বৃহস্পতিবার সকাল ৬:০১, ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ. ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

ইঞ্জিনিয়ারের আরবি শেখা

আজকে এক ভাইয়ের সাথে দেখা হল। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছেন। একই সাথে আরবি শিখেছেন একক প্রচেষ্টায়। ফিকাহ ও আকিদা পড়ার চেষ্টা করেছেন। দেখে খুব ভালো লাগলো। একজন শিক্ষিত মানুষের জন্য এতদূর ইসলাম শেখা প্রায় ওয়াজিব পর্যায়ের। আপনি উচ্চ শিক্ষিত হবেন, অথচ ইসলামের মৌলিক ইলম আপনার থাকবেনা– ইসলামি ইতিহাসে এটা খুবই বিরল। অথচ আজকাল এটা অহরহ দেখা যায় । আপনার কত শত ডিগ্রি ও ক্রেডিট আছে, অথচ আপনার ইসলামের মৌলিক ইলম নেই।

প্রশ্ন হতে পারে, আপনি ইসলাম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চাচ্ছেন না, তবুও আপনি কেন ইসলাম শিখবেন? সাইন্সের নৈতিক ও আর্টসের তাত্বিক পড়াশোনার জন্যেও ইসলামের কোন বিকল্প নেই। আপনি রাজনীতি নিয়ে পড়ছেন, সমাজ-বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন, সারাদিন পশ্চিমা ব্যক্তিবর্গের নাম মুখস্থ করছেন, রাজনীতি ও সমাজ বিষয়ক ইসলামী নীতি কী এটা কি জানেন? জানেন না। সর্বোপরি আপনি সামগ্রিক ইসলামি নৈতিকতাও জানেন না । পশ্চিমা প্রভাব বিস্তারের যুগে আপনি সারাদিন পশ্চিমকে গালিগালাজ করেন, ইসলাম নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন, তবুও হয়তো রাতে ঘরে ফিরে ভাবতে থাকেন, আপনি কি আসলেই ইসলামে নিশ্চিত? আপনি কতকিছু জানেন, কত ভাষা জানেন, অথচ আল্লাহ যে পয়গাম পাঠিয়েছেন, সেটাই জানেন না। পশ্চিমা একক আধিপত্য তো আপনিই ডেকে আনছেন। আপনার তুলনা করার সামান্যতম ক্ষমতাও নেই। জানেন তো, ইউরোপিয়ান উত্থানের সময় প্রায় সকল পন্ডিত ও সাহিত্যিকরা ল্যাটিন ভাষা শিখতেন। কেন শিখতেন, ধরতে পারেন?

বলে রাখি, আমার কাছে প্রচুর মানুষ কীভাবে আরবি শেখা যাবে, কীভাবে ইসলামের মৌলিক ইলম শেখা যাবে, এটা জানতে চেয়েছেন। আমি বাতলে দেবার চেষ্টা করেছি। শতকরা পচানব্বই ভাগ ব্যর্থ হয়েছেন। অনিয়মিত ও অমনোযোগী হবার কারণে। ফলে আমি নতুন করে কাউকে বলতে আগ্রহ বোধ করি না। তবে বাংলাদেশের মত এত বিপুল সুযোগ হয়তো কোথাও নেই। শুধু এর জন্য ঢাকা শহরে বেশকিছু নৈশ ও কর্মজীবি মাদরাসা আছে। মহিলা মাদরাসাও আছে। অথবা পরিচিত কোনো তালেবে ইলমকে যদি বলেন, আমাকে একটু নিয়মিত সময় দিবেন? এমন কাউকেও পেয়ে যাবেন। এবং নিশ্চিত থাকবেন, এর জন্য আপনার খুব কম খরচ হবে। অনলাইনে ফতোয়া-সাইটগুলো দেখে ডিবেট বা সালাফিরা ভালো নাকি হানাফিরা ভালো, আমীন আস্তে বলবেন নাকি জোরে বলবেন , এসবের পাল্লায় না পড়ে এক দুই বছর সময় দেবার চেষ্টা করেন । কতকিছু শিখতে পারবেন , এখন তা কল্পনাও করতে পারবেন না ।একটু ভাবুন, আপনি কোরআন শরীফ পড়ে নিজেই বুঝতে পারছেন, তায়েফ থেকে ফেরার সময় নবীজি যে দোয়া করেছিলেন, সেটাও পড়তে পড়তে আপনার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠছে,,,

ক্যাটাগরি: মিনি কলাম

ট্যাগ:

Leave a Reply