একটি নির্দিষ্ট পরিবারের উত্তরসূরির নাম শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে 'দলদাসত্বমূলক' ও 'অপেশাদার' আচরণ হিসেবে অভিহিত করছেন নেটিজেনরা।
কোমলমতি শিশুদের সামনে রাজনৈতিক প্রচার এবং দলীয় উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। গতকাল রাজধানীর একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তার বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে?
গতকাল আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত শিশুদের কাছে জানতে চান, “তোমরা কি প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের নাম জানো?” উপস্থিত শিশুরা নিরুত্তর থাকলে তিনি নিজেই নাম বলে দেন। এরপর তিনি আরও যোগ করেন, “তোমরা বড় হয়ে কার সঙ্গে রাজনীতি করবা? জাইমা রহমানের সঙ্গে।”
শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্য মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। একটি অরাজনৈতিক ও শিশুদের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে এমন সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণা এবং একটি নির্দিষ্ট পরিবারের উত্তরসূরির নাম শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে ‘দলদাসত্বমূলক’ ও ‘অপেশাদার’ আচরণ হিসেবে অভিহিত করছেন নেটিজেনরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মন্তব্যের ঘরে সমালোচনার বান ডেকেছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে শিক্ষা বিশ্লেষকরাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষাবিদদের উদ্বেগ: বিশিষ্ট শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের মনস্তত্ত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের শিক্ষার আঙ্গিনায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বা কোনো রাজনৈতিক পরিবারের গুণগান গাওয়া শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি স্পষ্টত শিশুদের ওপর রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
অভিভাবকদের ক্ষোভ: অনেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও গুণগত মান নিয়ে কাজ করার কথা, সেখানে শিক্ষামন্ত্রী কেন শিশুদের রাজনীতিতে জড়ানোর প্ররোচনা দিচ্ছেন? বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের ইঙ্গিত দেওয়াকে তারা ‘চরম নির্লজ্জতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
অনলাইন পোর্টাল ও জনমতের বিশ্লেষণ
বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষই মনে করছেন যে এই বক্তব্যটি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিশুদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি ঢুকিয়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে অনেকেই বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “শিক্ষামন্ত্রীর কাজ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিশুদের রাজনৈতিক ক্যাডার বানানো নয়।”
উপসংহার
দেশজুড়ে যখন শিক্ষার পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন খোদ শিক্ষামন্ত্রীর এমন দলীয় আনুগত্যমূলক বক্তব্য শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এ ধরনের ‘দলীয় প্রভাবমুক্ত’ শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ক্যাটাগরি: অপরাধ-দুর্নীতি, প্রধান খবর, শীর্ষ তিন
