সোমবার সন্ধ্যা ৭:২৮, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

একজন কিশোর সাহাবুদ্দিনের জীবিকাযুদ্ধ

কোহিনূর আক্তার প্রিয়া

হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশু, সাহাবুদ্দিনের মত না খেয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করছে। রাস্তা-ঘাটে, রেলস্টেশনে। এমন অনেক কষ্ট তাদের। আবার এর বিপরীতে আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা এদেরকে বিভিন্ন রকম সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন।

সাহাবুদ্দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘অবকাশে’ বাদাম বিক্রি করে। কখনো কোর্ট-কাচারিতে, আবার কখনো রেলস্টেশনে। বয়স আনুমানিক ১২/১৩, খুবই শান্ত। সহজে সে মানুষের সাথে মিশতে পারে। বিশেষ কারণে অনেকেই তাকে এখন চিনে এবং ‘অবকাশের’ সবার পরিচিতি মুখ।

তার বয়স যখন ৬ বছর, তখন থেকে বিভিন্নভাবে কাজ করে সংসারে সাহায্য করে যাচ্ছে সে। তার পরিবারে মা-বাবা ও তিন ভাই। সে পরিবারের বড় ছেলে। সে কারণে সংসারের চাপটা তার উপর পড়েছে। তার বাবাও আমড়া-বাদাম বিক্রি করে, এখন হৃদরোগে আক্রান্ত। তার মা বাসায় কাজ করে। মেঝো ভাইটা এক মাদরাসায় পড়ে। আর ছোট ভাইয়ের বয়স চার বছর। একেতো করোনা, তার উপর আবার লকডাউন। তার কোনো বেচা-কেনা নাই। এর মাঝে তার ডান হাতটা ভেঙ্গে গিয়েছে অবকাশে। যখনই যাই, তার দুঃখের কথা বসে বসে শুনি।

আমি যতটুকু পারি তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ক’দিন আগে যখন তার সাথে বসে গল্প করছিলাম, বলছিলাম তোকে কিছু চাল-ডাল দেব। তখন আমার সাথে বসে ছিলেন জ্যােতি আপু। তিনিও একজন মানবতার ফেরিয়াওলা। আপারও সাহাবুদ্দিনের প্রতি মায়া এসে গেল। তিনি বললেন, আপা আপনার সাথে আমিও তাকে সহযোগিতা করব।

এরপর ওর জন্য অনেক কিছু কিনে ২ঘণ্টা অপেক্ষা করে ওকে না পেয়ে অভি লাইব্রেরিতে রেখে এলাম। আর রিফাতকে বলে এলাম যেন সাহাবুদ্দিন এলেই আমাকে খবর দেয়। দু’দিন পর রিফাত ফোন দিয়ে বলল আপা ওকে পেয়েছি। বললাম ফোনটা দাও ওকে।

যা হোক, সাহাবুদ্দিন জানাল সে তার গ্রামের বাড়ি নাসিরনগর গিয়েছিল। গ্রাম ভলাকোট। তার বাবার নাম সহিদুল, বর্তমানে বসবাস করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিম মৌড়াইলে। এক সাপ্তাহ অপেক্ষার পর অবশেষে গত পরশু বিকেলে তার হাতে তার উপহারগুলো তুলে দিলাম। সে পেয়ে মহাখুশি। এমন খুশি যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এ রকম হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশু, সাহাবুদ্দিনের মত না খেয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করছে। রাস্তা-ঘাটে, রেলস্টেশনে। এমন অনেক কষ্ট তাদের। আবার এর বিপরীতে আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা এদেরকে বিভিন্ন রকম সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারেন। আমরা সবাই মিলে যদি একটু একটু করে সুবিধাবঞ্চিত অসহায়দের জন্য কিছু করি, বেঁচে যাবে হাজারো-লাখো প্রাণ। আসুন আমরা ওদের দিকে একটু নজর রাখি।

কোহিনূর আক্তার প্রিয়াসাংবাদিক নারী সংগঠক 

ক্যাটাগরি: বিশেষ প্রতিবেদন,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  শীর্ষ তিন

ট্যাগ: কোহিনূর আক্তার প্রিয়া

Leave a Reply