১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহিংসতায় কোনো মানুষের প্রাণহানী হয়নি। কেউ জখমও হয়নি। এটা নির্বাচনের পজিটিভ দিক। তবে ছোট-খাটো কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়কে ফ্রেমিং করে বিশেষ আলোচনার দরকার নেই। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা মাঠ পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী ভাল ভাবেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিগত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার যোগ্যতা ও মর্যাদা অনুযায়ী দেশ শাসনে জাতির কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। তবে হানাহানি ও প্রাণহানি বিহীন নির্বাচন আয়োজন করতে পারায় তিনি অভিনন্দন পাবার যোগ্য।
একটা বিষয় অনেকের চোঁখ এড়িয়ে গেছে। বিষয়টি হলো: প্রত্যেক নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু নির্যাতনের জিকির তোলা হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার সে জিকির ছিল না।
হাসিনার আমলে দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা বলতে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। সহজ ভাষায় বলা যায় ইন্ডিয়ার মদদ ও ইন্ধনে হাসিনা মিলিটারী এবং সিভিল ব্যুরোক্রেসিকে তার চাকর-বাকরে পরিণত করেছিলেন। তাদের ব্যবহার করে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। ভুয়া নির্বাচনে গঠিত একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি ভুয়া নির্বাচন করা হয়েছিল। ৩০০ জন এমপি বহাল থাকা অবস্থায় আরো ৩০০ জন এমপি শপথ নিয়েছিলেন। যদিওবা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে গিয়েছিল কথিত ১/১১ সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী দুর্যোগ থেকে দেশকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিয়েছে। এ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদল ইন্তেকাল করায় সে আসনের ভোট স্থগিত করা হয়। আদালতের আদেশে ২ টি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। বিএনপি জোট ৪৯.৯৭ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। নির্বাচনে হ্যা ভোট পড়েছে ৬৮.০৫% ও না ভোট পড়েছে ৩১.৯৫%। হ্যা ভোটের পক্ষে রায় দিয়ে মানুষ মৌলিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান দিয়েছে।
এ নির্বাচনে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে ভাল ফলাফল করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যে, এ দলটির প্রার্থীরা ৫৩টি আসনে ৭০ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
এ নিবন্ধটি লেখার সময় হয়তো সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিজয়ী দল সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি আবারো দেশ শাসনের দায়িত্ব পাচ্ছে। ১/১১ সরকারের আমল থেকে বিএনপি’র অ্যাকটিভ নেতা-কর্মীরা কঠিন সময় পার করেছে। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত উভয় দল হাসিনার নিষ্ঠুর জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর ব্রিটেনের সেইফ জোনে ছিলেন।
সাড়ে ১৫ বছরের হাসিনার সৃষ্ট দুর্যোগ ও অরাজকতা তাকে স্পর্শ করেনি। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে তিনি এসবের কতটুকু খোঁজখবর রেখেছেন তা আমার মতো নগণ্য মানুষের বোধগম্য নয়।
নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য পেশ করার সময় তারেক রহমানের কিছু ভুলভ্রান্তি হলেও নির্বাচনে এর প্রভাব পড়েনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং কোনো ধরণের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/4aXws
নির্বাচনের পূর্বে কিছু ভুল করলেও নির্বাচন পরবর্তী তার এ বক্তব্য ও অবস্থান অবশ্যই প্রশংসনীয়। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে আইনের সঠিক প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
যদিওবা ক্ষমতা নিজের দখলে রাখতে গিয়ে হাসিনা দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে তছনছ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছিল। সামাজিক সৌহার্দ্যতাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। সবকিছুকে রাজনীতি ও দলীয়করণ করে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছিল।
সবকিছুর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে দিলে প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই প্রতিশোধ নেয়। জুলাই বিপ্লব ছিল প্রকৃতিরই প্রতিশোধ। তবে হাসিনার পতন পরবর্তী বিএনপি’র বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তা হলো ইন্টারিম সরকারের বেশকিছু কাজে দলটি বাঁধার সৃষ্টি করেছে।
১. প্রেসিডেন্টকে অপসারণে বাঁধাদান।
২. স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে আপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা ।
