, .
সর্বশেষ খবর:
দিল্লিতে উপদেষ্টা হয়রানী: কিছু জরুরি বিষয় চট্টগ্রামে ভাঙ্গারী দোকানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: নিহত ১ শিশুদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর দলদাসত্বমূলক বক্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সাথে সাক্ষাতে ইন্টারকম সুবিধা চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাফল্য চট্টগ্রামে একই গ্রাম থেকে ৩ জন এমপি! চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য থমকে গেছে! চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ: ৩ শ্রমিক আহত সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে ‘গণজোটের’ বিবৃতি হাফেজ আবুল হাসান কুমিল্লার হুজুরের জানাযায় জনতার ঢল ‘আমার স্ত্রী মাকসুদাকে মেরে ফেলেছি, আমাকে থানায় নিয়ে যান’

হাসিনার ভুয়া বক্তব্য প্রচার ও ইন্ডিয়ান গেম!

সাইয়েদ ইকরাম শাফী

বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের বিরুদ্ধে রিট করেছিলেন আওয়ামী তস্কর নাসরিন সিদ্দিকী লিনা। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞার রায় ও আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এরপর দেশের সকল মিডিয়ায় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত আদালতকে ব্যবহার করে হাসিনা তার চেলা-চামুন্ডা বিচারপতিদের দিয়ে যা খুশি করে গেছে। তখন বিএনপি কোনো নিষিদ্ধ দল ছিল না। অথচ হাসিনা বিএনপি’র ২য় প্রধান নেতার বক্তব্য কোনো মিডিয়ায় প্রচার করতে দেয়নি।

২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করে একুশে টেলিভিশন (ইটিভি)। এ ঘটনার পর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস তারেক রহমান, একুশে টিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সিনিয়র সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় ৫ মার্চ একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক কনক সারওয়ারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এর আগে একুশে টিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেফতার করা হয়। এ তো গেল হাসিনা জামানার ইতিহাস।

বর্তমানে কি চলছে?

হাসিনা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। হাসিনা ইন্ডিয়ায় নির্বাসনে। এখন প্রায় প্রতিদিন দেশের মিডিয়াগুলোতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দন্ডিত হাসিনার বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড প্রচারিত হচ্ছে। ইন্টারিম সরকারের আমলেও সমানতালে এসব প্রচারণা চলেছে। এখনো সমানতালে চলছে।

প্রশ্ন হলো: একজন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড অবাধে প্রচার হতে পারে কিনা?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত বা পুলিশ হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার মিডিয়ায় প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট আলোচনা করা হলো:

আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা: সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ হেফাজতে থাকা কিংবা দন্ডিত কোনো আসামির আদালতের কক্ষের বাইরে প্রকাশ্যে কথা বলা বা বক্তব্য দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন বক্তব্য সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা আদালত অবমাননার শামিল।

সাইবার নিরাপত্তা আইন: দন্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির এমন বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার করা যাবে না যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, উসকানিমূলক, সহিংসতা ছড়ায় বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। এ ধরণের প্ররোচনামূলক বক্তব্য প্রকাশ বা প্রচারের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা: দেশের অখন্ডতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা সহিংসতা প্ররোচনা দেয়-ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত এমন তথ্য ও বক্তব্য অপসারণ বা ব্লক করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

অথচ দেশের সকল প্রচলিত আইন ও বিধি চরমভাবে লঙঘন করে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত পতিত ও পলাতক হাসিনার ভুয়া বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড প্রচারিত হচ্ছে।

এখানে আসল বিষয় হলো: বর্তমানে পলাতক হাসিনা শারীরিক ভাবে সুস্থ নেই। হাসিনার নামে প্রচারিত বক্তব্য ও ভয়েস রেকর্ড রিয়ালী হাসিনার নয়। এটা ১০০% নিশ্চিত থাকুন। এগুলো সবই এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী করা। ইন্ডিয়ান সরকারের নির্দেশে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এগুলো তৈরী করে এবং সময় সুযোগ মতো বিভিন্ন মিডিয়ায় সাপ্লাই দেয়।

বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো হাসিনার ভুয়া বক্তব্য পাওয়া মাত্রই ফলাও করে প্রকাশ করছে। কারণ মিডিয়াগুলোর স্টীয়ারিং সিটে এখনো বসে আছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা। এরা হাসিনার ফ্যাসিবাদ কায়েমের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষক ছিল। মিডিয়ার বদচরিত্রের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। মিডিয়াগুলোতে হাসিনা ও পলাতক আওয়ামী নেতাদের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।

পলাতক আওয়ামী নেতাদের গলাবাজীর প্রধান উদ্দেশ্য বিচার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। তবে জুলাই মাসাকারের মামলা ও বিচার থেকে হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগের বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। কারণ জুলাই মাসাকারের বিচার সরাসরি তদারকি করছে Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights (OHCHR)

হাসিনা এখন ইন্ডিয়ার তুরুপের তাস। ইন্ডিয়া হাসিনাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে গেম খেলতে চাচ্ছে। এ গেম খেলার উদ্দেশ্য একদম পরিস্কার। ইন্ডিয়া এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চায়। ১. ইন্ডিয়ার পালিত আওয়ামী লীগের অন্ধ সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখা। ২. সাধারণ মানুষের মন থেকে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের কালো অধ্যায় ভুলিয়ে দেয়া।

এ বিষয়ে অতীতে ক্ষমতা থেকে পতনের পর বিভিন্ন স্বৈরশাসকের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবে ইরানের সম্রাট শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতন হয়েছিল। পতনের পর রেজা শাহ ইটালী ও পানামায় যাবাবরের মতো ঘুরে বেড়িয়েছে। কোনো দেশ তাকে আশ্রয় দেয়নি। শেষ পর্যন্ত মিশর সরকার তাকে শর্তাধীন রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়। ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯৮০ সালের ২৭ জুলাই মিশরের রাজধানী কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেনশাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি যতদিন বেঁচে ছিলেন মিশর সরকার তাকে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়নি।

সুতরাং হাসিনাকে নিয়ে ইন্ডিয়াকে গেম খেলার সুযোগ দেয়া কি সমীচিন হবে? এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। হাসিনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই জোড়ালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। হাসিনাকে ফেরৎ দেয়ার জন্য ইন্ডিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। হাসিনার ভুয়া বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়েও ইন্ডিয়ার কাছে ব্যাক্ষ্যা চাইতে হবে। কারণ হাসিনা ইন্ডিয়ার কোনো দাওয়াতি মেহমান নয়। জুলাই মাসাকারের অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী।

 

 

ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়,  প্রধান কলাম,  বিশেষ প্রতিবেদন,  মন্তব্য প্রতিবেদন

ট্যাগ: এই পোস্টের জন্য কোনো ট্যাগ নির্ধারিত হয়নি।

Leave a Reply