স্বামীর সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। সেনা প্রশাসন থেকে আমার এনআইডি সংশোধনের আদেশ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে আমি দুইবার অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করি। প্রয়োজনীয় কিছু ডকুমেন্ট দিতে না পারায় তা বাতিল হয়ে যায়। আমি পুনরায় এনআইডি’র ভুল সংশোধনের আবেদন করার জন্য স্বামীর অনলাইন মৃত্যুনিবন্ধন প্রয়োজন হয়।
যথারীতি তার মৃত্যুনিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করি। উল্লেখ্য যে, অনলাইন জন্মনিবন্ধন থাকলে অনলাইন মৃত্যুনিবন্ধন করা সহজ। আমার স্বামীর অনলাইন মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন করে যথারীতি কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিই। তিনি অভিযোগ করেন যে, নানা টালবাহানা করে ৫ মাস পর আমাকে মৃত্যুনিবন্ধন ইস্যূ করা হয়। আমি তেমন পড়ালেখা জানি না। আমার ছেলেকে দেখানোর পর ছেলে উক্ত সনদপত্র দেখে বলেন, এ সনদে মৃত্যু তারিখ লেখা নেই।
তাছাড়া এটা অনলাইন মৃত্যুনিবন্ধন নয়। সাধারণ মৃত্যুনিবন্ধন। এ মৃত্যুনিবন্ধন সরকারি অফিসে গ্রহণ করবে না। এরপর একজন সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে একসপ্তাহ পর ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আমার স্বামীর অনলাইন মৃত্যুনিবন্ধন সনদপত্র ইস্যু করা হয়।
জন্মনিবন্ধন বিধিমালা-২০১৮ এর ৯ ধারায় বলা হয়েছে: জন্মনিবন্ধন (১) নিবন্ধক জমনি ফরম-১ অনুযায়ী আবেদনপত্রের সহিত নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাহার অধিক্ষেত্রে বসবাসকারী বা জন্ম গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করিবেন যথা:
(ক) ব্যক্তির জন্মের ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে দাখিলকৃত আবেদনপত্রের সহিত নিম্নলিখিত প্রমাণাদি সংযুক্ত করিতে হইবে যথা:
(অ) জন্মস্থান ও জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বা উক্ত প্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত জন্ম সংক্রান্ত সনদের সত্যায়িত অনুলিপি অথবা বার্থ এটেন্ডেন্ট এর প্রত্যয়ন বা অন্য কোন প্রমাণপত্র অথবা
(আ) ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে ব্যক্তির নিজের বা পিতা বা মাতা বা পিতামহ বা পিতামহীর দ্বারা স্বনামে স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে ঘোষিত আবাসস্থলের বিপরীতে হালনাগাদ কর পরিশোধের প্রমাণপত্র অথবা পিতা বা মাতা বা পিতামহ বা পিতামহীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টে ঘোষিত স্থায়ী ঠিকানা বা অন্যকোন প্রমাণপত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দ্বৈততা পরিহার করিবার লক্ষ্যে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার উল্লেখসহ ইহার সনদ দাখিল করিতে হইবে।
নদী ভাঙ্গন বা অন্য কোন কারণে স্থায়ী ঠিকানা বিলুপ্ত হইয়া থাকিলে নতুন স্থায়ী বসতির অনুকূলে প্রমাণক হিসাবে জমি বা বাড়ি ক্রয়ের দলিল, খাজনা ও কর পরিশোধের রসিদ, প্রভৃতি দাখিল করিলে নতুন বসতির ঠিকানা স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে গণ্য করা যাইবে।
(ঈ) কোন কারণে কোন ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা না থাকিলে স্থায়ী ঠিকানার স্থানে অপ্রাপ্য লিখিয়া জন্মস্থানের নিবন্ধকের নিকট জন্ম নিবন্ধন করিতে হইবে এবং এই ক্ষেত্রে আইনের ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীগণের এই মর্মে প্রত্যয়ন করিতে হইবে যে, উক্ত ব্যক্তির কোন স্থায়ী ঠিকানা নাই এবং (উ) পূর্বে জন্ম নিবন্ধন হয় নাই এই মর্মে আবেদন ফরমে আবেদনকারীর ঘোষণা (খ) ব্যক্তির জন্মের ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিন পরে জমনি ফরম-১ অনুযায়ী দাখিলকৃত আবেদনপত্রের সহিত দফা
(ক) তে বর্ণিত দলিলাদি ছাড়াও নিম্নলিখিত প্রমাণাদি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:
(অ) জন্মের ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে আবেদন করিলে যথাযথভাবে পূরণকৃত আবেদনপত্রে ইপিআই কর্মীর প্রত্যয়ন অথবা ইপিআই কার্ডের অনুলিপি অথবা
(আ) জন্মের ৫ (পাঁচ) বৎসর পর আবেদন করা হইলে বয়স প্রমাণের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র অথবা
(ই) সরকার কর্তৃক পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা অনুরূপ পরীক্ষার শিক্ষাগত সনদপত্র।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর নিবন্ধক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরবর্তী ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে সনদ প্রদানের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখপূর্বক আবেদনকারীর অংশে স্বাক্ষর করিয়া ইহা আবেদনকারীর নিকট হস্তান্তর করিবেন।
(৩) নিবন্ধক জন্মনিবন্ধন আবেদনপত্রটি পরীক্ষা করিয়া যদি নিশ্চিত হন যে, উক্ত আবেদনপত্রের সকল প্রয়োজনীয় অংশ সঠিকভাবে পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংযুক্ত করা হইয়াছে এবং পূর্বে উক্ত ব্যক্তির কোথাও জন্মনিবন্ধন হয় নাই তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করিয়া জমনি ফরম-২ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন বহিতে লিপিবদ্ধ করিয়া আবেদনকারীর নিকট জমনি ফরম-৩ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর করিবেন।