৩. আওয়ামী লীগ প্রশ্নে অত্যন্ত নমনীয় মনোভাব ও অবস্থান।
৪. একই সাথে চরম ভাবে নিপীড়িত দল জামায়াতকে রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধী অপবাদ দেয়া।
৫. জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন দল এনসিপি’র সাথে বাকবিতন্ডা।
৬. ইন্টারিম সরকারের সংস্কারের বিরোধিতা করা।
সংস্কারের বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ইন্টারিম সরকার সংস্কার করলেও আমরা ক্ষমতায় গিয়ে তা বাতিল করবো। অনেকে বলছেন, এসব বক্তব্য অবশ্যই গোঁড়ামীর পর্যায়ে পড়ে। হাসিনার পতনের পর বিএনপি’র বেশকিছু নেতা-কর্মী বেপরোয়া হয়ে ওঠেছিল। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী ও বেআইনী কাজের ব্যাপক অভিযোগ আছে।
আগেই বলা হয়েছে হাসিনার আমলে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলকে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। ব্যাপক ভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলেও হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এ দুটি দল ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নেতাদের অনুপস্থিতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ”রোড ফর ডেমোক্র্যাসি” কর্মসূচী ঘোষণা করে নিজেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তার এ ঘোষণার পর হাসিনা সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে তার গুলশানের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে। তখন অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে নেত্রীকে উদ্ধারের জন্য একজন নেতা-কর্মীও ঘর থেকে বের হয়নি। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সংগঠনটির নেতা মনসুর আহমেদ প্রধান নিহত হয়। আদালতে দায়েরকৃত মামলার আইনি নিষ্পত্তি হবার আগেই ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসস্থ মইনুল রোডের বাড়ী থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে এককাপড়ে জবরদস্তি মূলক উচ্ছেদ করা হয়। এ বাড়ীটিতে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পরও এ বাড়ীতে থাকতেন। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয়।
এরপর হাইকোর্টের আপীলে কারাদন্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া সাজানো মামলার রায়ে শেষ বয়সে জেল খেটেছেন। কারাগারে ফুড পয়জনিং করে তাকে অনেকটা পঙ্গু করা হয়েছিল। কোনো নির্বাচনে পরাজিত না হওয়া অত্যন্ত বিনয়ী ও মিতব্যয়ী এ মহিয়সী মহিলা শেষ জীবনে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছেন। বিএনপি নেতারা তার জন্য কিছুই করতে পারেননি। বেশিরভাগ বিএনপি নেতা গাঁ বাঁচিয়ে চলেছেন। যাতে হামলা-মামলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কতিপয় নেতার বক্তব্যে প্রমাণিত হয় দলটির অনেক নেতার সাথে হাসিনা সরকারের যোগাযোগ ছিল। অথচ বেগম খালেদা জিয়া ও মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত ছিল না।
জুলাই বিপ্লবের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া কয়টাদিন স্বস্তিতে কাটিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার এ বিদায় ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক। যদিওবা সে সম্মান তিনি নিজের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়েই অর্জন করেছিলেন।
নির্বাচনে বিএনপি’র বিজয়ী হওয়া বড় কথা নয়। সামনের দিনগুলোতে দলটির জন্য অনেক কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক। আর্থিক সঙ্কট, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিএনপি’র সামনে উঁকি দিচ্ছে। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ অনেক কঠিন। কারণ হাসিনার পতনের পর থেকেই বিএনপি নেতারা জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতে ইসলামীর সাথে ব্যাপক বাকবিতন্ডা ও বিরোধে জড়িয়েছে। এসব বাকবিতন্ডায় ইন্ধন দিয়েছে ৫ অগাস্টের পর গজিয়ে ওঠা কতিপয় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট বেশধারী সুবিধাবাদী বামপন্থী। বিরোধের এ ধারা যদি সামনের দিনগুলোকে অব্যাহত থাকে তাহলে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনিভূত হবে।
অতীতমুখিতা বাদ দিয়ে কিছু তিক্ত ইতিহাস স্মরণে রেখেই বিএনপি সরকারকে সামনের দিকে এগুতে হবে। আগে বলা হয়েছে যে, হাসিনা তার স্বভাবজাত প্রতিশোধ স্পৃহায় বেগম খালেদা জিয়ার ওপর সীমাহীন জুলুম করেছে। বিএনপিকে রাজনীতির ময়দান থেকে নিশ্চিহ্ন করার সকলপ্রকার চেষ্টা পুরোদমে চালিয়ে গেছে। দলীয় ভাবে বিএনপি এসবের জন্য বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ দূরের কথা সামান্যতম প্রতিবাদও করতে পারেনি। সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জুলাই বিপ্লব মৃতপ্রায় বিএনপিকে নতুন প্রাণ দিয়েছে।
তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসন জীবন থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। জামায়াতের ৭১ পলিসী ও জামায়াতের সাথে জোটের বিষয়কে ফোকাস করে জুলাই বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের নতুন দল এনসিপি’র সাথে বিরোধে জড়ালে রাজনৈতিক সঙ্কট অনিবার্য। ভুলে গেলে চলবে না যে, বিএনপি জুলাই বিপ্লবের পুরো বেনিফিট নিয়েছে। যদিওবা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকে সে আন্দোলন তাদের নয় বলেছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে।
৫ অগাস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া প্রশ্নে বিএনপি নেতাদের অবস্থান অত্যন্ত নমনীয় ও দূর্বল। আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিএনপিতে একটি গ্রুপ আছে, তাদের নীতি হলো আগে তোমরা খেয়েছ-এবার আমরা খাব। তারেক রহমান যদি এ গ্রুপকে প্রশ্রয় দেন তাহলে সরকার চালাতে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।
নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা কর্তৃক আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য আওয়ামী লীগ বেশুমার অপরাধ করেছে। এ দলটি জন্মলগ্ন থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য কুখ্যাত ও পারদর্শী। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়া দূরের কথা দলটির নেতাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনার আলামত নেই। উল্টো বিদেশ থেকে এ দলের নেতারা জুলাই বিপ্লবীদের জঙ্গি ও রাজাকার ট্যাগ দিয়ে প্রতিদিন গালাগাল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। ”চুরি তো চুরি আবার শিনাজুরি” প্রবাদটি আওয়ামী লীগের জন্য ১০০% কার্যকর।
২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে জার্মানীর স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে অ্যাডলফ হিটলারের পার্টি এনএসডিএপি-কে নিষিদ্ধ করা হয়। জার্মানীতে এখনো হিটলারের পার্টির নাম নেয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য একই ভাবে ১৯৪৩ সালে ইটালীর স্বৈরশাসক বেনিনতো মুসোলিনীর পার্টি এনএফপি-কে নিষিদ্ধ করা হয়। ৮০ বছর পার হলেও এ দলগুলো আর রাজনীতির অধিকার ফিরে পায়নি।
হাসিনার আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার সকলপ্রকার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাই বলে বিএনপি সরকারকেও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে এমন নয়। তবে দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হওয়া বিএনপি’র জন্য আত্মঘাতি হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের নিজেদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে দেয়া উচিত। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ চাইলে হাসিনার ছেলে-মেয়েরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে জনগণের দোহাই দেয়ার সুযোগ নেই।
জনগণের দোহাই দিয়ে হাসিনা ৩টি ভোটার বিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল। জনগণের দোহাই দিয়ে দেশটাকে তার মৌরশী পাট্টা বানিয়েছিল। জনগণ আওয়ামী লীগকে চায় কিনা সে বিষয়টির সুরাহা করতে হলে রেফারেন্ডাম বা গণভোট করতে হবে।
আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরবে কিনা সে বিষয়টি ভবিষ্যতে দলটির কর্ম তৎপরতার ছেড়ে দেয়া উচিত। কোনো দল যদি নিজেদের কৃতকর্মের কারণে বিপর্যস্ত হয় কিংবা হারিয়ে যায় তাহলে বিএনপি কি করতে পারবে? আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় হলে দলটির অপকর্মের পুরো দায়ভার বিএনপিকে নিতে হবে। বিএনপি কি সেটা পারবে?
এককালে মুসলিম লীগ এদেশের মানুষের অনেক প্রিয় দল ছিল। কারণ এ দলটির নেতৃত্বে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল। এদেশে মুসলিম লীগ কি এখন আছে? আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে কিনা সে চিন্তা বিএনপি‘র করা মোটের সমীচিন হবে না। বিএনপি সরকারের সামনে যে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হয়েছে সেগুলো কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটাই আসল বিষয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধ বিজয়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের একটি উক্তি দিয়ে লেখা শেষ করছি। তিনি বলেছেন: “Success is not final, failure is not fatal: It is the courage to continue that counts. “সাফল্য চূড়ান্ত নয়, ব্যর্থতা মারাত্মক নয়: যা গণনা করা হয় তা হলো এগিয়ে যাবার সাহস।”
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
E-mail: iquram313@gmail.com
ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়, প্রধান কলাম, বিশেষ প্রতিবেদন, মন্তব্য প্রতিবেদন
