যারা নাগরিকবর্গে নিজের 'মানুষ' সত্তাকে নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে রাজি নন, তাদের জন্য ভোট রীতিমতো স্বেচ্ছা কারাবাসের শামিল।
একাডেমিকদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তাদের ফয়দা নাই। তাদের কাজ নানাবিধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা। বুদ্ধিজীবীরা ভোট দিতে পারেন। তবে যেসব বুদ্ধিজীবী একাডেমিশিয়ান হওয়ার লাইনে আছেন, তাদের এসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণশীল হওয়াই শ্রেয়। পপুলার ভাষায়, ভোট হলো আমজনতার এক ধরনের ক্ষমতা-চর্চা। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে, ভোট আসলে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক বর্গের ঘোষিত ও স্বল্পমেয়াদী দাসখত।
যারা নাগরিক বর্গে নিজের ‘মানুষ’ সত্তাকে নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে রাজি নন, তাদের জন্য ভোট রীতিমতো স্বেচ্ছা কারাবাসের শামিল। ভোট-ব্যবস্থাকে ক্রিটিক্যালি দেখতে অক্ষম কিংবা অসম্মত, শুধুমাত্র এমন লোকদের জন্যই নির্বাচন। সত্তাগতভাবে সজাগ ও সচেতন লোকের উচিত, মানুষের ভোট দেওয়া দেখতে দেখতে চিন্তা-চর্চার প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ, জ্ঞানের প্রথম শর্ত অবজেক্ট থেকে আলাদা হওয়া, অবজেক্টে মজে যাওয়া নয়।
ফয়সাল আহমেদ
প্রাবন্ধিক, গবেষক
ক্যাটাগরি: অপরাধ-দুর্নীতি, মিনি কলাম