(৪) নিবন্ধকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আইনের ধারা ২০ এর বিধান অনুসারে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন।
(৫) আবেদন মুদ্রিত ফরমে বা অনলাইনে যে কোন পদ্ধতিতে করা যাইবে এবং মুদ্রিত ফরমে আবেদন করিলে নিবন্ধক ইহা কার্যপ্রণালিতে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে অনলাইনে এন্ট্রি করিবেন এবং অনলাইন আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন দাখিলের পর আবেদনকারী অনলাইন হইতে মুদ্রিত আবেদনপত্রের কপি নিবন্ধকের নিকট দাখিল করিবেন।
জন্মনিবন্ধন বিধিমালা-২০১৮ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট দাখিল করার পরও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জন্মনিবন্ধন আবেদনপত্র বাতিল করে দিচ্ছে। জন্মনিবন্ধন বিধিমালা-২০১৮ মোতাবেক আবেদনকারীর বয়স ৫ বছর উর্ধ্বে হলে সরকারী রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক।
যেসব বয়স্ক নাগরিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেণির নিচে বিধি মোতাবেক তাদের জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র যথেষ্ট। কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করছে না। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের হাতে লেখা ম্যানুয়াল পদ্ধতির জন্মনিবন্ধন দিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে বাতিল করে দিচ্ছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা জন্মনিবন্ধন আবেদনকারীর চাচা, চাচাতো ভাই-বোন ও প্রতিবেশীদের হাতে লেখা জন্মনিবন্ধন দাখিল করার আজগুবি আদেশ দিচ্ছে। এটা জন্মনিবন্ধন বিধিমালা-২০১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সাধারণ নাগরিকদের হয়রানী করার উদ্দেশ্যে অহেতুক অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদানকৃত হোল্ডিং নাম্বার, পিতা-মাতার এনআইডি ও আবেদনকারীর একাধিক ডকুমেন্ট দাখিল করার পরও আবেদন বাতিল করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্থানীয় অধিবাসী নয়। স্বাভাবিক ভাবে নাগরিক সনাক্ত করার দায়িত্ব ইউপি মেম্বারদের। বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বাররা দায়িত্বে আছেন। দুর্ভাগ্য যে, অনেক ক্ষেত্রে মহিলা মেম্বারের সুপারিশযুক্ত আবেদনও প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাতিল করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো জবাবদিহিতা নেই। এ কারণেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রবীণ নাগরিকরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমস্যা সমাধান না করে সবার পরিচয় জানতে চান। প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তার পরিচিত লোকজনের সাথে আয়েশে চা-নাশতা খেতে দেখা যায়। অথচ প্রবীণ নাগরিকরা তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনেক বয়োবৃদ্ধ নাগরিকের সাথে খারাপ ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সীতাকুন্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নেই নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক কুচক্রি মহলের সহায়তায় শুধুমাত্র কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের পুরনো উদ্যোক্তা বহাল রয়েছে। এ উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে নানা দূর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে অনলাইন জন্মনিবন্ধন ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন করা যায় না। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট করা যায় না। একটা ডকুমেন্টের সাথে আরেকটা ডকুমেন্ট লিঙ্ক।
অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের অনলাইন জন্মনিবন্ধন নেই। এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট করার জন্য তাদের বাধ্যতামূলক ভাবে জন্মনিবন্ধন করতে হচ্ছে।
নাগরিক সেবা পেতে সীমাহীন দুর্ভোগের কারণে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন জুলাই বিপ্লবের পর কিছুদিন হয়রানী মুক্ত থাকলেও বর্তমানে কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে আবারো দূর্নীতির পুরনো চক্র ফিরে এসেছে। আগে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে দূর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। বর্তমানে অন্যদের নামে একই অভিযোগ এসেছে।
অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্থানীয় কতিপয় নেতার পরামর্শে কাজ করেন। এসব কথিত নেতাদের টেলিফোনে বাতিল করা ফাইল আবার গ্রহণ করেন। এসব নেতা কারা এ প্রশ্নের জবাবে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা একজন সরকারি কর্মচারী। তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক দায়িত্ব পালন করবেন। অথচ সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তিনি কথিত নেতাদের সাথে যোগসাজস করে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছেন।
অনিয়ম, দূর্নীতি ও নাগরিক সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা তদন্ত পূর্বক জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী জনগণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
ক্যাটাগরি: অপরাধ-দুর্নীতি, প্রধান কলাম, শীর্ষ তিন, সারাদেশ
