প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে বড়ধরণের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা ও নাট্যকলা বিষয়ে ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১০ জুন, ২০২৬ইং। বিস্তারিত নিউজ লিঙ্ক: https://shorturl.at/9Dtqd
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রাথমিকে এ চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করতে হলে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এ বিশেষায়িত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবার বেশিরভাগ নিয়োগ হবে বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন। এমনিতেই শিক্ষা সেকটর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেক সেকটরে লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন অগ্রাধিকার পায়।
২০০৯-২০২৪ হাসিনা রেজিমে ইন্ডিয়ার সুপারিশে এ সম্প্রদায়ের লোকজনকে নাগরিক অধিকার নয়-বিভিন্ন ক্ষেত্রে রীতিমত প্রিভিলেজ দেয়া হয়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছিল। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামের তালিকা দেখে বাংলাদেশ যে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ সেটা মনে হতো না। হাসিনার আমলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষকের সঙ্কটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষক ইসলাম ধর্ম পাঠদান করেছে। এসব বিষয় নিয়ে জনগণের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান ছিল। জেল-জুলুমের ভয়ে কেউ সহজে মুখ খুলতো না।
২০০৯-২০২৪ হাসিনা রেজিমে এ সম্প্রদায়ের লোকজনকে নাগরিক অধিকার নয়-বিভিন্ন ক্ষেত্রে রীতিমত প্রিভিলেজ দেয়া হয়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছিল। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামের তালিকা দেখে বাংলাদেশ যে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ সেটা মনে হতো না। হাসিনার আমলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষকের সঙ্কটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষক ইসলাম ধর্ম পাঠদান করেছে। এসব বিষয় নিয়ে জনগণের মনে চাপা ক্ষোভ বিরাজমান ছিল। জেল-জুলুমের ভয়ে কেউ সহজে মুখ খুলতো না।
হাসিনার পতন কিভাবে হয়েছে এবং বর্তমান সরকার কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে সে ফিরিস্তি নিশ্চয় দিতে হবে না। প্রস্তাবিত চারটি নতুন বিষয় শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়-বরং প্রাথমিক শিক্ষাকে ধ্বংস করে দেবে। এ চারটি বিষয়ে শিক্ষা দেশে বিদ্যমান রয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এইচএসসি কিংবা সমমান পাঠ সম্পন্ন করে অনায়াসে শিক্ষা অর্জন করতে পারে। তাহলে এ চারটি বিষয় কেন প্রাথমিকে যুক্ত করতে হবে? প্রাথমিকে বরং ”ভদ্রতা ও শিষ্টাচার” বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন বিষয় যুক্ত করাই অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে। সমাজে যেভাবে মহামারীর মতো অনৈতিকতার প্রসার ঘটেছে তাতে প্রাথমিকে শিষ্টাচার ও নৈতিক শিক্ষার বিশেষায়িত বিভাগ চালু করার কোনো বিকল্প নেই। যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার করাও অতিব জরুরি। যেমন:
১. ইংরেজী শিক্ষার মানোন্নয়ন।
২. মানসম্মত পাঠদানে অভিজ্ঞ ইংরেজী শিক্ষক নিয়োগ।
৩. ইসলামিয়াত শিক্ষক নিয়োগ।
৪. শ্রেণিকক্ষের মানোন্নয়ন।
৫. শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করা।
৬. ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্য উন্নতমানের বেঞ্চ ও টেবিলের ব্যবস্থা ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৭. শিক্ষকদের নিয়মিত ট্রেনিং।
৮. শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সকলপ্রকার ঘুষ, দূর্নীতি ও অনিয়ম নিরসন করা।
শিক্ষার ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। জাতীয় স্বার্থে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি। জরুরি কাজ বাদ দিয়ে প্রাথমিকে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত কার স্বার্থে? জানা যায় হাসিনা রেজিমে এ ধরণের চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল। সে সরকার তা বাস্তবায়নের সাহস করেনি। বিগত ইন্টারিম সরকারও প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার কেন এ ধরণের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে?
শিক্ষার ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। জাতীয় স্বার্থে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি। জরুরি কাজ বাদ দিয়ে প্রাথমিকে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত কার স্বার্থে? জানা যায় হাসিনা রেজিমের এ ধরণের চিন্তা-ভাবনা করা হয়েছিল। সে সরকার তা বাস্তবায়নের সাহস করেনি। বিগত ইন্টারিম সরকারও প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার কেন এ ধরণের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে?
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বলতে গেলে প্রাথমিক শিক্ষা ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গান-বাজনা ও নাচগানের আসরে পরিণত হবে। নতুন বিশেষায়িত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকেরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। তারা অনায়াসেই প্রিভিলেজ পাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম অবমাননা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বলতে গেলে প্রাথমিক শিক্ষা ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গান-বাজনা ও নাচগানের আসরে পরিণত হবে। নতুন বিশেষায়িত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকেরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। তারা অনায়াসেই প্রিভিলেজ পাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলাম অবমাননা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন একজন অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। বিগত ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে যথেষ্ট সফল হয়েছিলেন এবং সুনাম অর্জন করেছিলেন। নকল প্রবণতা ছিল দেশের শিক্ষাঙ্গণের ক্যান্সার। পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রবণতা উচ্ছেদ করে তিনি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন একজন অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। বিগত ২০০১ সালের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে যথেষ্ট সফল হয়েছিলেন এবং সুনাম অর্জন করেছিলেন। নকল প্রবণতা ছিল দেশের শিক্ষাঙ্গণের ক্যান্সার। পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রবণতা উচ্ছেদ করে তিনি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি এবার প্রমোশন পেয়ে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী হয়েছেন। এমন একজন অভিজ্ঞ শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে থাকাকালে প্রাথমিকে চারটি নতুন বিষয় যথাক্রমে: সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা চালু করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলো কার স্বার্থে? প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন বিষয় যুক্ত করার এ আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি। এ বিষয়ে বিরোধী দল ও সচেতন মহলকে অবশ্যই সোচ্চার হতে হবে।
ক্যাটাগরি: উপসম্পাদকীয়, প্রধান কলাম, বিশেষ প্রতিবেদন, মন্তব্য প্রতিবেদন, শীর্ষ তিন
